০৬:৫৮ পি.এম
রাজধানীর বনানীতে প্রায় ৫৭ লাখ টাকার জাল নোট ব্যবহার করে স্বর্ণালঙ্কার কেনার চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. রুবেল আহম্মেদ ফকির (৪৬) কে আদালত দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাকিবুল হাসান মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জুম্মান খান আসামিকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে রুবেল ফকির ও তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল কাফি বনানী সুপার মার্কেটের লেভেল-২-এ অবস্থিত ‘মনিমালা জুয়েলার্স’-এ ক্রেতা সেজে প্রবেশ করেন। তারা তাদের ভাগ্নির বিয়ের জন্য স্বর্ণালঙ্কার কেনার কথা বলে বিভিন্ন ডিজাইনের গহনা দেখেন এবং প্রায় ২০ থেকে ২১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পছন্দ করে দোকানে বিল করার অনুরোধ জানান। তবে, পরবর্তীতে বিল পরিশোধের সময় রুবেল তার সঙ্গে থাকা ট্রলি ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোটের বান্ডিল বের করেন। যখন দোকানের কর্মচারীরা নোটগুলো পরীক্ষা করে, তখন তাদের সন্দেহ হয় এবং নোটগুলো জাল বলে নিশ্চিত হন। বার্তা শোনার পর দুজন পালানোর চেষ্টা করেন। তবে, এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা রুবেলকে আটক করেন, কিন্তু তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল কাফি পালিয়ে যান। খবর পেয়ে বনানী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে রুবেলকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে তার কাছ থেকে এক হাজার টাকা মূল্যমানের ৫৮টি বান্ডিলে মোট ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকার জাল নোট এবং একটি ট্রলি ব্যাগ জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মনিমালা জুয়েলার্সের ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে বনানী থানায় রুবেল ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল জাল টাকার উৎস সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। ফলে জাল নোট তৈরির এবং সরবরাহকারী চক্র শনাক্ত করার পাশাপাশি পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার এবং চক্রের অন্য সদস্যদের চিহ্নিত করার জন্য তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। পুলিশের অপরাধসংক্রান্ত তথ্যভান্ডার (সিডিএমএস) অনুযায়ী, রুবেল আহম্মেদ ফকিরের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় জাল নোট, প্রতারণা, মানি লন্ডারিং এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মোট ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন