মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৩৬ পি.এম
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. নাঈমুজ্জামান নাঈম (৩০) বাড়িতে ফিরতেই পুলিশ কর্তৃক গ্রেপ্তার হন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালথা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হওয়া নাঈম সালথা উপজেলা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহসভাপতি হিসেবে পরিচিত। তিনি মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামের মৃত পলাশ মাতুব্বরের পুত্র।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাঈমুজ্জামান নাঈমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে গোপনে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ মাঝারদিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
সালথা থানার ওসি মো. বাবলুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, ‘নাঈমুজ্জামান নাঈমের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থানের পর মঙ্গলবার তিনি বাড়িতে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল মাঝারদিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। কিছু প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কেন্দ্রে লবিং চালাচ্ছেন। ভোটের পরিবেশ বর্তমানে বেশ জমে উঠেছে।
রাজশাহী বিএনপিতে একটি গুঞ্জন উঠেছে যে, মনোনয়ন যার, তিনি মেয়র। ফলে, মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছে। প্রথমবারের মতো নগরপিতার আসনটি তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত নির্বাচনে জামায়াতের ভালো ফলাফলের কারণে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। রাজশাহী-২ আসনে তারা অল্প ব্যবধানে হেরেছিল কেন্দ্রীয় নেতা মিজানুর রহমান মিনুর কাছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলও জামায়াতের সফলতার সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এনসিপিও তাদের পৃথক প্রার্থী দেবে। রাজশাহীতে অতীতে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কয়েকবার মেয়র পদে জয়ী হয়েছে। এবার জামায়াত সেখানে ভাগ বসানোর চেষ্টা করছে।
১৯৮৭ সালে পৌরসভা থেকে সিটিতে রূপান্তরিত হয় রাজশাহী। সাড়ে ৩ লাখের কিছু বেশি ভোটারের এই নগরী সাজানো এবং ছিমছাম। এটিকে মডেল সিটি বলা হয়। রাজশাহীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান ভূমিমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ছিলেন সফল মেয়র। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খায়রুজ্জামান লিটনও একাধিকবার মেয়র ছিলেন। এছাড়া, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও এক টার্ম মেয়র ছিলেন।
জানা গেছে, এবার ক্ষমতাসীন বিএনপির ছয়জন নেতা মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- সৈয়দ শাহীন শওকত, মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, মামুনুর রশিদ মামুন, মাহফুজুর রহমান রিটন, আবুল কালাম আজাদ সুইট এবং ওয়ালিউল হক রানা। তবে, দল এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেয়নি। বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা কিছুটা বেশি হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর প্রান্তিক ব্যবধানে জয়ের পর সিটি নির্বাচনে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী আগেভাগেই মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর কিছু মাস আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীর নাম ঘোষণা করেছে। এ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি-জাপাও প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে।
জামায়াতের ঘোষিত মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর গত সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (মহানগর) আসনে দলের প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৩৭০ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান মিনুর কাছে ২৮ হাজার ভোটে হেরেছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, মহানগরে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এবার তারা সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ড. কেরামত আলী বলেন, "সিটি নির্বাচনে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে বিজয়ী করতে আমাদের মাসব্যাপী বিশেষ গণসংযোগ কর্মসূচি চলছে।" প্রার্থীর সমর্থনে ওয়ার্ডে সুধী সমাবেশ করা হচ্ছে। স্থানীয় কর্মসূচিগুলোতেও প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন। পরে দলের পক্ষ থেকে আরও কর্মসূচি আসবে।
এনসিপির মেয়র প্রার্থী মোবাশ্বের আলীও নির্বাচনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, "আমাকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে আমি মাঠে আছি।" অন্যদিকে, জাপার মহানগর আহ্বায়ক সালাহউদ্দিন মিন্টু বলেন, "নির্বাচন আসতে দেরি আছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।"
এদিকে, বিএনপির ছয়জন নেতা মাঠে সক্রিয় থাকলেও কেবল সাবেক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সরাসরি নির্বাচনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ১২ জুলাই বন উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় কেন্দ্রীভূত হয়েছেন। কয়েক মাস ধরে রাজশাহীর রাজনীতিতে তিনি অনুপস্থিত। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি আগামী সিটি নির্বাচনে আবারও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাসিকের প্রশাসক এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ করছেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে বিষয়টি না বললেও নগরজুড়ে নিজের এবং অনুসারীদের বিভিন্ন তৎপরতায় প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে। তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি ওয়ার্ড বা মহল্লার মসজিদ কমিটি, ক্রীড়া সংঘ, ক্লাব সমিতিতে যাচ্ছেন। তার ব্যানার ও ফেস্টুন নগরজুড়ে ছেঁয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচার চলছে।
এ বিষয়ে মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, "রাজশাহীবাসীর মন জয় করাই আমার প্রথম কাজ। আমি সেই লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি।" তিনি আরও বলেন, "প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি দলের মূল্যায়ন ও মনোনয়নের ওপর নির্ভরশীল। দল মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। নগরবাসী সমর্থন দিলে রাজশাহীকে একটি আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তোলার বিস্তৃত পরিকল্পনা রয়েছে।"
সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হতে কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট। নগরজুড়ে তারও ব্যানার ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। তিনি বলেন, "শিক্ষাজীবন থেকে রাজনীতি করছি। সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম এবং এখনো আছি। দল মনোনয়ন দিলে মেয়র পদে নির্বাচন করে নগরবাসীর সেবা করতে চাই।"
মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনও মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য দলীয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা জানিয়েছেন, দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। তবে এ বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা। তিনি বলেন, "দলের সব কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছি। দল আমাকে মেয়র পদে নির্বাচনের সুযোগ দিলে বিপুল ভোটে জনগণের রায় পাব।"
মেয়র নির্বাচনে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতও আগ্রহী বলে জানা গেছে। তিনি নির্বাচনমুখী কর্মসূচিতে সক্রিয় রয়েছেন। নিজের ব্যাপারে তিনি বলেন, "বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দলে রাজশাহীতে মেয়র প্রার্থী হওয়ার মতো অনেক যোগ্য নেতা আছেন। তবে দল জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, সততা-সবদিক মূল্যায়ন করে একজনকেই মনোনয়ন দেবে। এখনো দল থেকে কাউকে গ্রিন সিগনাল দেয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাবার বাগানের সারি সারি গাছগুলো দৃশ্যমান। গাছগুলোর গায়ে রয়েছে কাটা দাগ, এবং নিচে বাঁধা পাত্রে জমা হচ্ছে সাদা কষ। প্রকৃতি ও শ্রমের এই মেলবন্ধন সবুজের বিস্তৃত চাদরে পথচারীদের মুগ্ধ করে তোলে। ভোরের নরম আলোতে রাবার বাগানের ছায়াঘেরা পরিবেশে শ্রমিকরা ব্যস্ত হয়ে ওঠেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাবার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এই বাগানগুলো।
এমন চিত্র দেখা যায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া জিএস রাবার বাগানে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে জয়লাভ করতে না পেরে দিশেহারা হয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার।
তিনি বলেন, “যাদের রাজনীতির জন্মই হয়েছে চাঁদার টাকায়, তারাই আজ বিএনপিকে চাঁদাবাজ বানানোর চেষ্টা করছে এবং দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।”
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ে আয়োজিত নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় এনসিপির সমালোচনা করে খোকন তালুকদার বলেন, “বর্তমানে যারা এনসিপির নেতৃত্বে আছেন, তাদের কেউ কেউ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আবোল-তাবোল কথা বলছেন। তাদের বিগত দিনের রাজনৈতিক ইতিহাস দেখলে দেখা যাবে, একসময় তারা আওয়ামী লীগের স্লোগান দিতে দিতে মুখ ব্যথা করে ফেলেছেন। এখন তারাই আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করছেন। একই সঙ্গে তারা বিএনপিকেও ছোট করার চেষ্টা করছেন।”
তিনি আরও বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে রাজনৈতিকভাবে দলটিকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শশিকর শহীদ স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ দুর্লভানন্দ বাড়ৈ, ডাসার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান, উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম, ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান মাহমুদ এবং ডাসার উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন তালুকদার।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, অপতথ্য মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সদিচ্ছার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগের পর জামায়াতে ইসলামির আমির ওই বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য ধরে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন—এমন প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, বিরোধী দলের রাজনীতি করা কেউ সরকারের কোনো সমস্যা পেলে সেটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে চাইবেন, সেটি স্বাভাবিক। তিনি বলেন, "এটা আমরা বিরোধী দলে থাকলে আমরাও করব, এটাই নিয়ম।"
তবে, সালমান মুক্তাদির তার পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার পরও ওই ঘটনার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বা পোস্টগুলো বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, "যখন উনি জানলেন এটা, ওই স্ট্যাটাসটা এখনো রয়ে গেছে।... তখন হতে পারতো না যে জামায়াতের আমির এই কথাটাকেই উল্লেখ করে একটা স্ট্যাটাস দেওয়া?"
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সালমান মুক্তাদির নিজেই যখন তার আগের পোস্ট বা বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, তখন তার ভিত্তিতে দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য থেকেও সংশ্লিষ্টদের সরে আসা উচিত ছিল। তিনি বলেন, "তারা যদি বলতেন যে, ঠিক আছে, আমরা আগে এভাবে জেনেছিলাম বলে স্ট্যাটাসটা দিয়েছি, এখন এটা না, আমরা এই ব্যাপার থেকে আমাদের উইথড্র করলাম এইটুকু হলেই হতে পারতো।"
জাহেদ উর রহমান বলেন, "আমরা এই কথাটা আসলে বলতে চাই যে, শুধু আইনি সুরক্ষা না, একটা সামাজিক এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছাসহ আমাদের প্রয়োজন হবে।"
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পর তার দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে এক সাংবাদিক জানতে চান, তিনি প্রথমে বিএনপির নেতারা চাঁদা চেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন। পরে আবার জানান, চাঁদাবাজির বিষয়টি নিশ্চিত নয়। একজন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছ থেকে এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে?
উত্তরে জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার তার প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে ঘটনার বিষয়ে তিনি যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, "সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে আমরা সহানুভূতি রেখে কথা বলি, কারণ উনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেটার শিকার হয়েছেন। আমরা তার প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু সেই অবস্থায় তিনি যেভাবে এটা বলেছেন..."।
সালমানের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ সেই তথ্যের ভিত্তিতে মন্তব্য করেছেন বলেও উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, পরে সালমান মুক্তাদির নিজেই স্বীকার করেছেন যে বিষয়টি আসলে চাঁদাবাজির ঘটনা নয়। একই সঙ্গে তার স্টুডিও ছাড়াও আরও কয়েকটি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট করে বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতার পক্ষে সরকার সাফাই গাইছে না। এ ধরনের ঘটনা হওয়া উচিত ছিল না এবং তা ঠেকাতে পারা উচিত ছিল। এখন সরকারের দায়িত্ব দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, "কোনো রকম ভায়োলেন্স হয়েছে, এটাকে সরকার সাফাই গাইছে না। এটা হওয়া উচিত হয়নি, এটা ঠেকাতে পারা উচিত ছিল এবং এখন অন্তত সরকারের কাজ হবে দ্রুত এটার বিচার নিশ্চিত করা।"
সালমান মুক্তাদিরের ঘটনা নিয়ে অপতথ্যের প্রসঙ্গ তুলে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তি বা একটি ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার প্রভাবও ব্যাপক হতে পারে।
তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অপতথ্য এখন বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাদের ব্যাপক ‘রিচ’, ‘ভয়েস’ ও ‘ট্র্যাকশন’ রয়েছে, তাদের দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।
জাহেদ উর রহমান বলেন, "আমি আশা করি, সালমান মুক্তাদিরের মতো মানুষ যাদের প্রচুর রিচ আছে, ভয়েসের, ট্র্যাকশন আছে, তারা দায়িত্বশীল হবেন।"
অপতথ্য মোকাবিলায় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি আইনি কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। এ প্রসঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, "জনগণকে সচেতন করা এবং এর সঙ্গে আইনি অবকাঠামোর মধ্যে এগুলো নিয়ে আসার জন্য আপনারা জানেন একটা আইন নিয়ে কাজ হচ্ছে, সাইবার সুরক্ষা আইন। সে আইনটা আসলে আমরা আশা করি, সেই আইনি পরিসীমার মধ্যে এগুলো নিয়ে কাজ করা যাবে।"
সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ