সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৩৯ পি.এম
নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে জমি নিয়ে বিরোধের কারণে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে সোমবার, পাথরপাড়া গ্রামে। নিহত ব্যক্তির নাম কেতাব উদ্দীন, যিনি ৭০ বছর বয়সী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেতাব উদ্দীন এবং তাঁর ছোট ভাই আবুল হোসেনের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে, উক্ত জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে, ছোট ভাই আবুল হোসেন ঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি এনে বড় ভাইয়ের ঘাড়ে আঘাত করেন, যার ফলে কেতাব উদ্দীন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে, তাঁর অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু ঘটে।
সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক শাহ্ জানিয়েছেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। ঘটনার দিন সকালে কথাকাটাকাটির ফলস্বরূপ ছোট ভাই আবুল হোসেনের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই গুরুতর আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুরে মারা যান।
নীলফামারী সদর থানার ওসি জিল্লুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিফা আসিয়ান কাপ বাংলাদেশের জন্য এক দুঃস্বপ্নের মতো কেটেছে। তিনটি ম্যাচে ১৩ গোল হজম করেছেন হামজা-জামালরা। তাই আগামী ৫ নভেম্বর ঘরের মাঠে শুরু হতে যাওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে রক্ষণভাগের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আজ অনুশীলনের আগে ডিফেন্ডার তপু বর্মণ জানিয়েছেন, তারা দলগতভাবে সাফে রক্ষণভাগকে সামলাতে চান। তার বিশ্বাস, প্রতিপক্ষ দল আর গোলবন্যা বইয়ে দিতে পারবে না। রক্ষণভাগ সামলে ঘরের মাঠে সাফ শিরোপা জয়ের স্বপ্নের কথাও বলেছেন তপু।
আসিয়ান কাপে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বলেন, ‘প্রথম ম্যাচে তিন গোল খেয়েছি আর শেষ ম্যাচে খেয়েছি ৯ গোল। এটি খুবই হতাশার। শেষ কবে আমরা ৯ গোল হজম করেছি জানি না। তবে গোল হজমের ক্ষেত্রে শুধু গোলকিপার বা ডিফেন্ডারদের দোষ দেখলে হবে না। আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলগতভাবে রক্ষণ সামলানো। তবে এটা বলতে পারি, সাফে আমরা এত গোল হজম করব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাফ আমাদের জন্য অনেক বিশেষ। আট বছর পর আবার নিজেদের মাঠে খেলছি। আমাদের লড়াই করতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, অর্থাৎ ২৩ বছর পর শিরোপা জিততে হবে। সে জন্য আমাদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’
সাফের শুরুতে দলের সবচেয়ে বড় তারকা দেওয়ান হামজা চৌধুরীকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তপু বলেন, ‘হামজা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের একজন। প্রথম ম্যাচে সে না থাকলে অবশ্যই তাকে মিস করব। তবে আমরা যদি দলগতভাবে খেলতে পারি, তাহলে তার অনুপস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। প্রথম ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভালো শুরু করতে পারলে পরের পথ সহজ হবে।’
এদিকে বাংলাদেশের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দলে জায়গা পেয়েছেন প্রবাসী ফুটবলার মাহি খান। এর আগে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে সাফে খেলেছেন এই ফরোয়ার্ড। এবার বাংলাদেশ সিনিয়র দলে জায়গা পেলেন মাহি। এবার হামজা, শমিতদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলার জন্য মুখিয়ে আছেন এই তরুণ। গতকাল মাহি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সাফ একাদশে সুযোগ পেয়ে গোল করে দলকে শিরোপা জেতাতে চান তিনি। মাহি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এতে আমি গর্ববোধ করছি এবং আমার পরিবারের সবাই ভীষণ খুশি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় এবং ইনশাল্লাহ আমরা সাফ শিরোপাও জিতব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী। এখানে ক্যাম্পে আসার আগেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাই ইনশাল্লাহ আমি গোল করতে পারব। কোচ আমার কাছে কী প্রত্যাশা করছেন, তা আমি স্পষ্ট জানি। মাঠে কোচের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়নের চেষ্টা করব এবং আশা করি গোল পাব।’
৫ থেকে ১৭ নভেম্বর জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। ‘এ’ গ্রুপে স্বাগতিক বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কা। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে, যার মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এই ঘটনার ফলে হানিফ ও নুর মোহাম্মদ নামের দুই শিশু আহত হয়েছে।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে হ্লাথুই পাড়া এবং আব্দুল্লাহ ঝিরি পাড়ায় পৃথকভাবে বজ্রপাতের এই দুর্ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন হলেন—হ্লাথুই পাড়ার বাসিন্দা খ্যইচিং মার্মার ছেলে মংপ্রু মার্মা (৪০) এবং অন্যজন বড়ছন খোলা পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ সজিব (১১)।
স্থানীয়রা আহত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কুমারী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জামিল আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "বজ্রপাতে হতাহতের এ ঘটনা সঠিক।"
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন যে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শকে উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত ভারতে স্থায়ী শান্তি ফিরে আসা সম্ভব নয়। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি তাঁর একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খাড়গের এই মন্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরএসএস এবং ভারতের শাসনব্যবস্থায় তাদের আদর্শিক প্রভাব নিয়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে। কংগ্রেস দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আরএসএস এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো এমন একটি ভারতের রূপরেখা প্রচার করছে, যা দেশের বহুত্ববাদী এবং ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শগত চালিকাশক্তি হিসেবে আরএসএস কাজ করছে, যা মূলত হিন্দু সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের ভারতীয় জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। সংগঠনটি এবং তার সমর্থকরা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু অধিকার সম্পর্কিত সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে দাবি করে যে, তাদের জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ভারতের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল।
খাড়গের এই মন্তব্য ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং রাজনীতিতে ধর্মের অবস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে পুনরায় ভারতের মূল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মনে করে যে, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া উচিত এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য একটি বড় হুমকি।
ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার, ধর্মীয় পরিচয় এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে আরএসএস-এর আদর্শগত প্রভাব নিয়ে এই দ্বন্দ্ব বহুদিন ধরেই ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কংগ্রেসের জন্য দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং বহুত্ববাদী ঐতিহ্য রক্ষা করাই প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। অন্যদিকে, বিজেপি এবং আরএসএস বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাকে প্রতিহত করে নিজেদের জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবস্থানকেই সমর্থন জানিয়ে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় বাঘের আক্রমণের ফলে নারীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করার লক্ষ্যে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল থেকে ঢাকা থেকে আগত ছয় সদস্যের বন বিভাগের একটি বিশেষ দল কাজ শুরু করেছে। তবে, এখনো বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ড্রোন ব্যবহার করে সেটিকে শনাক্ত করার জন্য নজরদারি চালাচ্ছে।
এর আগে, রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে স্থানীয়রা বাঘটিকে দেখতে পান, কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেটি আর কারো নজরে আসেনি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বাঘের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। বাঘের আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাত-দিন পাহারা দিচ্ছেন। বাঘটিকে শনাক্ত করতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে, কিন্তু উদ্ধার এখনও সম্ভব হয়নি।
জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় আমঝোল এলাকায় বাঘের আক্রমণে শরিফা বেগম, আফসার হোসেন ও নজরুল ইসলাম আহত হন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার বিকেলে ধানক্ষেতে ছাগল খুঁজতে গিয়ে শরিফা বেগম বাঘের আক্রমণের শিকার হন। এরপর তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আরও দুজন বাঘের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকার মানুষ বাঘ আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছেন। বাঘটি রাতভর দেখা গেলেও সোমবার সকাল থেকে সেটি মিলছে না।
রোববার মধ্যরাতে ড্রোন ক্যামেরায় বাঘটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হলেও শেষ রাতের দিকে সেটি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে চলে যায়। সোমবারও ড্রোন উড়িয়ে বাঘটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে বিজিবি।
এদিকে, বাঘটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে বন বিভাগের ৬ জনের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
রংপুরের সামাজিক বন বিভাগের উপ-বন সংরক্ষক ও বিভাগীয় বন-কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, "আমাদের মনে হচ্ছে এখানে আর বাঘটি নেই। রোববার রাতেই সে তার নিজ গন্তব্যে চলে গেছে।"
বাঘটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত সীমান্ত এলাকার মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। স্থানীয়রা এখন বন বিভাগের বিশেষ দলের অভিযান এবং বিজিবির নজরদারির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ