বৃহস্পতিবার, ১০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৪ পি.এম
‘মিস অস্ট্রিয়া’ লুসিয়া সিসিকের জীবন মাত্র ২২ বছর বয়সেই শেষ হয়ে গেল। জন্মের পর থেকেই তিনি জটিল হৃদরোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিলেন। ২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার খেতাব জেতার পর নতুন কোনো প্রতিযোগিতার আয়োজন না হওয়ায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনিই ছিলেন এই খেতাবের অধিকারী।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা পরিচালনাকারী সংস্থা ‘মিশন অস্ট্রিয়া’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে লুসিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
মিশন অস্ট্রিয়ার পক্ষ থেকে লুসিয়াকে একজন সাহসী ও অসাধারণ তরুণী হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। জানা গেছে, শৈশব থেকেই তার হৃদরোগজনিত বিভিন্ন জটিলতার চিকিৎসা চলছিল।
লুসিয়া কখনোই নিজের অসুস্থতার কথা আড়াল করেননি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে তিনি নিজের শারীরিক লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেছেন। চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এক পোস্টে লুসিয়া উল্লেখ করেছিলেন, জন্মের পরপরই তার প্রথম অস্ত্রোপচার হয়েছিল।
হৃদরোগের কারণে শৈশবে অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা কিংবা দৌড়ঝাঁপ করতে পারতেন না লুসিয়া। তবে সেই সীমাবদ্ধতা তাকে ভেঙে দিতে পারেনি। বরং দীর্ঘদিনের অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে করতে তিনি মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন।
২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার খেতাব জয়ের মাধ্যমে তার জীবনে সেই লড়াইয়ের আরেকটি বড় অর্জন এসেছিল।
তথ্য সূত্র- বিবিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হেলথ জেনারেল হসপিটাল এন্ড ডায়গনিক সেন্টার, সানারপাড় রহিম মার্কেট সিদ্ধিরগঞ্জে, আবুল বাশার মোল্লা দীর্ঘদিন যাবত উক্ত প্রতিষ্ঠানের একজন অংশীদার, নাই তার কোন চিকিৎসা ক্ষেত্রে সনদ পত্র বা ডিগ্রি নাই , হেলথ জেনারেল হসপিটালে অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে, কোন সুন্দরী নারী চিকিৎসা অথবা ডেলিভারি করতে আসলে তিনি তখন অডিরুমে উপস্থিত থাকেন, এবং সুন্দরী নারীর স্বামী প্রবাসে থাকলে, তাদের মোবাইল নাম্বার নিয়ে নানান প্রকার মেসেজ পাঠিয়ে তাদেরকে লোভ লালসা দেখিয়ে,ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নানা অপকর্মে লিপ্ত হন , পরবর্তীতে নারীরা বিয়ের প্রস্তাব দিলে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার মামলা হামলা ও হুমকি প্রদান করে থাকেন, কিছুদিন আগে এক নারীর সাথে তার সুসম্পর্কের মধ্য দিয়ে দিনযাপন করিতেছিলেন, হঠাৎ নারী যখন তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে, আবুল বাশার তখন তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করে, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী মুক্তি পেয়ে আবুল বাশার মোল্লার নামে নারী ও দর্শন শিশু নির্যাতন মামলা করলে, আদালত উত্ত মামলার তদন্তের জন্য পিবিআই কে দায়িত্ব প্রদান করেন, কিন্তু আবুল বাশার মোল্লা টাকার বিনিময়ে উক্ত তদন্তের কর্মকর্তার সাথে সুসম্পর্ক করে, মামলাকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেন, গত ২৬ তারিখে হাজীরা থাকলেও আবুল বাশার ওই তারিখে আদালতে হাজির হননি, তাই ভুক্তভোগী নারীর আইন প্রশাসনের নিকট, আবুল বাসার মোল্লাকে অতি দ্রুত সম্ভব উত্তম আমলাই গ্রেফতার করে শাস্তি দাবী জানাচ্ছেন, উক্ত আবুল বাশার মোল্লার বিষয়ে তালাশ বিডি নারায়ণগঞ্জের প্রতিনিধি একটি দল, গত ৯ আগস্ট হেল থ জেনারেল হাসপাতালএন্ড ডায়গনিস্ট সেন্টারে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য গেলে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান তিনি উক্ত বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বীকার জানান, এবং তিনি এই প্রতিষ্ঠানের কোন অংশীদার নয় তিনি চাকরিজীবী ন্যূনতম বেতনের কর্মচারী বলে জানান, অথচ ভুক্তভোগী নারী সাথে যখন সু-সম্পর্ক ছিল তাকে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন স্থানে নিয়ে তার সাথে মেলামেশ করে আসছিলেন, এক সময় নারায়ণগঞ্জে আমলাপাড়া এক বাসায় আবুল বাশার মোল্লাকে বিবস্ত্র অবস্থায় লোকজনে এসে ধরে ফেলে, তখন তিনি টাকার বিনিময় ঐখান থেকে পালিয়ে আসেন বলে জানান ভুক্তভোগী নারী, আরো জানান যে উনি বিভিন্ন প্রকারের সেক্স ওষুধ ব্যবহার করতেন এবং সময় রাখতেন ও ব্যবহার করতেন, যাহার ছবি প্রদান করা হইল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিস্তির টাকা পরিশোধের পরও চেক ডিজঅনার মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে টাঙ্গাইলের মধুপুরে মানববন্ধন করেছেন মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলার মালিক ও শ্রমিকেরা। তাঁদের দাবি, কিস্তির চুক্তি, পরিশোধের রসিদ ও ব্যাংক লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে হয়রানি বন্ধ ও বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের আনারস চত্বরে মাহিন্দ্রা (পিয়াজু) সিএনজি মালিক-শ্রমিকদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার কর্মসূচিতে অর্ধশতাধিক মাহিন্দ্রা মালিকসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা জানান, মধুপুরের ইয়ামাহা সেলস সেন্টার থেকে নগদ ও কিস্তিতে সিএনজি অটোরিকশা এবং মাহিন্দ্রা থ্রি-হুইলার বিক্রি করা হয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক মানুষ কিস্তিতে এসব যানবাহন কিনে তা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তবে কিস্তির টাকা পরিশোধ ও হিসাব-নিকাশকে কেন্দ্র করে মাহিন্দ্রা (পিয়াজু) বিক্রেতা আইয়ুব আলীর সঙ্গে কয়েকজন ক্রেতার বিরোধ তৈরি হয়েছে বলে তাঁরা জানান।
ভুক্তভোগী মালিকদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী তাঁরা নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছেন। এরপরও তাঁদের দেওয়া চেকের বিপরীতে ডিজঅনার মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি তাঁরা মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছেন। এতে যানবাহন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
মানববন্ধনে মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও সেলিম বলেন, ‘আমরা চুক্তি অনুযায়ী কিস্তির টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আমরা হয়রানি চাই না; কাগজপত্র ও হিসাব যাচাই করে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
ভুক্তভোগীদের দাবি, সেলস সেন্টারের সঙ্গে করা কিস্তির চুক্তিপত্র, পরিশোধের রসিদ, ব্যাংক লেনদেনসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ করা হোক। তাঁদের অভিযোগ অনুযায়ী যেসব মামলা অযৌক্তিকভাবে করা হয়েছে, সেগুলো আইনগতভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
মানববন্ধনে মাহিন্দ্রা সিএনজি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি সুলতান ও সাধারণ সম্পাদক চান মিয়া বক্তব্য দেন। এ ছাড়া ভুক্তভোগী মকবুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সেলিমসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, কিস্তি পরিশোধ নিয়ে কোনো পাওনা বা বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ও লেনদেনের হিসাব যাচাইয়ের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা সম্ভব। তাই মামলা ও হয়রানির পরিবর্তে নথিপত্র যাচাই করে প্রকৃত পাওনা নির্ধারণ এবং আইনানুগভাবে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের নতুন অধ্যায়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের পাশাপাশি জর্ডানও ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব লাভ করছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝে, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘিরে জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।
ইরান দাবি করেছে যে, জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনী ও সামরিক সরঞ্জামকে লক্ষ্য করে এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে। তবে জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার সকালে নিক্ষেপ করা ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস বা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
হামলার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আল-আজরাক ঘাঁটিতে কী রয়েছে?
জর্ডানের রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, দেশটির জনবিরল পূর্বাঞ্চলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটি, যা আল-আজরাক ঘাঁটি নামেও পরিচিত।
ঘাঁটিটির নামকরণ জর্ডানের যুদ্ধবিমান চালক লেফটেন্যান্ট মুওয়াফফাক সালতির নামে করা হয়েছে।
আল-আজরাক, জর্ডান ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। এখানে দুটি রানওয়ে রয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের মার্কিন সামরিক বিমান ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়।
কিংস কলেজ লন্ডনের যুদ্ধ অধ্যয়ন বিভাগের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রভাষক তাহানি মুস্তাফা মন্তব্য করেছেন যে, আল-আজরাক এমন কয়েকটি ঘাঁটির মধ্যে একটি যেখানে এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমান রাখা যায়।
তার মতে, ইরানের হামলার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে এসব হ্যাঙ্গার এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদ।
কেন আল-আজরাককে লক্ষ্য করছে ইরান?
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন এফ-৩৫, এফ-১৬ ও এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রস্তুতি ও মোতায়েন কেন্দ্র এবং বিমান রাখার স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের এক মার্কিন কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কোনো হতাহত হয়নি।
ইরানের দৃষ্টিতে আল-আজরাকের গুরুত্বের মূল কারণ হলো, এখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অভিযানের কৌশলগত ভূমিকা।
জর্ডান কেন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ?
জর্ডানে প্রায় চার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে বলে ২০২৬ সালের মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশটির আরও কয়েকটি স্থানে মার্কিন সামরিক সদস্য রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ জর্ডানের কিং ফয়সাল বিমানঘাঁটি এবং সিরিয়া ও ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত টাওয়ার ২২ নামের একটি সামরিক লজিস্টিক ঘাঁটি উল্লেখযোগ্য।
২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় মার্কিন বাহিনী ও তাদের ঠিকাদারদের জর্ডানের ১২টি সামরিক স্থাপনায় প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের সময় জর্ডান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।
যুদ্ধের আগে থেকেই মার্কিন উপস্থিতি
মার্কিন সামরিক বাহিনী ২০২১ সালের চুক্তির আগে আল-আজরাক ঘাঁটিতে তাদের উপস্থিতি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, অন্তত ২০১৬ সাল থেকেই ঘাঁটিটিতে মার্কিন বিমানবাহিনীর ড্রোন ও দ্রুতগতির যুদ্ধবিমান অবস্থান করছিল।
২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিরিয়া ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও পুনরুদ্ধার (আইএসআর) অভিযানে জর্ডানের বিমানঘাঁটিগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে নয়, দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে জর্ডান।
সংঘাত শুরুর পর আল-আজরাকের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের আগে থেকেই আল-আজরাক ঘাঁটির গুরুত্ব বাড়ছিল। যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব বা সরবরাহ ও সামরিক পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয় বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের গবেষক ডেভিড শেনকার।
তার মতে, ঘাঁটিটিতে প্রায় ৬০টি যুদ্ধবিমান এবং সি-১৭ সামরিক পরিবহন বিমান ব্যবহারের সুযোগ ছিল।
জর্ডানের ভৌগোলিক অবস্থানও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করেছে। উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর তুলনায় জর্ডান ইরান থেকে তুলনামূলকভাবে দূরে। ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদকে কিছুটা বেশি কৌশলগত গভীরতা বা নিরাপদ দূরত্বে রাখার সুযোগ দেয় জর্ডান।
শেনকারের ভাষায়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে জর্ডানের অবস্থান ‘অপরিহার্য’ হয়ে উঠেছে।
এর আগেও বহুবার হামলার দাবি ইরানের
চলমান যুদ্ধে ইরান মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১০ বারের বেশি আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে। মার্চের শুরুতেই প্রথমবার ঘাঁটিটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান।
এরপর ১০ জুন ইরান দাবি করে, আল-আজরাকসহ কুয়েত ও বাহরাইনের আরও কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
সে সময় আইআরজিসি দাবি করেছিল, তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আল-আজরাক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার ও কমান্ড সেন্টারসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহেও ইরান একাধিকবার আল-আজরাক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করে এবং সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানায়।
জুলাইয়ের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত
১৭ জুলাই ইরান দাবি করে, আল-আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বিমান লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি ছিল, এতে কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।
পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওই হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত, একজন নিখোঁজ এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন।
এর ফলে আল-আজরাক শুধু ইরানের ঘোষিত হামলার লক্ষ্য নয়, বাস্তব সামরিক সংঘাতেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে সামনে আসে।
২০১৭ সালেই ঘাঁটির সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছে।
আল-আজরাক ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব বোঝাতে এর অবকাঠামোগত সম্প্রসারণও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে মার্কিন কংগ্রেস বিমানবাহিনীর অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ঘাঁটিটির সম্প্রসারণে ১৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ অনুমোদন করে।
তৎকালীন সময়ে এটি ছিল ঘাঁটির জন্য সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি। মূলত বিমান ওঠানামা ও অবস্থানের জন্য রানওয়ের পাশের জায়গা বা র্যাম্প সম্প্রসারণে এই অর্থ ব্যয় করা হয়।
এছাড়া চলমান যুদ্ধের শুরুতে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনাকেও জর্ডানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ইরানের হামলায় জর্ডান কতটা ঝুঁকিতে?
ইরান সরাসরি জর্ডানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে না। তেহরানের দাবি, তাদের লক্ষ্য জর্ডান নয়; বরং দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী ও সম্পদ।
তবে জর্ডানের মাটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দেশটিকে ক্রমেই সংঘাতের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা হামলার কারণে জর্ডানের নিজস্ব নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত না হলেও আল-আজরাককে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের একটি নতুন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই জর্ডানের মতো তুলনামূলকভাবে সরাসরি যুদ্ধে না থাকা দেশগুলোর ভূখণ্ডও বড় শক্তিগুলোর সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে উঠছে। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ