সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৭ পি.এম
‘স্বামী ভ্যান চালায়, ছলডা কৃষি কাজ করে। কত কষ্ট করে ঘর-সংসার করতিছি। ছেলে-মেয়ে মানুষ করিছি। রাতে শুয়ে রইছি। উঠে দেহি গোয়ালঘরে আগুন। তাড়াতাড়ি এসে গরুর দড়ি কাইটে বের করিছি। একটা মরে গেছে, তিনটে গরু আর একটি ছাগলের অবস্থাও খারাপ।’
এই কথাগুলো বলছিলেন নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহির গ্রামের বাসিন্দা পারভিন বেগম। রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনে পুড়ে যায় তাদের গোয়ালঘর। গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরুর মধ্যে একটি আগুনের কারণে মারা যায়। বাকিগুলো মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
পারভীন বেগম ও তার স্বামী ওবায়দুল গাজী দম্পতির জন্য চারটি গরুই ছিল একমাত্র মূলধন, যা তারা অনেক কষ্টে লালনপালন করেছেন। গরু বিক্রি করে ঋণ শোধ করার স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। কিন্তু এখন এক রাতেই তাদের পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে।
পারভীন বলেন, ‘একটু সোজা হয়ে যহন দাঁড়াইছি, তহন মাথায় বাড়ি (আঘাত), আগুন আমার কষ্টের ফসল এমন করে কাড়ি নিলু। আগুনে আমরা নিজেরাও পুড়ে অসুস্থ হয়ে পড়িছি। মরে যাইনি, তা-ই ধন্য।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে পারভীন আরও বলেন, ‘মারা যাওয়া গরুটা, চার মাস গাভিন ছিল। আশি হাজার টাকা দাম হইল। সমিতি থেকে লোন নিয়ে গরুগুলো কিনিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেল। ভাবছিলাম সমিতির টাকা শোধ হলেই গরু বেচে ঘর করব। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’
পরিবারটির দাবি, আগুনে গরু, গোয়ালঘরসহ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন লাখ টাকা।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে দুটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে গোয়ালঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর গরুগুলো কেনা হয়। তাদের আশা ছিল গরুগুলো বড় হলে তা বিক্রি করে ঋণের টাকা শোধ করবেন এবং ভাঙা ঘরটিও মেরামত করবেন। কিন্তু রবিবার রাতেই গোয়ালঘরে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়।
পারভীনের স্বামী ওবায়দুল গাজী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, ভ্যান চালাই। একটা গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা। সেই গরুটা মারা গেছে। অন্য গরুগুলো বাঁচবে কী মরবে, জানি না। একটা ছাগল ছিল তাও আগুনে পুড়ে অসুস্থ। আমি নিঃস্ব হয়ে গিছি। সরকারের কাছে আমার আবেদন আমাকে যেন আর্থিক সহায়তা করা হয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রথম দিনে সাক্ষ্য গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়নি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এ কারণে তাকে কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতে উপস্থিত অবস্থায় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “এ অভিযোগ সব মিথ্যা ফ্যাসিস্ট সরকারের চক্রান্ত ছিল।” তবে এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা চার্জগঠন আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য সময়ের আবেদন করেন। আদালত সেই সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১ নভেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে। দুদকের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, ৩ আগস্ট ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি. এম. তারিকুল কবীরের আদালত আসামির অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার অভিযোগপত্রের অনুমোদন দেন দুদক।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি মো. মতিউর রহমানের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
২০২৪ সালে কোরবানির জন্য ঢাকার মোহাম্মদপুরের সাদিক অ্যাগ্রো থেকে ইফাত নামের এক তরুণের ১৫ লাখ টাকা দামের ছাগল কেনার ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে মতিউর রহমানকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্সি বিক্রির পরিসংখ্যান তারকাদের জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। লিওনেল মেসি এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোদের জার্সির জন্য যে তীব্র চাহিদা রয়েছে, সেটি এই বাস্তবতার প্রমাণ।
বাংলাদেশেও কি তেমন একটি উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর মিলেছে জাতীয় দলের জার্সির বিক্রির পরিসংখ্যানে। ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা হামজা চৌধুরী যখন বাংলাদেশে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামলেন, তখন দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে।
হামজার আগমনে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে এবং জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সমর্থকদের আকর্ষণও বেড়েছে। ফুটবলারদের মধ্যে হামজা চৌধুরীর জার্সি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। গত দেড় বছরে এই সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে কিট স্পন্সর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয় দৌড়। শুরুতে জাতীয় দলের জার্সি বিক্রিতে সাড়া ছিল তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু হামজা চৌধুরী বাংলাদেশে আসার পর দৃশ্যপট রাতারাতি পাল্টে যায়। জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় এবং বিক্রিও বাড়তে থাকে।
দৌড়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে তারা প্রায় ৩৫ হাজার জার্সি বিক্রি করেছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশের বেশি ছিল খেলোয়াড়ের নাম ও নম্বর সংবলিত জার্সি। সেই তালিকায় হামজা চৌধুরী সবার উপরে স্থান পেয়েছেন।
হামজার নাম-নম্বর সংবলিত ১ হাজার ৪০০ টাকা দামের অফিশিয়াল জার্সি হাজার হাজার সমর্থক কিনেছেন। এরপরের অবস্থানে রয়েছেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া এবং প্রবাসী মিডফিল্ডার শমিত সোমের জার্সি।
হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই উন্মাদনার চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে দৌড়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আবিদ আলম চৌধুরী একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “গত দেড় বছরে হামজার জার্সির চাহিদা বেশি ছিল। আমরা ৫ হাজারের মতো হামজার জার্সি বিক্রি করেছি। আসলে হামজা আসার পর থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন করে হাওয়া লেগেছে।”
হামজার জার্সির এই চাহিদার মধ্যে নতুন করে জাতীয় দলের জার্সি উন্মোচন করেছে দৌড়। নতুন জার্সির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহও ভালো। ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি অর্ডার পড়েছে।
অর্থাৎ হামজাকে ঘিরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শুধুমাত্র একজন খেলোয়াড়ের জার্সিতেই সীমাবদ্ধ নয়, জাতীয় দলের জার্সির প্রতি সমর্থকদের আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
নভেম্বরে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে সেই আগ্রহ আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা আবিদ আলমের। তিনি বলেন, “সামনে দেশে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আছে। আশা করছি তার আগেই উন্মাদনা শুরু হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে এক বছরে আমরা এক লাখ জার্সি বিক্রি করতে চাই।”
জাতীয় দলের নতুন জার্সি তৈরির পেছনে সমর্থকদের অংশগ্রহণও রয়েছে। আবিদ আলম জানান, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের কাছ থেকে তারা প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ডিজাইন পেয়েছিলেন। সেখান থেকে ৩৪টি উপাদান বাছাই করে নতুন জার্সি তৈরি করা হয়েছে।
হোম জার্সির মূল থিমে মাতৃভাষা বাংলা রাখা হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তি ও ডিজাইনে তৈরি এই জার্সির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, মাত্র ৮ মিনিটে ঘাম শুকিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা।
খেলোয়াড়দের পরার জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। আর সমর্থকদের জন্য তৈরি জার্সির মূল্য ৭০০ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মিঠাপুর এলাকায় স্বামী-স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মুখোশপরা ৫-৬ জনের একটি ডাকাত দল গ্রিল কেটে ও দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী (৬৩) আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান মডেল পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাশিদা খাতুনের স্বামী। তিনি আলফাডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক প্রধান অফিস সহকারী। এ ঘটনায় তিনি আলফাডাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে খাবার শেষে মোহাম্মদ আলী ও তাঁর স্ত্রী নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টা ১৫ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন বাড়ির পূর্ব পাশের এসএস গ্রিল কেটে গেস্ট রুমের দুটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে তাঁদের কক্ষের ছিটকিনি ভেঙে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে ঢুকে স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় ডাকাতরা মোহাম্মদ আলীর হাতে ও কাঁধে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে আলমারি, ওয়ারড্রপ ও ফাইল ক্যাবিন খুলে দুটি গলার হার, আট জোড়া কানের দুল, দুটি বালা, আটটি আংটি ও দুটি চেইনসহ মোট ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। অভিযোগে লুট হওয়া মালামালের মোট মূল্য ২২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আলী অভিযোগে জানান, ডাকাতদের সবার মুখ ও কপাল গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল। তাদের হাতে চাপাতি, ছুরি, রামদা ও লোহার রড ছিল। তাদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ বছর। তারা নিজেদের মধ্যে ফরিদপুরের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, রাত ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ডাকাতরা স্বামী-স্ত্রীকে একটি কক্ষে রেখে চলে যায়। পরে তাঁদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। স্থানীয় হারেজ ও হেমায়েত শেখও ডাকাতির খবর পেয়ে বাড়ির দিকে আসার পথে অস্ত্রধারী ৫-৬ জনকে পালিয়ে যেতে দেখেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁদের কাছে এগিয়ে গেলে ডাকাতরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায় বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক রাশিদা খাতুন বলেন, রাতে হঠাৎ অস্ত্রধারীরা ঘরে ঢুকে আমাদের জিম্মি করে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এ ঘটনায় পরিবারের সবাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর ছেলে আইনজীবী রাফিজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিকল্পিতভাবে বাড়ির গ্রিল ও দরজা ভেঙে তারা ঘরে প্রবেশ করেছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানাচ্ছি।
আলফাডাঙ্গা থানার ওসি সোহেল সরোয়ার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
[২:০৩ PM, ১৪/৯/২০২৬] তালাশ বিডি মিডিয়া লি::
ত্রিশালে আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে একাধিক পরিবার নিঃস্ব,
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ১১নং মোক্ষপুর ইউনিয়নের বেপারী বাড়ির ওয়াইজ উদ্দিনের ছেলে মাইন উদ্দিন(৪০) নামের এক আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে একই এলাকার কয়েক পরিবার নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তোভোগীরা হলেন উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ সাঈম মিয়া, মোঃ তাইজুল ইসলামের ছেলে মোঃ শহিদুল ইসলাম(২৬)সহ এলাকার অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন।
এদের প্রত্যেকের কাছে থেকে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা মাইন উদ্দিন আৎসাত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ওই পরিবারের ২ ভুক্তভোগী ত্রিশাল থানায় অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী মোঃ মাইন উদ্দিন(৪০), আবুল কালাম ওরফে কালু (৩২) ও সেলিম মিয়ার (৩৫) নাম উল্লেখ করে তাদের
বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগ সূত্রে জ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গ্রাম পর্যায়ে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তি সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে নিশ্চিত করতে ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রম’ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প-এর উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মোঃ আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) স্থানীয় সরকার, কুড়িগ্রাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, কাজী রীমা আক্তার, সহকারী পরিচালক স্থানীয় সরকার, কুড়িগ্রাম।
সভায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ, সাধারণ মানুষের জন্য এর সুফল এবং গ্রাম আদালত সম্পর্কে বিদ্যমান ভুল ধারণা দূর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভার শুরুতে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ম্যানেজার দৌলতুন নেছা। তিনি জানান, চলতি বছরের (২০২৬ সাল) গত ছয় মাসে গ্রাম আদালতগুলোতে সুবিধাবঞ্চিত বিচারপ্রার্থীরা মোট ১ হাজার ৯০টি আবেদন জমা দেন এবং ১ হাজার ১৩৮ জন আবেদনকারীর বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে আদালতের বিচারপ্রার্থীরা মোট ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের অনেকেই গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, এখতিয়ার ও সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্তভাবে অবগত নন। ফলে ছোটখাটো বিরোধও অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ বাড়বে এবং আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে। সভায় ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের প্রতিনিধিদের জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ ও মাদরাসা সমুহে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা চালানোর আহবান জানানো হয়।
সভায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, উঠান বৈঠক, সভা-সমাবেশ, লিফলেট বিতরণ, মাইকিং এবং গণমাধ্যমে প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রাম আদালতকে জনগণের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর করে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
সভায় জেলা ইসলামিক ফাউণ্ডেশন এর উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক রনি, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের বিভিন্ন উপজেলা পর্যায়ের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগন উপস্থিত ছিলেন।
‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্প’ স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হলো স্থানীয় পর্যায়ে জনগণের ন্যায়বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সহজ ও কার্যকর করা এবং গ্রাম আদালতের বিষয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ