১২:০৫ পি.এম
নেপালের উদ্ধারকারীরা রোববার বানের আবর্জনায় তলিয়ে যাওয়া টানেলে আটকে পড়া জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কর্মীদের কাছে পৌঁছানোর প্রচেষ্টায় চরম প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন। ভারী বর্ষণ এবং নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি কাঠমান্ডু থেকে এ তথ্য জানায়।
নেপাল সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একাধিক টানেলে শতাধিক শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ত্রিশূলী-৩এ ও ৩বি প্রকল্প এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধিতে সীমিত পরিসরের বাজেটের পথে যুক্তরাজ্য
ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসার পর থেকে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের জন্য সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী দল শনিবার সন্ধ্যায় একটি টানেলের ওপরের অংশে পৌঁছায়, যা কাদায় তলিয়ে গিয়েছিল। এরপর তারা সেখানে বাতাস প্রবেশ করানো এবং ক্যামেরা পাঠানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু রাতভর বৃষ্টি এবং নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
রোববার সকালে নেপাল সেনাবাহিনী জানায়, উদ্ধার তৎপরতার পঞ্চম দিনে স্থানীয় সময় রাত ২টার পর ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে খনন করা স্থানও পানিতে ভরে যায়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, উদ্ধারকর্মীরা বন্যায় স্থানচ্যুত বিশাল পাথর পেরিয়ে এবং কাদার মধ্যে হেঁটে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগামী দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১০ জন নিহত
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, উদ্ধারকারী দলগুলো ‘অবিরাম বৃষ্টি ও কঠিন পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হচ্ছে। তবুও তারা রাতের বেলা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। টানেলে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান ও উদ্ধারে তারা ‘নিরলস প্রচেষ্টা’ চালিয়ে যাচ্ছে।
কার্যালয়টি আরও জানায়, উদ্ধারকারীরা উন্নত প্রযুক্তির অনুসন্ধান ক্যামেরা ও বিশেষায়িত মনিটর ব্যবহার করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, চীন-নেপাল সীমান্তে এই দুর্যোগের কারণ একটি হিমবাহ ধসে পড়া।
উদ্ধার তৎপরতায় বিশেষায়িত ভারতীয় ও চীনা টানেল উদ্ধারকারী দলও যুক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের হত্যা: গুরুদাসপুরের ওসি প্রত্যাহার, এমপি ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টসহ অন্যান্য শৃঙ্গে পর্বতারোহীদের উদ্ধারে কাজ করা নেপালের বিশেষায়িত পর্বত উদ্ধারকারী দলও ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে নিখোঁজদের সন্ধানে যোগ দিচ্ছে।
নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি জানিয়েছে, ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কেন্দ্রের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এটি নেপালের স্থাপিত মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ।
এছাড়া নির্মাণাধীন আরও ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতা ৪৭০ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন