০৩:৫৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এ বছর চাঁদপুর জেলায় ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮১ জন শিশুকে ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে জাতীয় পুষ্টিসেবা, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের নিয়ে অবহিতকরণ ও কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ তথ্য জানান সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী।
সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেন, আগামী ২৮ জুন দেশে জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপিত হবে। ওইদিন, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের জন্য নীল রঙের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য একটি করে লাল রঙের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পর, মায়ের দুধের সঙ্গে পরিমাণ মতো ঘরে তৈরি সুষম খাবার খাওয়ানো জরুরি। চাঁদপুর জেলার ৮ উপজেলার দুটি পৌরসভায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৪২ হাজার ৮ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৩ জন শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২ হাজার ৩৩২টি টিকা কেন্দ্রে বিরতিহীনভাবে এই কার্যক্রম চলবে।
তিনি আরও জানান, ভিটামিন-এ শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অপুষ্টিজনিত জটিলতা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিটি যোগ্য শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা এ কার্যক্রম সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পেইনের দিন যদি কোনো শিশু বাদ পড়ে যায়, তাদের খুঁজে বের করে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘বাদপড়া শিশু অনুসন্ধান কার্যক্রম’ পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রমের আওতায় মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতকৃত ওয়ার্ড ম্যাপ অনুযায়ী প্রতিটি সাব-ব্লকে প্রতিদিন দুটি বিশেষ দল সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করবে। প্রতিটি দলে দুইজন করে মাঠকর্মী থাকবেন। তারা প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন বাদপড়া শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবেন। চার দিনের মধ্যে পুরো ওয়ার্ডের অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সভাপতির বক্তৃতায় সোহেল রুশদী বলেন, জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন শুধু একটি স্বাস্থ্য কর্মসূচি নয়, এটি শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ কর্মসূচির সফলতা নির্ভর করে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সচেতনতার ওপর। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ক্যাম্পেইন সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জেলার প্রতিটি অভিভাবকের কাছে বার্তা পৌঁছাতে সাংবাদিকদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি একই সঙ্গে আশা করেন, স্বাস্থ্য বিভাগ, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জেলার শতভাগ যোগ্য শিশুকে ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া কর্মশালায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. লতিফ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোস্তফা কামাল, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি রহিম বাদশা, আরটিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফ শরীফ চৌধুরী, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, সময় টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার ফারুক আহমেদ, এখন টিভির প্রতিবেদক তালহা জুবায়ের।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, সাংবাদিক এম ফরিদুল ইসলাম উকিল, এমরান হোসেন রাজন, বোরহান উদ্দিন ডালিম, সাইদ হোসেন অপু চৌধুরীসহ জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যাওয়া বগুড়ার আদমদীঘি থানার আলোচিত-সমালোচিত পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়েকে এক মাস ২২ দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে। বগুড়া ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে ওই কিশোরীকে অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে মূল অভিযুক্ত যুবকও রয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার দৈব নন্দপুর গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্ত যুবকের নাম শহীদ হোসেন (২০)।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ডিবি কার্যালয় চত্বরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রতিবেদন দেন এই বিষয়ে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান যে, উদ্ধার হওয়া কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হবে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে পাঠানো হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, বগুড়ার আদমদীঘি থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়ের সঙ্গে শহীদ হোসেন নামের এক যুবকের প্রেম গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে গত ১ মে ওই যুবক পুলিশ সদস্যের মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পরপরই কনস্টেবল রানা মাসুদ তার কর্মস্থল আদমদীঘি থানায় মামলা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মামলা নেয়ার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে কনস্টেবল রানা মাসুদ বাধ্য হয়ে বগুড়ার আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত ৭ মে আদমদীঘি থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত শহীদ হোসেনসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়।
কনস্টেবল রানা মাসুদের অভিযোগ, তার মেয়েকে আগে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি এলাকায় উদ্ধার করা হয়েছিল। সেখানে পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাফিজ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করলেও তা তার বাবার কাছে ফিরিয়ে দেননি। এই বিষয়গুলো নিয়ে কনস্টেবল রানা মাসুদ পরবর্তীতে ঢাকা গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আদমদীঘি ও পাঁচবিবি থানার দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন যে, নিজে পুলিশ সদস্য হয়েও পুলিশের সহযোগিতা পাচ্ছেন না।
কনস্টেবল রানা মাসুদের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তার পলাতক মেয়েও প্রেমিক শহীদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দেয়। সেখানে সে উল্টো তার পিতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। এই ঘটনার এক পর্যায়ে সম্প্রতি শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে কনস্টেবল রানা মাসুদকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সংবাদ ব্রিফিংয়ে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, যেহেতু উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম, তাই তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আইনগতভাবে অপহরণজনিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মামলাও রয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কন্যা অপহরণের পর তাকে উদ্ধার করার জন্য কনস্টেবল রানা মাসুদ বিধিবহির্ভূত আচরণ করায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’
ডিবি পুলিশের সংবাদ ব্রিফিংয়ের পর সেখানে উপস্থিত সাময়িক বরখাস্ত কনস্টেবল রানা মাসুদও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তার মেয়েকে উদ্ধার করার জন্য ডিবি পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
তবে তিনি তার আগের দাবিতে অনড় থেকে মন্তব্য করেন, ‘ঘটনার পর যদি আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামলা নিতেন, তাহলে আমার মেয়ে আরও আগে উদ্ধার হতো।’ একই সঙ্গে তিনি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর হাফিজের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে বলেন, ‘তিনি আমার মেয়েকে উদ্ধার করলেও তাকে ফিরিয়ে দেননি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব ফুটবলে ‘ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি’ (ভিএআর) বিষয়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক যেন থামছে না। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং এফএ কাপের পর এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চ। আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যাচে লিওনেল মেসির রেকর্ড গড়া গোলকে ঘিরে নতুন এক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ম্যাচের সময় মেসি নিজের বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে গোল উদযাপন করতে ব্যস্ত থাকাকালীন অস্ট্রিয়া শিবিরে হতাশা ও ক্ষোভের বর্তমান দেখতে পাওয়া যায়। তাদের অভিযোগ ছিল, গোলের আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার মুহূর্তে অস্ট্রিয়ার ডিফেন্ডার জাভার শ্লাগারের ওপর ফাউল করেছেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। এ ফাউলের ফলে বলের দখল বদলে গিয়ে শেষে গোলটি পায় আর্জেন্টিনা।
তবে মাঠের রেফারি অস্ট্রিয়ার আবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে গোলের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখেন। পরে ভিএআর পুরো ঘটনার পর্যালোচনা করলেও রেফারির সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি।
ভিএআর প্যানেল গোলের পূর্ববর্তী পুরো আক্রমণ সম্পর্কিত পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হয় যে, ম্যাক অ্যালিস্টার ও শ্লাগারের মধ্যে সংঘর্ষকে স্পষ্ট ফাউল হিসেবে বিবেচনা করার মতো অপর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। এই কারণে এ ঘটনাকে রেফারির ‘স্পষ্ট ও সুস্পষ্ট ভুল’ হিসেবে গণ্য করা হয়নি।
ফলস্বরূপ ভিএআর কর্মকর্তারা রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের জন্য পিচসাইড মনিটর ব্যবহারের জন্য ডাকার প্রয়োজন মনে করেনি।
ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনের বিশ্লেষণে ভিএআরের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলা হয়েছে। তাদের মতে, বিষয়টি ফাউল ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের সময় শ্লাগারের অবস্থান স্থির ছিল না এবং সংঘর্ষের পেছনে তার নিজস্ব গতি ও শরীরী ভরবেগও ভূমিকা রেখেছিল।
বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বিশ্বকাপে ভিএআরের হস্তক্ষেপের মানদণ্ড তুলনামূলকভাবে কঠোরভাবে রক্ষা করা হচ্ছে। মাঠের রেফারি যদি কোনো ঘটনার জন্য ফাউল না বলেন, তবে সেটিকে পরিবর্তন করতে ভিএআরের কাছে স্পষ্ট ও নির্ভুল প্রমাণ থাকতে হয়। এই ঘটনায় সেই রকম কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় মেসির গোল রক্ষা করাই নিয়মসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই টাস্কফোর্সটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের তদারকি করবে, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করবে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে এবং জরুরি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ‘ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধ বিষয়ক জাতীয় কমিটি’র প্রথম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভাটি সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ নয়, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশনা দেন।
সভায় ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
• বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার মাধ্যমে ব্যাপক হারে লিফলেট ও সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করা।
• স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ক বিশেষ প্রচারাভিযান পরিচালনা করা।
• স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে জোরদার করা।
• ফগার মেশিন ও মশক নিধন কার্যক্রমের মান (কোয়ালিটি) নিয়মিত পরীক্ষা ও তদারকি করা।
• এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে ধ্বংসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা।
• নির্মাণাধীন ভবন, ছাদবাগান, টায়ারের দোকান, গ্যারেজ এবং জলাবদ্ধ এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন বৃদ্ধি করা।
• গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতা প্রচারকে জোরদার করা।
• ডেঙ্গুর লার্ভা শনাক্ত হওয়া স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
• ডেঙ্গু প্রতিরোধের বিষয়ক মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা।
• ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাই এখন থেকেই সমন্বিত ও জোরালো প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। বক্তারা জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার পর গুরুত্ব আরোপ করেন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াসা, এলজিইডি, ডিপিএইচই, রাজউক এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ