ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

অভয়নগরে মেকানিকের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি দোকান খুলতে না দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ


অভয়নগরে মেকানিকের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি দোকান খুলতে না দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ৪নং পায়রা ইউনিয়নের জনবহুল পায়রাহাট বাজারে এক সাধারণ ব্যবসায়ীর ওপর স্থানীয় এক বখাটে কর্তৃক চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারী এক মোটরসাইকেল মেকানিকের কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্য দোকানে এসে হাঙ্গামা চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে দোকান বন্ধ রাখা ও প্রাণে মেরে ফেলার মতো গুরুতর হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যে জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার সমসপুর গ্রামের বাসিন্দা তপন মন্ডলের ছেলে বিপ্রজিৎ মন্ডল পায়রাহাট বাজারে দীর্ঘ এক দশক (প্রায় ১০ বছর) ধরে সুনামের সাথে মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ করে আসছেন। বাজারে তার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গ্যারেজ রয়েছে, যেখান থেকে তিনি তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। তার নিজ বাড়ি সমসপুর গ্রাম থেকে পায়রাহাট বাজারের কর্মস্থলের দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার।

ভুক্তভোগী মেকানিক বিপ্রজিৎ মন্ডল অত্যন্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় অভিযোগ করে জানান, সমসপুর গ্রামের বাবু তরফদারের ছেলে জিসান তরফদার গত কিছুদিন ধরে তার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। কিন্তু বিপ্রজিৎ মন্ডল নিজের ঘামঝরানো আয়ের টাকা এভাবে চাঁদা হিসেবে দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জিসান।

আরও পড়ুন: জনগণের সেবক হতে চান ধীতপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকসেদুল ইসলাম ইকবাল

তিনি আরও জানান, "প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সে নিয়মিত আমার গতি রোধ করতো। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাকে ডেকে বলতো—'টাকা কবে দিবি?' এভাবে নানাভাবে আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং মারধর করা হতো। আমি দিনের পর দিন নীরবে এসব সহ্য করে আসছি।"

ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:০০ টার দিকে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ওই সময় অভিযুক্ত জিসান তরফদার সরাসরি বিপ্রজিৎ মন্ডলের কর্মস্থলে এসে হাজির হয়। এসেই সে প্রকাশ্যে চড়াও হয় এবং উদ্ধত কণ্ঠে বলে, "টাকা কই?"

এরপর সে বিপ্রজিতের সাথে প্রকাশ্যেই বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের উচ্চবাচ্য শুনে আশেপাশের দোকানদার এবং স্থানীয় লোকজন সেখানে দ্রুত জড়ো হতে শুরু করেন। বাজারের জনস্রোত বাড়তে দেখে এবং স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে জিসান তরফদার ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় সে হুমকি দিয়ে যায় যে, তার দাবি অনুযায়ী ১ লক্ষ টাকা না দিলে দোকান খুলতে দেওয়া হবে না এবং সুযোগমতো তাকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হবে।


ঘটনার সময় বাজারের অন্যান্য দোকানদার ও সাধারণ মানুষও ভীতিকর এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় দোকানি মোঃ গোলাম সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমি সে সময় আমার নিজস্ব দোকানে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ পাশের দোকান থেকে অনেক মানুষের শোরগোল ও চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাই। পরে কৌতূহল ও উদ্বেগের বশে দোকান থেকে বের হয়ে দেখি, বিপ্রজিৎ মন্ডলের গ্যারেজে জিসান তরফদার ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে অরাজকতা চালাচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, জিসান প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছিল যে, টাকা পরিশোধ না করলে ভবিষ্যতে ওই মেকানিককে বাজারে দোকান চালাতে দেওয়া হবে না এবং তাকে মেরে ফেলা হবে।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন সম্পন্ন

ঘটনার দিন গ্যারেজে নিজেদের মোটরসাইকেল ঠিক করাতে আসা একাধিক গ্রাহক ও ক্রেতাও একই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারে এই ধরনের চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা সাধারণ মানুষের ব্যবসায়িক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।


স্থানীয় সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত জিসান তরফদার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সে নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করে থাকে। মাদকের টাকার জোগান পেতেই সে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বখাটেপনার কারণে সে নিজ বাড়িতেও ঠিকমতো ঘুমান না
বরং রাতেরবেলা গ্রামের বিভিন্ন দোকান বা এখানে-সেএখানে ঘুরে বেড়ায় এবং রাতে বিভিন্ন পাহারাদারহীন দোকানে ঘুমায়ে থাকে। তার এই অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও অপরাধপ্রবণতার কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত।

পায়রাহাট বাজারের মতো একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় একজন সাধারণ মেকানিকের ওপর এমন ধারাবাহিক নির্যাতন, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ব্যবসায়ী সমাজ ফুসে উঠেছে। অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, মাদাকাসক্ত জিসান তরফদারকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘৃণ্য অপরাধ করার সাহস না পায় এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।

আরও পড়ুন: হারামিয়া ইউপির চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চান ফছিউল আলম রহিম ৬৮টি রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, ১০ বছরের বেশি সময় ছিলেন কারাগারে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের আনন্দ কেড়ে নিল বেপরোয়া লরি, নিহত নূরুল হুদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


বিয়ের আনন্দ কেড়ে নিল বেপরোয়া লরি, নিহত নূরুল হুদা

বিয়েবাড়িতে তখন আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ বিরাজমান ছিল। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে নিকটাত্মীয়ের ছোট মেয়ের বিয়েতে অংশ নিতে দুই ভাই সেখানে গিয়েছিলেন। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইদুলপুর এলাকায় মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি নূরুল হুদা ভূঁইয়া, যিনি মীরসরাই উপজেলার নদুবাড়িয়া এলাকার মৃত শফিউল্লাহর পুত্র।

নূরুল হুদার ভাই নূরুল মোস্তফা জানান, তারা দুই ভাই এক আত্মীয়ের বিয়েতে যোগ দিতে সীতাকুণ্ডে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষ করার পর, নূরুল হুদা ভূঁইয়া শ্বশুরবাড়িতে বেড়ানোর পর বাড়ি ফিরছিলেন। ইদুলপুর এলাকায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির লরি তার ভাইকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একসাথে বাড়ি ফেরার পথে ভাইকে হারানোর শোক তিনি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

নিহতের শ্বশুর ও সীতাকুণ্ডের ব্যবসায়ী মফিজ ওয়াহিদী জানান, সীতাকুণ্ড পৌরসভার হাজেরা গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টারে তার ছোট মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত খেতে এসেছিলেন নূরুল হুদা ভূঁইয়া। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর, তিনি ভাইকে নিয়ে কমিউনিটি সেন্টারের পিছনে দক্ষিণ ইদুলপুরে মুক্তিযোদ্ধা বদিউল আলমের শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে শাশুড়ি ও অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে পাশের মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে দ্রুতগতির একটি লরি তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন।

মফিজ ওয়াহিদী আরও বলেন, বিয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। কিছুক্ষণ আগে যিনি পরিবারের আনন্দের অংশ ছিলেন, তার আকস্মিক মৃত্যুতে সবাই আজ শোকে স্তব্ধ। বিয়ের আয়োজন শেষ হলেও স্বজনদের কাছে এখন সেই দিনের আনন্দ নয়, বরং অপূরণীয় বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে সড়ক আইনে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করে ঘাতক লরিটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি আরবের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


রিয়াদ অঞ্চলে শত্রুপক্ষের ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি আরবের

ঢাকা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ : সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ অঞ্চলে একটি ‘শত্রুপক্ষের’ ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

শনিবার, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র এ তথ্যটি জানিয়েছেন।

সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘রিয়াদ অঞ্চলে একটি শত্রুপক্ষের ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কোনো ব্যক্তি আহত হননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সোনালি ধানের দিন শেষ, কৃষককে বাঁচিয়ে দিতে পারে কালো ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


সোনালি ধানের দিন শেষ, কৃষককে বাঁচিয়ে দিতে পারে কালো ধান

সোনালি ধানের ক্ষেতের মাঝে এক ভিন্নধর্মী গল্প ফুটে উঠেছে। দূর থেকে দেখা যায় কালচে রঙের ধানের গাছ। কাছে গেলে সৃষ্টি হয় কৌতূহল—এটি কেমন ধান! কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাটমল্লিক বেগ বোতলার পাড় গ্রামের কৃষক আজমল হোসেন মনি এক বিঘা জমিতে এমন একটি ব্যতিক্রমী কালো ধান চাষ করেছেন। প্রায় দুই মাস আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই আবাদ এখন শুধুমাত্র তার স্বপ্ন নয়, আশপাশের কৃষকদেরও কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন ধান দেখতে জমিতে ভিড় করছেন স্থানীয়রা।

প্রচলিত ধানের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার তাগিদ থেকেই কালো ধান চাষে নামেন আজমল। অনলাইনে কালো ধানের ছবি ও চাষের তথ্য দেখে তিনি আগ্রহী হন। এরপর সেখান থেকেই বীজ সংগ্রহ করে এক বিঘা জমিতে চাষ শুরু করেন। তবে শুরুটা ছিল সহজ নয়। এলাকার অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবুও ঝুঁকি নিয়ে চাষ শুরু করেন তিনি। এখন ফলন ও বাজার দরের দিকে তাকিয়ে তার চোখে নতুন স্বপ্নের আলো দেখা যাচ্ছে।

কৃষক আজমল হোসেন মনি বলেন, ‘অনলাইনে কালো ধান দেখে চাষের আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকে বলেছিল, এ ধান চাষ করে লাভ হবে না। কিন্তু নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ঝুঁকি নিয়েছি। ফলন ও দাম ভালো পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করব।’

স্থানীয় বাসিন্দা আতাউর রহমান মন্তব্য করেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন ধান আগে খুব একটা দেখা যায়নি। তাই প্রতিদিনই মানুষ দেখতে আসছে। ফলন ও দাম ভালো হলে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন।’

ফকর উদ্দিন নামে অপর এক কৃষক বলেন, ‘আজমলের এই উদ্যোগ দেখে কৃষকদের মধ্যে নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সফল হলে কালো ধান এ এলাকায় পরিচিত হয়ে উঠতে পারে।’

কৃষক হারুন মিয়া জানান, ‘ফলন, খরচ আর বাজারদর-সবকিছু ভালো হলে কালো ধান কৃষকদের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে।’

রাজারহাট উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা হৈমন্তী রানী বলেন, একসময় কালো ধান রাজকীয় খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি বিশ্বে ‘সুপার ফুড’ হিসেবে পরিচিত। রাজারহাটে কয়েকজন কৃষক স্বল্প পরিসরে এর চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কালো ধানের ফলন বিঘায় ১৭ থেকে ১৮ মণ হতে পারে। ফলন তুলনামূলক কম হলেও মণপ্রতি আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হতে পারে। ফলন ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে সোনালি ধানের চেনা মাঠে কালো ধানই কৃষকের নতুন স্বপ্নের ফসল হয়ে উঠতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চরফ্যাশনে পচা ইলিশ নিয়ে শতাধিক ট্রলার, প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


চরফ্যাশনে পচা ইলিশ নিয়ে শতাধিক ট্রলার, প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ

ভোলার চরফ্যাশনের সামরাজ মৎস্যঘাটে ইলিশের পচা গন্ধ বাতাসকে ভারী করে তুলেছে। সাগর থেকে ইলিশ বোঝাই শতাধিক ট্রলার মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ঘাটে ফিরে এসেছে। সাধারণ ক্রেতারা শত শত টন পচা ইলিশের স্তূপ দেখে বিস্মিত হচ্ছেন।

এদিকে, মাছের আড়তদার ও পাইকারদের মধ্যে ব্যস্ততা লক্ষ্য করা গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন গভীর সাগরে অবস্থান করে একাধিক ট্রলারের জেলেরা ইলিশ শিকার করেছেন।

উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নদী ও সমুদ্রে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশসহ নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। অভিযোগ উঠেছে যে, এই নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেরা গভীর সাগরে থেকে মাছ শিকার করেছেন। সাগর থেকে ফেরা একাধিক জেলে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন বরফজাত করে রাখার কারণে এসব ইলিশের বড় একটি অংশ পচে গেছে।

শনিবার সরেজমিনে সামরাজ মৎস্যঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে একে একে ঘাটে নোঙর করছে ইলিশবোঝাই ট্রলার। এসব ট্রলার থেকে ঝুড়িভর্তি ইলিশ নামিয়ে আড়তে নেওয়া হচ্ছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাছ বেচাকেনা শুরু হয়। কিছু মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য গাড়িতে তোলা হচ্ছে। এরই মধ্যে পচা মাছের দুর্গন্ধ পুরো ঘাটে ছড়িয়ে পড়েছে।

ট্রলারভর্তি ইলিশের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার খবর শুনে ৮ অক্টোবরের আগে বরফ, তেল ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে তাঁরা গভীর সাগরে মাছ শিকারে যান। এরপর নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সাগরে অবস্থান করে মাছ শিকার করেন। দীর্ঘদিন বরফের মধ্যে সংরক্ষণ করায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মাছ পচে গেছে।

সমুদ্রগামী ট্রলারের মাঝি নুরমোহাম্মদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে সামরাজ মৎস্যঘাটের বেশ কয়েকজন আড়তদার বলেন, এসব মাছ সাগরের। ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করেছে।

সামরাজ মৎস্যঘাটের সভাপতি আজিজ জানান, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে কিছু জেলে সমুদ্রে গিয়ে মাছ শিকার করেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়া দরকার ছিল।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, এ বিষয়ে আমাকে একজন অবগত করেছে।

অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার তিন দিন পর সাগরগামী ট্রলারগুলো ইলিশবোঝাই হয়ে ঘাটে ফিরে আসা কতটা সম্ভব, এমন প্রশ্নে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন বলেন, কিছু অসাধু জেলে গোপনে সমুদ্রে যেতে পারে। আর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় সমুদ্রে নজরদারি করে কোস্ট গার্ড।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%