ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণে উইনরক ইন্টারন্যাশনালকে আহ্বান রাষ্ট্রপতির


বাংলাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণে উইনরক ইন্টারন্যাশনালকে আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়ন, নিরাপদ অভিবাসন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে উইনরক ইন্টারন্যাশনালকে আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ দুপুরে বঙ্গভবনে উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাকসোদা মাকসুদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এই আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি গ্রামের প্রান্তিক জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি বিপণন সুবিধা এবং মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য উইনরক ইন্টারন্যাশনালকে আরও উদ্যোগী হওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী

এছাড়া তিনি শিক্ষা এবং কৃষির মতো অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সংস্থাটির চলমান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বাংলাদেশে এর কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, "শিক্ষা, কৃষি, জলবায়ু সহনশীলতা এবং অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষাসহ দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"

উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির কাছে বাংলাদেশে সংস্থাটির বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি তাদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

আরও পড়ুন: ক্যাবের সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার

উল্লেখ্য, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ১৯৮০-এর দশক থেকে বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়ন, জীবিকায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করে আসছে।

এ সময় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় বালু বিরোধে ইসলামী সংগীত শিল্পীকে পিটিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


কুমিল্লায় বালু বিরোধে ইসলামী সংগীত শিল্পীকে পিটিয়ে হত্যা

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পূর্ববিরোধের কারণে কাজী মো. ইউসুফ হোসেন (৪০) নামে এক ইসলামী সংগীত শিল্পীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মতে, বালু ওঠানো-নামানো নিয়ে বিরোধের ফলস্বরূপ এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

নিহত কাজী মো. ইউসুফ কনকাপৈত বাজারসংলগ্ন কনকাপৈত দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। ইউসুফ এলাকায় ইসলামী সংগীত শিল্পী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সম্প্রতি জীবিকার তাগিদে মোটরসাইকেল রাইডার হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, দুই থেকে তিন দিন আগে কনকাপৈত স্কুল মাঠে বালু ওঠানো-নামানোর বিষয়ে ইউসুফের সঙ্গে একটি ট্রাক্টরের চালকের বাক্‌বিতণ্ডা হয়। ট্রাক্টরটি বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদের বাজারের ফারিহা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল কালাম আজাদের বলে জানা যায়। ওই ঘটনার পর আবুল কালাম আজাদ ইউসুফকে আমজাদের বাজারে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, সোমবার সকালে ইউসুফ আমজাদের বাজারে গেলে ফারিহা এন্টারপ্রাইজ এলাকায় আবুল কালাম আজাদ ও তার সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালান। হামলায় ইউসুফ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে তার স্বজনেরা ইউসুফকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়। তবে কুমিল্লায় নেয়ার পথে তার মৃত্যু ঘটে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ইউসুফ হোসেন নামে অসুস্থ এক ব্যক্তিকে স্বজনেরা হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় পাঠানো হয়।’

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন জানান, ট্রাক্টরে বালু ওঠানো-নামানো নিয়ে কাজী ইউসুফের সঙ্গে একজনের বাক্‌বিতণ্ডা হয়েছিল। সোমবার সকালে আমজাদের বাজারে গেলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের আদ্যোপান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:১৯ পি.এম


নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনের আদ্যোপান্ত

হামাসের ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ইহুদি রাষ্ট্রটির ৭৮ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ নির্বাচন বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এর ফলাফল নেতানিয়াহুর কয়েক দশকব্যাপী রাজনৈতিক জীবনের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথম ইসরাইলি আইনসভা কোনো আগাম বিলুপ্তি ছাড়াই চার বছরের পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করেছে, তবে নেতানিয়াহু, তার দল এবং তার ক্ষমতাসীন জোট কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়েছে।

ভোট কবে

২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) ইসরাইল ২৬তম নেসেটের ১২০ জন সদস্য নির্বাচনের জন্য ভোট দেবে। ইসরাইলের অধিকাংশ এলাকায় স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে এবং রাত ১০টায় তা শেষ হবে। কিছু ছোট জনবসতি, হাসপাতাল ও কারাগারে ভোটগ্রহণের সময় কিছুটা কমানো হবে। নির্বাচনের দিনটি ইসরাইলে একটি সরকারি ছুটির দিন।

১৮ বছর বা তার বেশি বয়সি সকল ইসরাইলি নাগরিক, যারা ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত এবং যাদের পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা ইসরাইলি পরিচয়পত্রের মতো বৈধ পরিচয়পত্র রয়েছে, তারা ভোট দিতে পারবেন।

তবে অনেক গণতান্ত্রিক দেশের বিপরীতে, ইসরাইলে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই এবং যেসব নাগরিক দেশের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। আনুষ্ঠানিক ফলাফল ৪ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে।

পদ্ধতিটি যেভাবে কাজ করে

ইসরাইলিরা কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পরিবর্তে একটি দলের তালিকার পক্ষে ভোট দেন। প্রতিটি দল তাদের প্রার্থীদের একটি ক্রমতালিকা তৈরি করে, যা একটি একক ব্যালট পেপারে থাকে। ভোটাররা কোনো নির্দিষ্ট দল বা সেই দলের প্রার্থী তালিকাকে নির্বাচিত করেন। যে দল সবচেয়ে বেশি ভোট পায়, সেই দলের নেতাই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, যদিও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে না।

ইসরাইলের নির্বাচনী ব্যবস্থায় দেশব্যাপী আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। সংসদে স্থান পাওয়ার জন্য কোনো দলকে অবশ্যই বৈধ ভোটের অন্তত ৩.২৫ শতাংশ পেতে হয়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১০টি দল এবারের নির্বাচনী সীমা অতিক্রম করবে।

সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের অন্তত ৬১টি আসনের প্রয়োজন হয়, আর এখন পর্যন্ত কোনো দলই এককভাবে এত আসন অর্জন করতে পারেনি। নির্বাচনের পর দলগুলো জোট গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পায়, প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও ১৪ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। যদি কেউ তা করতে সক্ষম না হয়, তবে পুনরায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

২০১৯ সাল থেকে এটি ইসরাইলের ষষ্ঠ নির্বাচন। এই কারণে ‘কে সবার আগে থাকল’ তার চেয়ে ‘কে ৬১-এর সংখ্যায় পৌঁছাতে পারল’ সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সরকার কীভাবে গঠিত হয়?

ইসরাইলের ৭৮ বছরের ইতিহাসে কোনো একক দল কখনোই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এর অর্থ হলো, দলগুলোকে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতাকে নিয়ে একটি জোট সরকার গঠন করতে হয়।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যিনি মূলত একটি প্রতীকী ভূমিকা পালন করেন।

নেসেটের একজন সদস্যকে, যিনি সাধারণত সর্বাধিক আসন জয়ী দল বা জোটের নেতা হন, তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেন প্রেসিডেন্ট। এরপর সেই প্রার্থীকে ২৮ দিন সময় দেওয়া হয় অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করার, জোট গঠন করার এবং নেসেটে আস্থা ভোটে অনুমোদন লাভের মাধ্যমে সরকার গঠন করার জন্য। তবে যদি তারা তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে ওই দল বা জোটটি সময়সীমা ১৪ দিন বাড়ানোর অনুরোধ করতে পারে।

যদি সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তবে প্রেসিডেন্ট অন্য একজন প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি পুনরায় শুরু হবে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হলে, তৃতীয় মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য ১৪ দিন সময় পাবেন। যদি সেটিও ব্যর্থ হয়, তবে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কারা?

নব্বইয়ের দশকে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহু বিদেশে ইসরাইলের মুখ হয়ে উঠেছেন, আর নিজ দেশে তিনি পরিণত হয়েছেন এক মেরুকরণ সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্বে।

সমর্থকরা নেতানিয়াহুকে ‘কিং বিবি’ বলে অভিহিত করেন এবং তাকে এমন একজন শক্তিশালী নেতা হিসেবে দেখেন, যিনি প্রতিকূল অঞ্চলে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার জন্য অপরিহার্য।

তবে গাজায় যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের কাছে ‘ওয়ান্টেড’ ব্যক্তি এবং ইসরাইলে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার চলা নেতানিয়াহু বর্তমানে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে আছেন।

নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য দুটি অতি-অর্থোডক্স ইহুদি দল—‘ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম’ এবং ‘শাস’-এর ওপর নির্ভর করে এসেছেন। তাদের সম্প্রদায়ের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক পরিষেবা থেকে বড় ধরনের অব্যাহতির দাবি, সেই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে তাদের স্বল্প অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় ভাতার ওপর নির্ভরশীলতার মতো বিষয় অনেক ইসরাইলিকে ক্ষুব্ধ করেছে, বিশেষ করে যুদ্ধের এই সময়ে তা আরও বেশি তীব্র হয়েছে।

নেতানিয়াহুর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে আছেন সাবেক সামরিক প্রধান গাডি আইজেনকোট, যিনি গাজায় লড়াইয়ের সময় নিজের এক ছেলেকে হারিয়েছেন। ৬৬ বছর বয়সি আইজেনকোট নিজেকে একজন রাজনৈতিক বহিরাগত, সৈনিক এবং কঠোর নিরাপত্তা-পন্থি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার সাধারণ পটভূমি ও পারিবারিক আত্মত্যাগের বিষয়টি নেতানিয়াহুর দীর্ঘ কয়েক দশকের উচ্চপদস্থ শাসনকাল এবং তার বিরুদ্ধে ঝুলে থাকা দুর্নীতির মামলাগুলোর সঙ্গে এক স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করে। তিনি 'ইয়াশার' নামে একটি নতুন মধ্যপন্থি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন; হিব্রু ভাষায় এই শব্দটির অর্থ 'সোজা' বা 'সৎ'।

৫৪ বছর বয়সি সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও শীর্ষ এই পদের জন্য আরেক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি একজন ডানপন্থি, সাবেক কমান্ডো, নেতানিয়াহুর সাবেক সহযোগী এবং উচ্চ-প্রযুক্তি খাতের কোটিপতি।

বেনেট মধ্যপন্থি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। তাদের নতুন দলের নাম ‘টুগেদার’, দলটির বার্তার মূল লক্ষ্য হলো মানসিকভাবে বিপর্যস্ত একটি জাতিকে সারিয়ে তোলা এবং দেশকে পুনরায় সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।

রাজনৈতিক মতাদর্শের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করা সত্ত্বেও, তাদের জোট ২০২১ সালের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

এছাড়া সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী, ৬৮ বছর বয়সি আভিগদোর লিবারম্যান, যিনি একসময় নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন, এখন তার বিপরীতে দাঁড়িয়েছেন। ব্যাপক কট্টরপন্থি লিবারম্যান ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর সরকার থেকে পদত্যাগ করেন। সে সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী নমনীয় আচরণ করছেন। বর্তমানে তিনি নেতানিয়াহুর অন্যতম কঠোর সমালোচকে পরিণত হয়েছেন। তার দল, ‘ইসরাইল আওয়ার হোম’, মূলত ইসরাইলের সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আসা অভিবাসী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বড় ধরনের সমর্থন পায়।

৬৪ বছর বয়সি সাবেক জেনারেল ইয়াইর গোলান, যিনি ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার শিকার একটি স্থান থেকে লোকজনকে উদ্ধার করে প্রশংসিত হয়েছিলেন, তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার দলটি গঠিত হয়েছে ইসরাইলের ঐতিহাসিক লেবার পার্টির ক্ষয়িষ্ণু অবশিষ্টাংশ এবং ছোট বামপন্থি দল মেরেৎজ-এর সমন্বয়ে।

বলা হচ্ছে, যেসব দল কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের সাথে স্পষ্টভাবে যুক্ত নয় তারা নেতানিয়াহু বা তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের পক্ষে ভারসাম্য ঘুরিয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ‘রাম’ ও ‘জয়েন্ট লিস্ট’, যারা ইসরাইলের ২০ শতাংশ আরব সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধিত্ব করে।

তাদের পাশাপাশি রয়েছে ‘পিপল অব ইসরাইল’ নামে একটি নতুন ডানপন্থি দল এবং ‘দ্য রিজার্ভিস্টস’ নামে একটি মধ্য-ডানপন্থি দল।

সূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮৫ সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


৮৫ সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি, নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ

দেশের ৮৫ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হয়েছে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-৬ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। এই আদেশে সই করেছেন উপসচিব (রেজিস্ট্রেশন) মো. মাসুদ আলী।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রারদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত। বদলির আদেশ অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার কাছে বর্তমান পদের দায়িত্বভার হস্তান্তর করতে হবে।

এছাড়া, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য মহাপরিদর্শক, নিবন্ধনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ সিরিজ জিতে বোর্ডে নিজেদের শক্তি বাড়াতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:২১ পি.এম


বাংলাদেশ সিরিজ জিতে বোর্ডে নিজেদের শক্তি বাড়াতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সফরে টেস্ট সিরিজ জিতে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি আগ্রহী।

আর্থিক সংকট, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে সম্প্রতি ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

স্যামি মনে করেন, যদি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) চলতি চক্রটি ভালোভাবে শেষ করা যায়, তাহলে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করার সময় ক্রিকেটারদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে আজ স্যামি মন্তব্য করেন, “ভারত সিরিজে খেলোয়াড়দের বেতন কমানোর খবর জানানো হলে তারা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং যেভাবে খেলেছে, তা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে তাদের দৃঢ়তা, আবেগ ও আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “একজন পেশাদার খেলোয়াড় কিংবা একটি বোর্ড হিসেবে আমাদের বর্তমান অবস্থান বুঝতে হবে। আর্থিকভাবে আমরা কোন অবস্থায় আছি, তা সবার জানা।”

এক সময় বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু উজ্জ্বল পারফরম্যান্স ছাড়া দলের ক্রিকেটের মান ক্রমাগত নিম্নমুখী হয়েছে।

বর্তমান ডব্লিউটিসি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অষ্টম স্থানে রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আগের চক্রেও ক্যারিবীয়রা অষ্টম স্থানে থেকে অভিযান শেষ করেছিল।

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজটি চলতি চক্রে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শেষ সিরিজ। স্যামি এই সিরিজ থেকে পয়েন্ট তালিকায় অবস্থান উন্নত করার সুযোগ দেখছেন।

তিনি বলেন, “আমার খেলোয়াড়দের প্রতি বার্তা হলো, বিশেষ করে এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শীর্ষ পাঁচে থাকতে পারলে বাড়তি প্রণোদনা পাওয়া যাবে। আর্থিক পুরস্কারের ক্ষেত্রে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। গত দুই চক্রে অষ্টম স্থানে থাকা আমাদের খেলোয়াড়দের সামনে এবার আরও ওপরে ওঠার সুযোগ রয়েছে।”

স্যামি মনে করেন, মাঠে ভালো পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলে স্পনসরদেরও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

তিনি বলেন, “মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেদের এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই খেলোয়াড়দের প্রতি আমার চ্যালেঞ্জ, যাতে আমরা আরও ভালোভাবে দর-কষাকষি করতে পারি এবং স্পনসর আকৃষ্ট করতে পারি। ভারতের বিপক্ষে আমাদের সাদা বলের দল দারুণ করেছে। আশা করি, বাংলাদেশে লাল বলের দলও একই কাজ করতে পারবে।”

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের অবনতি ঘটলেও বিভিন্ন সংস্করণে দলটির পারফরম্যান্সে আশার কিছু দিক রয়েছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত তারা কোনও টেস্ট সিরিজ হারেনি। সম্প্রতি ভারতের মাটিতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজেও স্বাগতিকদের সঙ্গে সমানে লড়াই করেছে ক্যারিবীয়রা।

তবে বাংলাদেশের মাটিতে স্বাগতিকদের মোকাবিলা করা কঠিন হবে, সেটি স্যামি জানেন। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক সাফল্য বাংলাদেশ সিরিজেও ভালো করতে দলকে অনুপ্রাণিত করবে।

স্যামি বলেন, “আমরা জানি, বাংলাদেশ ভালো ক্রিকেট খেলছে। তবে আমরাও এ বছর ভালো খেলেছি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার সময় নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে আমরা সৎ ও বাস্তববাদী ছিলাম। এখন আমরা ঠিক সেই অবস্থানেই রয়েছি, যেখানে থাকার প্রত্যাশা করেছিলাম।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী দুটি টেস্ট আমাদের সামনে দারুণ সুযোগ এনে দিয়েছে। ২০২৫ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যাত্রা শুরু করেছিলাম, সেটি পূরণের মধ্য দিয়ে এই চক্র শেষ করতে চাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%