মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৭ পি.এম
শরতের রোদ এবং ভোরের হালকা কুয়াশা শীতের আগমনী বার্তা জানাচ্ছে। এই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন কর্মযজ্ঞ। কোথাও ধানখেতের বুক চিরে নতুন মাটির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও টমেটোর কোমল চারা রোপণের ধুম চলছে, আবার কোথাও সারি সারি ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা হাতছানি দিচ্ছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারের চড়া দাম ধরতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মাঠে ইঁদুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের মনে দানা বেঁধেছে গভীর শঙ্কা। চান্দিনার কৃষিতে এখন এক অদ্ভুত সমীকরণ—একদিকে আগাম সবজি তুলে বাজার মাতানোর সোনালি স্বপ্ন, অন্যদিকে অস্বাভাবিক ইঁদুর আতঙ্ক এবং বাড়তি খরচের কড়া ধাক্কা।
মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন সবজির চাহিদা থাকে তুঙ্গে, দামও পাওয়া যায় দ্বিগুণ। এই সমীকরণকে পুঁজি করেই চান্দিনার মাঠের পর মাঠে শীতকালীন সবজি চাষের আয়োজন চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে চান্দিনায় ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ৪৩ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩১০ হেক্টর জমিতে আবাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাতাঘাসী, শুহিলপুর, মাধাইয়া, মহিচাইল, এতবারপুর, বাড়েরা, মাইজখার, চিলোড়া, এওয়াজবন্দ এবং পূর্ব অম্বরপুরের মাঠগুলো এখন যেন এক একটি সবজির ক্যানভাস।
কিন্তু কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, খেতে ভালো ফলন হওয়া মানেই শতভাগ সাফল্য নয়। দিনশেষে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের পকেটে কতটা থাকছে—তা-ই নির্ধারণ করে আসল লাভ-ক্ষতি।
উৎসবমুখর এই পরিবেশের মধ্যেই চান্দিনার কয়েকটি এলাকায় আমন ধানখেত এবং নতুন সবজি চারায় হানা দিয়েছে ইঁদুরের দল। চান্দিনা পৌরসভার তুলাতোলী, ছায়কোট, বড় গোবিন্দপুর এবং বাতাঘাসী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ইঁদুরের আক্রমণ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ধানগাছ ও শিষ কাটার পাশাপাশি কেটে ফেলা হচ্ছে ভুট্টা, শিম, বরবটি এবং বেগুনের কচিপাতা।
বাতাঘাসী ইউনিয়নের উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া নিজের ৯০ শতক জমিতে এবার ভুট্টা চাষ করেছেন। খেতের অবস্থা বেশ চমৎকার হলেও তাঁর ঘুম হারাম করেছে ইঁদুরের উৎপাত।
তিনি বলেন "অন্যান্য বছর ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা কম থাকলেও এবার তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। খেত বাঁচাতে নিয়মিত পাহারা দিচ্ছি, ফাঁদ পাতছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না। ফসল কাটার আগে এভাবে ক্ষতি হতে থাকলে তো আসল খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে।"
অন্যদিকে, শ্রীমন্তপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম আগাম বাজারের আশায় শিম চাষ করলেও তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাঁর মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর সার, ওষুধ এবং শ্রমিকের মজুরি যেমন বেশি, তেমনি ইঁদুরের অতিরিক্ত উপদ্রব কৃষকদের কোণঠাসা করে তুলেছে।
উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং ইঁদুরের অস্বাভাবিক আক্রমণের মতো দ্বিমুখী সংকটের মাঝেও আশা হারাচ্ছেন না কৃষি কর্মকর্তারা।
চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ চাষিদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ইঁদুর দমনসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং তদারকি প্রদান করা হচ্ছে।
তবে কেবল মাঠপর্যায়ের পরামর্শেই সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কৃষকেরা যাতে সঠিক সময়ে ইঁদুর দমনের আধুনিক উপায় এবং হালনাগাদ বাজারদর সম্পর্কে জানতে পারেন, সে বিষয়ে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের রাস্তায় গতির প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুই ব্যক্তি। এই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা এবং তার চার বছরের মেয়ে, যারা স্কুলে যাওয়ার পথে ছিলেন। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তর ইংল্যান্ডে। সোমবার, যুক্তরাজ্যের লিডস ক্রাউন কোর্টে বিচারক রে সিং দুই আসামির কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন, যেহেতু অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
জুরি প্যানেল তদন্তে জানতে পেরেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে ৩৭ বছর বয়সী গাড়ি বিক্রেতা জাসকমল রিয়াত এবং ২৯ বছর বয়সী হার্দিপ ভাচু একে অপরের সঙ্গে রেসিংয়ে লিপ্ত ছিলেন। এক পর্যায়ে ভাচু গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং স্কুলে যাওয়ার জন্য স্কট হল রোড দিয়ে হেঁটে যাওয়া ওই মা ও মেয়ের ওপর গাড়িটি তুলে দেন। ভাচুর চালানো অডি টিটি আরএস গাড়িটির ধাক্কায় ২৭ বছর বয়সী জাস্তিনা হুলবোজ এবং তার চার বছর বয়সী মেয়ে লেনা সেপচর ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে রিয়াত একটি বিএমডব্লিউ এম১৩৫আই গাড়ি নিয়ে ভাচুর সঙ্গে রেসিং করছিলেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।
ইয়র্কশায়ার ইভনিং পোস্টের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভাচু ২০২৪ সালের জুন মাসে বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর দায় স্বীকার করেন এবং তাকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপরদিকে, রিয়াত নিজের দায় অস্বীকার করলেও ড্যাশবোর্ড ক্যামেরার ফুটেজে তার রেসিংয়ের প্রমাণ স্পষ্টভাবে মেলে। আদালত তাকে বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের মাধ্যমে দুটি মৃত্যুর কারণ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি উভয়ের ড্রাইভিং লাইসেন্স ৬ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাদের বর্ধিত ড্রাইভিং পরীক্ষা দিতে হবে।
আদালতে এই দুজনকে উদ্দেশ্য করে বিচারক রে সিং বলেন, ‘রাস্তা কোনো রেসিং ট্র্যাক নয়। একটি শক্তিশালী গাড়ি পাওয়ার অর্থ এই নয় যে জনসাধারণের রাস্তায় সেটির গতির সীমা পরীক্ষা করতে হবে। চরম গতিতে প্রতিযোগিতামূলক গাড়ি চালানোর পরিণতি অপূরণীয় হতে পারে, এবং এই মামলায় ঠিক তা-ই ঘটেছে।’
মামলার শুনানিতে জানা যায় যে, এই দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তি একে অপরকে চিনতেন না। দুর্ঘটনার কয়েক মিনিট আগে একটি ট্রাফিক সিগন্যালে পাশাপাশি থামার পর স্পোর্টস কারের জানালা দিয়ে তাদের মধ্যে কথোপকথন হয়। ভাচুর ড্যাশক্যামের ফুটেজ এবং রিয়াতের ফোনের রেকর্ডিং থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তারা একে অপরের গাড়ির ক্ষমতার প্রশংসা করছিলেন এবং রিয়াত তাকে রেসিংয়ের জন্য উসকে দিচ্ছিলেন।
এরপর তারা রেসিং শুরু করেন। প্রথমে রিয়াত গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যান এবং তার পেছনে আসেন ভাচু। ৪০ মাইল গতিসীমার রাস্তায় ভাচু প্রায় ৯০ মাইল গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে গাড়িটি রাস্তার ধারের ফুটপাতের পাথরে ধাক্কা খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। জাগুয়ার শোরুমের কাছাকাছি ফুটপাতে গাড়িটি উঠে গিয়ে ওই মা ও মেয়েকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং এতে তাদের মৃত্যু হয়।
ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ার পুলিশের মেজর কলিশন ইনকোয়ারি টিমের ডিটেকটিভ ইন্সপেক্টর পল কনরয় বলেন, ‘এই দুজনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের কারণে একজন নারী ও তার শিশু কন্যা মারা গেছেন। আমি জানি কোনো সাজাই এই মূল্যবান দুটি প্রাণ হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে যথেষ্ট হবে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘তবে এই রায় ঘোষণার মাধ্যমে জাস্তিনা ও লেনার পরিবারের জন্য একটি দীর্ঘ ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার অবসান ঘটল। ভাচু এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর প্রায় দুই বছর কেটে গেছে, এবং আমি জানি যে বিচারের এই দীর্ঘ অপেক্ষা তাদের ওপর কতটা মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আজ আমার সমস্ত সহানুভূতি এই পরিবারের সাথে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে পাঁচ বছরের শিশু আলী হোসেনকে মাটিতে আছাড় মেরে হত্যার ঘটনায় আদালত জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ইতালি প্রবাসীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আদালত একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করারও নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কাজী আব্দুল হান্নান এ রায় প্রদান করেন। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং প্রায় এক বছরের বিচারিক কার্যক্রম শেষে এই রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পেলিশ্যার বাজার ও উচ্চার বাড়ি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে আলীকে তুলে মাটিতে আছাড় মারার অভিযোগ ওঠে ইতালি প্রবাসী মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। এতে শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তার মুখ ও কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেয়া হলে শিশুটি পথেই মারা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত শিশুটির বাবা আবু তাহেরের সঙ্গে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমের পূর্ববিরোধ ছিল। ওই বিরোধের জের ধরে শিশুটির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
শিশু আলী হোসেন হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সাঁতার ফেডারেশনের উদ্যোগে ম্যাক্স গ্রুপ আগামীকাল থেকে ৩৫তম জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা শুরু করতে যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতা মিরপুরের সৈয়দ নজরুল ইসলাম জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে চারদিনব্যাপী চলবে, যা ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের প্রতিযোগিতায় মোট ৪৯টি ইভেন্টে ৪৭০ জন পুরুষ এবং ১০২ জন নারী সাঁতারু, মিট অফিসিয়ালসহ মোট ৮০০ জন অংশগ্রহণ করবেন।
জাতীয় সাঁতার, ডাইভিং এবং ওয়াটারপোলো প্রতিযোগিতার আয়োজন উপলক্ষে মঙ্গলবার বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ)’র সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সুইমিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান সজল টুর্নামেন্টের বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় যুগ্ম সম্পাদক ও টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক সেলিম মিয়া, কোষাধ্যক্ষ রেজাউল হোসেন বাদশা এবং ম্যাক্স গ্রুপের প্রতিনিধি ইব্রাহিম খলিল পলাশ উপস্থিত ছিলেন।
ওয়ার্ল্ড এ্যাকোয়াটিক্সের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গত বছর থেকে পুরুষ বিভাগে ৮০০ মিটার ফ্রি স্টাইল, মহিলা বিভাগে ১৫০০ মিটার ফ্রি স্টাইল, ৪ ১০০ মিটার মিক্সড ফ্রি স্টাইল রিলে (পুরুষ ও মহিলা) এবং ৪ ১০০ মিটার মিক্সড মিডলে রিলে (পুরুষ ও মহিলা) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ কারণে সাঁতারের মোট ৪২টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া মহিলাদের জন্য ৩টি ডাইভিং ইভেন্টসহ ডাইভিংয়ে মোট ৬টি ইভেন্ট এবং ওয়াটার পোলোসহ এবারের প্রতিযোগিতায় সব মিলিয়ে ৪৯টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন সংযোজন হিসেবে এবছর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী সাঁতারুদের জন্য একটি প্রদর্শনী সাঁতার ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নতুন জাতীয় রেকর্ড সৃষ্টি করা সাঁতারুদের জন্য ৫ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ফেডারেশন।
সাঁতার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক দেওয়ান সজল জানিয়েছেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রতিযোগিতা শুরু হবে। তবে এদিন বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাঁতার ফেডারেশনের সভাপতি ও নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের এমপি রেজাউল করিম বাদশা এবং পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাঁতার ফেডারেশনের সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরও উপস্থিত থাকবেন।
আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক মো. দৌলতুজ্জামান খাঁন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (ক্রীড়া) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, এবং ম্যাক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর।
ইলেকট্রনিক স্কোর বোর্ড সম্পর্কে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, স্কোর বোর্ডটি কয়েক বছর আগে বসানো হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে এটি অকার্যকর। এই বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্স একটি আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। এই ভেন্যুতে স্কোর বোর্ড ছাড়া আন্তর্জাতিক সাঁতার প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব নয়। আশা করা হচ্ছে, ক্রীড়া প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ক্রমাগত শক্তি বাড়াচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘূর্ণিঝড়টি তীব্র থেকে অতি তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
ভোর সাড়ে ৫টার তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে ২৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে, ওড়িশার গোপালপুর থেকে ৩৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে।
স্থানীয় আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে এটি খানিক বাঁক নিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোবে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং পুদুচেরীর ইয়ানাম উপকূলের বাপটলা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী এলাকায় স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ‘অর্ণব’র। আছড়ে পড়ার সময় অন্ধ্র উপকূলে ঘণ্টায় ১১৫-১২৫ কিলোমিটার বেগে ঝড় বইতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৪০ কিলোমিটার হতে পারে।
এখন পর্যন্ত অন্ধ্রের চারটি জেলায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। এই জেলাগুলি হলো- অনকাপল্লী, শ্রীকাকুলম, বিশাখাপত্তনম এবং বিজয়নগরম। উদ্ধারকাজে গতি আনতে কাকীনাডা, কোনাসীমা, রাজামুন্দ্রি, এলুরু, মছলিপত্তনম এবং নাকাপল্লীর মতো স্থানে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একাধিক দল মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ইয়ানাম, কৃষ্ণা এবং বিশাখাপত্তনমেও মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মঙ্গল এবং বুধবার অন্ধ্রে ৫৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে বিজয়ওয়াড়া, রাজামুন্দ্রি, কাকীনাডা এবং বিশাখাপত্তনমের মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী একাধিক ট্রেনের পরিষেবা এই দু’দিন পাওয়া যাবে না। মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৮টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে ওড়িশাতেও। উল্লেখযোগ্য ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশাখাপত্তনম-কোরাপুট প্যাসেঞ্জার এবং বিশাখাপত্তনম-কিরন্ডুল প্যাসেঞ্জার। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিশাখাপত্তনমে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খুলেছে দক্ষিণ উপকূলীয় রেলওয়ে।
মূলত অন্ধ্র লাগোয়া দক্ষিণ ওড়িশায় ঘূর্ণিঝড়ের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে। বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে গঞ্জাম, গজপতি, রায়গড়া, মালকানগিরি, কোরাপুট এবং নবরংপুর জেলায়। এই ছয় জেলায় মঙ্গল এবং বুধবার সমস্ত স্কুল-কলেজ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মঙ্গল এবং বুধবার সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে আন্দামান ও নিকোবর প্রশাসন। আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ওড়িশা রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং এনডিআরএফ-এর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন। নিচু এবং বিপদসঙ্কুল এলাকা থেকে ইতিমধ্যেই বাসিন্দাদের ত্রাণশিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিঁ বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখার জন্য আট মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তারা ভিন্ন ভিন্ন স্থানে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
‘অর্ণব’র প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ উপকূলেও পড়তে চলেছে। উপকূল সংলগ্ন জেলাগুলিতে ভারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। মৎস্যজীবীদের জন্য আলিপুর আবহাওয়া দফতর বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের উপকূল সংলগ্ন সমুদ্র মঙ্গলবার থেকে উত্তাল হতে শুরু করবে। ঢেউ ‘অতি উত্তাল’ হয়ে উঠতে পারে। তাই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার ভারি বৃষ্টি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে। এই চার জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও ঝোড়ো হাওয়া বইবে, সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও গভীর নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার কটালের কারণে নদী ও সমুদ্রে জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা-সহ উপকূলীয় অঞ্চলের ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানা, গঙ্গাসাগর কোষ্টাল থানা, গোবর্ধনপুর কোষ্টাল থানার পক্ষ থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করতে মাইকে প্রচার শুরু হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্য সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার সকল মৎস্যজীবীদের নিরাপদ স্থানে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাগর, নামখানা-সহ উপকূলীয় এলাকায় সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে।
উপকূলবর্তী না হওয়া সত্ত্বেও ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বিহার এবং উত্তর প্রদেশেও পড়তে পারে। পূর্ব উত্তর প্রদেশ এবং বিহারে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এই বিষয়ে দুই রাজ্যকে সতর্ক করেছেন ক্যাবিনেট সচিব টিভি সোমনাথন।
সূত্র: আনন্দবাজার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ