ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‎ত্রিশালে আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে একাধিক পরিবার নিঃস্ব


‎ত্রিশালে আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে একাধিক  পরিবার নিঃস্ব

‎
‎ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১১নং মোক্ষপুর ইউনিয়নের বেপারী বাড়ির ওয়াইজ উদ্দিনের ছেলে মাইন উদ্দিন(৪০) নামের এক আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে একই এলাকার কয়েক  পরিবার নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
‎
‎ভুক্তোভোগীরা হলেন উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাঈম মিয়া, মোঃ তাইজুল ইসলামের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম(২৬)সহ এলাকার অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন।
‎এদের প্রত্যেকের কাছে থেকে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা মাইন উদ্দিন আৎসাত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎এ বিষয়ে ওই পরিবারের ২ ভুক্তভোগী ত্রিশাল থানায় অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মোঃ মাইন উদ্দিন(৪০), আবুল কালাম ওরফে কালু (৩২) ও সেলিম মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে তাদের
‎বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
‎
‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলামের ছেলে সাঈম মিয়া অভিযুক্ত মাইন উদ্দিনের মাধ্যমে দুবাই যান। এ জন্য মাইন উদ্দিনকে তিন লাখ টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ৭০ হাজার টাকা বকেয়া ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎রফিকুল ইসলামের দাবি, দুবাই যাওয়ার পর ২১ মাসের মধ্যে তাঁর ছেলে মাত্র পাঁচ মাসের বেতন পেয়েছেন। বাকি ১৬ মাসের বকেয়া বেতন চাইলে তাঁর ছেলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁর ছেলের পাসপোর্ট ও ইকামাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও নিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‎
‎আরেক ভুক্তভোগী মোঃ শহীদুল ইসলামের অভিযোগ সূত্রে জানা, আমাকে সৌদি আরব ভালো বেতনের কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে আমাকে সৌদি আরব পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে আমি জানতে পারি। আমি সেখানে অবৈধ অভিবাসনের ফলে সৌদি আরব সিআইডি পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে দেশে পাঠিয়ে দেয়। এখন আমি নিঃস্ব হয়ে কোন রকম বেঁচে আছি। মাইন উদ্দিন দালাল আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমি সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।
‎
‎অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে, সংবাদ কর্মী  মাইন উদ্দিনের বাড়িতে গেলে। তিনি সংবাদ কর্মীর আসার খবর শুনে বাড়িতে দ্রুত পালিয়ে যায়।  এসময় মাইন উদ্দিনের স্ত্রী নিউজ না করার জন্য সংবাদ কর্মীদের টাকার অফার করেন।
‎
‎
‎ত্রিশাল থানা অফিসার ইনচার্জ মুনসুর আহমেদ বলেন অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চারবার গুলিবিদ্ধ, তিনবার কারাবরণ—রাজপথের পরীক্ষায় গড়া বোরহান উদ্দিন ইশরাক কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


চারবার গুলিবিদ্ধ, তিনবার কারাবরণ—রাজপথের পরীক্ষায় গড়া বোরহান উদ্দিন ইশরাক কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায়

চারবার গুলিবিদ্ধ, তিনবার কারাবরণ—রাজপথের পরীক্ষায় গড়া বোরহান উদ্দিন ইশরাক কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায়

রাজপথের রক্ত, কারাগারের দিন, আন্দোলনের নেতৃত্ব—তারপরও মানুষের পাশে

বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্বের মূল্যায়ন শুধু পদ-পদবির হিসাব দিয়ে হয় না। একটি রাজনৈতিক প্রজন্মের কঠিন সময়ে কে রাজপথে ছিলেন, কে কর্মীদের সংগঠিত করেছেন, কে হামলা-নির্যাতন ও কারাবরণের মধ্যেও অবস্থান ধরে রেখেছেন এবং কে পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও মাঠে সক্রিয় থেকেছেন—সেই ইতিহাসই একজন কর্মীর রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দলিল।

বোরহান উদ্দিন ইশরাকের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাকে দেখলে এমন কয়েকটি অধ্যায় সামনে আসে, যেগুলো আলাদা আলাদা ঘটনা হলেও একসঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ ছবি তৈরি করে—চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়া, তিন দফায় কারাবরণ, একাধিক হামলা ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও রাজপথে সক্রিয় নেতৃত্ব।

এর পাশাপাশি রয়েছে অসচ্ছল শিক্ষার্থী, এতিম ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর নানা মানবিক উদ্যোগ।

এই ধারাবাহিক পথচলাই তাঁকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় একজন অভিজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে।

২০০৯–১০: ঢাকা কলেজ থেকে যে পথচলার শুরু

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০০৯–১০ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা কলেজে পড়াশোনার সময় ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন বোরহান উদ্দিন ইশরাক।

শুরু থেকেই তাঁর রাজনীতি ছিল ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক সাংগঠনিক তৎপরতার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচিনির্ভর।

সহপাঠী, জুনিয়র ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের নিয়ে তিনি একটি সক্রিয় কর্মীবলয় গড়ে তোলেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের কর্মসূচিতে নিয়মিতভাবে ৫০–৬০ জনের মতো কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে উপস্থিত থাকতেন তিনি।

সময়ের সঙ্গে সেই পরিসর আরও বিস্তৃত হয়।

ফলে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার শুরু থেকেই দুটি বিষয় পাশাপাশি এগিয়েছে—রাজপথে সক্রিয়তা এবং কর্মী সংগঠিত করার সক্ষমতা।

চারবার গুলিবিদ্ধ—চারটি সময়, চারটি রাজনৈতিক পরীক্ষা

ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি তাঁর চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিজ্ঞতা।

২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা তাঁর জীবনবৃত্তান্ত ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

২৯ জুলাই ২০২৩। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচিতে রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলে তাঁর দেওয়া তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

২৮ অক্টোবর ২০২৩। বিএনপির একদফা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজপথের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে তিনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

১৯ জুলাই ২০২৪। জুলাই-আগস্টের বৃহত্তর গণআন্দোলনের উত্তাল সময়ে কাকরাইল এলাকায় সহযোদ্ধাদের সঙ্গে রাজপথে অবস্থানকালে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা তাঁর বক্তব্যে রয়েছে।

চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়ার এই ইতিহাসকে শুধু ব্যক্তিগত আঘাতের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য পুরোপুরি ধরা পড়ে না।

প্রতিটি ঘটনাই ছিল আন্দোলনের একটি কঠিন সময়। আর প্রতিটি সময়েই তাঁর অবস্থান ছিল রাজপথে।

তিনবার কারাবরণ—প্রায় নয় মাসের বন্দিজীবন

রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি কারাগারের অভিজ্ঞতাও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৭ খালেদা জিয়ার আদালতকেন্দ্রিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন তিনি।

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তির পর কারাগারের গেট থেকেই নতুন মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন।

এরপর ২৮ জুন ২০২১, কাকরাইলের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হয়ে রমনা থানার মামলায় কারাবরণ করেন তিনি।

তাঁর হিসাব অনুযায়ী, তিন দফা কারাবাস মিলিয়ে প্রায় নয় মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে তাঁকে।

কারাবাসের পাশাপাশি রিমান্ড ও শারীরিক-মানসিক চাপের অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম কঠিন বাস্তবতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

হামলা, নির্যাতন ও মামলার মধ্যেও রাজপথে থাকা

রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে হামলা ও নির্যাতনের মুখোমুখি হওয়ার কথাও ইশরাক জানিয়েছেন।

জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা, নয়াপল্টন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা এবং রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা ও সংঘাতের অভিজ্ঞতা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অংশ।

কিন্তু এসব ঘটনার পরও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেমে যায়নি।

একজন মাঠের কর্মীর রাজনৈতিক সক্ষমতার একটি বড় পরীক্ষা হয় প্রতিকূলতার পর তিনি আবার কত দ্রুত সংগঠনের কাজে ফিরতে পারেন—ইশরাকের রাজনৈতিক পথচলায় সেই ধারাবাহিকতার উদাহরণও পাওয়া যায়।

আন্দোলনের পাশাপাশি সংগঠন—ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের দায়িত্ব

রাজপথের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্বও যুক্ত হয়েছে।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের ২ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রচার সম্পাদক—বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সর্বশেষ তিনি ছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

অবরোধসহ বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মসূচিতেও তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকার কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে।

অর্থাৎ তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় শুধু আন্দোলনের মিছিলে উপস্থিত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘদিনের ক্যাম্পাসভিত্তিক সাংগঠনিক দায়িত্বও তাঁর অভিজ্ঞতার অংশ।

জুলাই-আগস্ট: বৃহত্তর গণআন্দোলনের রাজপথে

জুলাই-আগস্টের আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, সেই আন্দোলনের শুরু থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি সহযোদ্ধা ও জুনিয়র কর্মীদের নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।

তবে এই আন্দোলনকে তিনি শুধু কোনো দল বা ব্যক্তির আন্দোলন হিসেবে দেখেন না। তাঁর বক্তব্যে জুলাইয়ের আন্দোলনকে দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের বৃহত্তর গণআন্দোলন হিসেবে দেখার বিষয়টিও উঠে এসেছে।

এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যের আরেকটি দিক সামনে আনে—দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি বৃহত্তর সামাজিক ও জাতীয় বাস্তবতাকে বোঝার চেষ্টা।

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও রাজপথে—শিবিরের হামলার প্রতিবাদে

বিএনপি সরকার গঠনের পর ক্যাম্পাসগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করেও ইশরাককে আবার রাজপথে সক্রিয় দেখা যায়।

৮ আগস্ট ২০২৬, সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে তাঁর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে নীলক্ষেত এলাকা প্রদক্ষিণ করে এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘাতের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে ইশরাক ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানান এবং ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য ও জবাবদিহিমূলক ছাত্ররাজনীতির পক্ষে বক্তব্য দেন।

এই কর্মসূচির বিশেষ দিক হলো—রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের পরও তাঁর রাজপথের সক্রিয়তা থেমে যায়নি।

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধেও সরব

নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অপতৎপরতা ও নৈরাজ্যের অভিযোগের বিরুদ্ধেও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা দেখা গেছে।

২৭ জুন ২০২৬, আওয়ামী লীগের ‘ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের’ প্রতিবাদে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

নীলক্ষেত থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি নিউমার্কেট এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এলিফ্যান্ট রোডে গিয়ে শেষ হয়।

সেই কর্মসূচিতে ইশরাক বক্তব্য দেন এবং আওয়ামী লীগের কোনো অপতৎপরতা বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে ছাত্রদল রাজপথে তা মোকাবিলা করবে বলে মন্তব্য করেন।

সংবাদ প্রতিবেদনে কর্মসূচিতে প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মীর অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও তাঁর কর্মকাণ্ডের একটি ধারাবাহিকতা স্পষ্ট—যে ইস্যুকে তিনি সংগঠন ও রাজপথের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন, সেখানে কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া।

১৭ বছরের পথচলায় রাজপথই ছিল প্রধান পরিচয়

ইশরাক তাঁর রাজনৈতিক পথচলার সময়কালকে প্রায় ১৭ বছরের সক্রিয় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

এই সময়ের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলন, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার দাবিতে কর্মসূচি, তারেক রহমানের দেশে ফেরার দাবিকে ঘিরে রাজনৈতিক কর্মসূচি, হরতাল-অবরোধ, সমাবেশ, মিছিল এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে মাঠে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে।

এই দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতাই তাঁর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের আলোচনার অন্যতম ভিত্তি।

রাজনীতির বাইরে মানুষের পাশে

একজন রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় শুধু মিছিল, স্লোগান কিংবা সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না।

ইশরাকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগও রয়েছে।

অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, এতিম শিক্ষার্থীদের খাবার বিতরণ এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শিক্ষার্থীদের পোশাক ও খাবারের ব্যবস্থা—এসব কর্মকাণ্ড তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মানবিক দিকটি সামনে আনে।

খালেদা জিয়ার জন্মদিনে এতিম হাফেজদের সঙ্গে

২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দারুন নাজাত আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এতিম শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাবার বিতরণ এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন ইশরাক।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটানোর এই উদ্যোগ তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজদের পাশে

২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মোহাম্মদপুরের আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রা.) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাদ্রাসায় হাফেজ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে পোশাক বিতরণ এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন তিনি।

“মানবতার সেবায় সহমর্মিতার বন্ধনে”—এই ভাবনাকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের খোঁজ নেওয়ার কথাও প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে।

রাজনীতির মাঠে কঠিন অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সমাজের প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতাও একজন রাজনৈতিক কর্মীর নেতৃত্বের পরিধিকে বিস্তৃত করে।

কেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় বোরহান উদ্দিন ইশরাক?

একজন কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতার মূল্যায়নে শুধু একটি বিষয় যথেষ্ট নয়।

প্রয়োজন হয় দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাজপথের পরীক্ষিত ভূমিকা, সাংগঠনিক সক্ষমতা, কর্মী সংগঠিত করার দক্ষতা, সংকটকালীন নেতৃত্ব, রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ।

ইশরাকের ক্ষেত্রে এসব উপাদান তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার বিভিন্ন পর্যায়ে দেখা যায়।

চারবার গুলিবিদ্ধ হওয়া তাঁর ত্যাগের একটি দিক।

তিন দফা কারাবরণ তাঁর রাজনৈতিক প্রতিকূলতার আরেকটি দলিল।

হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচিতে থাকা তাঁর রাজনৈতিক দৃঢ়তার দিকটি তুলে ধরে।

ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব তাঁর সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেয়।

আর ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো দেখায়—রাজনৈতিক বাস্তবতা পরিবর্তনের পরও তিনি মাঠের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি; শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদ এবং ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন ইস্যুতেও তিনি প্রকাশ্য রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েছেন।

এই সমগ্র পথচলা বিবেচনায় তাঁর মতো দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের একজন কর্মীর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতৃত্বে মূল্যায়নের প্রশ্নটি তাই স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে।

গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্বের প্রশ্ন—শেষ কথা বলবে মূল্যায়ন

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কেবল একটি সাংগঠনিক পদ নয়; এটি একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব।

সেই জায়গায় কারও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক অতীত, ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক, প্রতিকূল সময়ে অবস্থান এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সক্রিয়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় আসাই স্বাভাবিক।

বোরহান উদ্দিন ইশরাকের দীর্ঘ পথচলায় রয়েছে রাজপথের গুলির ক্ষত, কারাগারের দিন, হামলা-নির্যাতনের অভিজ্ঞতা, সংগঠন গড়ে তোলার চেষ্টা, আন্দোলনে নেতৃত্ব, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইস্যুতে মাঠে সক্রিয়তা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ধারাবাহিকতা।

সুতরাং তাঁর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের আকাঙ্ক্ষা কেবল একটি পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে নয়—দীর্ঘদিনের মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল্যায়নের সামনে তুলে ধরার একটি রাজনৈতিক দাবি হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত পদ একটি পরিচয় দিতে পারে।

কিন্তু রাজপথের ইতিহাসই একজন কর্মীর রাজনৈতিক পরিচয়ের সবচেয়ে বড় দলিল।

আর সেই ইতিহাসের পাতায়—গুলিবিদ্ধ হওয়ার চারটি অধ্যায়, কারাগারের তিনটি অধ্যায়, হামলা-নির্যাতনের অসংখ্য স্মৃতি, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক দায়িত্ব, সাম্প্রতিক রাজপথের নেতৃত্ব এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে বোরহান উদ্দিন ইশরাকের রাজনৈতিক পথচলা আজ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মূল্যায়নের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘আমার কষ্টের ফসল এমন করে কাড়ি নিলু’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৭ পি.এম


‘আমার কষ্টের ফসল এমন করে কাড়ি নিলু’

‘স্বামী ভ্যান চালায়, ছলডা কৃষি কাজ করে। কত কষ্ট করে ঘর-সংসার করতিছি। ছেলে-মেয়ে মানুষ করিছি। রাতে শুয়ে রইছি। উঠে দেহি গোয়ালঘরে আগুন। তাড়াতাড়ি এসে গরুর দড়ি কাইটে বের করিছি। একটা মরে গেছে, তিনটে গরু আর একটি ছাগলের অবস্থাও খারাপ।’

এই কথাগুলো বলছিলেন নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহির গ্রামের বাসিন্দা পারভিন বেগম। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনে পুড়ে যায় তাদের গোয়ালঘর। গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরুর মধ্যে একটি আগুনের কারণে মারা যায়। বাকিগুলো মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

পারভীন বেগম ও তার স্বামী ওবায়দুল গাজী দম্পতির জন্য চারটি গরুই ছিল একমাত্র মূলধন, যা তারা অনেক কষ্টে লালনপালন করেছেন। গরু বিক্রি করে ঋণ শোধ করার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। কিন্তু এখন এক রাতেই তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।

পারভীন বলেন, ‘একটু সোজা হয়ে যহন দাঁড়াইছি, তহন মাথায় বাড়ি (আঘাত), আগুন আমার কষ্টের ফসল এমন করে কাড়ি নিলু। আগুনে আমরা নিজেরাও পুড়ে অসুস্থ হয়ে পড়িছি। মরে যাইনি, তা-ই ধন্য।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে পারভীন আরও বলেন, ‘মারা যাওয়া গরুটা, চার মাস গাভিন ছিল। আশি হাজার টাকা দাম হইল। সমিতি থেকে লোন নিয়ে গরুগুলো কিনিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেল। ভাবছিলাম সমিতির টাকা শোধ হলেই গরু বেচে ঘর করব। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’

পরিবারটির দাবি, আগুনে গরু, গোয়ালঘরসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে দুটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে গোয়ালঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর গরুগুলো কেনা হয়। তাদের আশা ছিল গরুগুলো বড় হলে তা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন এবং ভাঙা ঘরটিও মেরামত করবেন। কিন্তু রবিবার রাতেই গোয়ালঘরে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।

পারভীনের স্বামী ওবায়দুল গাজী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, ভ্যান চালাই। একটা গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা। সেই গরুটা মারা গেছে। অন্য গরুগুলো বাঁচবে কী মরবে, জানি না। একটা ছাগল ছিল তাও আগুনে পুড়ে অসুস্থ। আমি নিঃস্ব হয়ে গিছি। সরকারের কাছে আমার আবেদন আমাকে যেন আর্থিক সহায়তা করা হয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি

‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রথম দিনে সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

এ কারণে তাকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতে উপস্থিত অবস্থায় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এ অভিযোগ সব মিথ্যা ফ্যাসিস্ট সরকারের চক্রান্ত ছিল।” তবে এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা চার্জগঠন আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সেই সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে। দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে, ৩ আগস্ট ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালত আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেন দুদক।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মো. মতিউর রহমানের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।

২০২৪ সালে কোরবানির জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কেনার ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে মতিউর রহমানকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হামজা চৌধুরীর আগমনে দেড় বছরে ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


হামজা চৌধুরীর আগমনে দেড় বছরে ৫ হাজার জার্সি বিক্রি

জার্সি বিক্রির পরিসংখ্যান তারকাদের জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের জার্সির জন্য যে তীব্র চাহিদা রয়েছে, সেটি এই বাস্তবতার প্রমাণ।

বাংলাদেশেও কি তেমন একটি উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে জাতীয় দলের জার্সির বিক্রির পরিসংখ্যানে। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা হামজা চৌধুরী যখন বাংলাদেশে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন, তখন দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে।

হামজার আগমনে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সমর্থকদের আকর্ষণও বেড়েছে। ফুটবলারদের মধ্যে হামজা চৌধুরীর জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। গত দেড় বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে কিট স্পন্সর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয় দৌড়। শুরুতে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতে সাড়া ছিল তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু হামজা চৌধুরী বাংলাদেশে আসার পর দৃশ্যপট রাতারাতি পাল্টে যায়। জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং বিক্রিও বাড়তে থাকে।

দৌড়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা প্রায় ৩৫ হাজার জার্সি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি ছিল খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর সংবলিত জার্সি। সেই তালিকায় হামজা চৌধুরী সবার উপরে স্থান পেয়েছেন।

হামজার নাম-নম্বর সংবলিত ১ হাজার ৪০০ টাকা দামের অফিশিয়াল জার্সি হাজার হাজার সমর্থক কিনেছেন। এরপরের অবস্থানে রয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোমের জার্সি।

হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই উন্মাদনার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবিদ আলম চৌধুরী একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “গত দেড় বছরে হামজার জার্সির চাহিদা বেশি ছিল। আমরা ৫ হাজারের মতো হামজার জার্সি বিক্রি করেছি। আসলে হামজা আসার পর থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে হাওয়া লেগেছে।”

হামজার জার্সির এই চাহিদার মধ্যে নতুন করে জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহও ভালো। ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি অর্ডার পড়েছে।

অর্থাৎ হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের জার্সিতেই সীমাবদ্ধ নয়, জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে সেই আগ্রহ আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা আবিদ আলমের। তিনি বলেন, “সামনে দেশে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। আশা করছি তার আগেই উন্মাদনা শুরু হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে এক বছরে আমরা এক লাখ জার্সি বিক্রি করতে চাই।”

জাতীয় দলের নতুন জার্সি তৈরির পেছনে সমর্থকদের অংশগ্রহণও রয়েছে। আবিদ আলম জানান, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে তারা প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পেয়েছিলেন। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বাছাই করে নতুন জার্সি তৈরি করা হয়েছে।

হোম জার্সির মূল থিমে মাতৃভাষা বাংলা রাখা হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তি ও ডিজাইনে তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, মাত্র ৮ মিনিটে ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।

খেলোয়াড়দের পরার জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর সমর্থকদের জন্য তৈরি জার্সির মূল্য ৭০০ টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%