মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:১২ এম
পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সঙ্গে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ইরানের। ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির সহযোগী আলী বাঘেরি কানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
সোমবার তেহরানে চার দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে কানি বলেন, এই আলোচনা একটি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে যে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধের সমাধান সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এই বৈঠকটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে বিরোধ নিরসনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইরান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের সেরা কোচ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে, যিনি স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ। এই পুরস্কারটি তাকে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করার স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে।
এবারের সেরা কোচের পুরস্কারের জন্য মনোনীত ছিলেন আর্সেনালের মিকেল আর্তেতা এবং বায়ার্ন মিউনিখের ভিনসেন্ট কোম্পানি-ও।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে ৬৫ বছর বয়সী দে লা ফুয়েন্তের হাতে এই পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয়।
দে লা ফুয়েন্তের কোচিংয়ে গত জুলাইয়ে শেষ হওয়া উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে স্পেন অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য দাপুটে ফুটবল প্রদর্শন করে, আট ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করে চ্যাম্পিয়ন হয় দলটি। ফাইনালে তারা এতটাই আধিপত্য করে যে, প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা কোনো শটই লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দেশগুলোকে নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি মন্তব্য করেছেন যে, ইরানকে অন্তর্ভুক্ত না করে কোনো নিরাপত্তা কাঠামো কার্যকর করা সম্ভব নয়।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো থেকে ইরানকে পরিকল্পিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
আল-বুসাইদি বলেন, ‘ইরানকে অন্তর্ভুক্ত না করে গড়ে তোলা যেকোনো উপসাগরীয় নিরাপত্তা কাঠামো স্বভাবগতভাবেই অস্থিতিশীল ও কাঠামোগতভাবে দুর্বল।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরিশেষে, উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।’
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর ঠিক আগে ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা হয়েছিল। তখনই দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল বলে ওমান মনে করে।
আল-বুসাইদি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব যেন সামরিক প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে অর্থনৈতিক সহযোগিতার রূপ নেয়, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্পেনের গোলপোস্টের সামনে দুর্ভেদ্য দুর্গ গড়ে তুলেছিলেন উনাই সিমন পুরো বিশ্বকাপে। এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক কৃতিত্বের স্বীকৃতি পেলেন গোল হজমের স্বাদ ভুলে যাওয়ার জন্য। তিবো কোর্তোয়া, এমিলিয়ানো মার্তিনেস এবং ডেভিড রায়াদের মতো তারকাদের পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের বিশ্বসেরা গোলরক্ষকের স্বীকৃতি ‘ইয়াশিন ট্রফি’ নিজের করে নিয়েছেন এই ২৯ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা।
সিমনের হাতে পুরস্কারটি তুলে দেওয়া হয় সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত একটি জমকালো অনুষ্ঠানে।
বিশ্বকাপে সিমন কেবল একটি গোল হজম করেন। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক ওয়াল্টার জেঙ্গার টানা ৫১৭ মিনিট গোল না খাওয়ার ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দেন সিমন। তিনি বিশ্বকাপে টানা ৬৫০ মিনিট নিজের জাল অক্ষত রাখেন।
আসরে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে সিমন রেকর্ডসংখ্যক ৭টি ক্লিন শিট অর্জন করেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে আর কোনো গোলরক্ষক করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে, আথলেতিক বিলবাওয়ের এই গোলরক্ষক গত মৌসুমে ৬২ ম্যাচ খেলে ২২টিতে জাল অক্ষত রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কোমলমতি শিশুরা যখন বাবা-মায়ের কোলে থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের স্নেহস্পর্শে নিজেদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে, তখন সেসব শ্রেণিকক্ষে তাদের সময় কাটছে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায়। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের ছাদ থেকে মাথার উপর খসে পড়ছে পলেস্তারা, যা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় একটি বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু পলেস্তারা নয়, ছাদের খসে পড়া অংশের নিচে বেরিয়ে রয়েছে জরাজীর্ণ মরিচাপড়া রড, যা শিক্ষার্থীদের আতঙ্কের কারণ। শ্রেণিকক্ষের সংকটও রয়েছে। কিছু শ্রেণিকক্ষে কাপড়ের পর্দা টাঙানো হয়েছে, যার দুই পাশে একসঙ্গে চলছে দুই শ্রেণির পাঠদান। একদিকে শিক্ষকের পাঠদান চললেও পাশের শ্রেণির কোলাহল শিক্ষার্থীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অর্ধশতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন করুণ চিত্র দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে এই পরিস্থিতিতে।
দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২১৭টি। এর মধ্যে ১৯৯০ থেকে ১৯৯৫ সালের মধ্যে নির্মিত অনেক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। কিছু বিদ্যালয় ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় বিকল্প স্থানে পাঠদান চলছে, আবার কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষা অফিসের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি এবং পুরোনো ভবনগুলোও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলার ৯১ নম্বর চর আমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন কক্ষবিশিষ্ট মূল ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন। পাশের ৯২ নম্বর পিপুলবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্রও উদ্বেগজনক। সেখানে জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সিঁড়ির কক্ষকে অফিস হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। ছাদ ও দেয়ালের ভাঙাচোরা অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আনাস জানায়, "আমাদের স্কুল ভবনে অনেক সমস্যা। মাঝে মধ্যেই ছাদের পলেস্তারা বা অংশ ভেঙে পড়ে। এ কারণে ক্লাসে স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। বিদ্যালয়ের ভবনটি নতুন করে তৈরি করে দিলে নিরাপদে ও সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করতে পারব।" একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিয়া খাতুন জানায়, জরাজীর্ণ ভবনের কারণে তারা শ্রেণিকক্ষে স্বাভাবিকভাবে বসতে পারে না। যেকোনো সময় ছাদের সিমেন্ট বা রড খুলে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দ্রুত শ্রেণিকক্ষ মেরামত কিংবা নতুন ভবনের ব্যবস্থা করা হোক।
শুধু জরাজীর্ণ ভবনই নয়, শ্রেণিকক্ষের সংকটও রয়েছে। উপজেলার ১৬৫ নম্বর তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের মাঝখানে কাপড়ের পর্দা ঝুলিয়ে দুভাগ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমি খাতুন জানান, "কক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়েই পর্দা টাঙিয়ে ক্লাস নিতে হচ্ছে।"
তালবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১০৮ জন। স্বাভাবিকভাবে একটি শ্রেণিকক্ষে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী বসতে পারে। কিন্তু কক্ষের অভাবে কখনো দুটি শ্রেণির ৪০ থেকে ৪২ জন শিক্ষার্থীকে এক কক্ষে বসিয়ে পাঠদান করাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় পড়ালেখা স্বাভাবিক ও সচল রাখতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটি কক্ষকে পর্দা দিয়ে দুই ভাগ করে পাঠদান চালাতে হচ্ছে।" নতুন ভবন বরাদ্দ না পেলে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা প্রসঙ্গে দৌলতপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ জরাজীর্ণ ভবন ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, "উপজেলায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হয়নি এবং পুরোনো ভবনগুলো জরাজীর্ণ। ইতোমধ্যে অনেক বিদ্যালয় পরিত্যক্ত ঘোষণা করে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নব্বইয়ের দশকে নির্মিত ভবনগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি পিডিপি-৪ এর আওতায় অনেক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। সামনে পিডিপি-৫ এর কার্যক্রম শুরু হলে আশা করা হচ্ছে, আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে এসব ভবনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে এবং জরাজীর্ণ ভবনের সমস্যার সমাধান হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ