বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:০২ পি.এম
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) পুরাতন ক্যাম্পাসে দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ক্লাবের উদ্যোগে ‘কালচারাল ফেস্ট ২.০— আন্তবিভাগ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬’ শীর্ষক এ উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন সংগীতশিল্পী বখতিয়ার হোসাইন, যিনি ‘বখতিয়ার–দ্য আর্টম্যান’ নামে পরিচিত।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাশরুর এনান, যিনি ‘কেটো ভাই’ নামে পরিচিত, নাজিব নিনাদ ও ফারহান পিরোম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ক্যাম্পাসে উৎসবের শেষ দিনের আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা তুলে ধরা, সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধি করা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করাই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
উৎসবে নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি ও চিত্রকলা— এই চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রতিটি বিভাগে বিজয়ীদের জন্য ছিল ক্রেস্ট, বৃত্তি ও সনদ। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ২০টির বেশি পণ্যের স্টল বসে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি এসব স্টল ঘিরেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ক্লাব এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে অন্যান্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও ডিআইইউর আয়োজন সম্পর্কে আগ্রহী হচ্ছে। এ অগ্রগতির পেছনে ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সদস্য, প্রধান উপদেষ্টা, অন্যান্য উপদেষ্টা ও পরামর্শকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক প্রচেষ্টা রয়েছে।
দুই দিনব্যাপী আয়োজনের প্রশংসা করে অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহ আলম চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ২০টির বেশি স্টল বসেছে। এসব স্টলের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং এর সাংস্কৃতিক ক্লাব সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা নিজেদের পরিচিতজনদের কাছেও বিশ্ববিদ্যালয়টির কথা তুলে ধরতে পারবেন, যা এর পরিচিতি বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, পয়লা বৈশাখ, ঈদ পুনর্মিলনীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ক্লাব। তাঁর মতে, সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয়, ঐতিহ্য ও আত্মার প্রতিচ্ছবি। সাংস্কৃতিক চর্চা শুধু গান, কবিতা, নাচ কিংবা অভিনয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব, মানবিকতা ও আত্মবিশ্বাস বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়। পাশাপাশি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতেও সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এবং সব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, উৎসবে বাইরের শিল্পীদের অংশগ্রহণ আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করবে এবং দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়াবে বলে তিনি আশা করেন। একই সঙ্গে অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে যেন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেদিকে সবার নজর রাখা প্রয়োজন। তিনি উৎসবের সার্বিক সফলতা কামনা করেন এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী এ আয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত খল অভিনেতা শিবা শানু বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় গ্রেড-২ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাওয়ার শর্তে চুক্তিভিত্তিক এক বছরের জন্য এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এ নিয়োগের বিষয়টি বুধবার (২৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০০১’-এর ১২(২) ধারা অনুযায়ী, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন শিবা শানু। তার প্রকৃত নাম চৌধুরী মাজহার আলী। নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে হলে, নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির পদ ছাড়তে হবে। তবে এ বিষয়ে তিনি এখনো নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি।
অভিনয়ের পাশাপাশি, গত কয়েক বছর ধরে রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বেশি সময় দিচ্ছেন শিবা শানু। এর ফলে অভিনয়েও কিছুটা অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন এই অভিনেতা।
১৯৯৮ সালে ‘মাতৃভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে প্রায় পাঁচ শতাধিক চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করেছেন শিবা শানু। এ সময়ের মধ্যে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি ও অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাটি ব্যবসার কারণে স্থানীয় হিরু খোরশেদের পেছনে লেগে ছিল। বারবার মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যাতে এ ব্যবসা না করেন। "মাটি ব্যবসার কারণে আমার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে বলেছে হিরু, ওয়ালিদ, সোহাগ।" কথাগুলো বললেন লক্ষ্মীপুরে নিহত মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের একমাত্র মেয়ে প্রেমা আক্তার।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দিলশাদপুর গ্রামে খোরশেদ আলমকে গুলি করে হত্যা করে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। তার বুকে তিনটি গুলির চিহ্ন ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিহত খোরশেদ আলমের মেয়ে প্রেমা বলেন, "আমার বাবাকে ঘর থেকে ডেকে নেওয়ার দুই মিনিট পরই তিনটি গুলির আওয়াজ শোনা যায়। দৌঁড়ে গিয়ে দেখি বাবা মাটিতে পড়ে আছে, মাটি ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই আমার বাবাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমার বাবা খোরশেদ ঘরে ছিল। মজিদ আর মোরশেদ আমার বাবাকে ডেকে নিয়ে যায়। তাদের সামনে ডাবের গাড়ি যাচ্ছে, পিছনে তাদের তিনজনকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। যাওয়ার ২ মিনিট পরই গুলির তিনটি আওয়াজ শোনা যায়। আওয়াজ শুনে ঘটনাস্থল যাওয়ার পথে মোরশেদ আর মজিদ দৌঁড়ে এসে বলছে, যে ওয়ালিদ আর সোহাগ আমার বাবাকে গুলি করেছে। সঙ্গে সঙ্গে গেলেও আমি কাউকে দেখিনি। গিয়ে দেখি আমার বাবা মাটিতে পড়ে আছে। পরে আমার মাও সেখানে আসে। আমার বাবা তখন ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলেছে।"
প্রেমা আক্তার বলেন, "আমার বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিল। বিএনপি করার কারণে ১৭ বছর আওয়ামী লীগের আমলে নানান মিথ্যা মামলা খেয়েছে। বিএনপি-আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে তাকে মারা হয়নি। যদি রাজনীতিকে কেন্দ্র করে মারা হতো, তাহলে তিনি আওয়ামী লীগের সময় মারা যেতো। মূলত উনি মাটির ব্যবসা করতো। মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ব্রিক ফিল্ডের মালিক হিরুসহ তার অন্যান্য লোকেরা আমার বাবা পিছে লেগে গেছে। এর আগে মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বারবার ধমক দিয়েছে, মেরে ফেলবে। যাতে মাটির ব্যবসা না করে। অন্য কোন কারণ আছে কিনা আমি জানি না। তবে মূল কারণ মাটির ব্যবসা। আমার বাবাও মারা যাওয়ার আগে বলে গেছে হিরু, ওয়ালিদ, সোহাগ। এখন বাকিটা তাদের গ্রেফতার করলে জানা যাবে।"
খোরশেদ হত্যায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তার স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৩ জনের নামে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছুট্টু ও মাসুদ রানাকে আটক করে।
গ্রেফতার ছুট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে এবং মাসুদ বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে নিহত খোরশেদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, "খোরশেদ হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রথম দফার আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। দুই পক্ষ জানিয়েছে, তিন দিনের এই আলোচনা ইতিবাচক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফার বৈঠক আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে করার প্রাথমিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এলডিসি উত্তরণের পর রপ্তানি বাজার ধরে রাখা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশ এই চুক্তিকে কৌশলগত সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছে।
গত রবিবার শুরু হওয়া আলোচনা আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শেষ হয়। আলোচনায় ১৩টি ওয়ার্কিং গ্রুপ চুক্তির বিভিন্ন অধ্যায়ের খসড়া ও কাঠামোগত বিষয়গুলি পর্যালোচনা করে।
আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন, কাস্টমস সহজীকরণ, ডিজিটাল বাণিজ্য, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি ব্যবস্থা (এসপিএস), বাণিজ্যে কারিগরি বাধা (টিবিটি) এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই)। বিনিয়োগ ও মেধাস্বত্ব নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান আলোচক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন বলেছেন, "চুক্তিটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন অর্থনৈতিক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।"
মালয়েশিয়ার ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও ডিজিটাল প্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, "চুক্তি কার্যকর হলে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে।"
মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক ড. রাশিদী সাঈদ এবং তার প্রতিনিধিদলকে অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানানো হয়। দুই পক্ষই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ ও ‘উইন-উইন’ চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে চুক্তির সুফল পাওয়া চূড়ান্ত শর্তাবলি, শুল্কছাড়ের পরিধি, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা ও বাস্তবায়ন কাঠামোর ওপর নির্ভর করবে। দ্বিতীয় দফায় বিভিন্ন অধ্যায়ে মতপার্থক্য নিরসন এবং পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছানো মূল চ্যালেঞ্জ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি ব্যস্ত রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও ১৪ জন, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের মিত্রদের কাছে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গভর্নর ওলেক্সান্দর গানঝা বৃহস্পতিবার বিকেলে হতাহতের সংখ্যা জানান। আহতদের মধ্যে ১১ বছর বয়সী একটি শিশু রয়েছে। এ ছাড়া স্প্লিন্টারের আঘাতে অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
জেলেনস্কি জানিয়েছেন, হামলার সময় দিনিপ্রো রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি নিয়মিত লোকাল ট্রেন ও একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা প্রকাশিত ছবিতে প্ল্যাটফর্মে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন। ছবিতে জানালার কাচ ভাঙা ও পুড়ে যাওয়া দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনও দেখা গেছে।
হামলার নিন্দা জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার যুদ্ধ অব্যাহত থাকা পর্যন্ত মস্কো ও দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা উচিত নয়। রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি ইউক্রেনের মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান।
এ হামলার মধ্যে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত ওলেশকি শহরকে ঘিরে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার চেষ্টা চলছে। ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা শহরটির বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকটে রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উভয় দেশ জানিয়েছে, স্থানীয় যুদ্ধবিরতি তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, তিনি বেলারুশ ও রাশিয়া হয়ে একটি ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল নিয়ে ওলেশকির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।
দিনিপ্রোতে রুশ হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি ওলেশকিকে কেন্দ্র করে চলমান সীমিত যুদ্ধবিরতির চেয়ে আরও বিস্তৃত ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
বেসামরিক নাগরিক ও যাত্রীবাহী ট্রেনকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ