বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৭:০২ পি.এম
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের পিছনে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশ্রয় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে, নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামির সঙ্গে কার কী ধরনের যোগসাজশ ছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রথমত মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় পলাতক ছিলেন। যদিও তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তথাপি তিনি এক দেশ থেকে আরেক দেশে অবাধে যাতায়াত করতেন। বাংলাদেশের ভেতরেও নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতেন। তৎকালীন (আওয়ামী লীগ) সরকারের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশে টেলিফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। তিনি অভিজাত অঞ্চলে থাকতেন। সরকারের প্রশ্রয় বা সংশ্লিষ্টতা না থাকলে, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কিভাবে রক্ষা করতেন, তা অনুমান করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, যার মাধ্যমে মোজাফফর হোসেন মানবতাবিরোধী অপরাধে অংশ নেন। তার সঙ্গে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মতো দুষ্কৃতকারীদেরও সুসম্পর্ক ছিল।
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে হবে। আমাদের তদন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের সম্পর্কীয়, তাই এর সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা দেখবো আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডে তার কী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অর্থাৎ আমাদের বিচারের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে আলাদা। তবে মোজাফফর সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবে। আমাদের প্রয়োজন হলে তাকে সেখান থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে।
পাশাপাশি, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদিনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।
এ আদেশ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল দ্বারা জারি করা হয়।
গত ২১ জুলাই, প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে। এর ধারাবাহিকতায় মোজাফফরকে আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউরোপের প্রথম ষষ্ঠ প্রজন্মের বিমান বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাজ্য।
প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিএই সিস্টেমস তাদের নতুন কোলাবোরেটিভ কমব্যাট এয়ারক্রাফট, বা লয়াল উইংম্যান ড্রোন ব্রন্টান্যাক্স, আন্তর্জাতিক এয়ারশোতে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে। এই নামটির অর্থ প্রাচীন গ্রীক ভাষায় হল বজ্ররাজ।
যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের সম্প্রতি ঘোষিত ‘স্টর্ম ফাইটার’ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এই ড্রোনটির উন্মোচন করা হলো। প্রদর্শনীতে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের উপস্থিতিতে ড্রোনটি উপস্থাপিত হয়। এটি কেবল কোনো প্রাথমিক ধারণা নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোটোটাইপ।
এটি ল্যাঙ্কাশায়ারের ওয়ার্টনে বিএই সিস্টেমসের নিজস্ব কারখানায় সম্পূর্ণ গোপনে তৈরি করা হয়েছে।
ড্রোনটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১ ফুট এবং এর ডানার বিস্তার ৩৩ ফুট—যা বিএই সিস্টেমসের বিখ্যাত ‘হক’ অ্যাডভান্সড ট্রেইনার জেটের আকারের সমান। ড্রোনটির বাহ্যিক নকশায় উচ্চমানের স্টিলথ প্রযুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ড্রোনটিতে রয়েছে চ্যাপ্টা ফিউজেলেজ, ট্র্যাপিজয়েডাল ডানা এবং কম-দৃশ্যমান বা 'লো-অবজারভেবল' এয়ার ইনটেক। ফিউজেলেজের গভীরতা নির্দেশ করে যে, ড্রোনটির ভেতরে যথেষ্ট পরিমাণ জ্বালানি ও শক্তিশালী অস্ত্র রাখার জায়গা রয়েছে।
এর শক্তিশালী ল্যান্ডিং গিয়ার দেখে ধারণা করা হচ্ছে, এই ড্রোনটি সাধারণ রানওয়ের পাশাপাশি যুদ্ধজাহাজ থেকেও পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
প্রাথমিকভাবে উইলিয়ামস টার্বোফ্যান ইঞ্জিনে চালিত হওয়ার পর, পরবর্তীতে রোলস-রয়েসের ‘অরফিয়াস’ ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি এখনই ড্রোনটির স্বায়ত্তশাসন প্রযুক্তির বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেনি।
মিশনের দিক থেকে ব্রন্টান্যাক্স তিনটি প্রধান কাজ করবে:
১. ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (EW)
২. নিখুঁত হামলা (Precision Strike)
৩. আকাশ থেকে আকাশে যুদ্ধ (Air-to-Air Combat)
এটি বিমান বাহিনীর টাইফুন, এফ-৩৫ এবং ভবিষ্যতের ‘টেমপেস্ট’ ফাইটার জেটের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে। যুদ্ধক্ষেত্রে পাইলটদের নিরাপত্তায় এটি গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল ও আক্রমণকারী হিসেবে কার্যকর হবে। এমনকি ড্রোনটি মাটির মিশন কমান্ডার দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
একটি আধুনিক টাইফুন ফাইটার জেটের আনুমানিক মূল্য ১১৫ মিলিয়ন ডলার হলেও, ব্রন্টান্যাক্সের নির্মাণ খরচ হবে তার চার ভাগের এক ভাগ, যা প্রায় ২৮.৫ মিলিয়ন ডলার। ফলে কম খরচে অধিক শক্তিমত্তা তৈরি করা সম্ভব হবে।
বিএই সিস্টেমসের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এই প্রজেক্টটি যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করবে। তবে বাজার দখলের ক্ষেত্রে বিএই সিস্টেমসকে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং (MQ-28 Ghost Bat), জেনারেল অ্যাটমিক্স অথবা নর্থ্রপ গ্রুম্যানের মতো পরাশক্তিগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে।
যুক্তরাজ্য সরকার ইতিমধ্যে এই সিসিএ প্রোগ্রামে ৪০৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে। আগামী বছরেই ইউকে-র আকাশে ড্রোনটির প্রথম উড্ডয়ন হতে পারে এবং এটি ন্যাটোর কোনো সামরিক মহড়াতেও অংশগ্রহণ করতে পারে।
রয়্যাল এয়ার ফোর্সের প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল স্যার হার্ভ স্মিথ বলেছেন, মানবসংচালিত বিমানের সাথে চালকমুক্ত আকাশযানের নিখুঁত সমন্বয় আমাদের যুদ্ধক্ষমতা ও প্রথাগত প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।
এভাবে, ব্রন্টান্যাক্স ড্রোনের আগমন আধুনিক আকাশযুদ্ধে যুক্তরাজ্যের শক্ত অবস্থানের স্পষ্ট বার্তা দেয়।
সূত্র: দ্য টিএমজি নিউজলেটার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুরে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে বাবা এবং তার ছেলেকে মিলিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) তাজহাট থানার পুলিশ। এই অভিযানটি তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করার ফলে সফল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম রফিক।
গ্রেপ্তার করা ব্যক্তিরা হলেন, পীরগঞ্জ উপজেলার মকিমপুর এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে দুলাল মিয়া (৪০) এবং তার ছেলে রাকিব মিয়া (২০)।
পুলিশ জানাচ্ছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাগীগঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার করা হয় দুটি চোরাই মোটরসাইকেল।
উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে একটি নিবন্ধিত ইয়ামাহা R15 V3 একটি এবং একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পালসার NS 160 মোটরসাইকেল রয়েছে।
তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এই চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রকে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলেও জানিয়েছে তাজহাট থানা পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) ২০২৫ সালের প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনের মধ্যে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
গত বছর থেকে কাঠামোবদ্ধ লিড জেনারেশন ও সক্রিয় বিনিয়োগ পাইপলাইন ব্যবস্থাপনার ইতিবাচক ফল হিসেবে এ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
আজ গণমাধ্যমে পাঠানো বিডার এক ধারণাপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ২০টি দেশের ৭০ জন সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীকে নিয়ে গড়ে ওঠা প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পাইপলাইনের ১৫ শতাংশের বেশি ইতোমধ্যে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এ কনভারশন হার বৈশ্বিক মানদণ্ডের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বিডার তথ্যমতে, পাইপলাইনের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এসেছে হংকংভিত্তিক হ্যান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে। বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২৫-এ প্রাথমিকভাবে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে বিডা, বেজা ও বেপজার সমন্বিত সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ দ্বিগুণ করে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করেছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং এটি দেশের টেক্সটাইল খাতে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ একক বৈদেশিক বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এছাড়া চীনের হেনগলি গ্রুপ বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে আধুনিক টেক্সটাইল উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলছে, যা দেশে প্রথমবারের মতো উন্নত টেক্সটাইল প্রযুক্তি ও অটোমেটেড উৎপাদন ব্যবস্থা চালু করবে। এতে স্থানীয় টেক্সটাইল ভ্যালু চেইন শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে উঠবে।
শ্রীলঙ্কার সফটলজিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রায় ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগে বাংলাদেশের ডায়মন্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৬০ শতাংশ মালিকানা অধিগ্রহণ করছে। বিডার সহায়তায় সম্পন্ন হওয়া এই বিনিয়োগকে দেশের জীবন বীমা খাতে প্রথম উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উন্নত ইনশিওরটেক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আন্ডাররাইটিং এবং দ্রুত ক্লেইম নিষ্পত্তির মতো আধুনিক সেবা চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এদিকে চীনের লেসো গ্রুপ চট্টগ্রামের ন্যাশনাল স্পেশাল ইকোনমিক জোনে ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে নির্মাণসামগ্রী উৎপাদন কারখানা স্থাপন করছে। এই কারখানায় পিভিসি ও পিইএক্স পাইপ, সোলার প্যানেল, স্যানিটারি সামগ্রী, ওয়াটার পিউরিফায়ার, ক্যাবল, লাইটিং ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী উৎপাদিত হবে। যাতে আমদানিনির্ভরতা কমার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মালয়েশিয়ার খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠান এমআর.ডিআইওয়াই বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৭টির বেশি মেগা স্টোর পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুরভিত্তিক মেগারিচ প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করে বিমান পরিবহনে ব্যবহৃত অন-বোর্ড লাইফস্টাইল পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে, যা রপ্তানি বহুমুখীকরণে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।
বিডা জানিয়েছে, গত ১২ থেকে ১৫ মাসে বিনিয়োগ পাইপলাইন থেকে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ বাস্তবায়ন বা সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছানো উৎসাহব্যঞ্জক। সংস্থাটি খাতভিত্তিক ও দেশভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কাজ অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালে নতুন করে আরও ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ পাইপলাইনে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন মনে করেন যে, বিগত ৫৫ বছরে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত রাষ্ট্রীয় সংস্কার অর্জনে পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা হ্রাস করা এবং ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের পারস্পরিক শ্রদ্ধাশীল রাজনৈতিক চর্চা দেশকে টেকসই সংস্কারের দিকে নিয়ে যেতে সত্যিই সহায়তা করতে পারে।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়তে থাকলেও, ১০০ ডলার থেকে ২ হাজার ৮৬০ ডলারে উন্নীত হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যা অন্যতম প্রধান কারণ হলো জাতিগতভাবে সততা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়নিষ্ঠার ঘাটতি।
রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য প্রকৃত উপায় ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি দেশের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর মতে, দেশে মূলত দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা কার্যকর আছে এবং প্রধান দুই রাজনৈতিক দল যদি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে পালাক্রমে সরকার ও বিরোধী দলে যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়, তবে রাষ্ট্র সংস্কার সহজ হবে।
তিনি আরও বলেন, যে নির্বাচিত সরকারকে ওয়েস্টমিনস্টার ডেমোক্রেসির মতো মেনে নিতে হবে, তেমনি বিরোধী দলকেও উপযুক্ত সম্মান ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সমালোচনা করে সাবেক গভর্নর জানান, বিশ্বজুড়ে এ প্রকার ব্যবস্থা বিদ্যমান নেই এবং এটি মূলত বিরাজনীতিকরণ ও আমলাতান্ত্রিক অব্যবস্থাপনাকে জোরদার করার একটি হাতিয়ার। তিনি বলেন, আমলাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।
অতীতের রাজনৈতিক সুযোগ হাতছাড়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফরাসউদ্দিন বলেছেন, ২০১৪ সালে নির্বাচনকালীন সংকট নিরসনে যৌথ মন্ত্রিসভার প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে দেশে বিরাজনীতিকরণের পথ বন্ধ হতো। তিনি উল্লেখ করেন যে, সেই সময় স্বরাষ্ট্র এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল, কিন্তু তা হাতছাড়া হওয়াকে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ড. ফরাসউদ্দিন বলেন, সাময়িক ব্যবস্থার দিকে না ঝুঁকে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গঠন করা, স্বচ্ছ নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়াই প্রকৃত রাষ্ট্র সংস্কারের একমাত্র পথ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ