সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৭ পি.এম
হামের টিকা কেনা হয়নি, এই খাতের বরাদ্দের অর্থ কোথায় ব্যয় করেছে অন্তর্বর্তী সরকার—এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি পরিবার কল্যাণমন্ত্রীর কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান।
এমপি মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৯ মাসে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সঠিক সময়ে হামের টিকা সংগ্রহ না করার কারণে দেশে অনেক শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। অথচ অন্তবর্তীকালীন সরকার ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থ-বছরের বাজেট বরাদ্দের অধিকাংশ অর্থই ব্যয় করেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ কত ছিল; সেই অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে?
জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিগত দুই অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে এবং স্বাস্থ্যসেবা বজায় রাখতে মোট ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জাতীয় উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতের গুরুত্ব বিবেচনা করে বরাদ্দ বাড়িয়ে মোট ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। বরাদ্দকৃত অর্থের খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণে দেখা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত অর্থ মূলত দুটি প্রধান খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
পরিচালন খাতের মধ্যে রয়েছে চিকিৎসাকেন্দ্র ও হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়। চিকিৎসা অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক খরচও এই খাতে অন্তর্ভুক্ত।
উন্নয়ন খাতে নতুন হাসপাতাল ভবন ও বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়। আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি সংগ্রহের পাশাপাশি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই)-এর মাধ্যমে শিশুদের হাম, রুবেলাসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক টিকার সংগ্রহ ও দেশব্যাপী বিতরণ করা হয়।
স্বাস্থ্য খাতের জনবলকে দক্ষ করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও উচ্চতর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী তানজীব সারোয়ার কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই সুখবরটি ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।
তানজীব সারোয়ার একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। কন্যাসন্তানের বাবা হলাম।’
নতুন অতিথির আগমনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এই সংগীতশিল্পী আরও লেখেন, ‘সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ রহমত ও বরকত।
আমাদের ঘরে রহমতের ফেরেশতা ও আলো হয়ে এসেছে আমাদের ছোট্ট রাজকন্যা।’
মেয়ের আগমনের এই আনন্দময় মুহূর্তে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন তানজীব। তিনি লেখেন, ‘সবাই তার জন্য দোয়া করবেন।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাট, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি কৃষক কার্ড দেওয়ার কর্মসূচিতে বাগেরহাটে প্রথম দফায় ৯ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের ১৭ তারিখ কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্ভোধন করবেন।
বিএনপি সরকারের আমলে ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে জেলায় ২ লাখ ৪৪ হাজার ৩২৮ জন কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন।
বিএনপি’র নির্বাচনী বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির মধ্যে অন্যতম ছিল ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাটে ৯টি ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার জন্য শনাক্ত করা হয়েছে।
বাগেরহাট কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের সুবিধার লক্ষ্যে ৯ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ব্লকের (এরিয়া) জরিপের কাজ চলমান রয়েছে।
কৃষি অধিদপ্তর বাগেরহাটের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক অপুর্ব লাল সরকার বাসসকে জানান, প্রথম দফায় তাদের টার্গেট রয়েছে ৩১ হাজার ৩৭৪ জন। ইতোমধ্যে ২৬ হাজার ৩৩৮ জনের তথ্য সংগ্রহ হলেও বাকিটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে, যার তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রথম ব্লকের জরিপের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, বাগেরহাট সদর উপজেলার রনজিতপুর, চুলকাঠি ও খানপুর। ফকিরহাট উপজেলার দেয়াপাড়া, কাঠালতলা ও সিংগাতী। মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা, শাসন ও কাচনা। রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ, গিলাতলা, বাশতলী। কচুয়া উপজেলার বাধাল, সাংদিয়া, পিংগরিয়া। মোড়েলগঞ্জ উপজেলার চালিতাবুনিয়া ও খাওলিয়া। শরনখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা, গোলবুনিয়া, নলবুনিয়া। মোংলা উপজেলার চিলা, জয়মনি, হলদিবুনিয়া। চিতলমারী উপজেলার চরডাকাতিয়া ও চরবানিয়ারী।
কৃষি দপ্তর আরও জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটির সদস্যরা ৯ টি ইউনিয়নের ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার জন্য বাছাই করেছেন। এরইমধ্যে এ কমিটির সদস্যরা ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ২৬ হাজার ৩৩৮ জন কৃষকের নাম চূড়ান্ত করে তালিকা ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
কার্ডপ্রাপ্ত কৃষকরা জনতা, সোনালী ও কৃষি ব্যাংক থেকে বার্ষিক অনুদানের অর্থ পাবেন। বছরে আড়াই হাজার টাকা করে অনুদান পাবেন প্রত্যেক কৃষক।
কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী কার্ডধারী কৃষকরা ন্যায্য মূল্যে সেচ, প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি, রোগ বালাই দমনে পরামর্শ, কৃষি পণ্য বিক্রির সুবিধা, কৃষি বীমা প্রশিক্ষণ, ভর্তুকি-প্রণোদনা, ঋণ ও কৃষি উপকরণ পাবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাগেরহাটের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মোতাহার হোসেন বাসসকে বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকরা কার্ড পাবেন। এটি ডেবিট কার্ড হিসেবে গণ্য হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রতিবছর কৃষকরা আড়াই হাজার টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বাসসকে জানান, চলতি মাসের ১৭ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্ভোধন করবেন। ওইদিন অনলাইনের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলার উপকূলীয় অঞ্চল রামপাল উপজেলা যুক্ত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে কৃষকের জীবন ও জীবিকা প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক ঝুঁকির মধ্যেও জেলার কৃষকরা ধান, সবজি, ফলসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করে আসছেন। ফলে কৃষকদের জন্য সরাসরি আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি উপকরণ, রোগবালাই দমনে ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাটি খুঁড়ে যুবকের লাশ উদ্ধার নিখোঁজের ২৮ দিন পর
ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ২৮ দিন পর পুলিশ রাশেদুল ইসলাম নামে এক কিশোরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বওলা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকা থেকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাশেদুল (১৭) কৃষ্ণমহেশপট্টি গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে। তিনি ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
গ্রেপ্তারকৃত তিনজন হলেন নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জের কোকাইল গ্রামের মো. জসিম মিয়া, একই গ্রামের মোজ্জাম্মেল হোসেন এবং রফিক মিয়া।
ফুলপুর থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন জানান, নিখোঁজ হওয়ার পরদিন মুঠোফোনের মাধ্যমে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় রাশেদুলের বাবা ফুলপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পুলিশ তদন্তের এক পর্যায়ে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ থেকে কোকাইল গ্রামের মো. জসিম মিয়াকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাশেদুলের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার চেলোপাড়ার ডলার চানাচুর অ্যান্ড সেমাই কারখানাকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চানাচুর তৈরির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়।
অভিযানটি জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহজালালের নেতৃত্বে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত পরিচালিত হয়। এ সময় জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের সময় দেখা যায়, কারখানাটিতে পা দিয়ে মাড়িয়ে চানাচুর তৈরির ময়দার ডো প্রস্তুত করা হচ্ছিল। ময়লা মেঝেতে পা দিয়ে চেপে চেপে চানাচুরে মসলা মাখানো হচ্ছিল।
এছাড়া, দীর্ঘদিনের পুরনো পোড়া তেল এবং অননুমোদিত ক্ষতিকর রাসায়নিক রং ব্যবহার করে চানাচুর ভাজা হচ্ছিল। কারখানার মেঝে ছিল অপরিষ্কার ও ময়লায় ভরা। সেখানে প্রস্তুতকৃত খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। খাদ্যকর্মীদেরও ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি।
পরে এসব অনিয়মের কারণে নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
বগুড়া জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল জানান, ‘অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতে সরকারের সব আইন ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদ খাদ্য তৈরির জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ