ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মোটা বা রোগা-সমাজের প্রত্যাশায় রাধিকার কটাক্ষ ও সমালোচনার অভিজ্ঞতা


মোটা বা রোগা-সমাজের প্রত্যাশায় রাধিকার কটাক্ষ ও সমালোচনার অভিজ্ঞতা

নারীর শরীর, ওজন ও সৌন্দর্য নিয়ে সমাজের প্রত্যাশার যেন শেষ নেই। কখনো ওজন বেশি হলে কটাক্ষের শিকার হতে হয়, আবার রোগা হয়ে গেলেও নানা মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। সম্প্রতি মা হওয়ার পর শারীরিক পরিবর্তনের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার শিকার হওয়া ক্যাটরিনা কাইফের পাশে দাঁড়িয়ে বলিউড অভিনেত্রী রাধিকা মদন তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন।

রাধিকা জানান, অভিনয়ের প্রয়োজনে ‘পটাখা’ সিনেমার জন্য তাঁকে প্রায় ১৫ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছিল। পরে ‘শিদ্দত’ ও ‘আংরেজি মিডিয়াম’ সিনেমায় অভিনয়ের সময় সেই ওজন কমানোর চেষ্টা করেন তিনি। তখন তাঁর শরীরের গঠন নিয়ে কটাক্ষ করে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এত মোটা হলে কীভাবে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করবেন! পরপর সিনেমার শুটিংয়ের পাশাপাশি দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে একপর্যায়ে অতিরিক্ত রোগা হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। শারীরিক স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাজ থেকে বিরতিও নিতে হয় তাঁকে।

নিজের এই অভিজ্ঞতা থেকে রাধিকা উপলব্ধি করেন, অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে শরীরের গঠন পরিবর্তন করলেও সমালোচনা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় না। আগে ওজন বেশি থাকায় তাঁকে কথা শুনতে হয়েছে, আবার ওজন কমানোর পরও অতিরিক্ত রোগা হয়ে যাওয়ার জন্য সমালোচিত হয়েছেন। তাই এখন তিনি নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক গঠন অর্জনের চেয়ে সুস্থ থাকার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন: সংস্কৃতিমন্ত্রী: 'ক্ষুদ্র' শব্দটি নৃগোষ্ঠীর জন্য অপমানজনক

অভিনেত্রীর মতে, নারীদের সৌন্দর্য কেমন হওয়া উচিত, সে বিষয়ে সমাজ ছোটবেলা থেকেই একটি নির্দিষ্ট ধারণা তৈরি করে দেয়। প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেকে মেলাতে গিয়ে অনেক কিশোরী আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। ভ্রুর আকৃতি কিংবা মুখের স্বাভাবিক লোমের মতো বিষয় নিয়ে তৈরি হয় হীনম্মন্যতা। অথচ সৌন্দর্যকে কোনো একটি নির্দিষ্ট চেহারা বা শারীরিক গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।

নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাধিকা জানান, ছোটবেলায় তাঁরও ঘন ভ্রু ও মুখে লোম ছিল। তবে পরিবারের ইতিবাচক মনোভাব তাঁকে নিজের চেহারাকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে সাহায্য করেছে। অন্যের প্রশংসা বা স্বীকৃতির ওপর নির্ভর না করে নিজেকে ভালোবাসার গুরুত্বও সেখান থেকেই শিখেছেন তিনি। রাধিকার মতে, নিজেকে গ্রহণ করার পথ সহজ না হলেও নিজের শরীর ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের প্রতি সম্মান দেখানোই সেই যাত্রার প্রথম ধাপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইথিওপীয় বাহিনী ইরিত্রিয়া সীমান্তের দিকে অগ্রসর, সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


ইথিওপীয় বাহিনী ইরিত্রিয়া সীমান্তের দিকে অগ্রসর, সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি

ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা ইরিত্রিয়ার সীমান্তবর্তী একটি শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সংঘাতের উদ্ভব ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বুধবার, সরকারপন্থী এক মিলিশিয়া কমান্ডার এবং স্থানীয় এক বাসিন্দার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

ইথিওপিয়া অভিযোগ করেছে যে, প্রতিবেশী ইরিত্রিয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠী তিগ্রাই পিপলস লিবারেশন ফ্রন্টকে (টিপিএলএফ) সমর্থন করছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর, টিপিএলএফ সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি বড় আক্রমণ চালায়। তবে, পরবর্তীতে তারা পিছু হটে এবং তাদের কিছু শক্ত ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারাতে বাধ্য হয়।

একটি বিদেশি নিরাপত্তা সূত্রের মতে, বিদ্রোহীদের সহায়তা করার জন্য ইথিওপিয়ার ভূখণ্ডে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার ইরিত্রিয়ান সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে, তাদেরও পিছু হটতে হয়েছে বলে জানা গেছে। সরকারপন্থী মিলিশিয়ার একজন সদস্য এএফপিকে জানান, ইরিত্রিয়ার সীমান্তবর্তী জালামবেসা শহর থেকে দেশটির সেনারা সরে গেছে।

জালামবেসা শহরটি ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থিত। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের সময় শহরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রণক্ষেত্র ছিল। সীমান্তবর্তী এলাকায় সেনাদের অগ্রসর হওয়া এবং সামরিক কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে, পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা ইরিত্রিয়ার সীমান্তবর্তী জালামবেসা শহরের নিকটবর্তী পৌঁছেছে। অন্যদিকে, শহরটির উত্তর উপকণ্ঠে ইরিত্রিয়ার সেনারা অবস্থান করছে। এই অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে নতুন যুদ্ধের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সরকারপন্থী এক মিলিশিয়া সদস্য এএফপিকে জানান, জালামবেসার নিকটবর্তী গ্রামগুলো সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে, তিনি দাবি করেন যে, কোনো ইথিওপীয় সেনা ইরিত্রিয়ার ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। জালামবেসার এক বাসিন্দা জানান, ইথিওপিয়ার সেনারা শহরটির প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দক্ষিণে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ইরিত্রিয়ার সেনারা শহরটির উত্তর উপকণ্ঠে অবস্থান করছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন যে, শহরটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।

তবে, ইরিত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী ইয়েরমানে গেব্রেমেস্কেল এএফপিকে বলেন, ইথিওপীয় সেনাদের সীমান্ত অতিক্রম করার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ইথিওপিয়ার সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে, তিগ্রাই অঞ্চলের রাজধানী মেকেলে থেকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই সরে যায় টিপিএলএফ। উত্তর তিগ্রায় বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন ইরিত্রিয়ার সেনাদেরও ড্রোন হামলার মুখে পিছু হটতে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে, ইথিওপিয়ার সরকারপন্থী বাহিনী ইরিত্রিয়ার সীমান্তের নিকটবর্তী শায়ার ও আকসুমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে প্রবেশ করেছে। এদিকে, টিপিএলএফের সহসভাপতি আমানুয়েল আসেফা এএফপিকে বলেছেন, ইথিওপিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধী বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নিয়ে গঠিত সামরিক জোট সফল হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, চলমান লড়াই আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসও সতর্ক করেছে যে, এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

ইরিত্রিয়া ১৯৯৩ সালে ইথিওপিয়ার কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সীমান্তযুদ্ধ হয়। পরবর্তীতে, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। তবে, তিগ্রাই সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক আবারও অবনতি হয়েছে।

ইরিত্রিয়ার অভিযোগ, স্থলবেষ্টিত ইথিওপিয়া চলমান সংঘাতকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশটির ভূখণ্ডে হামলা চালাতে এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ আসাব বন্দর দখল করতে পারে। তবে, এ বিষয়ে ইথিওপিয়ার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রমমন্ত্রী শ্রমিকদের মধ্যে ৫ কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


শ্রমমন্ত্রী শ্রমিকদের মধ্যে ৫ কোটি টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেন

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে শ্রমিকদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তা, মৃত শ্রমিকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা বাবদ অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) শ্রম ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ৫৮৩ জন শ্রমিকের মাঝে প্রায় ৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার।

শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও নারায়ণগঞ্জের শ্রমিকদের জন্য আজকের এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমিকদের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় অনুদান।

সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিনিয়তই নির্দেশনা দিচ্ছেন যে শ্রমিকরা সুস্থ থাকলে উৎপাদন বাড়বে, আর শ্রমিকরা ভালো থাকলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার আগে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান তাদের লভ্যাংশের নির্ধারিত অংশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনে দিত না। বর্তমানে সেই বকেয়া অর্থ আদায় করা হচ্ছে এবং তা সরাসরি শ্রমিকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী মালিক ও শ্রমিকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ওপর জোর দিয়ে বলেন, শিল্পকারখানার উৎপাদন ও আয়ের প্রবৃদ্ধি ঘটলে মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে নিতে পারব। এজন্য রাজপথে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তবে কলকারখানা সচল রাখতে হবে এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোনো প্ররোচনায় না পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কলকারখানায় কোনো অনিয়ম হলে তা শ্রম পরিদর্শকদের জানান। তিনি অনুরোধ করেন, কোনো প্ররোচনায় পড়ে রাস্তা বন্ধ করে জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি না করতে। আগেভাগে কোনো সমস্যার কথা সরকারকে জানালে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে, ফলে রাজপথে নামার প্রয়োজন হবে না। শ্রমিকদের সহযোগিতা এবং কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে আগামীতে এই অনুদানের পরিমাণ দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে।

শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যাপারে সরকারের বিশেষ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক পরিবারের মেধাবী সন্তানরা যাতে অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ ইরতিজা আহসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক মো. ফরহাদ সিদ্দিক এবং শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদসহ মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত ফ্লাইটের দাবিতে বিমান মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত ফ্লাইটের দাবিতে বিমান মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

বরিশাল সেক্টরে অবিলম্বে নিয়মিত জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইট চালু করার দাবিতে চট্টগ্রাম-বরিশাল-যশোর রুটে সপ্তাহে অন্তত দুদিন ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বরিশাল বিভাগীয় সচিবালয়ে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ খলিল আহমদের সাথে সাক্ষাৎ করে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ আসন্ন শীতকালীন সময়সূচিতে বরিশাল সেক্টরে ফ্লাইট সংখ্যা হ্রাসের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট চালুর দাবি জানান।

এ সময় পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম রাজন অভিযোগ করেন যে, বিমানের কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বরিশাল সেক্টরে রাষ্ট্রীয় ফ্লাইট বন্ধের অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি জানান, আসন্ন শীতকালীন সময়সূচিতে বরিশাল সেক্টরে ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে ৩ দিনের পরিবর্তে দু দিনে হ্রাস করার চেষ্টা চলছে। রাজন অবিলম্বে বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত বিমান ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে বলেন, অন্যথায় দাবি আদায়ের জন্য বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করা হবে।

একইসাথে, বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে সপ্তাহে দুদিন বিমান ফ্লাইটের দাবি জানিয়েছে। বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপিতে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ খলিল আহমদ জানান, তিনি সম্ভব দ্রুততম সময়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বরিশাল বিমান বন্দরের সাথে রাজধানী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের নিয়মিত আকাশ পরিষেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বরিশালের জনস্বার্থে বিষয়টি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার কথাও জানান তিনি।

স্মারকলিপিতে বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদ জানায়, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে ১৯৭৯ সালের ২৩ নভেম্বর বরিশাল সার্কিট হাউজে মন্ত্রিপরিষদের পূর্ণাঙ্গ বৈঠকে বরিশাল বিমান বন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯২ সালে বরিশাল বিমান বন্দরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৯৯৩ সালের ৩ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট আবদুর রহমান বিশ্বাস বরিশাল বিমান বন্দর ও জাতীয় পতাকাবাহী বিমান ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে বরিশাল সেক্টরে রাষ্ট্রীয় বিমান ফ্লাইট টিকে আছে। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দিন থেকে নতুন উড়োজাহাজ নিয়ে বরিশাল সেক্টরে নিয়মিত বিমান ফ্লাইট চালু হলেও ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তা সপ্তাহে ৩ দিনে হ্রাস করা হয়।

পরবর্তীতে বরিশাল মহানগরী থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বিমান বন্দরে যাত্রীদের পৌঁছে দেওয়ার বাসটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে বৃহস্পতি, শুক্র ও রবিবার ৩টি ফ্লাইট পরিচালনা করলেও আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে শীতকালীন সময়সূচিতে ফ্লাইট সংখ্যা ২টিতে হ্রাস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে অভিহিত করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বরিশাল সেক্টরে সপ্তাহে ৭ দিন নিয়মিত ফ্লাইট চালুর দাবি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে পরিষদ মন্তব্য করেছে, "বিমান" এ ভ্রমণের জন্য কোনো মানুষ ঢাকায় যায় না, ঢাকায় যাবার জন্যই বিমানকে ব্যবহার করে। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিমান বন্দরের সাথে রাজধানীর নিয়মিত রাষ্ট্রীয় আকাশ পরিষেবা অব্যাহত রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

এছাড়াও যশোর-বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে সপ্তাহে অন্তত দুদিন বিমান ফ্লাইট পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। এতে দেশের ৩টি উপকূলীয় প্রশাসনিক বিভাগের অন্তত ২০টি জেলা আকাশ পথে জরুরি যোগাযোগের আওতায় আসবে। ফলে দেশের ৩টি সমুদ্র বন্দরসহ দুটি প্রধান স্থল বন্দরের সাথে উপকূলীয় ৩টি বিভাগের মধ্যে সহজ যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে কোরআন শিক্ষায় ৭ বাংলাদেশি নারীর পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


তুরস্কে কোরআন শিক্ষায় ৭ বাংলাদেশি নারীর পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি

বাংলাদেশের সাত নারী শিক্ষার্থী তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই বছর মেয়াদি কোরআন শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি লাভ করেছেন। আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশনের এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা কোরআন শিক্ষার পাশাপাশি হাদিস, ফিকহ, তুর্কি ভাষা এবং ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো অধ্যয়ন করার সুযোগ পাবেন।

শিক্ষার্থীরা সোমবার (৫ অক্টোবর) ইস্তাম্বুলে পৌঁছানোর পর সেখানে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেলের সহধর্মিণী ও শিক্ষিকা মারুফা বিনতে ইব্রাহিমী তাদের স্বাগত জানান।

বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেলের তথ্য অনুযায়ী, আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশি নারীদের জন্য প্রথমবারের মতো এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তির ব্যবস্থা করেছে। এই ফাউন্ডেশন, যা তুরস্কের প্রেসিডেন্সির সঙ্গে যুক্ত, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের যাওয়া-আসার বিমানভাড়া, আবাসন, খাবার, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রীর ব্যয় বহন করবে।

এই দুই বছর মেয়াদি কর্মসূচিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তরুণীদের জন্য শিষ্টাচার ও আদব-কায়দা শেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা কথোপকথন পর্ব, সেমিনার, কর্মশালা এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এছাড়া, কোর্সের অংশ হিসেবে তুরস্কের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানগুলোতে শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হবে, যার মাধ্যমে তারা দেশটির ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশি নারীদের জন্য এই ধরনের বৃত্তির ব্যবস্থা করায় আজিজ মাহমুদ হুদায়ি ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল।

কনস্যুলেট জেনারেল আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে শিক্ষা, ধর্মীয় জ্ঞান এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে এই কর্মসূচি ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%