ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রোনালদোর ৯টি রেকর্ড ভাঙা প্রায় অসম্ভব, দাবি ফুটবল বিশেষজ্ঞদের


রোনালদোর ৯টি রেকর্ড ভাঙা প্রায় অসম্ভব, দাবি ফুটবল বিশেষজ্ঞদের

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। জাতীয় দলের জার্সি পরে মাঠে আর দেখা যাবে না তাকে। তবে এই দীর্ঘ সময়ে পর্তুগালের হয়ে অসংখ্য অবিশ্বাস্য কীর্তি ও রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এর মধ্যে এমন ৯টি অনন্য রেকর্ড রয়েছে, যা ফুটবল ইতিহাসে অক্ষত থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

১. আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল

রোনালদো ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গোলদাতা হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তার মোট গোলসংখ্যা ১৪৬টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি, যিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন, তার চেয়ে ২০ গোল পেছনে রয়েছেন। ইরানের কিংবদন্তি আলী দাইয়ীও রোনালদোর চেয়ে ৩৮ গোল পেছনে। বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের মধ্যে রোমেলু লুকাকু (৯৪ গোল) বা রবার্ট লেভানডোভস্কি (৯২ গোল) কিংবা হ্যারি কেইনের পক্ষে এই বিশাল ব্যবধান ঘুচিয়ে রোনালদোকে টপকানো প্রায় অসম্ভব।

আরও পড়ুন: ম্যানসিটিকে ধরাশায়ী করে ফরেস্টের কাছে ৩–১ গোলে হ্যাটট্রিক হার

পর্তুগালের হয়ে ২৩ বছরের বিশাল ক্যারিয়ারে রোনালদো সর্বোচ্চ ২৩৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। এই সংখ্যায় তিনি অন্য সবার চেয়ে অনেক দূরে অবস্থান করছেন। মেসির ঝুলিতে রয়েছে ২০৮ ম্যাচ। বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে কাতার জাতীয় দলের অধিনায়ক হাসান আল হায়দোস ১৯৩ ম্যাচ খেলে তার কাছাকাছি থাকলেও, শীর্ষস্থান দখল করতে তাকে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।

৩. ত্রিশের পরে গোলমেশিন

বয়স বাড়লেও রোনালদোর মাঠের পারফরম্যান্সে কমেনি ধার। বরং ক্যারিয়ারের ‘দ্বিতীয়ার্ধে’ তিনি আরো বেশি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। ত্রিশ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার পর পর্তুগালের হয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ৯৪টি গোল করেছেন তিনি, যেখানে ত্রিশের আগে তার গোলসংখ্যা ছিল মাত্র ৫২টি। ত্রিশের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮ গোল রয়েছে মেসির। সামগ্রিক ফুটবল ইতিহাসে ৯৪ বা তার বেশি গোল করা খেলোয়াড়ের সংখ্যা মাত্র চারজন, ফলে এই রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অসম্ভব।

রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে মোট ৯৬টি ভিন্ন ম্যাচে গোল করেছেন। বছরের পর বছর ধরে তার গোলের ধারাবাহিকতা অতুলনীয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসে কেবল রোনালদো, মেসি এবং আলী দাইয়ীই এই বিরল ক্লাবের সদস্য।

আরও পড়ুন: বার্সেলোনার হাইভোল্টেজ ম্যাচসহ আজকের খেলা টিভিতে

রোনালদো নিজের দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্যারিয়ারের প্রতিটি একক বছরে গোল করার বিরল রেকর্ড গড়েছেন। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গোলমুখের সামনে কখনোই তার ধার বা ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়েনি। এই রেকর্ড ভাঙতে হলে কাউকে অতি অল্প বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষিক্ত হতে হবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে কোনো বিরতি ছাড়াই নিয়মিত গোল করে যেতে হবে।

৬. টানা ২৩ বছর গোলের দেখা

বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় চূড়ায় না থাকলেও, ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ‘ইউরো’তে সর্বাধিক ১৪টি গোল করার রেকর্ড একচ্ছত্রভাবে রোনালদোর দখলে। এই তালিকায় তার ঠিক পরেই রয়েছেন ফ্রান্সের মিশেল প্লাতিনি (৯ গোল)। স্পেনের আলভারো মোরাতা ও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ৭টি করে গোল নিয়ে তার অনেক পেছনে অবস্থান করছেন।

ইউরো টুর্নামেন্টে গোলের রেকর্ডের পাশাপাশি সর্বাধিক ৩০টি ম্যাচ খেলার রেকর্ডও সিআরসেভেনের ঝুলিতে। এই রেকর্ড ভাঙা কেন কঠিন? কারণ একটি দল ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালেও এক আসরে সর্বোচ্চ সাতটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়। ফলে এই রেকর্ড ভাঙতে হলে কোনো খেলোয়াড়কে অন্তত ছয়টি আলাদা ইউরো আসরে খেলে ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখাতে হবে।

আরও পড়ুন: সিলেট টেস্টসহ বাংলাদেশের খেলার সূচি প্রকাশ

৯. বিশ্বকাপের ভিন্ন ভিন্ন আসরে গোল

গোলকিপার বাদে কেবল লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই ইতিহাসের একমাত্র আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ছয়টি ভিন্ন আসরে খেলার গৌরব অর্জন করেছেন। তবে এখানে অনন্য এক ব্যবধানে মেসিকে ছাড়িয়ে গেছেন রোনালদো—তিনি খেলেছেন এমন প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন। চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে স্কোয়াডে জায়গা পাওয়াটাই যেখানে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে প্রতিটিতেই গোল করাটা প্রায় অসম্ভব। আর তাই করে দেখিয়েছেন রোনালদো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঐক্যের সরকার চান নেতানিয়াহু, ইসলামপন্থিদের সঙ্গে জোট গঠনে হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ এম


ঐক্যের সরকার চান নেতানিয়াহু, ইসলামপন্থিদের সঙ্গে জোট গঠনে হুঁশিয়ারি

ইসরাইলে নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি একইসাথে বিরোধী দলগুলো আরব ও ইসলামপন্থি দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দেয়া বক্তব্যে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এখন ঐক্যের সময়। জনগণের ইচ্ছা এটাই, সময়েরও এটাই দাবি। সন্ত্রাসের সমর্থকদের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে না।’

তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের নেতারা আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নেতানিয়াহুর মতে, এসব দল হামাসকে সমর্থন করে এবং ইসরাইলের অস্তিত্ব দুর্বল করতে চায়।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই সপ্তাহের শুরুতেই কেউ কেউ তড়িঘড়ি করে সন্ত্রাসের সমর্থকদের নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, এমন একটি সরকার ইসরাইল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চাওয়া এবং এর ধ্বংসস্তূপের ওপর ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষের লোকদের ওপর নির্ভরশীল হবে।

এ ধরনের সরকার ইরানের হুমকি এবং গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘাতসহ ইসরাইলের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহু বলেন, এমন সরকার ইরানের অস্তিত্বগত হুমকি দূর করতে সক্ষম হবে না। গাজা ও লেবাননে দায়িত্ব পালন করা ইসরাইলি সেনাদের সুরক্ষা দিতে পারবে না। কারণ, সম্ভাব্য ওই সরকারের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য ইসরাইলি সেনাদের যুদ্ধাপরাধী বলে আখ্যা দেন এবং হামাসের নুখবা ইউনিট ও হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের প্রশংসা করেন।

এদিকে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পরপরই বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের এই সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। শনিবার সন্ধ্যায় তাকে দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আইজেনকোটের চার দলের জোট পেয়েছে ৪৮ আসন, নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় জোটের ঝুলিতে ৫৩ আসন রয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পরামর্শে ৬৭ আইনপ্রণেতা আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন জানান, নেতানিয়াহুর পক্ষে ছিলেন ৪৬ জন। আরব দলগুলো পেয়েছে রেকর্ড ১৯ আসন।

সরকার গঠনে আইজেনকটের হাতে সময় ২৮ দিন, প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে অন্তত ৬১ আসন প্রয়োজন। তবে আইজেনকোট আরব দলগুলোর সমর্থন নিলেও তাদের নিয়ে সরকার গঠনে অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন।

আইজেনকট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় কাউকে দায়িত্ব দেবেন প্রেসিডেন্ট। সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনে তৃতীয় প্রার্থীকে শেষ ১৪ দিনের সুযোগ দেয়া হবে। সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ৯০ দিনের মধ্যে আবারও নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। ততদিন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে রিয়াল বার্সেলোনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ এম


ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে রিয়াল বার্সেলোনার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে

টানা সাত ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফরাসি এই তারকার জাদুকরী পারফরম্যান্সের সঙ্গে ফেদেরিকো ভালভের্দে ও আর্দা গুলেরের গোলে ভর করে প্রতিপক্ষের মাঠে ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয়ে লা লিগার টেবিলে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার সমান পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে লস ব্লাঙ্কোরা।

মেস্তায়া স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল জোসে মরিনহোর শিষ্যরা। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় এটি রিয়ালের টানা অষ্টম জয়।

প্রথমার্ধে ভালভের্দে ও আর্দা গুলেরের গোল রিয়ালকে চালকের আসনে বসিয়ে দেয়। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান আরো বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দীর্ঘ চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচেও দলের অন্যতম সেরা তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল রিয়াল। তবে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতিতেও দারুণ ছন্দে রয়েছে দলটি, যার প্রমাণ মিলেছে গত ২৫ অক্টোবর ক্যাম্প ন্যুতে ক্লাসিকোয় বার্সেলোনাকে হারানোর ম্যাচসহ সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে।

ম্যাচের শুরুতেই ফুটবল বিশ্ব এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়। গত মঙ্গলবার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তেনেরিফে ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেলের স্মরণে নবম মিনিটে খেলা থামিয়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকরা শ্রদ্ধা জানান।

প্রথম দিকে ভ্যালেন্সিয়া দারুণ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। রিয়ালের অরেলিয়ান চুয়ামেনির ভুল পাসে বল পেয়ে স্বাগতিকদের অ্যারন মায়োল শট নিলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া দারুণ দক্ষতায় তা প্রতিহত করেন। এ ছাড়া গুইদো রানিগুয়েজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে মরিনহোর দল।

ভ্যালেন্সিয়ার প্রাথমিক চাপ সামলে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে রিয়াল। এমবাপের ফ্রি-কিক ভ্যালেন্সিয়ার দেয়ালে বাধা পেয়ে বক্সের বাইরে এসে পড়লে সেখান থেকে দুর্দান্ত এক শটে রিয়ালকে এগিয়ে নেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার ফেদেরিকো ভালভের্দে। এর কিছুক্ষণ পর জুড বেলিংহামের বাড়ানো একটি ক্রস ডিফেন্ডারদের পায়ে লেগে সৌভাগ্যজনকভাবে পেয়ে যান আর্দা গুলের। নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এই তুর্কি মিডফিল্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে রিয়াল। গুলের ও বেলিংহামের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক স্টোল দিমিত্রিভস্কি। এমবাপ্পের করা একটি চমৎকার চিপ শট এবং পরবর্তীতে করা ওভারহেড কিকও দারুণভাবে রুখে দেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে গুলেরের নিখুঁত ও বিপজ্জনক পাস থেকে বল পেয়ে দিমিত্রিভস্কিকে কাটিয়ে চমৎকার শটে বল জালে জড়ান এমবাপ্পে। চলতি লিগে এটি তার ১৩তম গোল।

সব মিলিয়ে সব প্রতিযোগিতায় শেষ ১৬ ম্যাচে ১৭ গোল পূর্ণ করলেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। রিয়ালের জার্সিতে টানা সাত ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়লেন তিনি। ম্যাচের শেষ দিকে এমবাপ্পেকে বিপজ্জনক ফাউল করার দায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ভ্যালেন্সিয়ার অধিনায়ক হোসে গায়া। এরপর আর কোন গোল না হলে ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রিয়াল।

মৌসুমের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রবিবার তিনে থাকা অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের মাঠে খেলতে নামবে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান এককভাবে ধরে রাখাই এখন কাতালানদের মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টিকে থাকার লড়াই পাকিস্তান ও ভুটানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ এম


আজ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে টিকে থাকার লড়াই পাকিস্তান ও ভুটানের

আজ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে তিনটায় পাকিস্তান-মালদ্বীপ এবং রাত আটটায় ভুটান ও শ্রীলংকা একে অপরের মুখোমুখি হবে। এই চার দলের মধ্যে পাকিস্তান ও ভুটান একটি করে ম্যাচ খেলেছে। প্রথম ম্যাচে উভয় দলই পরাজিত হয়েছে। পাকিস্তান ভারতের কাছে ৩-২ গোলে এবং ভুটান বাংলাদেশের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে। তাই গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে টিকে থাকার জন্য লড়াই করছে তারা। এই ম্যাচে জয়ী হলে পাকিস্তান ও ভুটান টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বে যাওয়ার আশা ধরে রাখতে পারবে। অন্যদিকে, পরাজিত হলে তাদের সাফের মিশন আজই শেষ হয়ে যাবে। অপরদিকে, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ এখনও সাফে কোনো ম্যাচ খেলেনি। আজ তারা টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অংশগ্রহণ করবে। উভয় দলই জয় নিয়ে সাফের মিশন শুরু করতে চাইবে।

সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল। তবে এই ম্যাচে ভারতের দ্বিতীয় সারির দলের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি। প্রথমার্ধেই তারা ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে। তাদের রক্ষণভাগ ছিল দুর্বল। গোল খাওয়ার পাশাপাশি পেনাল্টি মিসও পাকিস্তানের হতাশা বাড়িয়েছে। তবে ম্যাচের শেষদিকে পাকিস্তান দারুণ সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে তারা দুই গোল করে স্কোরলাইন ৩-২ করে। শেষের দিকে যে ফুটবল তারা খেলেছে, সেটিই মালদ্বীপ ম্যাচে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে পাকিস্তানের।

মালদ্বীপ প্রতিপক্ষ হিসেবে অতটা শক্তিশালী নয়। চলতি বছরে ফুটবলে তারা হতাশার মধ্যে কাটাচ্ছে। এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে তিমুর-লেস্তের বিরুদ্ধে ২-১ গোলের জয়ই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। গত জুনে ডায়মন্ড জুবেলি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হেরেছে মালদ্বীপ। সর্বশেষ তিনটি প্রীতি ম্যাচে তারা ১৪ গোল খেয়েছে। এই দলের বিরুদ্ধে জয় আশা করছে পাকিস্তান। অন্যদিকে, বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়ে ঠাসা শ্রীলংকার বিরুদ্ধে ভুটানকে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হতে পারে। তবে জয়ের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ভুটান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে, বিজেপি আত্মরক্ষায় ব্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ এম


ভারতের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে, বিজেপি আত্মরক্ষায় ব্যস্ত

দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে নরেন্দ্র মোদিকে অপরাজিত মনে করা হতো। ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধীদের আক্রমণের বিরুদ্ধে নিরাপদ মনে হতো। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন নিয়ে বিতর্ক উঠেছে, কিন্তু রাফাল চুক্তির দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘমেয়াদে বিজেপির ক্ষতি করতে পারেনি। বিরোধীদের দাবিগুলো পরপর ভেস্তে যাচ্ছিল। তবে পরিস্থিতি হঠাৎ পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। ক্ষমতায় ১২ বছর উদ্‌যাপনের কয়েক মাসের মধ্যেই বিজেপি এখন আত্মরক্ষায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বিরোধী দলের আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকার করবে, এমনটা খুব কম মানুষই ভাবতে পেরেছিল। কিন্তু গত জুনে ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

সেই আন্দোলন ছিল কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এর মতো দলগুলো সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়। তাদের অভিযোগ ছিল, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিরোধী ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে।

বিরোধী দলগুলো এই সুযোগটি হাতছাড়া করেনি। তারা এসআইআর বাতিল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। পরিবর্তনের এই হাওয়া সামলাতে বিজেপি এখন হিমশিম খাচ্ছে। তাদের সামনে এমন এক আন্দোলন দাঁড়িয়েছে, যার কোনো একক নেতা নেই, আক্রমণ করার মতো সুনির্দিষ্ট কোনো সংগঠনও নেই। পুরোনো কৌশলগুলো কাজ করছে না। পরিস্থিতি দেখে আন্না হাজারের আন্দোলনের কথা মনে পড়ে যায়। মনে হচ্ছে বড় কোনো সংকটে রূপ নিতে যাচ্ছে সবকিছু।

কেন্দ্রবিহীন এক আন্দোলন

তরুণ আন্দোলনকারীরা যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন, তা নতুন নয়। কংগ্রেসও কয়েক মাস ধরে এসআইআরের বিরোধিতা করে আসছে। তবে এবারের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। আন্দোলনের মাঠে ছাত্র, কৃষক, বুদ্ধিজীবী এবং সিজেপির নেতাকর্মীরা একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক নিরজা চৌধুরী একটি বিষয়ে নির্দেশ করেছেন। তার মতে, কোনো কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা না থাকা সত্ত্বেও নানামুখী দলের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন আরো শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একেক শহরে একেক পতাকার নিচে প্রতিবাদ ফেটে পড়ছে। সিজেপি নেতারা গ্রেপ্তার হলে অন্য দলগুলো মাঠ দখলে নিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, মুম্বাইয়ের কথা। ২ অক্টোবরের সিজেপির কর্মসূচির পর মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে। এভাবে আন্দোলন বারবার রূপ বদলাচ্ছে। ১২ অক্টোবর রাহুল গান্ধী এই পুরো বিষয়টিকে সবার জন্য এক উন্মুক্ত আহ্বান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চৌধুরী আরো যোগ করেন, বড় সাফল্য পেতে হলে কংগ্রেসকে ছোট ছোট দলগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

মতাদর্শগত পার্থক্য কিন্তু এই আন্দোলনকে দুর্বল করতে পারেনি। সিজেপির মূল লক্ষ্য জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। অন্যদিকে মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ কষছে। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সংসদ সদস্য রাজীব রাই বলেন, ভেতরের ছোটখাটো মতভেদের চেয়ে আমাদের যৌথ লক্ষ্যটাই এখন বড়।

এসআইআর-সংক্রান্ত সমস্যাটি সবাইকে এক ছাতার নিচে এনে দাঁড় করিয়েছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের সংসদ সদস্য মনোজ ঝা স্পষ্ট করে বলেন, প্রশাসনিক জালিয়াতির বিরুদ্ধে এখন সব দল এক কণ্ঠে কথা বলছে।

বিজেপির দ্বিধাদ্বন্দ্ব

বিজেপি তাদের চিরচেনা কৌশলে পাল্টা জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তারা বিরোধী দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোটব্যাংকের রাজনীতি এবং মেরূকরণের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু এই অভিযোগগুলো জনগণের মনে তেমন দাগ কাটতে পারেনি। দলটির এখন ভয় হচ্ছে, বেশি পুলিশি পদক্ষেপ নিলে সরকারকে স্বৈরাচারী মনে হবে। এতে জনগণের রাগ আরো বাড়তে পারে।

কঠোর হাতে আন্দোলন দমনের চেষ্টা উল্টো প্রভাব ফেলেছে। মুম্বাইয়ে গান্ধী জয়ন্তীর আন্দোলন শান্তভাবে সামলানো হয়েছিল, তাই পরিস্থিতি বাড়েনি। কিন্তু দিল্লিতে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে এবং ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকানোর চেষ্টা করে। পুলিশ প্রহার করছে এবং আন্দোলনকারীদের টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে—এমন দৃশ্য দেখে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আন্দোলনের দিকেই চলে গেছে।

সরকার ঘনঘন প্রেস ব্রিফিং করছে। কিন্তু অনবরত জবাব দিতে গিয়ে তারা বিষয়টি গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে রেখে দিচ্ছে। তাছাড়া দলের শীর্ষ নেতারাও গোপনে স্বীকার করছেন, জনগণের এই ক্ষোভের পেছনে রয়েছে চরম অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জিল ভার্নিয়ার্স একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। তার মতে, সরকারের প্রতিক্রিয়া কেমন হচ্ছে, তার ওপরই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। কঠোর দমনপীড়নের মাধ্যমে সরকার মূলত আন্দোলনকারীদের অভিযোগগুলোকেই সত্যি বলে প্রমাণ করে দিচ্ছে।

আটক এবং আইনি জটিলতা সরকারের ওপর চাপ আরো বাড়িয়েছে। ১১ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের অবৈধভাবে আটক করা বন্ধ করতে হবে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি রামাসুব্রামানিয়ানের বেঞ্চ জানান, জনগণের চলাচলে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাংবিধানিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। আদালত আগের নির্দেশনা অমান্য করার কারণে অবমাননার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

১২ অক্টোবর কর্তৃপক্ষ যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর জবাবে দলগুলো বারখাম্বা রোডে প্রতিবাদ সরিয়ে নেয়। এক জায়গায় বাধা দিয়ে আন্দোলন থামানো গেল না। এটি প্রমাণ করে পরিস্থিতি অনুযায়ী রূপ বদলাতে এই আন্দোলন কতটা পারদর্শী।

নেতৃত্বে কংগ্রেস

বিজেপির দ্বিধাদ্বন্দ্বের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী ছোট দলগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় না গিয়ে সহযোগিতার পথ বেছে নেন। তিনি সিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তাদের এই লড়াইকে একটি যৌথ লড়াই হিসেবে অভিহিত করেন। বিভিন্ন খবরে জানা যায়, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ ডিপকে রাহুল গান্ধীর বাড়িতে একটি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বারখাম্বা রোডের সমাবেশের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার সময় জ্যেষ্ঠ বিরোধী নেতাদের সঙ্গে ছাত্রনেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পদক্ষেপগুলো বিরোধীদের হাতে নতুন রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিয়েছে। গত জুলাইয়ের প্রতিবাদের পর রাহুল গান্ধী ছাত্রদের ওপর পুলিশের সহিংসতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। পেলেট গানের আঘাত পাওয়া ভুক্তভোগীদের তিনি গণমাধ্যমের সামনে নিয়ে আসেন। নিজে ধর্নায় বসে প্রশ্ন তোলেন, পেলেট গান ব্যবহারের নির্দেশ কে দিয়েছে? এর ফলে একটি প্রাতিষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পর্যন্ত পৌঁছায়। সাম্প্রতিক লাঠিচার্জের ঘটনার পর একই কৌশল গ্রহণ করেন তিনি।

এই কৌশলের কারণে আন্দোলন দিন দিন বড় হচ্ছে। বারখাম্বা রোডের সমাবেশে আসা ছাত্ররা জানান, বড় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কারণে তারা নিরাপদে প্রতিবাদ জানাতে পারছেন। তবে আন্দোলনকারীদের মূল লক্ষ্য কিন্তু একটাই—জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।

রাহুল গান্ধী আড়ালে থেকে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে একত্র করার কাজ করছেন। আঞ্চলিক দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলন দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় কংগ্রেস।

ভার্নিয়ার্সের মতে, রাহুল গান্ধী নিজেকে বিরোধী জোটের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্য নেতারাও তার সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিও জোটে রাহুলের নেতৃত্ব মেনে নিতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।

আগামীর পথ

কয়েক বছরের ব্যর্থ চেষ্টার পর বিরোধী দলগুলো এখন বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। প্রথাগত রাজনীতির বাইরের ঘটনাগুলো তাদের কর্মী-সমর্থকদের চাঙা করে তুলেছে।

তবে শুধু ভোটার তালিকার বিষয়টি নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। চৌধুরী মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের এই সমর্থনকে বাস্তবে ভোটে রূপান্তর করতে হবে। তাই যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তা পুনর্বহাল করা অত্যন্ত জরুরি। ভার্নিয়ার্স জোর দিয়ে বলেন, ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে বাদ পড়া মানুষদের ফিরিয়ে আনতে পারলে বিরোধী দলগুলো বড় ধরনের জনসমর্থন পাবে।

সমাজবাদী পার্টি নেতা রাজীব রাই মনে করেন, এই আন্দোলনকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সাধারণ অনেক ভোটার এসআইআরের মতো জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ঠিকমতো বোঝেন না। বিরোধীদের কাজ হবে এই বিষয়গুলোকে সরাসরি বেকারত্ব, দুর্নীতি এবং স্থবির উন্নয়নের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া।

বর্তমানে এই আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই, এমনকি প্রাথমিক দাবির বাইরে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনাবৃত্তও নেই। এর চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রামের সঙ্গে কতটা মিশে যেতে পারছে, তার ওপর। বিরোধী দলগুলোর সামনে এখন সুযোগ এসেছে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার।

আউটলুক ইন্ডিয়া থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর জুলফিকার হায়দার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%