বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:১৩ পি.এম
চুয়াডাঙ্গা, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ একটি আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ পরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে সেমিনারে জানানো হয়, সরকার ২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত সারা দেশে নজরুল বর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নজরুলের দর্শন, সৃষ্টি এবং কালচার সর্বমহলে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গায় নজরুল বর্ষের বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
মূল প্রবন্ধে ড. মুন্সি আবু সাইফ বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। কবিতা, গান ও সাহিত্যের মাধ্যমে তিনি সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, স্বাধীনতা ও সাম্যের বাণী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়, বরং সব যুগের মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক।
নজরুল ছিলেন শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর। তাঁর লেখনীতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানুষের মুক্তির আকাক্সক্ষা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ফুটে উঠেছে।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার যে দর্শন তিনি তুলে ধরেছেন, তা আজও আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নজরুল বিদ্রোহী দ্রোহের ও মানবতার সাহিত্যের কবি। নজরুল বর্ষ উদযাপন কেবল কবিকে স্মরণ করার আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তাঁর জীবন, সাহিত্য, দর্শন ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রতিবাদী মানসিকতা ছড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, নজরুলকে যথাযথভাবে জানতে হলে তাঁর কবিতা ও গান পাঠের পাশাপাশি তাঁর চিন্তা, দর্শন এবং সমাজ পরিবর্তনের আকাক্সক্ষাকে অনুধাবন করতে হবে। আলোচনা সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গবেষণার মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য কর্মকে আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা যদি নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার আদর্শ বাস্তব জীবনে ধারণ করতে পারি, তাহলেই তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হবে। নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন আগামী প্রজন্মকে একটি মানবিক, বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টরেট মির্জা শহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম, সংস্কৃতি কর্মী এম আলাউদ্দিন, কাজল মাহমুদ, তুহিন সুলতানা, গণমাধ্যম কর্মী বিপুল আশরাফ, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল হাসান মিলন, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম প্রমুখ।
পরে নজরুল সংগীত গান পরিবেশনের মাধ্যমে সেমিনারটি শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রুশ প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ককে ‘জিনিয়াস’ বা প্রতিভাবান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, রাশিয়া স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সিস্টেমের একটি বিকল্প সংস্করণ তৈরির কাজ করছে এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন।
স্টারলিংক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন অভিযান ও যোগাযোগ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে স্টারলিংকের কম গতিসীমার কারণে রুশ আক্রমণাত্মক ড্রোনগুলো প্রতিহত করার ক্ষমতা তাদের ব্যাহত হয়েছে এবং কিছু অভিযান বাতিল করতে হয়েছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে, ৩০টি সরকারি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের একটি উপস্থাপনা চলাকালীন পুতিন ইলন মাস্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাকে একজন সত্যিকারের জিনিয়াস হিসেবে উল্লেখ করেন।
এদিকে, পুতিনের এই মন্তব্যের মধ্যে মস্কোয় তীব্র ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রুশ রাজধানী ও এর আশেপাশের এলাকায় রাতভর ৬১৩টি ড্রোনের বেশিরভাগই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে মস্কোর ভনুকোভো, ডোমোডেডোভো এবং ঝুকোভস্কি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দক্ষিণ ইউক্রেনে বুধবার (২৮ অক্টোবর) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল। ইউক্রেনের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা দিমিত্রো লুবিনেটস জানিয়েছেন, ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির ৩০ ঘণ্টা কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই কেটেছে, তবে সেখানে আনুমানিক ২০০০ মানুষ অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের সিদ্ধান্তকে কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এই বিষয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারির আদেশ প্রদান করেন।
এর আগে, জুডিসিয়াল সার্ভিসের তিন সদস্যকে দুই মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়নের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছিল। রিটে তাদের পদায়ন-সংক্রান্ত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রত্যাহার করে জুডিসিয়াল সার্ভিসে পদায়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রাশেদুল হক খোকনের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রিটটি দাখিল করেন আইনজীবী মিয়া মোহাম্মদ ইশতিয়াক।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা জজ) জিএম ফারহান ইসতিয়াককে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে পদায়ন করে গত ৯ মার্চ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এর আগে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনে আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) কামরুল হাসানকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।
এছাড়া চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু বকর সিদ্দিককে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (সিনিয়র সিভিল জজ) হিসেবে পদায়ন করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক এসব প্রজ্ঞাপনে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, বিচারিক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নির্বাহী পদে বদলি বা নিয়োগের উদ্দেশ্যে জারি করা এসব স্মারক ২০২৫ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার আওতা ও পরিধির বাইরে। যেসব পদে বিচারিক কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়েছে, সেসব পদ ওই বিধিমালার ৪(১) বিধি বা তফসিলে উল্লেখ নেই।
ফলে এসব পদায়ন-সংক্রান্ত স্মারক বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার মতো। রিট আবেদনে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ-সংক্রান্ত মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদের অর্থে জুডিসিয়াল সার্ভিস প্রজাতন্ত্রের একটি সার্ভিস হলেও এটি প্রজাতন্ত্রের বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিস থেকে কার্যত ও কাঠামোগতভাবে সম্পূর্ণ পৃথক ও স্বতন্ত্র।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুডিসিয়াল সার্ভিসকে কোনোভাবেই বেসামরিক নির্বাহী ও প্রশাসনিক সার্ভিসের সমপর্যায়ে রাখা যাবে না। একইভাবে এ সার্ভিসকে ওইসব সার্ভিসের সঙ্গে একীভূত, বিলুপ্ত, প্রতিস্থাপিত বা একত্র করা যাবে না। তাই বিচারিক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের একান্ত বা ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে বদলি বা নিয়োগ মাসদার হোসেন মামলার রায়ে ঘোষিত নীতির পরিপন্থি।
রিট আবেদনকারীর আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস বলেন, জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করার সুযোগ নেই। অথচ পদায়ন-সংক্রান্ত স্মারকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চাকরি ন্যস্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নীতির পরিপন্থি। রিটের প্রার্থনায় জুডিসিয়াল সার্ভিসের ওই তিন সদস্যের পদায়ন-সংক্রান্ত গত ২৫ ফেব্রুয়ারি, ৯ মার্চ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের স্মারক কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না - এ মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস গঠন বিধিমালার তফসিলে নির্ধারিত পদগুলোর বাইরে কোনো বিচারিক কর্মকর্তাকে বদলি বা নিয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুল চাওয়া হয়েছে। রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই তিনটি স্মারকের কার্যক্রম স্থগিত এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে তাদের প্রত্যাহার করে জুডিসিয়াল সার্ভিসে পদায়নের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রকল্প পাসের পর বাস্তবায়নে বছরের পর বছর সময়ক্ষেপণ আর বরদাশত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ওয়াসা বোর্ডগুলো কাজের গতি কমিয়ে দেওয়ার কারণে সরকার আইন সংশোধন করে সারা দেশের সকল ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান আইনে ওয়াসাগুলোতে বোর্ড রাখার বিধান থাকলেও সরকার যেকোনো সময় তা গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বোর্ডগুলো জনসেবামূলক কাজে বাধা বা অনাবশ্যক হস্তক্ষেপ করছে।
ঢাকা মহানগরীতে পানির বর্তমান দৈনিক চাহিদা ও সরবরাহ ৩১৪ কোটি লিটার উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত সাত মাসে ওয়াসার কার্যক্রমে নতুন কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন বা গতি দেখা যায়নি। পানির তীব্র সংকট তৈরি হলে তার দায় সরকারের ওপরই বর্তায়, তাই নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের হার কমিয়ে ২০-২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সারফেস ওয়াটারভিত্তিক প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা অঞ্চলের পাইপলাইন সংযোগ এবং পূর্বাচল এলাকায় পানি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
একই সঙ্গে শহরের অবৈধ পানির লাইন বিচ্ছিন্ন, বিলিং ব্যবস্থা অটোমেশন ও সিবিএ সংগঠনের রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী দুই মাস পর তিনি পুনরায় পর্যালোচনায় এসে আমূল পরিবর্তন দেখতে চান।
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ওয়াসার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি ও সিবিএ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের থেনি জেলার একটি উপকারাগার থেকে বন্দিদের পালানোর ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তবে, ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পালিয়ে যাওয়া ১৭ বিচারাধীন বন্দিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার কারণে কয়েকজন বন্দি পালানোর পরিকল্পনা করে। একজন বন্দি অভিনয় করে মৃগীরোগের খিঁচুনি হচ্ছে বলে কারারক্ষীদের ব্যস্ত রাখে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পালানোর পরিকল্পনা করা হয় এবং রাত ১০টার দিকে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা শুরু হয়। তদন্তকারীরা মনে করছেন, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর বন্দিদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, যা পালানোর পরিকল্পনার পেছনে একটি কারণ।
তদন্তে জানা গেছে, ২৬ বছর বয়সী বিচারাধীন বন্দি লিঙ্গা প্রসাদ এই পরিকল্পনার মূল হোতা। তিনি কারারক্ষীদের বিভ্রান্ত করতে চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করার পরামর্শ দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডাকাতির মামলায় অভিযুক্ত আরেক বন্দি মুথু ইলাঙ্গোভান অভিনয় করে মৃগীরোগের খিঁচুনি হচ্ছে বলে। এতে কারারক্ষীরা তার সহায়তায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বন্দিরা পালানোর চেষ্টা করে।
কারারক্ষীরা খিঁচুনির অভিনয় করা বন্দির কাছে এগিয়ে এলে অন্য বন্দিরা হইচই শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তারা নিজেদের ব্লক থেকে বের হয়ে রান্নাঘরের সরঞ্জাম দিয়ে কারারক্ষীদের ওপর হামলা চালায়। পরে প্রবেশপথের কাছে থাকা অন্য কারাকর্মীদেরও কাবু করে চাবি ছিনিয়ে নেয় এবং কারাগার থেকে পালিয়ে যায়।
দক্ষিণাঞ্চলের পুলিশ মহাপরিদর্শক বিজয়েন্দ্র বিদারি এনডিটিভিকে জানান, বন্দিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পালানোর পরিকল্পনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পালানোর পরিকল্পনাটি মূলত লিঙ্গা প্রসাদই করেছিলেন। তিনি শারীরিকভাবে আংশিক অক্ষম। সেদিন সন্ধ্যায় কয়েকজন বন্দি জামিনের আবেদন খারিজ হওয়া নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখনই লিঙ্গা প্রসাদ পালানোর প্রস্তাব দেন। অন্য বন্দিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই প্রস্তাবে রাজি হন বলে মনে হচ্ছে।’
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, লিঙ্গা প্রসাদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, ছিনতাই, চোরাই মাল রাখা ও হস্তান্তরসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া, সেদিন জামিন না পাওয়ায় আরও দুই বন্দি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, তাদের ক্ষোভও পালানোর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।
ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য এবং কে কী ভূমিকা রেখেছিলেন তা খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা পালিয়ে যাওয়া ১৭ বন্দিকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। যে ব্লক থেকে বন্দিরা পালিয়েছিলেন, সেখানে মোট ৩২ জন বিচারাধীন বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন পালিয়ে যান। বাকি বন্দিরা এ ঘটনায় কোনোভাবে সহায়তা করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দিদের পালানোর পরিকল্পনাটি দীর্ঘদিন ধরে করা হয়নি। বরং ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজেদের মধ্যে আলোচনার সময়ই পরিকল্পনাটি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বন্দিরা কীভাবে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেছিলেন এবং কারাগারের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা কীভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ