ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কর্মীকে ১৫ বারের বেশি ছুরিকাঘাত


যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম কর্মীকে ১৫ বারের বেশি ছুরিকাঘাত

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের একটি শপিংমলে ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে এক মুসলিম কর্মীকে ১৫ বারের বেশি ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশি নথির বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে তিনি ওই মুসলিম কর্মীকে ‘তার ধর্মের কারণে’ হত্যা করতে চেয়েছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য সল্ট লেক ট্রিবিউন জানায়, সোমবার ওয়েস্ট ভ্যালি সিটির ভ্যালি ফেয়ার মলের একটি কিয়স্কে কর্মরত সোহাইল নামের ওই মুসলিম কর্মীর কাছে ৪৮ বছর বয়সি এক ব্যক্তি এগিয়ে যান। প্রথমে তিনি সোহাইলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন করেন এবং তার নাম ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে চান।

এরপর সোহাইল পানির বোতল আনতে ঘুরে দাঁড়ালে অভিযুক্ত ব্যক্তি আচমকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালান। উটাহ ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শুয়াইব দিন, যিনি ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কেটিইউভির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের নাম পিটার লারসেন। ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি হামলাকারীকে ধরে ফেলেন, মাটিতে চেপে রাখেন এবং তার হাত থেকে ছুরি কেড়ে নেন।

হামলায় গুরুতর আহত সোহাইলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার হাত, হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে বলে তার পরিবারের সহায়তায় খোলা একটি তহবিল সংগ্রহের পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে সল্ট লেক কাউন্টি কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য বাস্তব জীবনে ভয়াবহ সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানান।

সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমবিদ্বেষমূলক আচরণের ৮ হাজার ৬৮৩টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে, যা ১৯৯৬ সালে এ ধরনের তথ্য সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ। উটাহ মুসলিম সিভিক লীগও এ ঘটনাকে ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে হামলাকারীকে আটক করতে এগিয়ে আসা সাধারণ মানুষের সাহসিকতার প্রশংসা করেছে।

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

সূত্র: আনাদলু এজেন্সি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাশি সারাতে লবঙ্গ কতটা উপকারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ এম


কাশি সারাতে লবঙ্গ কতটা উপকারী

সর্দি, অ্যালার্জি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে হওয়া কাশি অনেক সময় যথেষ্ট ভোগান্তির কারণ হতে পারে। ঘুমে সমস্যা হওয়া ছাড়াও এটি স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকেও ব্যাহত করে। এমন পরিস্থিতিতে লবঙ্গ, যা একটি ঘরোয়া উপাদান, কিছুটা স্বস্তি দিতে সক্ষম। এর প্রদাহরোধী, জীবাণুনাশক এবং প্রশান্তিদায়ক উপাদান কাশি ও গলার অস্বস্তি কমাতে সাহায্য বলে মনে করা হয়। তাছাড়া, লবঙ্গে থাকা কিছু প্রাকৃতিক যৌগ শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা কমাতে সুবিধাজনক ভূমিকা রাখতে পারে।

লবঙ্গের গুণাবলীর মধ্যে অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রদাহরোধী ক্ষমতা। এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে, যা কাশি ও গলার অস্বস্তি হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

লবঙ্গে এমন কিছু উপাদান বিদ্যমান, যা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। ফলে, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে হয়ে ওঠা কাশির তীব্রতা এটি কমাতে পারে।

লবঙ্গ একটি প্রাকৃতিক কফ নিঃসারক হিসেবেও কাজ করতে সক্ষম। এটি শ্লেষ্মাকে পাতলা করে সহজে বের হতে সাহায্য করে, তাই যাদের কফযুক্ত কাশি রয়েছে, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

এছাড়াও, প্রাকৃতিক কাশি প্রশমক হিসেবে লবঙ্গ পরিচিত। এটি কাশির প্রবণতা কমিয়ে গলার অস্বস্তি হ্রাসে সাহায্য করে, ফলে রাতে ভালো ঘুম এবং স্বাভাবিক কাজকর্মে স্বস্তি লাভ করা সম্ভব।

যেভাবে ব্যবহার করতে পারেন:

লবঙ্গের চা: এক কাপ ফুটন্ত পানিতে ১ থেকে ২টি লবঙ্গ দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর ছেঁকে গরম অবস্থায় পান করুন। স্বাদ বাড়ানোর জন্য এতে মধু বা লেবুর রস মেশানো যেতে পারে।

লবঙ্গ তেলের বাষ্প: নাক বন্ধ থাকা বা কাশি কমাতে লবঙ্গ তেলের বাষ্প গ্রহণ করা যেতে পারে। মাল্টিডিসিপ্লিনারি ডিজিটাল পাবলিশিং ইনস্টিটিউট (এমডিপিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ তেল সর্দি, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় কফ বের করতে সাহায্য করতে পারে।

লবঙ্গ-মধুর মিশ্রণ: দুই-একটি লবঙ্গ গুঁড়া বা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী এক চা-চামচ করে এই মিশ্রণ খেলে কাশির অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।

আদা-লবঙ্গের পেস্ট: আদা ও লবঙ্গ একসঙ্গে বেটে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। এই মিশ্রণ গলার জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

তবে, দীর্ঘদিন ধরে কাশি স্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, বুকে ব্যথা বা রক্তসহ কাশি হলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইইউতে তালেবান, বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন বাঁক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৮ এম


ইইউতে তালেবান, বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন বাঁক

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন নেতাদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকটি হচ্ছে প্রথমবারের মতো আফগানিস্তানের বর্তমান ক্ষমতাসীদের কোনো প্রতিনিধিদল ব্রাসেলসে ইইউর সঙ্গে আলোচনায় বসার সুযোগ পেল।

কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তালেবান ধীরে ধীরে ইউরোপের কূটনীতিতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে ইউরোপের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা। এ ঘটনার ফলে পশ্চিমা কূটনৈতিক কৌশলের কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্রাসেলসে তালেবানের উপস্থিতি বিশ্ব কূটনীতিতে একটি নতুন বাঁক সৃষ্টি করছে। বৈঠকে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের নাগরিকদের ‘মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন’ নিয়ে আলোচনা গুরুত্বের সঙ্গে করা হয়। গত ২৩ জুনের বৈঠকটিকে আফগান সরকার 'ঐতিহাসিক' বলে অভিহিত করেছে।

বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ একটি আস্থা তৈরির পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইইউতে তালেবানের কূটনৈতিক উপস্থিতিকে কিছুটা ইতিবাচক হিসেবে নেওয়া হচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে ইইউর ২৭টি দেশের মধ্যে ১৫ দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত আফগান নাগরিকদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া সহজ করতে চেয়েছেন তারা।

২০২১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর পরাজয়ের পর তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে তারা নাগরিক অধিকারের উপর, বিশেষ করে নারীদের শিক্ষার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

ইইউতে তালেবানের উপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ইইউর একটিও দেশ তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি। তাই তালেবান কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতায় রয়েছেন। তবে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সেই বিচ্ছিন্নতার ভেতরে একটি ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষমতায় আসার পর আফগান নেতারা ইউরোপের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে প্রবেশাধিকার বাড়াতে কাজ করে চলেছেন। যদিও বৈঠকের জন্য তালেবান নেতাদের যে ভিসা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ ছিল মাত্র ২৪ ঘণ্টা। এছাড়া ওই ভিসায় অন্য কোথাও যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা ছিল।

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রিভো জানিয়েছেন, তালেবান প্রতিনিধিদের ভিসা দেওয়ার জন্য বেলজিয়াম ইইউর অনুরোধ মেনে চলেছে। তবে বৈঠকের মাধ্যমে তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।

ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইইউ দেশগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠের চাপের জবাবে বৈঠকটি হয়েছে। কমিশনের মুখপাত্র মার্কাস ল্যামার্ট বলেছেন, আফগান নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু এর মানে তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়া নয়।

বেলজিয়ামের অভিবাসনমন্ত্রী অ্যানলিন ভ্যান বসুইট বৈঠকের আগে একটি বিবৃতি দেন। তিনি বলেন, আমরা আর স্থবিরতা বজায় রাখতে পারি না। একটি শক্তিশালী ও যৌথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এটি সঠিক সময়। যাতে ইউরোপ অভিবাসন ও নিরাপত্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে।

তালেবান এই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিবিষয়ক গণমাধ্যম নেটওয়ার্ক ইউরোঅ্যাকটিভ জানিয়েছে, ইউরোপজুড়ে আফগানদের জন্য কনস্যুলার পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য ইইউ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে ব্রাসেলস সফরকে কাজে লাগিয়েছে তালেবান।

তালেবান সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল কাহার বলখি ইউরোঅ্যাকটিভকে জানিয়েছেন, ‘ইইউ অঞ্চলে আফগানদের জন্য ব্যাপক পরিসরের কনস্যুলার পরিষেবা পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আমরা বিদেশে বসবাসকারী আফগানদের কনস্যুলার অধিকার সুরক্ষিত করতে একটি ইতিবাচক গতি সঞ্চার করতে চাই।’

অন্যদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেন, ইউরোপে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া আফগান নাগরিকদের শনাক্তকরণ, ভ্রমণ নথি প্রদান ও তাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সুইডেনের অভিবাসনমন্ত্রী ইয়োহান ফরসেল ইউরো নিউজকে বলেন, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা আফগানরা গুরুতর অপরাধী। সুইডেনে প্রায় ২০০ আফগান নাগরিক নির্বাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ইউরোপের কোন দেশে কতজন আফগান নাগরিক রয়েছে, সেই বিষয়ে ইউরোপীয় জাতীয় তথ্য অনুসারে দেখা যায়, জার্মানিতে ৪.৩ – ৪.৫ লাখ, অস্ট্রিয়ায় ৮০-৯০ হাজার, ফ্রান্স ও সুইডেনে ৬০-৭০ হাজার, নেদারল্যান্ডসে ৫০-৬০ হাজার, বেলজিয়ামে ২৫-৩০ হাজার, নরওয়েতে ২৫-৩০ হাজার, ডেনমার্কে ২০ হাজারের কাছাকাছি, ফিনল্যান্ডে ১০-১২ হাজার এবং ইতালিতে ২০-৩০ হাজার আফগান নাগরিক অবস্থান করছে।

এছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ হাজার থেকে এক লাখ আফগান নাগরিক রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রমের প্রমাণ মিলেছে, এ অবস্থায় ইউরোপীয় সরকার তাদের ফেরত পাঠানোর চিন্তা করছে। তাই তালেবানকে ব্রাসেলসে ডাকার প্রয়োজন ইইউ-এর।

মানবাধিকারকর্মীরা কী বলছেন: রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে ইসলামী জঙ্গিদের বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা করেছে। তবে ইইউ এটিকে ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের প্রত্যাবাসন সহজ করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে সমর্থন করেছে।

এছাড়া ইউরোপের পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আফগান অধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই। ওই বৈঠকের পর তিনি লিখেছেন, ইইউ তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করছে জেনে তিনি গভীরভাবে হতাশ। সামাজিক মাধ্যমে এক্সের পোস্টে তিনি লেখেন, ইউরোপের উচিত নয় বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবাধিকার সংকটের জন্য দায়ী একটি শাসনব্যবস্থাকে বৈধতা দেওয়া। তালেবানের সঙ্গে যে কোনো সংযোগ আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকারকে কেন্দ্র করেই শুরু এবং শেষ হতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক ফেরেশতা আব্বাসি বলেন, তালেবানের সঙ্গে হওয়া যে কোনো আলোচনায় মানবাধিকার ও জবাবদিহিতা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। নির্বাসিত আফগান নাগরিকদের বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত হবে না।

তিনি বলেন, ইইউ তালেবানের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে জবাবদিহিতা দাবি করছে, অন্যদিকে আফগান নাগরিকদের জোর করে তালেবানের হাতে তুলে দিতে চেয়ে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করছে।

ইউএনএইচসিআর-এর নীতি উন্নয়ন ও মূল্যায়ন বিভাগের সাবেক প্রধান ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং ফেলো জেফ ক্রিস্প বলেন, সবচেয়ে স্পষ্ট এবং বিপজ্জনক পরিণতি হলো, আফগানদের ইইউ থেকে ফেরত পাঠানো হলে তারা তালেবানের নিপীড়নের শিকার হবে।

সূত্র: রয়টার্স, এপি ও ইউরো নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টানা বৃষ্টির পর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ যেসব রোগের কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২১ এম


টানা বৃষ্টির পর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ যেসব রোগের কারণ

দেশের বিভিন্ন জায়গায় টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে জনজীবন বর্তমানে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনজীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা সহ বহু স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, বিভিন্ন জেলায় উজানের ঢলে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে অসংখ্য মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে, পানিবাহিত এবং সংক্রামক রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে, তারা সতর্ক থাকার জন্য ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, চর্মরোগ, ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই), হেপাটাইটিস এ ও ই-সহ বিভিন্ন রোগের বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের সাবেক উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বলেছেন, বন্যা এবং জলাবদ্ধতার সময় দুই কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। প্রথমত, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ খাদ্য এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার সংকট দেখা দেয়। চারপাশে পানি থাকলেও তা পানযোগ্য নয়, ফলে দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ডায়রিয়া, কলেরা এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

ডায়রিয়া সাধারণত দূষিত পানি ও খাদ্য গ্রহণের ফলে হয়ে থাকে। এটি শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ বের করে নেয়, ফলে রোগী মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগতে পারেন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। কলেরা হল ডায়রিয়ার কারণে হওয়া একটি সংক্রামক রোগ, যা যোগাযোগপূর্ণ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলস্বরূপ হয়ে থাকে। শারীরিক অবস্থার মধ্যে তীব্র ডায়রিয়া, বারবার বমি, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, দুর্বলতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ উপস্থিত হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় কিডনির জটিলতা বা শকের ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, রোগের কারণ যদিও আলাদা, তবে ডায়রিয়া এবং কলেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয়টি হল শরীরের পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা। এজন্য দ্রুত ওরস্যালাইন খাওয়ানো, নিরাপদ পানি পান করানো এবং গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বিতীয় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি আসতে পারে জলাবদ্ধতা ও বন্যার পরিবেশগত প্রভাব থেকে। এ সময় পানিতে ডুবে দুর্ঘটনা, সাপের কামড়, জলাবদ্ধ পানিতে থাকা কাচ, টিন বা ধারালো বস্তুতে পা কেটে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরেও ঝুঁকি শেষ হয় না। এ সময় টাইফয়েড এবং হেপাটাইটিস এ ও ই-এর মতো পানিবাহিত রোগের প্রকোপও বাড়তে পারে। টাইফয়েডের জটিলতায় অন্ত্রে রক্তক্ষরণ, অন্ত্র ছিদ্র হয়ে যাওয়া, হেপাটাইটিস, পিত্তথলির প্রদাহ এবং এমনকি মৃত্যুও ঘটে যেতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন এবং প্রায় ৮ হাজার মানুষ মারা যান। এগুলোর মধ্যে বড় অংশই শিশু।

হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত অন্যান্য হেপাটাইটিসের তুলনায় কম জটিল, কিন্তু গর্ভবতী নারীদের জন্য হেপাটাইটিস ই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিরাপদ পানির ব্যবহার এবং খাবার প্রস্তুত ও দৈনন্দিন কাজে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া, দীর্ঘ সময় স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বা আশ্রয়কেন্দ্রে গাদাগাদি করে থাকার কারণে স্ক্যাবিসসহ বিভিন্ন চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এসব সংক্রমণ থেকে কিডনির জটিলতা দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্টের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়।

বন্যাকবলিত এলাকায় নারী-পুরুষ উভয়েই ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশনে (ইউটিআই) আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যদিও নারীদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। যদি মানুষ ও গবাদিপশু একই আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করে, তাহলে অ্যানথ্রাক্সের মতো প্রাণিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং ডায়াবেটিস, হৃদরোগ বা হাঁপানির মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে আছেন। জ্বর, ডায়রিয়া, পেশিব্যথা, কিংবা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, নিরাপদ টয়লেট ব্যবহার, বিশুদ্ধ পানি পান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া জলাবদ্ধ পানিতে না নামার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। যদি পানিতে নামতেই হয়, তাহলে পরে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে শরীর পরিষ্কার করতে এবং শুকনো ও পরিষ্কার পোশাক পরিধান করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হতাশ ম্যাক্রোঁ বললেন ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ এম


হতাশ ম্যাক্রোঁ বললেন ‘এটা মেনে নেওয়া কঠিন’

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে বিদায় নিয়েছে ফ্রান্স। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ফরাসিদের হারিয়ে স্প্যানিশরা ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে।

তবে, এই হৃদয়ভাঙা পরাজয়ের পরও ফরাসি দলটির ব্যাপারে আশার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ম্যাচশেষে সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে ম্যাক্রোঁ ফাইনালে ওঠায় স্পেনকে অভিনন্দন জানান।

একই সঙ্গে, তিনি কিলিয়ান এমবাপ্পের দলের প্রশংসা করে লেখেন, ‘যোগ্য দল হিসেবে ফাইনালে ওঠায় স্পেনকে সাধুবাদ। দেশের জার্সির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আপ্রাণ চেষ্টার জন্য ‘লে ব্লুজ’দের ধন্যবাদ। আজকের এই পরাজয় মেনে নেওয়া কঠিন, তবে এ দলটি এখনো তরুণ এবং এদের সামনে দারুণ ভবিষ্যৎ রয়েছে।’

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফিনিশিংয়ের যে ঘাটতি ছিল, সেমিফাইনালের মঞ্চে এসে তা কাটিয়ে উঠেছে স্পেন। নিখুঁত রক্ষণ এবং দুর্দান্ত আক্রমণের মিশেলে, ম্যাচের শুরু থেকেই ফ্রান্সকে চেপে ধরে তারা। পুরো ম্যাচে কখনোই মনে হয়নি, খেলা দে লা ফুয়েন্তের দলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে আছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে স্পেনের অন্যতম আবিষ্কার লামিন ইয়ামালকে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস ডিনিয়ে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করলে পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিক থেকে গোলরক্ষক মাইক মাইগনানকে পরাস্ত করে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল।

এরপর মিডফিল্ডার দানি ওলমোর একটি দুর্দান্ত থ্রু-বল ধরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফুলব্যাক পেদ্রো পোরো। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ পারফর্ম করে পোরো ম্যাচসেরার (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) পুরস্কারও জিতে নেন।

২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার গোলে প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। আগামী রোববার নিউইয়র্কের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালের (ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা) জয়ী দলের বিপক্ষে বিশ্বসেরার লড়াইয়ে স্পেনের অংশগ্রহণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%