০১:৫৪ এম
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বনানী বন বিহারে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দানোৎসব অনুষ্ঠিত না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায়, অবরোধের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় ভিক্ষু-শ্রমণ, দায়ক-দায়িকা ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের পক্ষে এতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বাঘাইহাট বনানী বন বিহারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের বাঘাইহাট বনানী বন বিহারে ৬ ও ৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শুভ কঠিন চীবর দানোৎসব অনিবার্য কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। ২ নভেম্বর কঠিন চীবর দান উদযাপন কমিটির এক সিদ্ধান্তক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সব দায়ক-দায়িকা, ধর্মপ্রাণ উপাসক-উপাসিকা, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের বিষয়টি অবগত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বাঘাইহাট বনানী বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বিমল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, "সাজেকের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কঠিন চীবর দানোৎসব না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করতে কমপক্ষে ১০ হতে ১৫ দিন আগে থেকে প্রস্তুতি লাগে। কিন্তু সাজেকের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে মানুষজনের উপস্থিতিও কম, সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ, বাজারও মিলছে না।" এসব কারণে এবারে কঠিন চীবর দানোৎসব না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪ নভেম্বর: ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
এদিকে, সন্তু লারমা গ্রুপের জেএসএস সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে নিতে ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে ১৪তম দিন শুক্রবার সাজেক সড়কে অবরোধ পালিত হয়েছে। অবরোধটি শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হলেও বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি।
সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানিয়েছেন, "সাজেকে শান্তিপূর্ণ অবরোধ পালিত হয়েছে।" তিনি জানান, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজি মাঝেমধ্যে চলাচল করলেও বড় ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি।
উল্লেখ্য, সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সড়কে গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উজোবাজারে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন।
বিক্ষুব্ধদের ৫ দফা দাবির মধ্যে চার দফা দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে একমত না হওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে আলোচনা চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় কুশ চাষের গোপন ল্যাব, যুক্তরাষ্ট্রে বসে নিয়ন্ত্রণ করতেন তৌসিফ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন