শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৪ পি.এম
হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যার ফলে নেপাল ও তিব্বতে প্রাণহানি এবং নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা অচেনা মরদেহ শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকার কারণে এবং পচন ধরার ফলে অনেক মরদেহের চেহারা দেখে শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
নেপাল পুলিশের কর্মকর্তারা নিখোঁজ ব্যক্তিদের বাবা-মা, সন্তান এবং অন্যান্য নিকট আত্মীয়দের রক্তের নমুনা দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে, তাদের বিদেশে থাকা স্বজনরাও নিজেদের দেশে ডিএনএ পরীক্ষা করিয়ে ফলাফল নেপাল পুলিশের কাছে পাঠানোর সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে শত শত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
সংগৃহীত নমুনাগুলি নেপাল পুলিশ ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এবং নেপাল একাডেমি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পাঠানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, পচন বা পানিতে দীর্ঘ সময় থাকার কারণে মরদেহ বিকৃত হয়ে গেলে চেহারা দেখে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এই অবস্থায় রক্ত, নরম টিস্যু, হাড় এবং দাঁত থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা যেতে পারে। এমনকি শরীরের অধিকাংশ টিস্যু পচে গেলেও হাড় থেকে ডিএনএ পাওয়া সম্ভব।
নিখোঁজ ব্যক্তির ডিএনএ সরাসরি পাওয়া গেলে, যেমন তার ব্যবহৃত টুথব্রাশ বা হেয়ারব্রাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে মরদেহের ডিএনএর সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে বাবা-মা বা সন্তানের মতো নিকট আত্মীয়ের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মরদেহের ডিএনএ মিলিয়ে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ডিএনএ পরীক্ষার পাশাপাশি আঙুলের ছাপ এবং দাঁতের তথ্যও মরদেহ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কাজে নেপালকে সহযোগিতা করছে ভারত ও চীন। ভারত ১৯ সদস্যের একটি ফরেনসিক দল পাঠিয়েছে। চীনও ডিএনএ শনাক্তকরণে বিশেষজ্ঞদের দ্বিতীয় দল পাঠিয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি মন্তব্য করেছেন যে, ‘সংখ্যালঘু’ শব্দ ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করা হবে না।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে লক্ষ্মীপুরের শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়ায় জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। পরে তিনি ফিতা কেটে জন্মাষ্টমীর বর্ণাঢ্য র্যালির উদ্বোধন করেন। র্যালিটি জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।এ্যানি বলেন, ‘পাহাড়ে যারা থাকেন তারা পাহাড়ি বা আদিবাসী। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং আমরা যারা মুসলমান ধর্মের আছি মুসলমান, আমরা সবাই বাংলাদেশি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা বাংলাদেশি এবং বাংলাদেশ প্রথম।’ এখানে সংখ্যালঘু বলতে কোনো ধারা, কোনো কথা, কোনো শব্দ আমরা ব্যবহার করে নিজেদের খাটো করব না, তাতে জাতি খাটো হবে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য এই আহ্বানটুকু খুব বেশি প্রয়োজন।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তার জীবদ্দশায় বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের নতুন রাজনীতি সৃষ্টি করেছেন। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর তিনি দায়িত্বে থাকাকালে সবাইকে নিয়ে একটি সুন্দর রাজনীতি উপহার দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক আদর্শের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদের রাজনীতির মাধ্যমে আমরা দেশ পরিচালনা করছি এবং ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।’পানিসম্পদ মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘মাত্র কয়েক দিন হলো আমরা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ছয় মাস। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন, ১৭ ফেব্রুয়ারি আমরা শপথ নিয়েছি। তাই সমাজে সবকিছু ছয় মাসের মধ্যে উন্নত জীবনযাপন, সকল অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধ, ন্যায় প্রতিষ্ঠা—সবকিছু এখনই করে ফেলেছি, এমন কথা বলার সুযোগ নেই।’তিনি আরো বলেন, ‘তবে আমাদের উদ্যোগ মহৎ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ আমরা সবাই মিলেমিশে সমাজকে উন্নত জীবনের জন্য, সর্বদা ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য শ্রম দিচ্ছি, কষ্ট করছি এবং কাজ করে যাচ্ছি।’শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরে এ্যানি চৌধুরী বলেন, ‘কংসের কারাগার ছিল অত্যাচারী কারাগার। সেই কারাগারের মধ্যেই শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয়। সমাজের অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জাগিয়ে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা, ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং মানবতার কল্যাণকে সামনে রেখেই এই দিনটি পালিত হয়। এই দিনটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য।’জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবা উল আলম ভূঁইয়া, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শৈবাল কান্তি সাহা, সাধারণ সম্পাদক মিলন মন্ডল, জেলা আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ দুলাল দাস, জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মাখন লাল সাহা ও সদস্যসচিব উত্তম দেবনাথসহ অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৫৩তম আবির্ভাব তিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দীঘিনালার শ্রীশ্রী সনাতন শিব মন্দিরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন দীঘিনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দীঘিনালা জোনের অ্যাডজুটেন্ট লে. আজমাঈন আহনাফ বিন খালেদ, এসএম মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার মো. জয়নুল আবেদীন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য শান্তি প্রিয় চাকমা, দীঘিনালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ।
আলোচনা সভায় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। ধর্মীয় আলোচনা ও জন্মাষ্টমীর তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আল-আমিন বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার।” বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন এলাকায় শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির হাতে শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে নগদ অর্থ তুলে দেন জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. আল-আমিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে প্রাইভেটকারে করে মাদক বহনের সময় ৪৬০ বোতল স্কাফ সিরাপসহ মো. মাসুম মিয়া (মাসুম) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আশুগঞ্জ টোলপ্লাজা এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিতে গাড়ি থেকে ৪৬০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদক বহনের অভিযোগে মো. মাসুম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটক প্রাইভেটকারটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-২৩-১৬১৪।
গ্রেপ্তার মাসুম মিয়া নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার ছোটাবন্দ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম ফয়েজ উদ্দিন মিয়া।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য মালামাল বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় আশুগঞ্জে বিপুল পরিমাণ স্কাফ সিরাপ উদ্ধারের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশে অবস্থানরত রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করে বরিশাল নগরীতে গোপন রাজনৈতিক তৎপরতা, ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার নীল নকশা বাস্তবায়নের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিলন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরও তার সন্ত্রাসী বাহিনী, চাঁদাবাজি ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চক্রান্তের খবরে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বরিশাল নগরবাসী।
সম্প্রতি (গত ৩১ আগস্ট) জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল তালাশ বিডি-তে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মিলন ভূঁইয়ার এসব দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড ও আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির বিস্তারিত চিত্র সামনে আসে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বরিশাল জুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
রাজনীতিতে উত্থান ও ক্ষমতার অপব্যবহার
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক আশীর্বাদ ও স্নেহে মিলন ভূঁইয়ার দ্রুত উত্থান ঘটে। শুরুতেই তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন। পরবর্তীতে তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো মেয়াদে এই রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে বরিশাল নগরীর আইন কলেজ, হাসপাতাল রোডসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় মিলন ভূঁইয়া ও তার ক্যাডার বাহিনী একক আধিপত্য কায়েম করে। জমি দখল, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছিলেন তারা।
বিদেশের অর্থায়ন ও তরুণদের প্রলোভন
সরকার পতনের পর মিলন ভূঁইয়া প্রকাশ্যে না থাকলেও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে পেছন থেকে সুতা টানছেন বলে একাধিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সাথে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। সেখান থেকেই হুন্ডির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ আসছে মিলন ভূঁইয়ার হাতে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, এই অর্থ ব্যবহার করে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বেকার তরুণ ও উদীয়মান যুবকদের বড় অঙ্কের টাকার লোভ দেখানো হচ্ছে। রাতের আঁধারে নগরীতে ঝটিকা মিছিল বের করা, নাশকতামূলক গোপন মিটিং পরিচালনা এবং বরিশালকে অস্থিতিশীল করার জন্য বিশাল একটি বাহিনী সুসংগঠিত করা হচ্ছে।
আইনজীবী পরিচয়ের আড়ালে গা ঢাকা
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সবচেয়ে বড় ক্ষোভের জায়গা হলো—এত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে মিলন ভূঁইয়া কীভাবে প্রকাশ্য ও গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, তিনি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির একজন তালিকাভুক্ত সদস্য। এই পেশাগত ও আইনি পরিচয়কে তিনি নিজের নিরাপত্তার জন্য 'সুরক্ষাকবচ' হিসেবে ব্যবহার করছেন। ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) ও থানা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি সহজেই রাজনৈতিক কার্যক্রম সমন্বয় করছেন বলে নগরবাসীর অভিযোগ।
সুজন-মিলন দুই ভাইয়ের আতঙ্কের রাজত্ব
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মিলন ভূঁইয়ার সাথে তার ভাই সুজন ভূঁইয়াও বিগত বছরগুলোতে সমান্তরালভাবে অপরাধের সাম্রাজ্য পরিচালনা করেছেন। অতীতের তেতো অভিজ্ঞতার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ এখনও এই দুই ভাইয়ের নাম শুনলে শিউরে ওঠেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতাল রোড এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা জানান, "অতীতে তারা যেভাবে নির্যাতন ও হয়রানি চালিয়েছে, তাতে এখনও আমাদের মনে ভয় কাজ করে। এখন যদি তাদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলি, তবে যেকোনো সময় আমাদের ওপর বা আমাদের পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটতে পারে।"
তারা আরও বলেন, "কোনো ব্যক্তি যদি একটি নিষিদ্ধ বা বিতর্কিত দলীয় পরিচয়ের আড়ালে অবৈধ অর্থ এনে দেশে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করে, তবে আইনের স্বার্থেই দল-মত নির্বিশেষে তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা উচিত।"
অভিযুক্তের বক্তব্য ও পুলিশের অবস্থান
সংবাদে উঠে আসা এসব আশঙ্কাজনক অভিযোগের সত্যতা ও নিজ বক্তব্যের বিষয়ে জানতে মিলন ভূঁইয়ার ব্যবহৃত একাধিক মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে আত্মগোপনে রয়েছেন।
তবে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এ বিষয়ে বিএমপি’র উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) সুশান্ত সরকার (পিপিএম) স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, "অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। আসামি মিলন ভূঁইয়াকে আটক করার জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক বিশেষ টিম ইতোমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছে। সে যত কৌশলেই আত্মগোপনে থাকুক না কেন, যেকোনো মুহূর্তে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং নগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ