শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪০ পি.এম
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে বারবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান সংকটের সমাধান করতে বিরোধী দল তাদের নিজ খরচে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে, তাদের পরামর্শ ও মতামত সরকারকে প্রস্তাব আকারে পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু সরকার বিরোধী দলের সেই প্রস্তাবের প্রতি কোনো মনোযোগ দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতসহ বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করতে চায়, তবে সরকার শুধুমাত্র বিরোধীতার স্বার্থে বিরোধী দলের বিরোধিতা করছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঝিনাইদহে সাংগঠনিক সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সংসদের বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রীসভা সরকারকে সহযোগিতা করছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "আমরা বিরোধী দলে বসার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারকে বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় অন্তত ৩৮টি প্রস্তাবনা দিয়েছি।" তিনি উল্লেখ করেন, সরকারকে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করার জন্যই ওই প্রস্তাবনাগুলো দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সরকার জামায়াতসহ বিরোধীদলের কোনো প্রস্তাবনা এখন পর্যন্ত গ্রহণ করেনি। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, "আমি বলবো যে, বিএনপি হলো অকৃতজ্ঞ। ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে আধিপত্যবাদী শক্তিকে ঠেকাতে সেই সময় সার্বিক সবকিছু বিবেচনা করে আমরা পাঁচটি বছর বিএনপির সঙ্গে ছিলাম।" তিনি আরও জানান, দেশের কল্যাণের স্বার্থে এবং আধিপত্যবাদী শক্তি মোকাবিলা করার জন্য জামায়াত সেই সময় বিএনপিকে সমর্থন করেছিল। এর আগে বিএনপি ৯১ সালে সরকার গঠন করেছিল এবং সেখানেও জামায়াত বিএনপিকে সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু সরকার গঠন করার পর বিএনপি জামায়াতের তৎকালীন কেন্দ্রীয় আমিরকে কারাগারে পাঠিয়েছিল।
তিনি বলেন, "ঢাকা, রাজশাহী, খুলনায় আমাদের কর্মীদের শহিদ করেছিল। ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা আমাদের শিবিরের ছেলেদের হত্যা করেছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, "আমরা বারবার বিএনপিকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। আমরা চ্যালেঞ্জ করছি, এখনো তারা জামায়াতকে নিয়ে বিরোধীতার স্বার্থে বিরোধিতা করছে। বিএনপি হলো অকৃতজ্ঞ দল। বিএনপির এই বিরোধী অনেকটা সেই প্রবাদের মতো- ‘নেই কাজ তো খই ভাজ।’
সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বিএনপি এখন বলছে যে জামায়াত নাকি আওয়ামী লীগকে মাঠে নামতে ইন্ধন দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, "সরকার, গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থাকা অবস্থায় রাজনীতি নিষিদ্ধ একটি দলের কর্মীরা ঢাকাসহ সারাদেশে মিছিল করলো কিভাবে?" তিনি বলেন, "সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে তাদের ইন্ধন না থাকলে এরকম একটি কর্মসূচি কোনো রাজনৈতিক দল পালন করবে, এটা কখনো হয়?" তিনি চ্যালেঞ্জ করে বলেন, "আমরা বলতে পারি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের কোনো যোগাযোগ বা আঁতাতের খবর আপনাদের কাছে থাকলে তা প্রকাশ করুন। বিরোধীতা করতে হবে তাই, বিরোধীতা করবেন না।"
এর আগে ঝিনাইদহ শহরের হামদহ এলাকায় ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় জমি নিয়ে চাচা-ভাতিজার বিরোধের জেরে বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভাতিজা সিরাজ শেখসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন চাচা মো. মোতালেব শেখ (৬৫)।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বানা ইউনিয়নের টোনা মৌজার আড়পাড়া (মাচপাড়া) এলাকায়। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোতালেব শেখ সিরাজ শেখসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গা থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজ শেখের নেতৃত্বে ৭-৮ জন লোক মোতালেব শেখের জমিতে প্রবেশ করেন। পরে তারা বাঁশের খুঁটি পুঁতে পাটকাঠির বেড়া দিয়ে জমি দখল এবং বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাধা দিলে ভয়ভীতি দেখিয়ে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মোতালেব শেখ জানান, সংশ্লিষ্ট জমির বৈধ কাগজপত্র তার নামে রয়েছে এবং তিনি নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের চেষ্টা করে আসছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজ শেখ বলেন, আমার চাচা মোতালেব শেখ যে জমিটিকে নিজের দাবি করছেন, সেটি নিয়ে আমাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। আমরা জোর করে কারও জমি দখল করিনি এবং তাকে কোনো ধরনের হুমকিও দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল সরোয়ার বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। জমির কাগজপত্র ও প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসামের রাজ্য সরকার মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির নিয়মে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে মুসলিমদের বিয়ে সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসাম মুসলিম বিবাহ নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক বিধিমালা ২০২৬ অনুমোদন করা হয়েছে। এর ফলে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কাজীদের পূর্ববর্তী ভূমিকা সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে যাচ্ছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সরকারি ব্যবস্থার আওতায় আসছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানিয়েছেন, রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য একটি সমজাতীয় সরকারি ব্যবস্থা চালু করা হবে। সরকারি রেজিস্ট্রাররাই এই দায়িত্ব পালন করবেন। বিয়ের নথিভুক্তির আবেদন বৃদ্ধি পেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও রেজিস্ট্রার নিয়োগের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। আসাম সরকার ২০২৪ সালে মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ বাধ্যতামূলক নথিভুক্তি আইন চালু করেছিল। ওই আইনের মাধ্যমে কাজীদের হাতে থাকা মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে তখন নতুন দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যবস্থা নির্ধারণ করা হয়নি।
এখন ২০২৬ সালের বিধিমালা অনুমোদনের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে দেওয়া হলো। নতুন ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো মুসলিম বিয়েকে সরকারি নথির আওতায় আনা এবং বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করা। ২০২৪ সালের আইনে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং ছেলেদের জন্য অন্তত ২১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিয়ে নথিভুক্তির সময় বয়স, পরিচয় ও ঠিকানার প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়ের স্বেচ্ছায় বিয়েতে সম্মতির ঘোষণাপত্রও প্রয়োজন হবে।
আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৩৫ সালের আসাম মুসলিম বিবাহ ও বিচ্ছেদ নথিভুক্তি আইনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক ছিল না। পরে ২০১০ সালে সেই আইনে পরিবর্তন এনে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়। তবে তখনও নথিভুক্তির দায়িত্ব কাজীদের হাতেই ছিল। ২০২৪ সালের নতুন আইনে কাজীদের সেই ক্ষমতা তুলে নেওয়া হলেও সরকারি ব্যবস্থায় কীভাবে নথিভুক্তি হবে, তা নিয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল। এবার মন্ত্রিসভার অনুমোদিত নতুন বিধিমালায় সেই ব্যবস্থাই স্পষ্ট করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় মুসলিম বিয়ের সরকারি নথি আরও সুশৃঙ্খল হবে। একই সঙ্গে বয়স যাচাই এবং পরিচয় নিশ্চিত করার মাধ্যমে নাবালিকা বিয়ে ঠেকাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি সহজ হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে মুসলিম বিয়ের ক্ষেত্রে ধর্মীয়ভাবে প্রচলিত প্রথার পাশাপাশি সরকারি নথিভুক্তির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিয়ে নথিভুক্তির জন্য সরকারি রেজিস্ট্রারের কাছে আবেদন করতে হবে এবং নির্ধারিত নথি ও বয়সের শর্ত পূরণ করতে হবে। আসাম সরকারের নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার পর রাজ্যের মুসলিম সমাজে বিয়ে নথিভুক্তির পুরো প্রক্রিয়াই সরকারি প্রশাসনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে চলে যাবে। কাজীদের মাধ্যমে নথিভুক্তির পুরোনো ব্যবস্থা আর থাকবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেপলারের শিপিং ডেটা অনুযায়ী, বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মোট ২৬টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে ১২টি জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে এবং ১৪টি জাহাজ বেরিয়ে গেছে। শুক্রবারের তথ্য এখনও প্রকাশিত হয়নি।
তবে বুধবার এই জলপথ দিয়ে ২৭টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছিল, যা তার আগের দিনের ২৪টির তুলনায় বেশি। বৈশ্বিক ডেটা ইন্টেলিজেন্স প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, গত ১০ দিনে গড়ে প্রতিদিন ২৬টি জাহাজ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ব্যবহার করেছে।
অতএব, বৃহস্পতিবার জাহাজ চলাচল বুধবারের তুলনায় সামান্য কম হলেও, তা গত ১০ দিনের গড়ের কাছাকাছিই রয়েছে।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্যবর্তী এই প্রণালিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এটি এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে ইয়েমেনের হুথিদের হামলার আশঙ্কার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক জাহাজ এই জলপথ এড়িয়ে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে দীর্ঘতর পথে চলাচল করছে। এর ফলে বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলের মাত্রা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগ তৈরি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন জেলায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪২১ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১০ জন।
কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ১৩ জনের বিপরীতে ২৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর তথ্য নেই।
তবে আক্রান্তের ধারাবাহিকতা এবং বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে শতাধিক রোগীর চিকিৎসাধীন থাকার তথ্যকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজননস্থল বৃদ্ধি পাওয়ায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতার ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে গেছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে দেখা যায়, ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১১০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সবচেয়ে বেশি ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ছাড়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ২০ জন, তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৭ জন, করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন এবং হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, বাজিতপুরে ৩ জন, কুলিয়ারচরে ৪ জন, ভৈরবে ২ জন এবং পাকুন্দিয়ায় ৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন এবং প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
প্রকাশিত তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪২১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। অর্থাৎ, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ১১০ জনে রয়েছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্য থাকলেও সংক্রমণের ধারাবাহিকতা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করলেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়িঘর ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ, ড্রেন ও নালা পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত নজরদারি জরুরি।
বিশেষ করে শহর ও উপজেলা পর্যায়ে নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টায়ার, ছাদ ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজননের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এসব জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার না করলে আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
কিশোরগঞ্জে ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হলেও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর হচ্ছে— সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও ১ হাজার ৪২১ জন আক্রান্ত হওয়া এবং বর্তমানে ১১০ জনের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার তথ্য পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তের চেয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা বেশি। এটি চিকিৎসাব্যবস্থায় স্বস্তির একটি দিক হলেও প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
তাহলে হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার পাশাপাশি ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ে এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসে কার্যকর অভিযান, নিয়মিত তদারকি এবং জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ