বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫০ পি.এম
রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক বছর পর, পুলিশ একটি কিশোরীকে (১৫) উদ্ধার করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বংশাল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকার শাহ আলী থানার একটি বাসা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
আজ বুধবার, ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লালবাগের/বংশালের বাসা থেকে বের হয় ওই কিশোরী। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফেরেনি।
ঘটনার পরদিন কিশোরীর বাবা বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) দায়ের করেন। পরবর্তীতে, ডিএমপির বংশাল থানা পুলিশ দীর্ঘ সময় ধরে জিডিটি তদন্তের আওতায় রাখে।
বংশাল থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা দীর্ঘ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে জানতে পারেন, কিশোরীটি রাজধানীর শাহ আলী থানার এলাকায় অবস্থান করছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শাহ আলী এলাকার ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর, উদ্ধার করা কিশোরীকে তার পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
কিশোরীর প্রায় এক বছর নিখোঁজ থাকার এবং আত্মগোপনে থাকার বিষয়ে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল স্পষ্টতা প্রদান করেছেন।
তিনি জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে—কেউ কিশোরীকে অপহরণ করেনি, বরং সে নিজেই স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। এতদিন সে মিরপুরে তার এক বন্ধুর সঙ্গে অবস্থান করছিল। নিখোঁজ থাকার সময় মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার না করায় পুলিশ এতদিন তার অবস্থান ট্র্যাক বা শনাক্ত করতে পারেনি। ডিভাইস চালু করার পরপরই প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে তার অবস্থান চিহ্নিত করে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, সাংবাদিকতার কাজ হচ্ছে সত্য খুঁজে বের করা এবং সেই সত্যকে রক্ষা করা। তিনি উল্লেখ করেন, "সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না, আর আস্থার অভাব হলে গণতন্ত্র থাকে না।"
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এই বক্তব্য দেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কে আসা সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, "সাংবাদিকতা সত্যের আরাধনা। এখানে মিথ্যা বা অর্ধসত্যের কোনো স্থান নেই।" তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আপসের সুযোগ নেই এবং সংবাদমাধ্যম দেশের জনগণ ছাড়া কারও কাছে দায়বদ্ধ নয়। তিনি বলেন, "কালোকে কালো আর সাদাকে সাদা বলাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র।"
কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেন, "দাসত্বের সাংবাদিকতা" মানুষ ঘৃণা করে। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখা গেছে। এর ফলে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে।
৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন দলীয় ব্যানারের আড়ালে সাংবাদিকতা করেছেন এবং ক্ষমতার সঙ্গে আঁতাত করে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছেন, তারা শেষ পর্যন্ত জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে পারেননি। কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, কেউ হত্যা মামলার আসামি হয়ে কারাগারে গেছেন, এবং অনেকে এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা দেখিয়েছে যে, সাংবাদিকতা দলীয় ব্যানারের ভিত্তিতে টিকে থাকতে পারে না। জনগণের আস্থা হারানো মানে সাংবাদিকতার মৃত্যু। সাংবাদিকতা কোনো মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা নয়, এটি একটি সম্মানের পেশা।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতার পথ কখনো সহজ বা মসৃণ ছিল না। বর্তমানে গণমাধ্যমে যে অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে, তা অব্যাহত থাকলে সাংবাদিকেরা আরো বেশি সত্য তুলে ধরতে পারবেন। তবে তিনি সতর্ক করেন যে, যা ইচ্ছা তা লিখলেই সাংবাদিকতা হয় না। "যা মুখে আসে, তা বলাই বাক্স্বাধীনতা নয়।" স্বাধীনতার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে।
গণমাধ্যমের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার প্রসঙ্গে বিএফইউজের মহাসচিব বলেন, অধিকাংশ গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিকতা নেই। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবর্তে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে হয়রানি ও ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়েই অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছেন। এর ভয়াবহতা থেকে কেউই নিরাপদ নয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করেও সামাজিকভাবে মানুষকে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, এসব বন্ধে আইনের সঠিক প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অপসাংবাদিকতা ও হয়রানি রোধে আইনের যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। তবে আইন যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি ‘নো ওয়েজবোর্ড, নো মিডিয়া’ নীতিমালা কার্যকর করার দাবি জানান। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিতে হয় না বলেই অসংখ্য ভুঁইফোড় গণমাধ্যম গড়ে উঠছে। এসব গণমাধ্যমের ক্ষেত্রেও ওয়েজবোর্ড বাধ্যতামূলক করা হলে অপসাংবাদিকতা অনেকাংশে কমে আসবে।
তিনি মন্তব্য করেন, এসব গণমাধ্যমের তথাকথিত সাংবাদিকদের একটি অংশ চাঁদাবাজি করছে এবং সাংবাদিকতার পরিচয়কে অপব্যবহার করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাংবাদিকতার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবি জানান। তিনি বলেন, তারা সাংবাদিক সুরক্ষা আইনের দাবি জানাচ্ছেন। সরকারি কর্মকর্তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ছুটি পেলেও সাংবাদিকদের কর্মপরিবেশ ও ছুটির বিষয়টি এখনো যথাযথভাবে নিশ্চিত হয়নি।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে সাগর-রুনিসহ অনেক সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কথায় কথায় সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করা হয়। সাংবাদিকেরা জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কথা বললেও কর্মক্ষেত্রসহ কোথাও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত নয়। একই সঙ্গে চাকরির নিশ্চয়তাও নেই।
বিএফইউজের মহাসচিব সাংবাদিক সমাজের বিভাজন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজনের কারণে তারা দুর্বল হচ্ছেন। সরকার ও মালিকেরা এর সুযোগ নেন।
কাদের গনি চৌধুরী সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হলে গণমাধ্যমের অনেক সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সাংবাদিকেরা আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— নুরুল আলম রোকন, সাঈদ তারেক, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, আবু রুশদ, ফরিদ আলম, গাউছুল আজম বিপু, কেরামত উল্লাহ বিপ্লব, আরিফুল ইসলাম মামুন, মঈনুদ্দীন নাসের, মমিনুল ইসলাম মজুমদার, ওয়াহেদ খান, এবিএম সালেহ উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম ও ডা. সারোয়ার ইসলাম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ জানিয়েছেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় অধিভুক্ত সব কলেজকে বড় পরিসরে সবুজায়নের কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
আজ বুধবার সকালে কক্সবাজার সিটি কলেজ পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. আমানুল্লাহ উল্লেখ করেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিভুক্ত কলেজগুলোতে বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশবান্ধব কার্যক্রমকে জোরদার করা হবে।
এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতা অর্জনের জন্য কলেজে ল্যাংগুয়েজ ক্লাব প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দেন এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ১২ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশাসনিক সংস্কারের প্রসঙ্গে ভিসি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দ্রুত ডিজিটাল, ক্যাশলেস ও পেপারলেস ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক সেবা আরো দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করা হচ্ছে।
সেশনজট কমানোর সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মাত্র ২৭ কর্মদিবসের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে, যা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি বড় অর্জন। প্রায় ৬৫ লাখ শিক্ষার্থীর বিশাল পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশের এই কর্মযজ্ঞের পেছনে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।’
যুগের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করার বিষয়ে ড. আমানুল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিকুলাম পরিমার্জন ও সংশোধন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের জন্য দক্ষতাভিত্তিক বিভিন্ন আধুনিক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার সিটি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আখতার উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমসহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মেহেরপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : আজ জেলায় ‘গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে প্রচার-প্রচারণা পরিচালনার উদ্দেশ্যে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভাটি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়।
সভাটির সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাবলু সূত্রধর, মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপায়ণ দেব, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসিমা খাতুন, জেলা তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, এবং গাংনী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায় সভায় বলেন, "যারা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও পরিদর্শনের সঙ্গে যুক্ত, তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। গ্রাম আদালতকে কার্যকর ও সক্রিয় করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম যত বেশি সক্রিয় হবে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রতি আস্থা তত বেশি বাড়বে।"
সভায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ মন্তব্য করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য কেবল উচ্চতর ডিগ্রি, গবেষণা এবং একাডেমিক দক্ষতা থাকা যথেষ্ট নয়; তাদের নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, সততা এবং মূল্যবোধও রক্ষা করতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক সিডিএমে ১০ দিনব্যাপী ‘মাস্টার ট্রেইনার’ প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
আজ বুধবার ইউজিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিক্ষককে শিক্ষার্থী ও সমাজের মানুষ একজন আদর্শ ব্যক্তি হিসেবে অনুসরণ করেন। ফলে একজন শিক্ষকের আচরণ, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। শিক্ষকেরা শুধু পাঠদান করেন না; শিক্ষার্থীদের চিন্তা, আচরণ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।’
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন আহমেদ জানান, উচ্চশিক্ষার ইতিবাচক রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার ও ইউজিসি যৌথভাবে একটি কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এই পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সাক্ষরতা, সফট স্কিল এবং নৈতিকতা ও মূল্যবোধ উন্নয়নে ধারাবাহিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, যা আগামী নভেম্বর থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্দেশ্যে মাস্টার ট্রেইনার তৈরি করা হচ্ছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেবেন এবং ইউজিসির কর্মসূচির অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন।
গবেষণা ও পিএইচডি ফেলোশিপ প্রসঙ্গে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর অন্তত ৫০০ জনকে পিএইচডি ফেলোশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইউজিসি। এ বছর গত বছরের তুলনায় ফেলোশিপের সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে মানসম্মত প্রার্থীর সংকট রয়েছে। দেশে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ও সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হিট প্রকল্পের পরিচালক অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ একাডেমির ডিন অধ্যাপক ড. লায়লা নূর ইসলাম, হিট প্রকল্পের কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ মনিনুর রশিদ, অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ-উল-ইসলাম, ব্রিটিশ কাউন্সিলের হায়ার এডুকেশন প্রকল্পের সিনিয়র এডুকেশন কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ড. মার্ক ও’হারা, ব্রিটিশ কাউন্সিলের ডেপুটি ডিরেক্টর মারিয়া রেহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ