০৩:৫৮ পি.এম
ঢাকার ধানমন্ডি-৩২ নম্বর এলাকায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে গিয়ে, মোবাইলে ভিডিও ধারণের অপরাধে এবং শিঙাড়া বিতরণকে কেন্দ্র করে তিন জনকে মারধরের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে সড়কের প্রবেশমুখে এই মারধরের ঘটনা ঘটল। মারধরের শিকার ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় এ মুহূর্তে জানা যায়নি।
‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’ (এসডিএফ) নামে একটি সংগঠনের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসের নেতৃত্বে তারা পরিচয় দেওয়া একদল ব্যক্তি এ মারধর করেছে। তারা নিজেদের জুলাই যোদ্ধা হিসেবে প্রমাণ করেছে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
দুপুর পৌনে ১২টার দিকে জানা যায়, ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে প্রবেশ সড়কের মুখে একজন রিকশাচালক তার মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায় আয়াস ওই রিকশাচালকের কাছে যান এবং তার ফোনটি চেক করেন। পরে অভিযোগ ওঠে, ওই ভিডিও যুবলীগের একজনকে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার জেরে সেখানে মব তৈরি হয়। এই সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা ওই রিকশাচালককে বেধড়ক মারধর করেন। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে আটক করে ধানমন্ডি থানায় নিয়ে যায়।
মারধরের সময় সেখানে উপস্থিত আরেকজন ব্যক্তি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। তাকে মারধর করার পর তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। অপরদিকে, দুপুর ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শিঙাড়া বিতরণ করার অভিযোগে আরেক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়। সেই ব্যক্তির হাতে একটি ব্যাগ ছিল, যার ভেতরে শিঙাড়া পাওয়া যায়। মারধরের এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তিও পালিয়ে যান।
আ ন ম আয়াস সাংবাদিকদের জানান, নিষিদ্ধ (কার্যক্রম) সংগঠন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতা–কর্মীদের অপতৎপরতা রোধ করতে তারা অবস্থান করছেন। কাউকে পেলে তারা পুলিশকে জানাচ্ছেন।
যদি মব সৃষ্টি করে কাউকে মারধর করতে পারা যায়? এই প্রশ্নের জবাবে আয়াস বলেন, তিনি মব সৃষ্টি করছেন না। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ পেলে তাদের ধরে শুধু পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন আয়াস সেখান থেকে চলে যান।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের ধানমন্ডি জোনের সহকারী কমিশনার সাদ্দাম হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তারা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করছেন।
এর আগে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ফুল দিতে আসা একজন অর্ণব দাস নামের ব্যক্তি পুলিশ কর্তৃক আটক হন। তিনি ফুল দিতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অর্ণব দাসের বাড়ি টাঙ্গাইলে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন