ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলম্বিয়ায় ৭.৬ টন কোকেন জব্দ, নেদারল্যান্ডসে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ


কলম্বিয়ায় ৭.৬ টন কোকেন জব্দ, নেদারল্যান্ডসে পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার কার্তাগেনা বন্দরে একটি বৃহৎ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (ডিইএ) সহযোগিতায় এই অভিযানে নেদারল্যান্ডসে পাচারের উদ্দেশ্যে ৭ দশমিক ৬ টন (৭,৬০০ কেজি) কোকেন জব্দ করা হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করেছেন যে, গত এক দশকের মধ্যে এটি দেশের প্রধান এই বন্দরে সবচেয়ে বড় মাদক আটকের ঘটনা।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট আবেলাদো দে লা এসপ্রিয়েলা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কলম্বিয়ার ন্যাশনাল পুলিশ কার্তাগেনা বন্দরে গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় কোকেন চালানটি আটক করেছে।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা বিপুল পরিমাণ কোকেন অত্যন্ত সুকৌশলে প্রক্রিয়াজাত আখ থেকে তৈরি এক ধরনের গুঁড়ো মিষ্টি বা 'পানেলা'-র ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মাদক চক্রের নজর এড়াতে এই অভিনব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ইরান: মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সাগরে পেলেই ডুবিয়ে দেওয়া হবে

বর্তমান সরকারের প্রথম ৭৫ দিনের কার্যকালে মোট ১৩২ টন কোকেন জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রেসিডেন্ট এসপ্রিয়েলা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, "নার্কো-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কোনো শান্তিচুক্তি বা ছাড় দেওয়া হবে না! আমরা প্রতিটি ডোজকে রাস্তায় পৌঁছাতে বাধা দিয়ে জীবন বাঁচাচ্ছি এবং মাদক চক্রগুলোর অপরাধমূলক সাম্রাজ্যকে দুর্বল করে দিচ্ছি।"

এদিকে, নেদারল্যান্ডসের প্রসিকিউশন সার্ভিসের অনুরোধে কলম্বিয়ায় রনি ও উলরিখ নামের দুই ডাচ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নেদারল্যান্ডসের দৈনিক ‘এডি’ সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। তবে মাদক জব্দের এই বিশাল চালানের সাথে তাদের সরাসরি কোনো সংযোগ রয়েছে কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাদক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ৩৩০ টন কোকেন জব্দ করা হয়েছিল, যা ২০২৩ সালে ছিল ৪১৯ টন। সূত্র: ইউরোনিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাদপন্থিদের ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি শীর্ষ আলেমদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০০ পি.এম


সাদপন্থিদের ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি শীর্ষ আলেমদের

বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ এর প্রেক্ষাপটে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়।

দেশের শীর্ষ মুরুব্বি আলেম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের টিনশেডের শবগুজারি পয়েন্টে এ পরামর্শ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশের ৬৪ জেলা থেকে আগত শীর্ষ আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মহল থেকে আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সাদপন্থীদের এবারের ইজতেমার জন্য তিন দিনের জন্য টঙ্গীর মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে তার মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে সরকারের কাছে দুটি দাবি জানানো হয়। প্রথমত, ২০২৫ সালের পর সাদপন্থীদের টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের পূর্বের সিদ্ধান্ত বজায় রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গীতে সংঘটিত ঘটনাবলী সম্পর্কিত দুটি হত্যা মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আয়োজকদের মতে, মামলাগুলি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে।

এছাড়া সাদপন্থীদের ইজতেমা আয়োজনের প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন জেলার মাদরাসা, মারকাজ ও অন্যান্য দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে দোয়ার আয়োজনের জন্য আলেম-ওলামা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, যদি এ বিষয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় অথবা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

সভায় হেফাজত আমিরের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমি, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আকাতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিএমএইচে অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াকে দেখলেন রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


সিএমএইচে অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াকে দেখলেন রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান

ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়ার চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।

গত ২২ অক্টোবর সকালে রাষ্ট্রপতি স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সিএমএইচে যান। সেখানে তিনি অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এই সময় তিনি অধ্যাপকের চলমান চিকিৎসাপদ্ধতি ও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পান। রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এর আগে, ১৯ অক্টোবর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও সিএমএইচে অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াকে দেখতে যান। তিনি অধ্যাপকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চান। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা তাকে অধ্যাপকের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন।

এছাড়া, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী, সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়াকে দেখতে গেছেন।

অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সিএমএইচে ভর্তি হন এবং তখন থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বৌদ্ধতত্ত্ববিদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন এবং পালি ভাষা, বৌদ্ধধর্ম ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যবিষয়ক অধ্যয়ন ও গবেষণায় তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৬ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া, ২০২৬ সালে গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পদক লাভ করেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্য, সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। তারা আশা করছেন, চিকিৎসা শেষে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিওএর নির্বাচন ও পদত্যাগ নিয়ে ইমরোজ-সাইফুলের বিতর্কিত মন্তব্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


বিওএর নির্বাচন ও পদত্যাগ নিয়ে ইমরোজ-সাইফুলের বিতর্কিত মন্তব্য

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) নির্বাচন, কাউন্সিলর মনোনয়ন, পদ বণ্টন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কর্মকর্তা নির্বাচন এবং আর্থিক জবাবদিহি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিওএর সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ, মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা ও কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম এসব বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন। পদত্যাগের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট ক্রীড়া সংস্কারের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি সার্চ কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জোবায়দুর রহমান রানাও সদস্য ছিলেন ইমরোজ আহমেদ। তাদের দায়িত্ব ছিল ক্রীড়া ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র, নির্বাচনপদ্ধতি, প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দল পাঠানোর প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করা। পরবর্তীতে এই দুই ব্যক্তি বিওএর নির্বাচনে অংশ নেন। এতে সংস্কারপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচন ও দায়িত্ব গ্রহণে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন ওঠে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও দেন।

সংস্কার-সুপারিশের পর বিভিন্ন ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি গঠিত হয়। এসব কমিটির প্রতিনিধিদের মধ্যে অনেকেই বিওএর কাউন্সিলর ও ভোটার হন। অভিযোগ উঠেছে, কাউন্সিলর তালিকায় এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যারা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের বর্তমান কমিটিতে নেই। ফলে ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে বিওএর সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে। অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন কাউন্সিলর তালিকা হালনাগাদ করার দাবি করেছেন।

অলিম্পিক ও নন-অলিম্পিক ডিসিপ্লিনের প্রতিনিধিত্বের জন্য নির্ধারিত উপমহাসচিব পদে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর আর্চারি ফেডারেশনের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ আলোকে বিওএর প্রশিক্ষণ কমিটির সদস্যসচিব করা হয়। সরকারি আদেশে (জিও) নাম না থাকা সত্ত্বেও তাকে এশিয়ান গেমসে পাঠানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ইমরোজ আহমেদ এশিয়ান বিচ গেমসে বাংলাদেশ দলের শেফ দ্য মিশনের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। অন্যদিকে, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে শেফ দ্য মিশন সাইফুল ইসলাম প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার আগেই দেশে ফেরায় ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন ইমরোজ।

সাইফুল ইসলামের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা, আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা এবং বিওএর তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়েও জবাবদিহির দাবি করেছেন ক্রীড়া ফেডারেশন ফোরামের নীতিনির্ধারকরা। তারা মনে করেন, বিওএর শতকোটি টাকা সাইফুলের হাতে নিরাপদ নয়। কারণ সাইফুল ইসলাম বর্তমানে কোন ফেডারেশনে নেই। সেক্ষেত্রে তার জবাবদিহিতাও নেই।

এদিকে পদত্যাগের ঘটনাগুলোর কারণ ও প্রেক্ষাপট নিয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ রেদুয়ান। তিনি বলেছেন, ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিওএ সভাপতির উচিত নির্বাচন, কাউন্সিলর মনোনয়ন, পদ বণ্টন, আন্তর্জাতিক সফরে কর্মকর্তা নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা। সেই সঙ্গে দায়ী ব‍্যাক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি সঞ্চার, দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদী টোকিও। বিশেষভাবে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছে জাপান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন। গত ২০ অক্টোবর দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সফরের ঘোষণা দেয়।

সফরের দ্বিতীয় দিন, ২৭ অক্টোবর টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই উপলক্ষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন বলে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের প্রথম জাপান সফরকে স্বাগত জানিয়ে ঢাকায় জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ বাসসের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছে, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে বলে তাদের বিশ্বাস।

জাপান মনে করে, এই সফর আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে দুই দেশ তাদের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো পুনর্ব্যক্ত করতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কিভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানায়, নতুন সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের উন্নতি হচ্ছে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন, অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং মানবসম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিকেও জাপান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। এছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগের সুযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং শিল্পখাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগ এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক রয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।

সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচিতে চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন, ইউনিক্লোর সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার একটি কারখানা পরিদর্শনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সফরের সময় নতুন জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, সফরকালে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমঝোতা স্মারক সই কিংবা সহযোগিতার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার অনুযায়ী বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে।

জাপান দূতাবাসের অর্থনৈতিক বিভাগ জানিয়েছে, সফরটি বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, ব্যবসায়িক আস্থা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উদ্যোগগুলোর জন্য শক্ত ভিত্তি গড়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

জাপান একই সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত ও অঙ্গীকারের কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। দেশটির মতে, আলোচনায় অভিন্ন অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তব সুফল নিশ্চিত করতে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। চলমান সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোতে দৃশ্যমান অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে জাপান বলেছে, বিদ্যমান উদ্যোগগুলোতে বাস্তব উন্নতি ব্যবসায়িক আস্থা বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহায়ক হবে।

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম প্রধান অংশীদার জাপান। দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ গঠন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন জাপানের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিনিয়োগ, বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়ন দুই দেশের অভিন্ন অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%