ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাজনীতিতে কোন পদ পদবী না থেকেও নিরসল ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন


রাজনীতিতে কোন পদ পদবী না থেকেও নিরসল ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন

নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ, ঘটনাবহুল এবং নানা উত্থান-পতনে ভরা। তিনি মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং করোনাকালে মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘করোনা বীর’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। বর্তমানে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে নেই। তবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, মাঠের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার উপস্থিতি এখনও আলোচনায় রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বিএনপির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় থাকার ফলে খোরশেদ একাধিকবার গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলার সংখ্যা ৮০টি থেকে ৮৫টির বেশি হবে। হরতাল-অবরোধের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থাকার কারণে তিনি প্রায় ৮ বার গ্রেফতার হয়েছেন। জেল গেইট থেকে তাকে ৬ বার গ্রেফতার করা হয়েছে।

মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক থেকে সভাপতি, দুই পর্যায়েই দায়িত্ব পালন করেছেন খোরশেদ। ওই সময় নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। হরতাল, অবরোধ, মিছিল, সমাবেশসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার ফলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ এবং গ্রেপ্তারের ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি মহানগর যুবদলের সভাপতি ও কাউন্সিলর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার বিরুদ্ধে থাকা মামলায় পুলিশি তৎপরতা এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানিও তাকে দমাতে পারেনি। রাজপথের কর্মসূচিতে তার সক্রিয়তা নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির মাঠের রাজনীতিতে খোরশেদের একটি আলাদা সাংগঠনিক পরিচিতি তৈরি করেছে।

খোরশেদের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হলো গ্রেপ্তার ও কারাবরণ। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকার কারণে তাকে প্রায় ১৪ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। এমনকি কারাগার থেকে বের হওয়ার পর জেলগেট থেকেও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেপ্তারের এই দীর্ঘ ইতিহাস তাকে বিএনপির মাঠপর্যায়ের ‘পরীক্ষিত’ নেতাদের একজন হিসেবে পরিচিতি দেয় বলে তার অনুসারীদের দাবি।

রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবেও খোরশেদের রয়েছে দীর্ঘ সফলতা। নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা ও পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তিনি মোট চারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছেন।

২০০৩ সালে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ২০১১ ও ২০১৬ সালের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও কাউন্সিলর পদে জয় পান। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি একই ওয়ার্ড থেকে বিজয়ী হন। ফলে টানা চারবার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হওয়ার রেকর্ড গড়েন তিনি।

আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার

এই ধারাবাহিক বিজয়কে তার স্থানীয় জনপ্রিয়তার অন্যতম বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হয়। বিশেষ করে দলীয় প্রতীকের বাইরে কাউন্সিলর নির্বাচনে ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক তৈরি করতে সক্ষম হওয়াই তার রাজনৈতিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।

রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকার নিয়ে যখন ভয় ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃতদেহ দাফনে এগিয়ে আসেন খোরশেদ।

নিজের অনুসারী ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে গড়ে তোলেন ‘টিম খোরশেদ’। এই দলের সদস্যরা করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন ও সৎকারে অংশ নেন। দেড় শতাধিক মরদেহ দাফন ও সৎকারের তথ্য পাওয়া যায়।

করোনাকালে শুধু দাফন নয়, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি ও বিতরণ, অক্সিজেন ও প্লাজমা সহায়তা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা উদ্যোগও নেয় ‘টিম খোরশেদ’। এ কারণে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্যও সারাদেশে পরিচিতি পান তিনি।

আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

করোনাকালে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে খোরশেদকে ‘করোনা বীর’ বা ‘করোনা হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০২২ সালের নির্বাচনের সময় তাকে ‘করোনা হিরো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং তার ‘টিম খোরশেদ’-এর সারাদেশে প্রশংসিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

করোনার ভয়াবহ সময়ে যখন মৃত ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের সদস্যরাও স্পর্শ করতে ভয় পাচ্ছিলেন, তখন স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দাফন ও সৎকারে অংশ নেওয়া তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একটি মানবিক পরিচিতি তৈরি করে।

এমনকি ২০২১ সালে করোনার টিকা নেওয়ার সময়ও তিনি সাধারণ মানুষকে টিকা নিতে উৎসাহিত করেন। যারা নিজেরা টিকার নিবন্ধন করতে পারছেন না, তাদের জন্য তার কাউন্সিলর কার্যালয়ে বিনা খরচে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন।

খোরশেদের মানবিক কর্মকাণ্ডের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি ছিল রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে মৃত ব্যক্তিদের দাফনে এগিয়ে যাওয়া। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন ঘটনাও এসেছে, যেখানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যের মরদেহও ‘টিম খোরশেদ’ দাফন করেছে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত

অর্থাৎ করোনাকালে তার মানবিক কর্মকাণ্ড দলীয় রাজনৈতিক সীমারেখার বাইরে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদাহরণ তৈরি করে। এই কারণেই তার ‘করোনা বীর’ পরিচিতি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়েও অনেক বেশি বিস্তৃত হয়ে পড়ে।

করোনা মহামারি শেষ হওয়ার পরও ‘টিম খোরশেদ’-এর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে হাসপাতালের রোগী, নার্স ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের জন্য উপহার দেওয়ার উদ্যোগের কথা প্রকাশিত হয়। সেখানে খোরশেদকে মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৬ সালেও তার নেতৃত্বে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হয়ে গেছে। ফলে রাজনৈতিক পদ না থাকলেও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি নিজের কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রেখেছেন।

খোরশেদের রাজনৈতিক জীবনের বর্তমান অধ্যায়টি কিছুটা ভিন্ন। একসময় মহানগর যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এই নেতা বর্তমানে সেই সাংগঠনিক পদে নেই। মহানগর বিএনপির রাজনীতিতেও তার প্রত্যাশিত অবস্থান তৈরি হয়নি। নারায়ণগঞ্জের বিএনপির রাজনীতিতে বর্তমানে খোরশেদের অবস্থান নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তার রাজনৈতিক অবদান বনাম সাংগঠনিক পদ নিয়ে।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

দীর্ঘ সময় যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী দলের কর্মসূচিতে মাঠে ছিলেন। বহু মামলার আসামি হয়েছেন, একাধিকবার কারাগারে গেছেন। আবার চারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দাফন-সৎকার করে পেয়েছেন ‘করোনা বীর’ পরিচিতি। তারপরও বর্তমানে বড় কোনো সাংগঠনিক পদে নেই তিনি।

এ কারণে তার অনুসারীদের একটি অংশ মনে করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও মাঠের ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তাদের বক্তব্য, সাংগঠনিক পদে না থাকলেও খোরশেদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের একটি বড় অংশের যোগাযোগ রয়েছে।

খোরশেদের রাজনৈতিক পরিচয়ের আরেকটি দিক হলো তার কর্মকাণ্ড শুধু বিএনপির প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। করোনাকালের মানবিক কর্মকাণ্ডের কারণে দল-মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তার পরিচিতি তৈরি হয়।

দাফন-সৎকার, অক্সিজেন, প্লাজমা, খাদ্য ও চিকিৎসা সহায়তা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালের রোগী, নার্স ও ট্রাফিক পুলিশের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ পর্যন্ত তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা দেখা যায়।

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে খোরশেদের বর্তমান অবস্থান অনেকটা বৈপরীত্যপূর্ণ। একদিকে তিনি দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নেই, অন্যদিকে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, চারবারের নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিচয়, আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস এবং করোনাকালের মানবিক কর্মকাণ্ড তাকে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।

সাংগঠনিক পদে না থাকলেও মহানগরীতে তার অনুসারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য এবং নেতৃত্বের সুযোগ পেলে তারা আবারও তার সঙ্গে সক্রিয় হতে পারেন।

২০২৬ সালেও তার সামাজিক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি প্রমাণ করে, রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে যাননি তিনি। বরং দলীয় পদ-পদবীর বাইরে থেকেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।

মামলা – হামলা ও কারাবরণের দীর্ঘ ইতিহাস, চারবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে জনসম্পৃক্ততা এবং করোনাকালে মানবিক ভূমিকা সব মিলিয়ে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের রাজনৈতিক পরিচয় শুধু একটি দলীয় পদে সীমাবদ্ধ নয়।

রাজপথের আন্দোলনের পরীক্ষিত কর্মী থেকে চারবারের জনপ্রতিনিধি, আর সেখান থেকে ‘করোনা বীর’—খোরশেদের দুই দশকের পথচলায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দলীয় রাজনীতিতে তার এই অভিজ্ঞতা ও মাঠের প্রভাবের মূল্যায়ন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩৫শ’ বন্যপ্রাণী ও সাড়ে ৭শ’ সাপ ধরে অবমুক্ত করেছেন শিক্ষার্থী অয়ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১২ পি.এম


৩৫শ’ বন্যপ্রাণী ও সাড়ে ৭শ’ সাপ ধরে অবমুক্ত করেছেন শিক্ষার্থী অয়ন

ফেনী, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : বিষধর সাপ উদ্ধার করে অবমুক্ত করাই নেশা ও পেশায় পরিণত হয়েছে ফেনী ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম অয়নের। তার এমন সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে বিভিন্ন জেলার কলেজ ও ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া বেশ কয়েকজন তরুণ বিষধর সাপসহ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাহসী ও উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

এ পর্যন্ত বিষধর শঙ্খিনী, রাসেলস ভাইপার, কোবরা (গোখরো), কাল নাগিনী, দাড়াশসহ ১০ প্রকারের সাড়ে ৭শ’ সাপ উদ্ধার করে অভয়ারণ্যে অবমুক্ত করেছেন বলে বাসসকে জানিয়েছেন তরুণ অয়ন। 

বর্তমানে এসব নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। তার সংগঠন দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় রেস্কিউয়ারদের সমন্বয়ে কাজ করছে। সর্পদংশন প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার স্বীকৃতি হিসেবে সংগঠনটি অর্জন করেছে জাতীয় পুরস্কার।

নজরুল ইসলাম অয়ন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জি.এম. হাট ইউনিয়নের পশ্চিম বশিকপুর গ্রামের মরহুম মাহবুবুল আলম ও পারভীন আক্তারের একমাত্র সন্তান। তিনি ফেনী ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্যের শেষ বর্ষের ছাত্র। ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী আর বিশেষ করে সাপের প্রতি রয়েছে তার গভীর আগ্রহ। 

সারাদেশে রেস্কিউ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি, ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে ফেনী ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেন তিনি। এ পর্যন্ত তিনি নিজে ৩ হাজার ৫শ’র অধিক বন্যপ্রাণী এবং ৭৫০ এর অধিক সাপ উদ্ধার করে নিরাপদে অবমুক্ত করেছেন। 

বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পাশাপাশি, তিনি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সচেতনতামূলক সেমিনার আয়োজন ও পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাপ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী সম্পর্কে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক ধারণা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

অয়নের সঙ্গে আলাপকালে জানান, যেখানে সাপ দেখলেই মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন, সেখানে বিভিন্ন প্রকার বিষধর সাপের সঙ্গে তার নিত্য বসবাস। ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো স্থানে লোকালয়ে সাপ ঢুকে পড়েছে, এমন খবর কেউ দিলেই ছুটে যান তিনি। যথাযথ পূর্বের প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কৌশলে পরম মমতায় প্রাণীটিকে উদ্ধার করে মানুষের বসতি থেকে সরিয়ে উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করেন।

সাপ উদ্ধারকারী টিমের সাহসী সদস্যরা জনসাধারণকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন যে, ওঝা দিয়ে বিষ নামানো বা সাপে কামড়স্থানে বেঁধে মানুষকে বাঁচানো অসম্ভব, এটা সামাজিক কুসংস্কার। সাপে কাটা মানুষকে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসালয় পৌঁছানো গেলে বাঁচানো সম্ভব। 

অয়ন কোনো ওঝা নন, সাপুড়েও নন। সাপ নিয়ে কোনো ব্যবসাও করেন না। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণীর প্রতি ভালোবাসা থেকেই প্রায় একযুগ ধরে নিরলসভাবে এ কাজ করে চলেছেন।

তিনি আরও জানান, বন বিড়াল, চিতাবিড়াল, গন্ধগোকুল, শঙ্খচিল, ভুবন চিল মঙ্গলময়ন, শালিকসহ ৩ হাজারেরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করেছেন। শুধু উদ্ধার নয়, আহত প্রাণীদের সুস্থ করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। 

তিনি জানান, ইঁদুরসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণ করে কৃষিকে রক্ষা করছেন। সাপের বিষ থেকেই তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ।

অয়ন বলেন, ছোটবেলা থেকেই কোনো প্রাণীর প্রতি নির্যাতন বা আক্রমণ আমার সহ্য হতো না। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় একবার একটি সাপ ধরে বাসায় নিয়ে আসি। মা-বাবা অনেক বকা দিয়েছেন। সেই থেকেই বন্যপ্রাণীর প্রতি আমার ভালোবাসা সৃষ্টি হয়। আজও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

প্রকৃতি ও প্রাণির প্রতি ভালোবাসা ও দু:সাহসিকতার কারণে তিনি অনেক আগেই ডাক পেয়েছেন এশিয়ার বৃহত্তম সাপ ও বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংগঠন ওয়ার্ল্ড লাইফ এন্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ থেকে। 

সংগঠনটির একজন রেস্কিউয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও ফিল্ড ডিরেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেনী ইউনিভার্সিটির ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান সাদিয়া তাবাসসুম নোশিন বাসসকে বলেন, নজরুল ইসলামের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তার সাহস, দায়িত্ববোধ এবং প্রাণীদের প্রতি আন্তরিকতা একজন শিক্ষক হিসেবে আমাকে মুগ্ধ করে। 

নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাওয়ার এ মানসিকতা নি:সন্দেহে গর্ব করার মতো এবং আমি তার এই মহৎ প্রচেষ্টাকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাই।

সামাজিক বন বিভাগ ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন বাসসকে বলেন, নজরুল ইসলাম ওয়াইল্ড লাইফ ভলেন্টিয়ার রেসকিউ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বনবিভাগের সাথে কাজ করে আসছেন। এ বিষয়ে বন বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের সাথে ওতোপ্রোতোভাবে কাজ করছেন।

বিশেষ করে নজরুল ইসলাম ফেনী অঞ্চলে অনেক মানুষের আতঙ্ক যেমন দূর করেছেন, তেমনি পরিবেশের একটি উপাদান বিভিন্ন প্রজাতির সাপকে বিলীনের হাত থেকে রক্ষা করে আসছেন। তিনি পরিবেশের অপরিহার্য উপাদান সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে এ বন কর্মকর্তা মনে করেন। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫২২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫২২

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৬ : রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সময়ে ২৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ রোববার এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৫১ জন, লালবাগ বিভাগ ৩৮ জন, ওয়ারী বিভাগ ৪৮ জন, মতিঝিল বিভাগ ৬৪ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৭৬ জন, মিরপুর বিভাগ ১৬৮ জন, গুলশান বিভাগ ৩৪ জন, উত্তরা বিভাগ ৪৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ ১ জনকে গ্রেফতার করে। 

অভিযানকালে ৪ হাজার ৫৪ পিস ইয়াবা, ৩৪৬ গ্রাম গাঁজা, ১০০ গ্রাম স্বর্ণ, ২টি চাকু, ৯টি মোবাইলফোন জব্দ করা হয়। এছাড়াও একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আনোয়ারায় নিষিদ্ধ যুবলীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি, গ্রেপ্তার ২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


আনোয়ারায় নিষিদ্ধ যুবলীগের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতি, গ্রেপ্তার ২৩

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে আনোয়ারা উপজেলা থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় মিছিলে ব্যবহারের জন্য রাখা দুটি মাইক্রোবাস ও একটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে।

 

রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনোয়ারা-বাঁশখালী প্রধান সড়কের আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া রাস্তার মাথা এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন থেকে একদল কিশোর ও তরুণকে কক্সবাজারে ভ্রমণের কথা বলে দুটি মাইক্রোবাসে করে আনোয়ারায় আনা হয়। পরে বরুমচড়া রাস্তার মাথা এলাকায় তাঁদের গাড়ি থেকে নামিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী যুবলীগের ব্যানারে মিছিল বের করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।

 

এ সময় সেখান থেকে ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে মিছিলে ব্যবহারের জন্য রাখা দুটি মাইক্রোবাস ও একটি ব্যানার জব্দ করে পুলিশ।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ২৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

 

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেছে। মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ থেকে ২০ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় রঙিন মাছ ও সমন্বিত খামারে রাহুলের রঙিন জীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


খুলনায় রঙিন মাছ ও সমন্বিত খামারে রাহুলের রঙিন জীবন

সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যায় জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বান্দা গ্রামে গড়ে উঠেছে এক অভাবনীয় কৃষি ও মৎস্য বিপ্লব। 

বাড়ির আঙিনায় ও খামারে হরেক পদের রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন, উন্নত জাতের গলদা-বাগদা চিংড়ি চাষসহ নানা পদের সবজি ফলানো এবং পশুপাখি পালন করে সাফল্যের অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডুমুরিয়া উপজেলার বান্দা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রাহুল বিশ্বাস। 

তার প্রতিষ্ঠিত ‘বিশ্বাস এগ্রো প্রজেক্ট ও মৎস্য হ্যাচারি’ ইতোমধ্যে গোটা এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

ডুমুরিয়া সদর থেকে পিচঢালা পথ ধরে প্রায় ৪ কিলোমিটার এগোলেই চোখে পড়বে ছায়া-সুনিবিড় বান্দা গ্রাম। রাস্তার পাশেই রাহুলের এ সুবিশাল সমন্বিত কৃষি ও মৎস্য প্রজেক্ট।

কৃষি কলেজের শিক্ষার্থী থাকাকালীন রাহুল বিশ্বাসের মন টেনেছিল কৃষিকাজে। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত জাতের গলদা-বাগদা চিংড়ি চাষ করে সফলতা পাওয়ার পর, অ্যাকুরিয়ামের সৌখিন মাছের বাজারের ব্যাপক চাহিদা দেখে দুই বছর আগে অর্নামেন্টাল ফিশ চাষের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। 

গত বছর তিনটি হাউস, আধুনিক পানির পাম্প এবং ছয়টি পুকুরের সমন্বয়ে গড়ে তোলেন বিশেষায়িত ‘সৌখিন মাছের হ্যাচারি’।

বর্তমানে তার হ্যাচারিতে মলি, মুন্টেল, কমেন্ট, শেখ পোলার, অ্যাঞ্জেল, গাপ্পি, গোল্ডফিশ, কৈ-কার্প, বাটারফ্লাই ও টেট্রাসহ প্রায় ২০টি দুর্লভ ও আকর্ষণীয় প্রজাতির রঙিন মাছের পোনা উৎপাদন হচ্ছে। 

খুলনার খালিশপুর থেকে শুরু করে ঢাকার কাটাবন পর্যন্ত বড় বড় মৎস্য ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে নিয়মিত মাছ সংগ্রহ করছেন। এছাড়া দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে অর্ডার এলে অক্সিজেন প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে সুনিপুণভাবে মাছ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। জাতভেদে এসব মাছ প্রতি জোড়া বা পিস ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।

তবে শুধু রঙিন মাছই নয়, তার পারিবারিক ১৬ বিঘা জমিতে রয়েছে মোট ৯টি সুবিশাল পুকুর। এর মধ্যে আটটিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুধু পুরুষ জাতের (অল-মেল) গলদা এবং একটিতে ‘সিপি’ আধুনিক পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করছেন। 

ঘেরের পাড় বা আইলে ফলানো হচ্ছে থোকায় থোকায় শসা, বরবটি ও লাউসহ নানাবিধ বিষমুক্ত সবজি। শুধু তাই নয়, প্রজেক্টে যুক্ত রয়েছে গরুর প্রজনন কেন্দ্র, উন্নত বিদেশি জাতের কুকুর পালন এবং বাড়ির ছাদে বাহারি জাতের কবুতর প্রজনন ও বিপণন কেন্দ্র।

নিজের এই কর্মযজ্ঞ সম্পর্কে তরুণ উদ্যোক্তা রাহুল বিশ্বাস বাসসকে বলেন, সৌখিন মাছের এ বাজার বছরের ১২ মাসই সমানভাবে সচল থাকে। 

‘আমার এ খামারে বর্তমানে ছয়জন নিয়মিত শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের সাথে আমি নিজেও সার্বক্ষণিক শ্রম দিই। সব ধরনের আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিট মুনাফা থাকে।’

ডুমুরিয়ার সফল গলদা-বাগদা চাষি ও কলেজ শিক্ষক নিত্যানন্দ মণ্ডল বাসসকে বলেন, রঙিন মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও বাণিজ্যিক বিপণনে রাহুল যে উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন, তা এ অঞ্চলের অন্য বেকার যুবকদের জন্য অনুকরণীয়। চিংড়ি ও সবজি চাষেও তিনি দারুণ সাফল্য অর্জন করেছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান রিগ্যান রাহুলের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাসসকে বলেন, চিংড়ি প্রধান অঞ্চল ডুমুরিয়ায় সৌখিন রঙিন মাছ চাষের ধারণাটি বেশ সম্ভাবনাময়। রাহুল বিশ্বাস যেভাবে পেশাদারিত্ব ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল-মেল গলদা ও রঙিন মাছের সমন্বিত চাষ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। উপজেলা মৎস্য দপ্তরের পক্ষ থেকে আমরা তার মতো উদীয়মান উদ্যোক্তাদের সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%