মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪৭ এম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে অনুমোদন ছাড়া অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া, ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ ব্যারেল ডিজেলও জব্দ করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা ১০ মিনিট থেকে রাত ১১টা ৫ মিনিটের মধ্যে নাচোল উপজেলার ভেরেন্ডি বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাব্বির আহমেদ রোবেল অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন ভেরেন্ডি বাজারে অভিযান চালায়। এ সময় লাইসেন্স ছাড়া দোকান ও গোডাউনে অবৈধভাবে ১৫ ব্যারেল ডিজেল মজুদ রাখার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় 'বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬'-এর ৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের জন্য ২০ (ঙ) ধারায় চৌধুরী ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মোঃ হুমায়ুন চৌধুরীকে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
একই সঙ্গে তার গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদ রাখা আনুমানিক ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯০ টাকা মূল্যের ১৫ ব্যারেল ডিজেলও জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জব্দকৃত তেল নিকটস্থ ধানসুরা ফিলিং স্টেশনে বিক্রি করা হয় এবং বিক্রয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ আদালত প্রদান করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঋণের দায়ে দেউলিয়া হয়ে মিথ্যা অপহরণের নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ সাড়ে চার বছর আত্মগোপনে ছিলেন পটুয়াখালীর এক হোটেল মালিক আঃ মান্নান প্যাদা (৭০)। অবশেষে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস টিমের অভিযানে মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রাতে এই সফল অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত আঃ মান্নান প্যাদা পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বল্লভ এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে বরগুনা জেলার তালতলী তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সামনে ‘পটুয়াখালী হোটেল’ নামে একটি ভাতের হোটেল পরিচালনা করতেন আঃ মান্নান। ওই হোটেলে বিদ্যুৎ নির্মাণ কাজের দুটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা নিয়মিত খাবার খেতেন এবং মাস শেষে বিল পরিশোধ করতেন। এর পাশাপাশি মান্নান বিভিন্ন দোকান থেকে বাকিতে মালামাল ক্রয় করতেন।
ব্যবসা পরিচালনার একপর্যায়ে দুই কোম্পানির শ্রমিক ও ঠিকাদারদের কাছে তার ১২ লাখ টাকার বেশি পাওনা জমে যায়। অপরদিকে স্থানীয় মুদি, মুরগি ও মাছ ব্যবসায়ীদের কাছেও তিনি বড় অংকের দেনাদার হয়ে পড়েন।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আঃ মান্নান জানান, পাওনা টাকা তোলার উদ্দেশ্যে ২০২০ সালের কোনো এক রাতে প্রথম কোম্পানির মালিকের কাছে গেলে তিনি ৪ লাখ টাকা দেন। তাৎক্ষণিকভাবে পাওনাদারদের কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকার জন্য চাপ বাড়তে থাকে। এ সময় হোটেলের ম্যানেজার মো. নুর আলম সিকদার তাকে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পরামর্শ দেন।
ম্যানেজারের পরামর্শ ও প্ররোচনায় প্রভাবিত হয়ে আঃ মান্নান দেশজুড়ে আত্মগোপনের পথ বেছে নেন। অন্যদিকে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমের ছেলে মো. জসিম প্যাদা প্রথমে পটুয়াখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং পরবর্তীতে ১৪ আগস্ট ২০২২ তারিখে বিজ্ঞ আদালতে পাওনাদারদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ৩৬৪/৩৬৫/১০৯ ধারায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
ম্যানেজারের কথামতো আত্মগোপনে গিয়ে আঃ মান্নান দেশের বিভিন্ন স্থান ও মাজারে ছদ্মবেশে জীবন কাটাতে শুরু করেন। তার দীর্ঘ এই পথচলার রুট ছিল নিম্নরূপ:
তালতলী থেকে প্রথমে পটুয়াখালী হয়ে ঢাকায় গমন।
সেখান থেকে ট্রেনযোগে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আখাউড়ার কেবলা বাবার মাজার।
কুমিল্লার বেলতলা সোলেমান ল্যাংটা বাবার মাজার ও চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার মাজার।
পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে মিরপুর ১২ নম্বর এলাকায় দারোয়ানের চাকরি।
যশোর বড়বাজার গাজী কালুর মাজার, বাগেরহাট খানজাহান আলী মাজার এবং বাকেরগঞ্জের বারো আউলিয়ার মাজার।
সর্বশেষ বাগেরহাট মাজারে পরিচয় হওয়া এক ধর্মের মেয়ের বাসা বরিশাল হয়ে মাদারীপুরের কালকিনিতে ভগ্নিপতির বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ছদ্মবেশ ধারণ করায় এবং বিভিন্ন মাজারে ও বেদে পল্লীতে ঘুরে বেড়ানোর কারণে দীর্ঘদিন তার সঠিক অবস্থান সনাক্ত করতে বেগ পেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।
পটুয়াখালী জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালিয়ে কালকিনি থানার বেদে পল্লী থেকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে তাকে উদ্ধার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আঃ মান্নান পাওনাদারদের ফাঁসাতেই এই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। পরে তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মিথ্যা মামলার নেপথ্যে সহায়তাকারী ও জড়িত অন্যান্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহেন্দ্র সিং ধোনির সম্ভাব্য অবসর সম্পর্কে সৌরভ গাঙ্গুলী মন্তব্য করেছেন। চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে আইপিএল ২০২৬-এর পর ধোনি খেলা ছাড়বেন কিনা, এই প্রশ্নটি বর্তমানে অনেকের মনে উঁকি দিচ্ছে। সৌরভের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সহজ ও স্পষ্ট।
আইপিএলের আগের দিন এক অনুষ্ঠানে সৌরভ এই প্রশ্নের সম্মুখীন হন। ধোনির অবসর নিয়ে তিনি কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, খুব শিগগিরই ধোনির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। সৌরভ বলেন, ‘কী করা উচিত তা আমি ধোনিকে বলব, সংবাদমাধ্যমকে নয়।’
৪৪ বছর বয়সী ধোনি এবার আইপিএলে খেলতে নামছেন তার ১৯তম মৌসুমে। ভারতের হয়ে শেষবার খেলার পর প্রায় সাত বছর কেটে গেছে। তবুও, চেন্নাই সুপার কিংসের জার্সিতে তিনি এখনও মাঠে নামছেন।
অন্যদিকে সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার আকাশ চোপড়া ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তার মতে, ২৮ মার্চ শুরু হতে যাওয়া আইপিএল ২০২৬-ই হতে পারে ধোনির শেষ মৌসুম। তিনি মনে করেন, সঞ্জু স্যামসন এখন ধোনির স্থানে আসার জন্য প্রস্তুত।
চোপড়া আরও বলেন, যদি ধোনি শুধুমাত্র ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে খেলা চালিয়ে যান, তাহলে তার অবসরের বিষয়টি ভাবা উচিত।
জিওহটস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ডাগআউট থেকে দল চালানো যায় না, এটা ফুটবল নয়। ক্রিকেটে মাঠে থাকতে হয়, আর ধোনির সবচেয়ে বড় গুণ হলো খেলাটা অন্য সবার চেয়ে ভালো বুঝতে পারা। এই স্পষ্টতা আর দৃঢ়তাই তাকে আলাদা করে তোলে। যাই হোক, আমার মনে হয় এটাই তার শেষ মৌসুম হতে পারে।’
চোপড়া যোগ করেন, ‘তার উত্তরসূরি এখন তৈরি। সঞ্জু স্যামসন একসময় গ্লাভস হাতে নেবেন, হয়তো এই মৌসুমেই তা ঘটতে পারে। তবে এটি ধোনির ফিটনেস ও হাঁটুর অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। কিন্তু তিনি ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে থাকতে পারেন না। যদি তিনি ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে খেলেন, তাহলে বুট জোড়া তুলে রাখার সময় এসে গেছে বলে আমি মনে করি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ফজিলতপূর্ণ। এই দিনে ইবাদত-বন্দেগির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা জুমার দিনে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ দুনিয়াবি কাজ থেকে বিরত হয়ে ইবাদতে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
‘হে মুমিনগণ! যখন জুম‘আর দিন সালাতের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ব্যবসা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা বুঝ।’ (জুমা ৬২/৯)
জুমার দিনের গুরুত্ব বোঝাতে রাসূল (সা.) বলেন, لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَنْ وَدْعِهِمُ الْجُمُعَاتِ، أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ، ثُمَّ لَيَكُونُنَّ مِنَ الْغَافِلِينَ
‘লোকেরা যেন জুমা ত্যাগ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে; নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন, তারপর তারা অবশ্যই উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।’
জুমার দিনের এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণের কিছু চাইলে তার দোয়া কবুল হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। তবে হাদিসে ওই সময়টি নির্দিষ্ট করে একটিমাত্র সময় বলা হয়নি। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ দুটি সময় হলো—ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসা থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম সে সময়ে আল্লাহর কাছে কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন।’ এরপর তিনি বলেন, সময়টি খুবই অল্প। (সহিহ মুসলিম: ৮৫২)
খুতবা থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত
একটি মত অনুযায়ী, ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়টি দোয়া কবুলের বিশেষ সময়। আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জুমার দিনের দোয়া কবুলের সময় সম্পর্কে বলেছেন, ‘ইমাম বসার পর থেকে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’ (সহিহ মুসলিম: ৮৫৩; সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৯)
অর্থাৎ খতিব খুতবার জন্য মিম্বরে বসার পর থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়কে এ ফজিলতের সময় হিসেবে ধরা হয়েছে। এ সময়ে মুসল্লিদের মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং ইবাদতে মনোযোগী থাকা উচিত। বিশেষ করে খুতবার সময় নীরব থাকার বিষয়টি ইসলামে গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে।
আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত
অন্যদিকে আরেকটি শক্তিশালী মত হলো, জুমার দিনের বিশেষ সময়টি আছরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘জুমার দিন বারো ঘণ্টা। এর মধ্যে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। তোমরা তা দিনের শেষ সময়ে আছরের পর অনুসন্ধান করো।’ (সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮)
এই হাদিসের ভিত্তিতে অনেক আলেম আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এ কারণে জুমার দিনের শেষ ভাগে দোয়া, জিকির ও ইবাদতে বেশি মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময় নির্ধারণে আলেমদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও খুতবার সময় থেকে জুমার নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং আছরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়—এই দুটি মতই সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। তাই একজন মুসলিম শুধু একটি সময়ের ওপর নির্ভর না করে উভয় সময়েই আন্তরিকভাবে দোয়া করতে পারেন।
ইমাম ইবনে আবদুল বার (রহ.) বলেন, দোয়া কবুলের আশায় প্রত্যেক মুসলিমের উচিত উল্লিখিত দুই সময়ে দ্বীন ও দুনিয়ার কল্যাণের জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করা। (আততামহিদ: ১৯/২৪)
বিশেষ করে আছরের পরের সময়টি দোয়া ও ইবাদতে কাটানো যেতে পারে। মাগরিবের অপেক্ষায় মসজিদে অবস্থান করে নিজের প্রয়োজন ও কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করার সুযোগও রয়েছে।
হাদিসে ‘নামাজরত অবস্থায়’ দোয়া করার যে কথা এসেছে, এর ব্যাখ্যায় আলেমরা বলেছেন, নামাজের অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিও নামাজের হুকুমের মধ্যে থাকেন। সে হিসেবে মাগরিবের অপেক্ষায় থেকে দোয়া করাও এ ফজিলতের আওতায় আসতে পারে।
জুমার দিন এত ফযীলতপূর্ণ একটি দিন যে, এই দিনে পাঁচটি আমল করতে পারলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে জান্নাতবাসী হিসাবে গণ্য করবেন। রাসূল (সা.) বলেন, خَمْسٌ مَنْ عَمِلَهُنَّ فِي يَوْمٍ كَتَبَهُ اللَّهُ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ: مَنْ عَادَ مَرِيضًا، وَشَهِدَ جَنَازَةً، وَصَامَ يَوْمًا، وَرَاحَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَأَعْتَقَ رَقَبَةً
‘পাঁচটি আমল যে একই দিনে করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার নাম জান্নাতবাসীদের মধ্যে লিখে দিবেন। ১. যে রোগীর সেবা করল, ২. যে কারো জানাযায় উপস্থিত হলো, ৩. যে সিয়াম পালন করল, ৪. জুম‘আর দিনে মসজিদে গেল এবং ৫. একজন দাস মুক্ত করল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নির্বাচনি প্রতীক জোড়াফুলকে আপাতত কোনো পক্ষের জন্য স্বীকৃতি দেয়নি। এর ফলে, আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপ-নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির শিবির এবং ঋতব্রত ব্যানার্জি শিবিরকে জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। পাশাপাশি, আপাতত কোনো পক্ষই সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করতে পারবে না।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে জোড়াফুল প্রতীকটি দলের রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে আছে। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মমতা ব্যানার্জি নিজেই এই প্রতীকের নকশা তৈরি করেছিলেন। তবে, সম্প্রতি এই প্রতীকের নকশা নিয়ে ভিন্ন দাবিও সামনে এসেছে। ফলে, এই প্রতীক নিয়ে বিতর্ক এখন শুধুমাত্র নির্বাচনি চিহ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং দলের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রশ্নও এতে জড়িয়ে পড়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী- উভয়ই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল হিসাবে দাবি করছে। দলীয় নাম, প্রতীক, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষ নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি বিভিন্ন নথিও চেয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের সময়সীমা সামনে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। দুই শিবিরই নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এহতেশামুল হক। রেজিনগরে মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী শেখ সফিউজ্জামান। এখন প্রশ্ন হলো, প্রতীক ছাড়া দুই শিবির কোন নামে এবং কোন নির্বাচনি চিহ্নে ভোটের মাঠে নামবে।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, উভয় পক্ষকেই সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে আলাদা প্রতীক বেছে নিতে হবে। নামের ক্ষেত্রেও পৃথক পরিচয় ব্যবহার করতে হবে। তবে, এই ব্যবস্থা স্থায়ী নয়। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ফলে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এখন শুধুমাত্র দুটি বিধানসভা আসনের লড়াই নয়, বরং তৃণমূলের দুই শিবিরের সাংগঠনিক শক্তি, জনসমর্থন এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের পরীক্ষাও হতে চলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ