সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৬ এম
বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি)-এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (সোমবার)। এই উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় বিএমপি সদর দপ্তরে কর্তৃপক্ষ একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তবে, বরিশালের ‘মহানগর পুলিশ’ প্রতিষ্ঠার দুই দশক পরেও জনবল ও যানবাহনসহ বিভিন্ন সংকটে ভুগছে। জনবল সংকট এই মহানগর পুলিশের জন্য প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে বেশিরভাগ সময় উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের। গত ৩ মাসে বরিশাল মহানগর পুলিশ থেকে ৩ জন উপ-কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে, কিন্তু নতুন করে একজনকেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
বরিশাল মহানগর পুলিশের অনুমোদিত জনবল ২,১৩৫ জন, তবে কর্মরত সংখ্যা প্রায় ১,৮৫০ জন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। নগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও মহানগর পুলিশ নানা সমস্যার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, যার মধ্যে জনবল ও যানবাহন সংকট অন্যতম। নগরীর ট্রাফিক পুলিশের সীমাবদ্ধতার কারণে অবৈধ রিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রাস্তার দখল নিচ্ছে, ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেক সময়।
এ মহানগর পুলিশ ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনারের দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ৮ জন উপ-কমিশনারের মধ্যে ৩ জন কাজ করছেন। ১১ জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের মধ্যে ৪ জন রয়েছেন। সহকারী কমিশনারের ১৭টি পদের অর্ধেকেরও বেশি শূন্য।
গত দুই দশকে বিএমপি সদর দপ্তর, পুলিশ লাইন্স ও এয়ারপোর্ট থানার ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি বন্দর থানার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কোতোয়ালি থানার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলতি অর্থবছরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাউনিয়া থানার নির্মাণ প্রকল্প এখনও অনুমোদন পায়নি। প্রায় শত বছরের পুরোনো পুলিশ কমিশনারের বাসভবন নির্মাণ এখনও সম্পন্ন হয়নি। বরিশাল জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের জরাজীর্ণ বাসভবনে ডিআইজি পদমর্যাদার বিএমপি কমিশনার বসবাস করছেন।
সব মিলিয়ে, গত দুই দশকেও বরিশাল মহানগর পুলিশ পূর্ণতা না পাওয়ায় নগরীর সাধারণ মানুষ এবং সমাজ সচেতনদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তবে সদ্য যোগ দেওয়া বিএমপি কমিশনার সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেশের যেকোনো মহানগরীর তুলনায় বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো বলেও তিনি দাবি করেছেন। সাধারণ মানুষ নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে খুব সন্তুষ্ট না হলেও অসন্তুষ্টও নন।
অপরাধ পর্যবেক্ষকদের মতে, নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে বড় কোনো সমস্যা নেই। তবে মহানগর পুলিশ এসব বিষয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইড পরিচালনা করছে পুলিশ। নগরীর মাদকের নিরাপদ আখড়া কেডিসি বস্তিসহ অন্যান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন প্রতিটি এলাকায় মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিএমপি সহস্রাধিক সন্দেহভাজনসহ বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে মাদক মামলার অভিযুক্তও রয়েছে।
গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে যোগ দেওয়া বিএমপির ২২তম কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ জানান, সংকট ও সমস্যা থাকবেই। তবে তার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে তারা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।
২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে বরিশাল মহানগরীর ওয়াপদা কলোনি মাঠে বিএমপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র ও সদর আসনের এমপি মুজিবুর রহমান সারোয়ার। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে উদ্বোধনী ফলকটি উধাও হয়ে গেছে। ফলে দেশের ৫ম মহানগর পুলিশের শুরুর কোনো স্মৃতিচিহ্নও আর অবশিষ্ট নেই। সেদিন বরিশাল রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রথম ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব লাভ করেছিলেন। শুরুতে সাবেক কোতোয়ালি থানা নিয়ে মহানগর পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে থানার সংখ্যা ৪টি। তবে কোনো থানাতেই চাহিদা মাফিক যানবাহন নেই। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলা নগরীতে টহল দিতে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে এ পুলিশ ইউনিটকে। নগরীর রূপাতলী-কালিজিরা ও জাগুয়া এলাকা নিয়ে একটি থানার পাশাপাশি এয়ারপোর্ট থানাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে নবগ্রাম রোড-চৌমহনী থেকে কড়াপুর পর্যন্ত একটি থানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। চরমোনাই ইউনিয়ন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে আরও একটি থানার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিফহাল মহল।
২০০৬ থেকে হাঁটি হাঁটি পায়ে এ মহানগর পুলিশের কার্যক্রম চললেও ব্যাপক জনবল ঘাটতি এ পুলিশ ইউনিটের পথচলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল ঘাটতি এ পুলিশ ইউনিটটির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকে প্রতিনিয়ত ব্যাহত করছে। তবে গত দুই দশকে নগরীর ওয়াপদা কলোনির মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় এক একর জমি পুলিশ অধিদপ্তর কিনে সেখানে বিএমপির সদর দপ্তর ভবন নির্মিত হয়েছে। নগরীর রূপাতলী এলাকায় প্রায় ২৫ একর জমির ওপর পুলিশ লাইন্স কার্যক্রম শুরু হলেও তা মহানগরীর একদম শেষ প্রান্তে হওয়ায় যেকোনো বড় ধরনের সংকটকালে ‘ফোর্স মুভমেন্ট’ অনেকটাই সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ছে। প্রাথমিক অবস্থায় নগরীর কেন্দ্রস্থলে জেলা পুলিশ লাইন্সটি মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পরে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এদিকে বিএমপি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের জনবল মঞ্জুরি প্রায় সাড়ে ১২শো থেকে পরবর্তীতে ২,০৭৩-এ উন্নীত হওয়ার পর বর্তমানে তা ২,১৩৫ জনে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালে এ মহানগরীতে আরও ৪টি পুলিশ স্টেশন ও কয়েকটি ফাঁড়িসহ জনবল প্রায় ৪ হাজার ৩শো জনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিগত ৮ বছরেও তার অনুমোদন মেলেনি।
অপরদিকে বিদ্যমান জনবল কাঠামোর মধ্যেই অতিরিক্ত কমিশনার, উপ-কমিশনার থেকে পরিদর্শক, এসআই, টিএসআই, সার্জেন্ট এবং কনস্টেবলের বিপুল সংখ্যক পদসমূহে জনবল ঘাটতি বরিশাল মহানগর পুলিশ ইউনিটের কর্মকাণ্ডকে শ্লথ করে দিচ্ছে।
যদিও গত দুই দশকে এ মহানগরীর আইনশৃঙ্খলাসহ এ পুলিশ ইউনিটের বেশকিছু উন্নয়ন এবং নগরবাসীর মাঝে অনেক সচেতনতার পাশাপাশি শৃঙ্খলও ফিরে এসেছে। জুলাই বিপ্লবের পরে টানা প্রায় ১৫ দিন পুলিশি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির থাকলেও এ নগরীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হয়নি। পুলিশের সাথে সাধারণ মানুষের একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্কও বিদ্যমান রয়েছে।
তবে অবৈধ যানবাহনের চাপে পুরো নগরী এখন নুইয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নগর প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের মাঝে এখনও প্রয়োজনীয় সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। অবৈধ যানবাহনের নৈরাজ্যে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশও অসহায় হয়ে পড়ছে। এ নগরীতে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ নেই। নগরীজুড়ে দানবের মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাহিন্দ্রা-আলফার মতো বড় মাপের বেপরোয়া থ্রি-হুইলারও। এ নগরীর সব অবৈধ যানবাহনের মতো তাদের চালকরাও অবৈধ। একভাগ চালকেরও কোনো লাইসেন্স নেই। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে এ নগরীর পথে পথে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা এ নগরীর নিয়তি হয়ে উঠেছে।
বরিশাল মহানগর পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, দেশের যেকোনো এলাকার তুলনায় এ নগরীর আইনশৃঙ্খলা ভালো। আমরা চেষ্টা করছি জনবান্ধব একটি পুলিশ ইউনিট গড়ে তুলতে। এ নগরীতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে দিনরাত চলাচল করতে পারছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, রোজা, ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ কোরবানির পশুর হাটগুলো নির্বিঘ্নে ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। যেকোনো উৎসবের আগে নগরবাসীর মতামত নিয়ে এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করেই আমরা এ নগরীর আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নয়নের চেষ্টা করছি বলেও জানান বিএমপি কমিশনার। তার মতে অতি সম্প্রতি দুর্গাপূজা অত্যন্ত নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিধবা আকলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে একটি জরাজীর্ণ ঘরে অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে এই বিষয়ক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন আকলিমার দুঃখ-কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন।
নতুন ঘর পেয়ে আকলিমা বেগম জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন ও সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এখন আর তাঁকে আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতে হবে না। আকলিমার বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে অবস্থিত। আকলিমার স্বামী আব্দুস সামাদ প্রায় ১০-১২ বছর আগে মারা গেছেন।
অসুস্থতার কারণে আকলিমার কাজ করার সামর্থ্য নেই এবং তাঁকে অন্যের দয়ায় দিন কাটাতে হয়। তাঁর দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। মেয়ে আজমিনা স্বামীপরিত্যক্তা হওয়ায় অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মা-মেয়ের সংসার চলে। সংসারের খরচ, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখভাল—এই সবকিছু সামলে জীবন চালানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় তাঁদের জরাজীর্ণ ঘরই ছিল একমাত্র আশ্রয়।
কিন্তু সেই আশ্রয়ও নিরাপদ ছিল না। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল চুইয়ে পানি পড়ত। নতুন ঘর নির্মাণ বা পুরোনো ঘর সংস্কারের জন্য তাঁদের কোনো সামর্থ্য ছিল না।
তাদের এই দুরবস্থার খবর সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত হলে শেরপুরের মানবিক জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি নজরে আনেন। এরপর তিনি আকলিমার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে আকলিমা বেগমের দীর্ঘদিনের দুর্দশা দূর হয়েছে এবং তাঁর মনে চরম স্বস্তি ও শান্তি ফিরে এসেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢালিউডের চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘির জন্মদিন আজ ২৬ অক্টোবর। বিশেষ এই দিনে সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। জন্মদিনের প্রথম প্রহরেই নিজের একটি আকর্ষণীয় ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। ভিডিওতে দীঘির নতুন গ্ল্যামারাস রূপ দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।
ভিডিওটিতে দীঘিকে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী সাজে। হালকা নীল রঙের স্টাইলিশ গাউন, পরিপাটি করে বাঁধা চুল এবং মানানসই সাজে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল তাকে। পুরো আয়োজনেই ছিল নান্দনিকতার ছোঁয়া। টেবিলজুড়ে জ্বলছিল লম্বা সাদা মোমবাতি, আর মোমবাতির স্ট্যান্ডে ঝুলছিল মুক্তার মালা। সব মিলিয়ে জন্মদিনের আয়োজনটি পেয়েছিল রাজকীয় আবহ।
প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে কখনো সূর্যমুখী ও গোলাপের বড় তোড়া হাতে পোজ দিতে দেখা যায় দীঘিকে, আবার কখনো মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন উদ্যাপন করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জন্মদিনের বিশেষ সংগীত। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কিছুই না, এটা শুধু আমার জন্মদিন।’
দীঘির সাজ, অভিব্যক্তি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি নজর কেড়েছে ভক্তদের। ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার বদলে যাওয়া রূপ নিয়েও চলছে আলোচনা।
একসময় শিশুশিল্পী হিসেবে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন দীঘি। পর্দায় তার মিষ্টি উপস্থিতি এখনো অনেকের স্মৃতিতে অমলিন। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট্ট দীঘি এখন চিত্রনায়িকা। তাই জন্মদিনের ভিডিওতে তার নতুন রূপ দেখে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়েছে অনেক ভক্তের। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘শুভ জন্মদিন ছোট্ট দীঘি।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এটা সেই ছোট্ট দীঘি না?’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কোচ আসা এবং কোচ যাওয়া অব্যাহত থাকলেও, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না। প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী দলটি গত কয়েক বছর ধরে নিজেদের পুরোনো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। বোর্নমাউথের বিরুদ্ধে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে রোববার ৩-০ গোলে পরাজয়ের পর, মাঠে সমর্থকদের অভিবাদন জানানো মাইকেল ক্যারিকের উপস্থিতি দেখে মনে হচ্ছিল, সবকিছু যেন আগেই নির্ধারিত ছিল।
ক্যারিকের জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানানো নতুন কিছু নয়। তবে এই দিনটি ছিল বিশেষ। কারণ, টানা আট ম্যাচ জয়হীন থাকার পর, যা ২০১৫-১৬ মৌসুমের পর ক্লাবের সবচেয়ে বাজে পরিসংখ্যান, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্লাব কর্তাদের মধ্যে গুরুতর আলোচনা চলছে।
যদি ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কেউ মনে করেন যে কোচ পরিবর্তন করলেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের সব সমস্যা সমাধান হবে এবং সমর্থকরা সন্তুষ্ট হবে, তাহলে তাদের সেই ধারণা ভুল। কারণ গ্যালারি থেকে আসা প্রতিক্রিয়া ভিন্ন বার্তা দিয়েছে।
শুক্রবার বোর্নমাউথ ম্যাচের আগে কোমোর কাছে ৪-১ গোলে হারের প্রসঙ্গ টেনে ক্যারিক বলেছিলেন, "রোববার আমরা ভিন্ন একটি দল হব। আমাদের ভিন্ন হতেই হবে।" কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটেনি।
আগামী শনিবার চেলসির মাঠে ম্যাচে তিনি এখনও দায়িত্বে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্যারিক বলেন, "দায়িত্ব আমার। এখন এর চেয়ে বেশি আর কী বলব? পরিস্থিতি আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি। কী হবে, সে বিষয়ে আমি কিছুই আশা করছি না। আমি এই ক্লাবকে ভালোবাসি এবং সবসময় ক্লাবের সেরা স্বার্থে কাজ করব।"
ম্যাচ শেষে ক্যারিক ড্রেসিংরুমে ঢুকে যাওয়ার পর সমর্থকেরা খেলোয়াড়দের দিকে ক্ষোভ ঝাড়েন। ডিয়োগো দালোত মাঠ ছাড়ার আগ পর্যন্ত দুয়োধ্বনি চলতে থাকে।
অনেক সমর্থক মনে করেন, খেলোয়াড়রা হয় যথেষ্ট ভালো নয়, নয়তো তাদের মধ্যে প্রয়োজনীয় দায়বদ্ধতার অভাব রয়েছে। হয়তো উভয় সমস্যা বিদ্যমান।
তবে ক্ষোভ শুধু খেলোয়াড় বা কোচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ম্যাচ শুরুর এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে গ্লেজার পরিবার এবং স্যার জিম র্যাটক্লিফের বিরুদ্ধে স্লোগান শুরু হয়।
২০০৫ সালে ঋণনির্ভর অধিগ্রহণের পর থেকেই গ্লেজার পরিবার ইউনাইটেড সমর্থকদের প্রধান অপছন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, সেই ঋণ বেড়ে ১.১৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হয়েছে।
সমর্থকদের যুক্তি, ঋণের সুদ পরিশোধে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে, তা ভালো খেলোয়াড় কেনার জন্য ব্যবহার করা যেত। ২০২৩ সালের বড়দিনের আগের দিন র্যাটক্লিফ একটি অংশের মালিক হওয়ার চুক্তি করলে অনেকেই আশা করেছিলেন পরিস্থিতি বদলাবে। কিন্তু এরপর একের পর এক সিদ্ধান্ত তার ক্লাব পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এবার ওল্ড ট্রাফোর্ডে বিধ্বস্ত ব্রুনো বিহীন ইউনাইটেড
ভুল সিদ্ধান্তের দীর্ঘ তালিকা
২০২৪ সালের এফএ কাপ জয়ের পরও ইউনাইটেড এরিক টেন হাগকে দায়িত্বে রাখে এবং লেনি ইয়োরো, ম্যাথাইস ডি লিগট ও মানুয়েল উগার্তের মতো খেলোয়াড়দের পেছনে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি খরচ করে।
পরে টেন হাগ অভিযোগ করেন, স্কট ম্যাকটোমিনেকে বিক্রি না করার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ক্লাব উগার্তেকে দলে ভেড়াতে সেই পথেই গেছে। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে টেন হাগ বরখাস্ত হন।
তারপর স্পোর্টিং লিসবন থেকে মৌসুমের মাঝপথে রুবেন আমোরিমকে আনা হয়, যদিও তিনি গ্রীষ্ম পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন। ১৫তম স্থানে শেষ করার পরও তাকে দায়িত্বে রাখা হয়। পরে ইএফএল কাপে লিগ টু-এর গ্রিমসবির কাছে হারের পরও সমর্থন দেওয়া হয়। কিন্তু ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের সঙ্গে খেলার ধরন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে জানুয়ারিতে তাকেও বিদায় করা হয়।
এরপর মৌসুমের শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নিয়ে আসেন ক্যারিক। পরে দুই বছর পর দলকে আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফিরিয়ে এনে স্থায়ী নিয়োগ পান তিনি।
এ অবস্থায় তিন মৌসুমে তৃতীয় কোচ বরখাস্ত হলে সেটি ক্লাবের কারও জন্যই ইতিবাচক বার্তা হবে না।
সমর্থকদের ক্ষোভ শুধু ফলাফলের কারণে নয়। স্ট্রেটফোর্ড এন্ডে প্রদর্শিত "স্ট্যান্ডার্ডস" ব্যানারে ক্লাব কিংবদন্তি ব্রায়ান রবসন, এরিক কান্তোনা ও রয় কিনের ছবি ছিল। এটি ছিল ক্লাব পরিচালকদের উদ্দেশে একটি বার্তা, যে মানদণ্ডে ইউনাইটেডকে ফিরিয়ে নেওয়া উচিত।
ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্স সাধারণত আড়ালে থাকেন। কিন্তু বোর্নমাউথ ম্যাচে তার বিরুদ্ধেও সমর্থকদের কটূক্তি শোনা গেছে। ম্যাচ শেষে স্টেডিয়াম ছাড়ার সময় তাকেও দুয়োধ্বনি শুনতে হয়েছে।
র্যাটক্লিফের অধিগ্রহণের পর সাউদাম্পটন থেকে আসা উইলকক্সকে অনেক সমর্থক সাম্প্রতিক খেলোয়াড় কেনাবেচার ব্যর্থতার জন্য দায়ী করছেন। প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা, যিনি আগে ম্যানচেস্টার সিটিতে কাজ করেছেন, তাকেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক সমর্থক মনে করেন, সিটির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ইউনাইটেডে নিয়ে আসা ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল।
এদিকে গ্রীষ্মকালে টিকিট কালোবাজারি নিয়ে ক্লাবের তদন্তও সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। ক্লাবের দাবি ছিল তারা দালালদের ধরতে চেয়েছে, কিন্তু অনেক সমর্থক মনে করেন ক্লাব নিয়মিত দর্শকদের সরিয়ে কর্পোরেট বিক্রির দিকে ঝুঁকছে।
এর পাশাপাশি নতুন ১ লাখ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সম্ভাব্য ব্যয় ২ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হতে পারে, আর এ বছর জমি কিনতেই খরচ হয়েছে ৬৩.৫ মিলিয়ন পাউন্ড।
অনেক সমর্থক এই পরিকল্পনার পক্ষেও নন। ম্যাচ চলাকালে তারাও র্যাটক্লিফকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
মাইকেল ক্যারিক হয়তো খারাপ ফলাফলের দায় নিজের কাঁধে নিচ্ছেন, কিন্তু বর্তমানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অস্থিরতার কারণ শুধুমাত্র মাঠের পারফরম্যান্স নয়। ক্লাবের ভেতরে ও বাইরে জমে থাকা অসন্তোষ এখন অনেক গভীর এবং বিস্তৃত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিটি গ্রুপকে তিন মাসের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরও ঋণখেলাপি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গ্রুপটির অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি হয়ে যায়। এর ফলে নতুন ঋণ এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রুপটির ব্যবসা সচল রাখতে এবং ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায়ের স্বার্থে নতুন ঋণ ও এলসি সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের একটি ধারার বিধিনিষেধ থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহতি চাওয়া হয়েছে কয়েকটি ব্যাংকের পক্ষ থেকে।
সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে ঋণ শ্রেণিকরণ স্থগিত রাখাসহ সাত ধরনের নীতি সহায়তা চেয়ে চিঠি দেয় সিটি গ্রুপ। পরবর্তীতে ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) একই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে চিঠি দেয়। এর ফলস্বরূপ, গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক সিটি গ্রুপের ঋণের বিদ্যমান শ্রেণিমান ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। ফলে ওই সময়ের মধ্যে গ্রুপটির ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হতে পারেনি। তবে সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর বাড়ানো হয়নি। এর ফলে গ্রুপটির অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংকে খেলাপি হয়ে পড়ে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী খেলাপি গ্রাহককে নতুন ঋণ সুবিধা প্রদান করা যায় না। ফলে সিটি গ্রুপের যেসব প্রতিষ্ঠান খেলাপি হয়ে গেছে, সেগুলো নতুন ঋণ ও এলসি সুবিধা পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা চালু রাখা এবং ব্যাংকগুলোর পাওনা আদায়ের স্বার্থে আইনি বিধিনিষেধ শিথিল করার উদ্যোগ নিয়েছে অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলো।
জানা গেছে, ১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন ঋণ সুবিধা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে আইনের ১২১ ধারায় সরকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এ বিধান থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সিটি গ্রুপকে নতুন করে ঋণ ও এলসি সুবিধা দেওয়ার অনুমতি চেয়েছে ছয়টি ব্যাংক। সেগুলো হলোÑসিটি ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা, প্রাইম ব্যাংক ও এনসিসি ব্যাংক।
এ বিষয়ে গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। বৈঠকে ডেপুটি গভর্নর কবির আহাম্মদ ও সরোয়ার হোসেন এবং সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসান উপস্থিত ছিলেন। ব্যাংকগুলোর পক্ষে এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল আর কে হুসেইন, ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রেফাত উল্লাহ খান, প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল রহমান, ইস্টার্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও. রশিদ, পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খালিদ মাহমুদ খানসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধি অংশ নেন।
জানতে চাইলে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আমার দেশকে বলেন, "সিটি গ্রুপ একটি ভালো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। তবে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও মূল ব্যবসার বাইরের খাতে বিনিয়োগের কারণে গ্রুপটি সংকটে পড়েছে। কীভাবে এ সংকট থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে বের করে আনা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, নতুন করে যেসব ব্যাংক অর্থায়ন করবে, তাদের জন্য একটি এসক্রো অ্যাকাউন্ট রাখা হবে। নতুন অর্থায়ন থেকে যে আয় হবে, তা থেকে শুধু অর্থায়নকারী ব্যাংকগুলোই অর্থ পাবে। অন্য কোনো ব্যাংক ওই অর্থ থেকে টাকা পাবে না। এ ছাড়া গ্রুপটির বকেয়া ঋণ সমন্বয়ের জন্য আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সম্পদ বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ঋণের ডাউন পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ ছাড় দেওয়া সম্ভব হবে না।
সৈয়দ মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, "গ্রুপটি খেলাপি হয়ে পড়ায় নতুন অর্থায়নের সুযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাক, তা চায় না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো ব্যাংককে ঋণ দিতে বাধ্য করা হবে না। ঋণ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। জামানত নিশ্চিত করতে সিটি গ্রুপকে সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দিতে বলা হয়েছে।"
বেসরকারি খাতের একটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সিটি গ্রুপকে নতুন করে অর্থায়ন করছে সাত-আটটি ব্যাংক। কিন্তু অন্য অনেক ব্যাংকে গ্রুপটির ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসা সচল রাখা এবং ব্যাংকগুলোর সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারায় বিশেষ অনুমতি চাওয়া হয়েছে। বৈঠকে গভর্নর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানাবেন বলেও জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, "গ্রুপটির বিভিন্ন ব্র্যান্ড টিকিয়ে রাখা এবং আসন্ন রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া জরুরি। দেশের খাদ্যনিরাপত্তার স্বার্থেও প্রতিষ্ঠানটির আমদানি কার্যক্রম সচল রাখা প্রয়োজন।"
আইনের বিধান থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেওয়া একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, "সিটি গ্রুপকে নতুন ঋণ ও এলসি সুবিধা দেওয়া না হলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যাংকগুলোর ঋণ আদায় আরো কঠিন হবে। এ কারণে গ্রুপটির ব্যবসা সচল রাখতে আইনি ছাড় চাওয়া হয়েছে।"
সিটি গ্রুপের ঋণ ২৬ হাজার কোটি টাকা
গত মার্চ পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ৪৭ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে সিটি গ্রুপের ঋণের স্থিতি ছিল ২৪ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ফান্ডেড ঋণ ১৬ হাজার ২৪৬ কোটি এবং নন-ফান্ডেড ঋণ সাত হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।
সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হাসানের বক্তব্য জানতে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "নির্দিষ্ট গ্রুপ ধরে ধরে নীতিমালায় ছাড় দেওয়া ইতিবাচক নয়। তবে সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর অনুরোধে গ্রাহক সম্পর্ক বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কিছুটা শিথিলতা দিচ্ছে। এর পেছনে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এটি সাধারণ বা স্থায়ী সমাধান নয়; বরং বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ