শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১৫ পি.এম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত উন্নতির ফলে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্রে এআইয়ের ব্যবহার অভিনেতাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে অস্কারজয়ী ফরাসি অভিনেত্রী মারিওন কোটিলার্ড মনে করেন, আপাতত এআইয়ের অভিনয় নিয়ে খুব বেশি উদ্বেগের কারণ নেই। তার মতে, এআই এখনও ‘আলুর মতো’ অভিনয় করছে।
সম্প্রতি স্পেনের সান সেবাস্তিয়ান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের নতুন সিনেমা ‘৭এইচ৪০ সে জু-লা’-এর প্রচারের সময় এআই নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেন মারিওন। ৫০ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী বলেন, এমন একটি দিন আসলে তিনি সত্যিই ভয় পাবেন, যেদিন কোনো এআই অভিনেতার অভিনয় দেখে তার মনে সত্যিকারের আবেগ তৈরি হবে অথবা চোখে পানি চলে আসবে।
২০০৮ সালে ‘লা ভি এন রোজ’ সিনেমায় কিংবদন্তি ফরাসি সংগীতশিল্পী এডিথ পিয়াফের চরিত্রে অভিনয় করার জন্য সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন মারিওন। অভিনয়ের সেই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে তার এই চিন্তা। তিনি বিশ্বাস করেন, এআই হয়তো একদিন এমন অভিনয় করতে সক্ষম হবে, যা দর্শকের আবেগকে সত্যিকার অর্থে নাড়া দেবে।
এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, ভবিষ্যতে কোনো কৃত্রিম চরিত্রের অভিনয় দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়ে যেতে পারেন। এই সম্ভাবনা তাকে ভাবিয়ে তুলছে।
এদিকে চলচ্চিত্রে এআই ব্যবহারের নৈতিকতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ‘টিলি নরউড’ নামের এআই অভিনেতাকে ঘিরে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে হঠাৎ চীনা ভাষায় কথা বলার ঘটনায় এই কৃত্রিম চরিত্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
সান সেবাস্তিয়ান উৎসবে মারিওন অভিনীত নতুন সিনেমাটিতে তাকে ‘অ্যালিস’ নামের সাবেক এক বিপ্লবী কর্মীর চরিত্রে দেখা যাবে। দীর্ঘ ২০ বছর কারাভোগের পর ছেলের সঙ্গে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সংগ্রামকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধারাবাহিক নাটক ‘দেনা পাওনা’-তে ‘নাবিলা সিক্স’ চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি অর্জন করা অভিনেত্রী শিরতাজ জাহান জেবিনের বাগদানের খবর সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে। তবে, অভিনেত্রী সরাসরি এই খবরটি অস্বীকার করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সম্প্রতি তার কোনো বাগদান হয়নি।
২৪ সেপ্টেম্বর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের মাধ্যমে জেবিন তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কিছু গণমাধ্যম তার সঙ্গে যোগাযোগ না করেই এবং তথ্য যাচাই না করে বাগদানের খবর প্রকাশ করেছে। তিনি এই বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভুল বলে মন্তব্য করেন।
বর্তমানে, জেবিন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাবার চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে রয়েছেন। এই মুহূর্তে তার মনোযোগ বাবার চিকিৎসা এবং পরিবারের দিকে নিবদ্ধ।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এমন সংবেদনশীল সময়ে যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি বিব্রত হয়েছেন বলেও জানান। তার মতে, কোনো শিল্পীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
প্রকাশিত খবর যাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও অনুরোধ করেছেন যে, কোনো সংবাদ দেখেই সেটিকে সত্য ধরে না নেন। জেবিনের মতে, ভুল তথ্য একজন শিল্পী এবং তার পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় জানানোর পর লিওনেল মেসিকে ‘বিদায়ী ম্যাচে’ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি নিজেই স্পষ্ট করেছেন, দেশের মাটিতে মেসির একটি শেষ ম্যাচ খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে তিনি কতটা একক প্রচেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকবেন কিনা, সেই অনিশ্চয়তার কারণেই দ্রুত এই আয়োজন করতে চেয়েছিলেন তিনি।
গত জুলাইয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজয়ের এক মাস পর, আগস্টে মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান। তবে এই ঘোষণার কিছুদিন পরেই কোচ স্কালোনি বুয়েনস আইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচের জন্য তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেন। আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচটি জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ হিসেবে চিহ্নিত হবে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বলেন, “আমার মনে হয় মেসির মতো একজন খেলোয়াড় এই ধরনের বিদায় পাওয়ার যোগ্য। ব্যক্তিগতভাবে আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, কারণ তার বিদায়ী মুহূর্তে আমি নিজে উপস্থিত থাকতে চেয়েছিলাম।”
তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে আরও বলেন, “যেহেতু আমি জানি না পরবর্তীতে এখানে (দায়িত্বে) থাকব কি না, তাই আমরা খুব জোর দিয়েছিলাম যাতে সে এই ম্যাচে থাকতে পারে। মেসি কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তা আমরা জানতাম। তবুও তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং কষ্ট করে আসছেন, যেন তাকে ভালোবাসা দেওয়া মানুষগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে বিদায় জানাতে পারেন।”
বিদায় সংবর্ধনা প্রসঙ্গে স্কালোনি স্পষ্টভাবে জানান, “কাউকে সম্মান জানাতে হলে সঠিক সময়েই তা করা উচিত। মেসির প্রতি মানুষের আবেগ ও সম্মান কখনো শেষ হবে না, তবে পরবর্তীতে হয়তো বিদায়ের সেই জাদু বা মহিমা আগের মতো নাও থাকতে পারে।”
২০২২ বিশ্বকাপ এবং দুটি কোপা আমেরিকা জেতানো ৪৮ বছর বয়সী এই সফল কোচের চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আপডেট আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি জানান, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লাউডিও তাপিয়ার সঙ্গে শিগগিরই তিনি বৈঠকে বসবেন।
স্কালোনি বলেন, “আর্জেন্টিনা দলের কোচ হওয়া এক স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। তবে তার মানে এই নয় যে আমাকে এই চেয়ারে চিরকাল আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকতে হবে। কিছু শর্তাবলী রয়েছে, যেগুলো নিয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। আমরা একমতে পৌঁছাতে পারি কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নামটি হয়তো অনেকের কাছে অপরিচিত। তবে পর্দায় তার উপস্থিতি দেখলেই দর্শক তাকে চিনে ফেলবেন। কখনো তিনি ছিলেন কয়েক মিনিটের জন্য, কখনো আবার গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বচরিত্রে—অল্প সময়ের মধ্যে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। বিশেষ করে ‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় বলা একটি সংলাপ তাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি আজও মিম হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হিন্দি সিনেমার পরিচিত মুখ, চরিত্রাভিনেতা ও কৌতুক অভিনেতা মুশতাক খান আর নেই।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৫৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছিলেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজের (এফডব্লিউআইসিই) সভাপতি বি এন তিওয়ারি।
মুশতাকের ব্যবসায়িক অংশীদার শিবম জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে অভিনেতার ফুসফুসে ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসার পর একসময় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে আট দিন আগে আবারও মরণব্যাধিটি ফিরে আসে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ক্যানসার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। শুক্রবার তার দাফন হওয়ার কথা রয়েছে।
নায়ক হিসেবে তিনি কখনো পর্দায় আসেননি। বরং অধিকাংশ সিনেমায় তার ভাগ্যে জুটেছে ছোট ছোট পার্শ্বচরিত্র। কিন্তু অভিনয়ের স্বাভাবিকতা, সংলাপ বলার নিজস্ব ধরন এবং নিখুঁত কৌতুকবোধ দিয়ে তিনি তারকাবহুল সিনেমাতেও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। কখনো কয়েক মিনিটের দৃশ্যে, কখনো একটি সংলাপে—তাতেই দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়ার দক্ষতা ছিল তার।
১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে মুশতাকের। এরপর দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি হিন্দি সিনেমায় কাজ করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে ‘আশিকি’, ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’, ‘হাম হ্যায় রাহি প্যায়ার কে’, ‘রাজা’, ‘হেরা ফেরি’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’, ‘জোড়ি নম্বর ১’, ‘মুঝসে শাদি করোগি’, ‘ওয়েলকাম’, ‘ওয়ান্টেড’ ও ‘ও মাই গড!’।
সময় বদলেছে, সিনেমার ধরনও পরিবর্তিত হয়েছে, দর্শকের প্রজন্মও বদলেছে। কিন্তু অভিনয়ে থেমে থাকেননি মুশতাক। নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন ‘স্ত্রী’, ‘বাধাই দো’, ‘গদর ২’ ও ‘স্ত্রী ২’-এর মতো সিনেমায় কাজ করে। ক্যারিয়ারের পরের দিকে তার কাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ‘বনবাস’, ‘বেবি জন’, ‘ধুম ধাম’ ও ‘জাত’।
‘ওয়েলকাম’-এর সেই সংলাপেই অমর
মুশতাক খানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আনিস বাজমি পরিচালিত ‘ওয়েলকাম’ সিনেমা। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে অক্ষয় কুমার, নানা পাটেকর, অনিল কাপুর ও ক্যাটরিনা কাইফের মতো তারকারা অভিনয় করেছেন। তাদের মধ্যে ছোট্ট একটি দৃশ্যে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন মুশতাক।
সিনেমাটিতে নানা পাটেকরের অভিনীত উদয় শেঠির দলের এক সদস্যের চরিত্রে তাকে দেখা যায়। নিজের নকল পায়ের গল্প বলতে গিয়ে চরিত্রটি জানায়, একসময় সে ছিল বড় হকি খেলোয়াড়। ‘মেরি এক টাং নকলি হ্যায়…’ দিয়ে শুরু হওয়া সেই গল্পে আসে ‘উদয় ভাই’-এর প্রসঙ্গও।
মুশতাকের সংলাপ বলার ভঙ্গি, মুখের অভিব্যক্তি এবং কৌতুকপূর্ণ উপস্থাপন দৃশ্যটিকে স্মরণীয় করে তোলে। সময়ের সঙ্গে দৃশ্যটি যেন সিনেমাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মিম, ভিডিও এবং নানা ধরনের পোস্টে ব্যবহৃত হয়েছে তার সেই সংলাপ।
‘ওয়েলকাম’ মুক্তির প্রায় দুই দশক পরও নতুন প্রজন্মের অনেক দর্শকের কাছে মুশতাক খানের পরিচয়ের অন্যতম সূত্র এই দৃশ্য। চরিত্রটি যে এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে, তা হয়তো ছবির নির্মাণের সময় কল্পনাও করেননি তিনি।
আশির দশকে শুরু হওয়া অভিনয়জীবনে তিনি নানা প্রজন্মের তারকার সঙ্গে কাজ করেছেন। কখনো কৌতুক, কখনো সিরিয়াস চরিত্র—বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় নিজেকে মেলে ধরেছেন। বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে টেলিভিশন, এমনকি ওটিটি—সব মাধ্যমেই রেখেছেন কাজের ছাপ।
নায়ক না হয়েও কীভাবে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া যায়, মুশতাক খান ছিলেন তার উদাহরণ। পর্দায় তার উপস্থিতি হয়তো খুব বেশি সময়ের ছিল না, কিন্তু সেই অল্প সময়েই তিনি অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছেন। ‘ওয়েলকাম’-এর সেই সংলাপ কিংবা ‘গদর’-এর গুল খান—চরিত্রগুলোতেই দর্শকের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবেন এই অভিনেতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মনি রোডে মাদক কারবার, ব্ল্যাকমেইল ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ-তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর
ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মনি রোড এলাকাকে ঘিরে মাদক কারবার ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র এলাকায় মাদক কেনাবেচা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে। এই অভিযোগগুলোর কেন্দ্রে স্থানীয়ভাবে বজলুর রহমানের ছেলে মিঠুন নামে এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাকে ‘বড় ডিলার মিঠুন’ নামে উল্লেখ করেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও নথিভুক্ত মামলার তথ্য যাচাই জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন:
স্থানীয় পর্যায়ে মিঠুনের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি নিজেকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। একই সঙ্গে তাকে ঘিরে মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি অভিযোগকারীদের।
তবে রাজনৈতিক দলের কোনো পদে তিনি বর্তমানে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট কমিটিতে তার নাম রয়েছে কি না—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সাংগঠনিক নথি ও দলীয় সূত্রের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতিকালে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করার ক্ষেত্রেও অভিযোগের সঙ্গে মামলার এজাহার, চার্জশিট, আদালতের নথি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলে সেটি যেমন তদন্তের বিষয়, তেমনি অভিযোগটি মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা জরুরি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন-কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় কি মাদক কারবার কিংবা অন্য কোনো অপরাধের অভিযোগের তদন্তকে প্রভাবিত করছে? নাকি এসব অভিযোগের পেছনে স্থানীয় বিরোধ ও ব্যক্তিগত স্বার্থ কাজ করছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন এবং আদালতের নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে।
মিঠুনের রাজনৈতিক পরিচয়, কথিত মাদক কারবার এবং তার বিরুদ্ধে থাকা সম্ভাব্য মামলার তথ্য—এই তিনটি বিষয় আলাদাভাবে যাচাই করাই এখন অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কেরানীগঞ্জে মাদক কারবারের বাস্তব চিত্র মিঠুনকে ঘিরে স্থানীয় অভিযোগের বাইরে কেরানীগঞ্জে মাদক কারবারের বিস্তার নিয়ে অতীতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রথম আলো জানিয়েছিল, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রির একাধিক স্পট ছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে বিপুলসংখ্যক মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।
সাম্প্রতিক সময়েও কেরানীগঞ্জে বড় পরিসরে মাদকবিরোধী অভিযান হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে র্যাব-১০ কেরানীগঞ্জে একটি কথিত ইয়াবা তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৯৬৮টি ইয়াবা, উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও সরঞ্জামসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় দুই বছর ধরে ইয়াবা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিলেন।
এর কয়েক দিন পর আরেক অভিযানে কেরানীগঞ্জের দুটি ইয়াবা উৎপাদন ইউনিটের সন্ধান পাওয়ার কথা জানায় র্যাব। ওই অভিযানে ৩১ হাজারের বেশি ইয়াবা, উৎপাদনযন্ত্র ও ১৭ কেজি কাঁচামাল উদ্ধারের তথ্য প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায় পৃথক অভিযানে ১৫ হাজার এবং অন্য ঘটনায় ১৯ হাজার ২০০ ইয়াবা উদ্ধারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
মিঠুনকে ঘিরে স্থানীয়দের অভিযোগ কী? স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসনাবাদের মনি রোড এলাকায় মিঠুনকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, মাদক কারবারের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভয়ভীতি দেখানো, বিরোধে জড়ানো এবং অর্থ আদায়ের মতো ঘটনাতেও তার নাম আলোচনায় এসেছে। কয়েকজন অভিযোগকারী দাবি করেন, সামাজিকভাবে প্রভাবশালী বা বিত্তবান ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের চাপের মধ্যে ফেলার চেষ্টা করা হতো। কারও কারও ভাষ্য, নারীকে ব্যবহার করে পরিচয় তৈরি, গোপন ছবি বা ভিডিও ধারণ এবং পরে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে আদালতের নথি, জিডি, মামলা, অডিও-ভিডিও বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতিকালে সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা নিরূপণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সম্পত্তি ও দলিল নিয়ে অভিযোগ: মিঠুনকে ঘিরে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ হলো জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দলিল হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আর্থিক লেনদেন বা ঋণসংক্রান্ত বিরোধের সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যক্তির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেন, ভয়ভীতি বা চাপের কারণে জমি, দোকান কিংবা অন্যান্য সম্পত্তির কাগজপত্র হস্তান্তরের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল।
তবে ‘এক ডজনের বেশি পরিবার নিঃস্ব হয়েছে’ বা ‘জোরপূর্বক দলিল লিখে নেওয়া হয়েছে’-এ ধরনের নির্দিষ্ট দাবির পক্ষে নথিভুক্ত দলিল, ভুক্তভোগীর নাম, মামলা নম্বর এবং আদালতের রেকর্ড প্রকাশ করা জরুরি। এসব তথ্য যাচাই না করে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে প্রকাশ করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবাদকারীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ: এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, মাদক কারবারের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো বা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করা হতে পারে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, নিরীহ ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো হয়েছে। আবার স্থানীয় পর্যায়ে এমন অভিযোগও রয়েছে যে, বিরোধের জেরে কারও কাছে মাদক রেখে পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়ার চেষ্টা করা হতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ সত্য প্রমাণ করতে হলে মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, সাক্ষ্য, তদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের নথি যাচাই প্রয়োজন। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন: মাদক কারবারের মতো অপরাধ দীর্ঘদিন চলতে থাকলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। তবে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা প্রশাসনের সদস্য মাদক চক্রকে সহযোগিতা করেছেন-এমন অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম, দায়িত্বকাল, নির্দিষ্ট ঘটনা এবং প্রমাণসহ অভিযোগ উপস্থাপন করা প্রয়োজন কেরানীগঞ্জে সাম্প্রতিক বড় বড় মাদকবিরোধী অভিযান থেকে বোঝা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক উৎপাদন ও সরবরাহের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যোগসাজশের অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পৃথক তদন্ত প্রয়োজন।
মিঠুনের বিরুদ্ধে আসলে কত মামলা? মিঠুনকে নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা অভিযোগ থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো-তার বিরুদ্ধে কোন কোন থানায় কতটি মামলা রয়েছে, মামলাগুলোর ধারাগুলো কী, কোন মামলায় তিনি জামিনে আছেন, কোনো মামলায় সাজা হয়েছে কি না এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন কি না। এসব তথ্য নিশ্চিত করতে পুলিশের মামলা রেকর্ড, আদালতের কজলিস্ট ও সংশ্লিষ্ট থানার তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু স্থানীয় মানুষের বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে ‘মাদক সম্রাট’, ‘সিন্ডিকেটের মূলহোতা’ বা ‘কুখ্যাত অপরাধী’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার বদলে মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য যুক্ত করলে প্রতিবেদনটি আরও শক্তিশালী হবে।
অনুসন্ধানে যেসব নথি গুরুত্বপূর্ণ, মিঠুনকে ঘিরে অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যাচাই করা যেতে পারে- তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলার সংখ্যা ও মামলা নম্বর; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা আছে কি না; মামলার এজাহার ও চার্জশিটে তার ভূমিকা কীভাবে উল্লেখ করা হয়েছে; গ্রেপ্তারের সময় কী কী মাদক বা অন্যান্য আলামত উদ্ধার হয়েছে, ভুক্তভোগীদের জিডি, মামলা ও লিখিত অভিযোগ, কথিত ব্ল্যাকমেইলের ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রমাণ, মাদক কারবারের সঙ্গে কথিত সহযোগীদের পরিচয় ও ভূমিকা,স্থানীয় পুলিশ, ডিএনসি ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার বক্তব্য।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তদন্তের দাবি, স্থানীয়দের দাবি, হাসনাবাদ ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মনি রোড এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হোক। একই সঙ্গে মাদক কারবারের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগের আড়ালে কোনো নিরীহ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হয়ে থাকলে সেটিও তদন্ত করা হোক। বিশেষ করে মিঠুনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তার কথিত সহযোগী, আর্থিক লেনদেন, সম্পত্তি, মাদক মামলার নথি ও যোগাযোগের তথ্য আইনগতভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
কেরানীগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতা,২০২৬ সালে কেরানীগঞ্জে একাধিক বড় মাদকবিরোধী অভিযান এবং ইয়াবা উৎপাদনকারী চক্র শনাক্তের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে হাসনাবাদসহ কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহের উৎস, উৎপাদন, পরিবহন ও খুচরা বিক্রির পুরো নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মিঠুনকে ঘিরে স্থানীয় অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু—তা নির্ধারণ করবে তদন্ত, মামলার নথি ও আদালতের রেকর্ড। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে নির্দোষ ব্যক্তির হয়রানি বন্ধ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। চলবে......................
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ