ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

তাহসিফ সাউরির মৃত্যু ঘিরে হাজী মাজার বস্তিতে নতুন আলোচনা


তাহসিফ সাউরির মৃত্যু ঘিরে হাজী মাজার বস্তিতে নতুন আলোচনা

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে অবস্থিত হাজী মাজার বস্তি একটি পরিচিত পাইকারি মাদকের বাজার হিসেবে পরিচিত। এই এলাকায় পুলিশ সদস্য সংখ্যা বড় না হলে দিনের বেলায় মাদক কারবারিদের জন্য ঢুকতে সাহস পায় না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রাতের বেলায় সম্মিলিত অভিযান ছাড়া পুলিশ বা মাদক সংশ্লিষ্ট নয়—এমন কেউ হাজী মাজার বস্তিতে প্রবেশ করতে পারে না। সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে মাদক কারবারিদের অনুমতি মোবাইল ফোনে নিতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাতের বেলায় বস্তির চারপাশে মাদক কারবারিরা নিজেদের ব্যবস্থাপনায় পুলিশের মতো ওয়াকিটকি ও সিসি ক্যামেরা দিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।

আরও পড়ুন: আলফাডাঙ্গায় নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সেমিনার, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

এমন পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৭ অক্টোবর রাতে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) ‘হাজী মাজার বস্তি থেকে তুরাগ নদে ঝাঁপ দেওয়ার’ ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

হাজী মাজার বস্তি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত মূল মহাসড়ক থেকে ৫০০ গজ ব্যবধানে মাজার রোড ও হোন্ডা রোড দিয়ে বস্তিতে প্রবেশ করা যায়।

মাজার বস্তির দুই দিকে এই দুটি সড়ক রয়েছে। বাকি দুই দিকে তুরাগ নদ। দুই সড়কের প্রবেশদ্বারে মাদক কারবারিরা কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। প্রবেশমুখে পাহারা বসিয়ে ওয়াকিটকির মাধ্যমে মাদকের এই বাজার চলছে অনেকটাই নিরাপদে।

কয়েক বছর আগে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার একটি দলের ওপর হামলা করে মাদক কারবারিরা, যার ফলে পরিদর্শকসহ বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। গত ২৬ অক্টোবর স্থানীয় এক সাংবাদিককে দিনের বেলায় অপহরণ করে মাজার বস্তিতে নিয়ে গিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং দুই ঘণ্টা ধরে নির্যাতনের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সাংবাদিক এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন: জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত শিরিন খানমের সঙ্গে ইউএনওর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ওই ঘটনায় থানায় মামলা হলে পুলিশ মাজার বস্তি থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। সাংবাদিককে নির্যাতনের পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি ও তার ‘জুনিয়র বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ মাজার বস্তির পাশে তুরাগ নদের তীরে ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের কাছে এসেছিলেন বলে তথ্য বেরিয়েছে।

দীপের তথ্য ও পুলিশের সংগ্রহ করা মাজার বস্তির বিভিন্ন সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৭ অক্টোবর রাত ১২টা ৫২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডে মাজার সড়ক দিয়ে বস্তির ভেতর প্রবেশ করেন সাউরি ও দীপ।

আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, প্রত্যেকটিতে দুজন করে আরোহী থাকা তিনটি মোটরসাইকেল একযোগে মাজার বস্তিতে প্রবেশ করে। এর মধ্যে প্রথম মোটরসাইকেলে সাউরিকে দেখা যায়।

এরপর শুক্রবার ভোররাতে মাজার রোড থেকে কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে হোন্ডা রোডে একটি মোটরসাইকেল পায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

মোটরসাইকেল উদ্ধারকারী টঙ্গী পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এখলাছ উদ্দিন ফরাজী কালের কণ্ঠকে জানান, সেনাকল্যাণ এলাকায় দায়িত্ব পালনের সময় শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভোররাত ৩টা ১০ মিনিটে স্থানীয় লোকজন জানায়, দুই দিন ধরে ওই এলাকায় একটি মোটরসাইকেল পড়ে ছিল। ওই তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

মোটরসাইকেলটিতে ধুলোবালি ছিল। শুধু স্টার্টিং লক করা নম্বর প্লেটবিহীন গাড়িটি ছিল পরিত্যক্ত অবস্থায়। মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে পিবিআই মোটরসাইকেলটি জব্দ করে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮) রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে বের হন। ওই দিন দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে মুঠোফোনে বার্তা (ভয়েস মেসেজ) পাঠিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, বাসায় ফিরছেন, কিন্তু আর ফেরেননি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তর খানের তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট থেকে সাউরির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় সাউরির ‘জুনিয়র বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নেয় পিবিআই। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে টঙ্গী থেকে দুই বন্ধুকে বহনকারী মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের পর দীপকে নিয়ে পিবিআই টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তির তুরাগ তীর পরিদর্শন করে।

আরও পড়ুন: শিবচর প্রেস ক্লাবের সভাপতি হায়দার আলী সাহেব ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অপূর্ব জয়

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, ঘটনাস্থলে তাদের কয়েকজন ধাওয়া করলে তাহসিফ তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। আর পালিয়ে আসেন তিনি (দীপ)। তবে কারা তাদের ধাওয়া করেছিল, কেন করেছিল এবং নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর তাহসিফের কী হয়েছিল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। পরে উত্তরখান থানায় মামলা হলে পিবিআই দীপকে নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ওই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ দীপকে রিমান্ডে নেয়।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, তুরাগ নদঘেঁষা এবং ঢাকা ও গাজীপুরের সংযোগস্থলে অবস্থিত হাজী মাজার বস্তি ও এর আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচা, ছিনতাই ও অপরাধী চক্রের ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। নির্জন পথ, নদীতীরবর্তী অবস্থান এবং অপরাধীদের প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।

এলাকাটিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান ও নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সূত্র জানায়, তাহসিফকে দীপ কেন ওই এলাকায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানে তাদের যাওয়ার উদ্দেশ্য কী ছিল, তারা মাদক কারবারিদের ধাওয়ার মুখে পড়েছিলেন, নাকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা অন্য কোনো পক্ষের তাড়া খেয়েছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

আরও পড়ুন: ঝিনাইদহে তিন দিনব্যাপী পুষ্টি মেলা ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

মোটরসাইকেলটি কার—তা শনাক্ত এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া যেতে পারে অনেকের অভিমত।

একজন সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে মাজার বস্তির নাম উঠে আসায় এলাকাটির অপরাধ পরিস্থিতি, মাদক কারবারিদের নেটওয়ার্ক এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

শুধু তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন নয়, জননিরাপত্তার স্বার্থে এই এলাকার অপরাধী চক্রের প্রকৃত অবস্থান ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদেরও শনাক্ত করা জরুরি বলে মনে করছে এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন: মীরসরাইয়ে দেশীয় তৈরি এলজি, রকেট ফ্লেয়ারস ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ গ্রেফতার ১

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইস্তাম্বুলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


ইস্তাম্বুলে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আন্তর্জাতিক মুসলিম স্কলার্স ইউনিয়ন (আইইউএমএস) এবং দ্য ফাউন্ডেশন অব ইসলামিক স্কলার্স-এর যৌথ আয়োজনে তিন দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর ঐক্য : ঐক্যের সনদ’ শীর্ষক সম্মেলনে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

সম্মেলনটি ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। এর সমাপনী ঘোষণায় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, মতপার্থক্য নিরসন এবং নির্যাতিত জনগণের অধিকার রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। গাজায় গণহত্যা বন্ধ, পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন বন্ধ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসানের আহ্বান জানান ইসলামী চিন্তাবিদরা।

সম্মেলনে ‘মধ্যপন্থী উম্মাহর সনদ : মৌলিক বিষয় ও পরিবর্তনশীল বিষয়’ শীর্ষক একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামের অকাট্য মৌলিক বিধান এবং পরিবর্তনশীল ও গবেষণানির্ভর বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখে শরিয়াহসম্মত গবেষণা, সংস্কার এবং আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

ঘোষণায় বলা হয়, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য শুধুমাত্র ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সভ্যতাগত প্রয়োজন। মতাদর্শিক ও মাজহাবভিত্তিক বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে অভিন্ন বিষয়গুলোকে সামনে রেখে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। উগ্রতা, সাম্প্রদায়িকতা ও বিভেদ পরিহার করে সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়া মুসলিম বিশ্বের আলেম, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন ইসলামী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। সম্মেলনে ঐক্যবিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘সেন্টার ফর ইউনিটি’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মুসলিম দেশ ও প্রবাসী মুসলিম জনগণের মধ্যে ঐক্য কমিটি গঠন, যৌথ প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং নিয়মিত সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সমাপনী ঘোষণায় ফিলিস্তিন, ইয়েমেন এবং সুদানের জনগণের প্রতি বিশেষ সংহতি প্রকাশ করা হয়। গাজায় গণহত্যা বন্ধ, পশ্চিম তীরে হত্যাকাণ্ড ও লঙ্ঘন বন্ধ, ফিলিস্তিনি বন্দিদের সুরক্ষা, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং আল-আকসা মসজিদ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে দখলদারিত্ব অবসানের দাবি জানানো হয়।

ইয়েমেনের ঐক্য, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে সুদানের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং বৈধ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি সমর্থন জানানো হয়। দেশটিতে চলমান সংঘাত বন্ধ, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়া রোহিঙ্গা, পূর্ব তুর্কিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের নিপীড়িত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়। কোনো অপরাধে জড়িত নন—এমন বিবেকবন্দিদের মুক্তি, অধিকার এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।

সম্মেলনে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর কিছু অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ইসলামবিদ্বেষ এবং বৈষম্য উসকে দেওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।

আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। একটি গির্জায় সংঘটিত হামলারও নিন্দা জানানো হয়েছে।

সম্মেলনের আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শুধু ঘোষণা বা সম্মেলন যথেষ্ট নয়; বরং এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তব কর্মসূচি, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কার্যকর করতে হবে।

সমাপনী ঘোষণায় সম্মেলন সফল করতে সহযোগিতার জন্য বিশ্ব মুসলিম উলামা ইউনিয়ন, ইসলামিক স্কলার্স ওয়াকফ, আয়োজক প্রতিষ্ঠান, অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি এবং তুরস্কের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা, নাবিক ও পরিবেশের ক্ষতি হয়নি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা, নাবিক ও পরিবেশের ক্ষতি হয়নি

আরব উপসাগরে চলাচলের সময় কাতারের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-বাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে। এই ঘটনা স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ঘটে বলে জানিয়েছেন কাতার গ্যাস পরিবহন কম্পানি নাকিলাত।

কাতার স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘আল মায়েদা’ নামের ট্যাংকারটিতে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে। তবে এতে জাহাজের কোনো নাবিক আহত হননি এবং পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হয়নি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাহাজটি নিরাপদ ও সচল রয়েছে। ঘটনার প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, নাকিলাত কাতারের সব বন্দর ও টার্মিনালে জাহাজ পরিবহনসেবা দেওয়ার পাশাপাশি টাগবোট ও অন্যান্য সামুদ্রিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও মাদক সেবনের অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থী শাস্তি পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৫ পি.এম


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে র‍্যাগিং ও মাদক সেবনের অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থী শাস্তি পেলেন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) র‍্যাগিং, মারধর, হয়রানি এবং মাদক সেবনের অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীদের অর্থদণ্ড এবং অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়ার শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে বুধবার ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাগিং ও হয়রানির ঘটনায় বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় একজনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মাদক সেবনের ঘটনায় তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত বছরের ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের দ্বারা র‍্যাগিংয়ের শিকার হন। এই ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের আনুমানিক ২৫ শিক্ষার্থী এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে পরবর্তী দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গত ১৪ আগস্ট রাত ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত হল রোডসংলগ্ন নয়ন সড়কের একটি আবাসিক বাসায় ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের জোরপূর্বক উপস্থিত হতে বলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় মুশফিকুল হক মাহিদকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মারুফ সরোয়ারকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা, মো. মিশন রহমান ও মো. খায়রুল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাইদিস সালেহীন স্বপ্নীল, ঋত্বিক কর্মকার, সৌরভ চন্দ্র বর্মন ও রাগিব শাহরিয়ারকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকবৃন্দের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা (এমসিজে) ডিসিপ্লিনের তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

এই ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে পরবর্তী দুই টার্ম বহিষ্কার ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, মুশফিক উল ইসলামকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার ও ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে পরবর্তী এক টার্ম বহিষ্কার ও ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার ৭ রুটে ৮৬১ বাস নামছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:১৬ পি.এম


ঢাকার ৭ রুটে ৮৬১ বাস নামছে

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাস রুট র‍্যাশনালাইজেশন কার্যক্রমের আওতায় সাতটি রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচল শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সাতটি পরিবহন কোম্পানির অধীনে এই রুটগুলোতে ৮৬১টি বাস চলবে। রুটগুলোর মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ কিলোমিটার।

রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) তালিকা অনুযায়ী, রুটগুলো হলো গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে আজিমপুর, টঙ্গী থেকে আজিমপুর, মিরপুর চিড়িয়াখানা থেকে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া, ঘাটারচর থেকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার, ঘাটারচর থেকে চিটাগাং রোড-কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে ধউর এবং মিরপুর-১ থেকে কাকলী-বনানী সার্কুলার রুট।

এসব রুটে ভিআইপি সিটি পরিবহনের ২৫৩টি, ঢাকা সিটি পরিবহনের ২০টি, চিড়িয়াখানা সিটি পরিবহনের ১৩৩টি, রমজান আলী সিটি পরিবহনের ৮০টি, থ্রি স্টার সিটি পরিবহনের ১২০টি, পি. পি. বি. সিটি পরিবহনের ২২৫টি এবং ট্রাস্ট ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের ৩০টি বাস চলাচল করবে। এসব রুটে এসি ও নন-এসি বাস থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় বাসের সামনে-পেছনে ডিজিটাল বোর্ডে রুট নম্বর, গন্তব্য ও গাড়ির ক্রমিক নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানো-নামানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং করা যাবে না। চালক ও সহকারীদের পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা এবং যাত্রীদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিমুল বিশ্বাস বলেন, ঢাকার ৩২টি রুটে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রতিটি রুটের বাসে আলাদা রং ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানসহ পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%