০৩:৩৬ পি.এম
যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ৪নং পায়রা ইউনিয়নের জনবহুল পায়রাহাট বাজারে এক সাধারণ ব্যবসায়ীর ওপর স্থানীয় এক বখাটে কর্তৃক চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে সততা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারী এক মোটরসাইকেল মেকানিকের কাছে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্য দোকানে এসে হাঙ্গামা চালিয়েছে এবং পরবর্তীতে দোকান বন্ধ রাখা ও প্রাণে মেরে ফেলার মতো গুরুতর হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক, ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অনুসন্ধানে ও ভুক্তভোগীর বক্তব্যে জানা যায়, অভয়নগর উপজেলার সমসপুর গ্রামের বাসিন্দা তপন মন্ডলের ছেলে বিপ্রজিৎ মন্ডল পায়রাহাট বাজারে দীর্ঘ এক দশক (প্রায় ১০ বছর) ধরে সুনামের সাথে মোটরসাইকেল মেরামতের কাজ করে আসছেন। বাজারে তার একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গ্যারেজ রয়েছে, যেখান থেকে তিনি তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করেন। তার নিজ বাড়ি সমসপুর গ্রাম থেকে পায়রাহাট বাজারের কর্মস্থলের দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার।
ভুক্তভোগী মেকানিক বিপ্রজিৎ মন্ডল অত্যন্ত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় অভিযোগ করে জানান, সমসপুর গ্রামের বাবু তরফদারের ছেলে জিসান তরফদার গত কিছুদিন ধরে তার কাছে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। কিন্তু বিপ্রজিৎ মন্ডল নিজের ঘামঝরানো আয়ের টাকা এভাবে চাঁদা হিসেবে দিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানান। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জিসান।
আরও পড়ুন: জনগণের সেবক হতে চান ধীতপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকসেদুল ইসলাম ইকবাল
তিনি আরও জানান, "প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে সে নিয়মিত আমার গতি রোধ করতো। রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাকে ডেকে বলতো—'টাকা কবে দিবি?' এভাবে নানাভাবে আমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং মারধর করা হতো। আমি দিনের পর দিন নীরবে এসব সহ্য করে আসছি।"
ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৬:০০ টার দিকে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। ওই সময় অভিযুক্ত জিসান তরফদার সরাসরি বিপ্রজিৎ মন্ডলের কর্মস্থলে এসে হাজির হয়। এসেই সে প্রকাশ্যে চড়াও হয় এবং উদ্ধত কণ্ঠে বলে, "টাকা কই?"
এরপর সে বিপ্রজিতের সাথে প্রকাশ্যেই বাকবিতণ্ডায় লিপ্ত হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের উচ্চবাচ্য শুনে আশেপাশের দোকানদার এবং স্থানীয় লোকজন সেখানে দ্রুত জড়ো হতে শুরু করেন। বাজারের জনস্রোত বাড়তে দেখে এবং স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে জিসান তরফদার ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। পালিয়ে যাওয়ার সময় সে হুমকি দিয়ে যায় যে, তার দাবি অনুযায়ী ১ লক্ষ টাকা না দিলে দোকান খুলতে দেওয়া হবে না এবং সুযোগমতো তাকে পৃথিবী থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হবে।
ঘটনার সময় বাজারের অন্যান্য দোকানদার ও সাধারণ মানুষও ভীতিকর এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় দোকানি মোঃ গোলাম সরদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমি সে সময় আমার নিজস্ব দোকানে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ পাশের দোকান থেকে অনেক মানুষের শোরগোল ও চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাই। পরে কৌতূহল ও উদ্বেগের বশে দোকান থেকে বের হয়ে দেখি, বিপ্রজিৎ মন্ডলের গ্যারেজে জিসান তরফদার ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে অরাজকতা চালাচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, জিসান প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলছিল যে, টাকা পরিশোধ না করলে ভবিষ্যতে ওই মেকানিককে বাজারে দোকান চালাতে দেওয়া হবে না এবং তাকে মেরে ফেলা হবে।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির নির্বাচন সম্পন্ন
ঘটনার দিন গ্যারেজে নিজেদের মোটরসাইকেল ঠিক করাতে আসা একাধিক গ্রাহক ও ক্রেতাও একই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তাদের মতে, প্রকাশ্য দিবালোকে বাজারে এই ধরনের চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা সাধারণ মানুষের ব্যবসায়িক নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত জিসান তরফদার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সে নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করে থাকে। মাদকের টাকার জোগান পেতেই সে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পথ বেছে নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বখাটেপনার কারণে সে নিজ বাড়িতেও ঠিকমতো ঘুমান না
বরং রাতেরবেলা গ্রামের বিভিন্ন দোকান বা এখানে-সেএখানে ঘুরে বেড়ায় এবং রাতে বিভিন্ন পাহারাদারহীন দোকানে ঘুমায়ে থাকে। তার এই অস্বাভাবিক জীবনযাপন ও অপরাধপ্রবণতার কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষও আতঙ্কিত।
পায়রাহাট বাজারের মতো একটি ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় একজন সাধারণ মেকানিকের ওপর এমন ধারাবাহিক নির্যাতন, চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় ব্যবসায়ী সমাজ ফুসে উঠেছে। অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। এলাকাবাসীর জোরালো দাবি, মাদাকাসক্ত জিসান তরফদারকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘৃণ্য অপরাধ করার সাহস না পায় এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
আরও পড়ুন: হারামিয়া ইউপির চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সমর্থন চান ফছিউল আলম রহিম ৬৮টি রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ, ১০ বছরের বেশি সময় ছিলেন কারাগারে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন