শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫৭ পি.এম
ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন হঠাৎ করে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিদর্শনে যান।
আজ শুক্রবার সকালে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বিশেষ করে ডেঙ্গু ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি রোগীদের সঙ্গে সেবার মান নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় সাখাওয়াত হোসেন মন্তব্য করেন, "ডেঙ্গুর সব টেস্ট এই হাসপাতালে আছে। কিন্তু রোগীদের অভিযোগ, তাদের বাইরে থেকে টেস্ট করানো হচ্ছে।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় মুগদা হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একইসাথে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অথচ রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না।"
হাসপাতালটির সেবার মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসার পর তিনি সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় বিভাগে অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে স্ট্রাইক রেটের শীর্ষস্থান দখল করেছেন।
কেন্টের হয়ে অংশগ্রহণ করা ৪টি ম্যাচের ৮ ইনিংসে তিনি ২৬টি উইকেট শিকার করেছেন। প্রতিটি উইকেটের জন্য গড়ে মাত্র ২৯.২৬টি বল করতে হয়েছে তাকে, যা এই মৌসুমে অন্তত ২৫ উইকেটধারী বোলারদের মধ্যে সর্বোত্তম।
দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন ডারহামের ম্যাথু পটস, যার স্ট্রাইক রেট ৩৫.৮৭। তিনি ১৯ ইনিংসে ৫৮ উইকেট নিয়েছেন।
হাসানের রেকর্ড তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি চোখধাঁধানো, কারণ তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য বোলারদের তুলনায় তিনি অনেক কম ম্যাচ খেলে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।
বাংলাদেশের এই ডানহাতি পেসার ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে ধারাবাহিকভাবে উইকেট শিকার করে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্যের শক্তিশালী প্রমাণ রেখে চলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আটপুকুর পাড় এলাকায় অবস্থিত সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মৎস্যবীজ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। এই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সরকারি খামারগুলোতে সৌরবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও টেকসই হবে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম উদ্বোধন করেন। পরে তিনি খামারের ব্রুড মাছের পুকুরে মাছ পর্যবেক্ষণ করেন এবং খামার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
এ সময় মৎস্য অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারসমূহের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটের জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রের বিপুল সম্পদ দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলার সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে নতুন করে আশার আলো দেখা গেছে। নতুন সমীক্ষায় দেখা গেছে, জামালগঞ্জে কয়লার মজুত প্রায় ৫৫০ কোটি টনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের হিসাবের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি।
১৯৬২ সালে জাতিসংঘের সহায়তায় জামালগঞ্জ কয়লাক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়। পূর্বে এখানে প্রায় ১০০ কোটি টন কয়লা থাকার হিসাব ছিল। তবে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই কয়লাক্ষেত্রের বিস্তৃতি প্রায় ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ১৪টি কূপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই নতুন মজুদের হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে। একাধিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, খনির বিভিন্ন স্থানে কয়লাস্তরের পুরুত্ব প্রায় ৪৪ মিটার পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
যদিও জামালগঞ্জে কয়লার বিশাল মজুদ রয়েছে, তবে এর উত্তোলনের প্রধান বাধা হচ্ছে এর ভূগর্ভস্থ অবস্থান। অন্যান্য কয়লাক্ষেত্রের কয়লা স্তর সাধারণত ১৫০ থেকে ৫০০ মিটার গভীরতার মধ্যে অবস্থিত, কিন্তু জামালগঞ্জের কয়লা ৬৪০ থেকে ১,১৫৮ মিটার গভীরে রয়েছে। ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে খনি নির্মাণ করে কয়লা উত্তোলন করতে গেলে উৎপাদন ব্যয় এবং প্রযুক্তিগত ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে খনিটিকে অকেজো রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত খনি খননের চিন্তায় আটকে না থেকে আধুনিক প্রযুক্তির দিকে নজর দেওয়া উচিত। এখানে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে 'আন্ডারগ্রাউন্ড কোল গ্যাসিফিকেশন' বা ইউসিজি (Underground Coal Gasification)।
ইউসিজি প্রযুক্তিতে ভূগর্ভের কয়লা সরাসরি ওপরে না তুলে খনির ভেতরেই নিয়ন্ত্রিত উপায়ে গ্যাসে রূপান্তর করা হয়। পরে উৎপাদিত গ্যাসকে পরিশোধন করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার জ্বালানি বা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। বাংলাদেশের পাঁচটি কয়লাক্ষেত্রের ওপর পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় জামালগঞ্জকে ইউসিজি বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্যতা সূচক ৯৩.৬ শতাংশ।
জামালগঞ্জে সম্প্রতি 'কোল বেড মিথেন' বা সিবিএম (Coal Bed Methane) আহরণের সম্ভাবনাও পরীক্ষা করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনটি কূপ খনন করে কয়লাস্তরের গ্যাসের পরিমাণ ও বৈশিষ্ট্যাবলি পরীক্ষা করা হয়। দুটি কূপের প্রাথমিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে আহরণযোগ্য মিথেন গ্যাসের সম্ভাবনা কিছুটা কম। তবে তৃতীয় কূপটির মূল্যায়ন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় পরবর্তী কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন, সিবিএমের সম্ভাবনা কম হলেও জামালগঞ্জের কয়লা অর্থনৈতিকভাবে মূল্যহীন হয়ে যায় না। ইউসিজি প্রযুক্তির গুরুত্ব এখানেই বৃদ্ধি পায়। কারণ ইউসিজিতে কয়লা স্তর থেকে পৃথকভাবে মিথেন তুলে আনার বদলে পুরো ভূগর্ভস্থ কয়লাকেই জ্বালানি গ্যাসে রূপান্তর করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাত বর্তমানে প্রচণ্ড জ্বালানি সংকট এবং আমদানিনির্ভরতার চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ডেটা ট্র্যাকার 'Kpler'-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে কয়লা আমদানি প্রায় ১৭.৩৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছিল। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে কয়লা আমদানির পরিমাণ বেড়ে ২০.৭ মিলিয়ন টন হয়েছে। ফলে কয়লা এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি আমদানি হওয়া পণ্যের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে জামালগঞ্জের বিশাল কয়লা সম্পদকে প্রযুক্তিগতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বিদ্যুৎ খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
তবে একটি টেকনিক্যাল সতর্কতা জরুরি- ৫৫০ কোটি টনকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য বা তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহারযোগ্য মজুদ বলা যাবে না। এটি বর্তমানে 'Resource' বা ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদের মোট হিসাব। কতটুকু বাস্তবে ইউসিজি বা অন্য কোনো প্রযুক্তিতে ব্যবহারযোগ্য, কত খরচে গ্যাস উৎপাদন সম্ভব এবং উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম কত পড়বে- তা নির্ধারণে একটি পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (Feasibility Study) চালানো প্রয়োজন।
২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ যে ২০.৭ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করেছে, তার বড় অংশই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়েছে। দেশের বড় ৬টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মোট কয়লা আমদানির প্রায় ৭৫ শতাংশ ব্যবহার করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কয়লা আমদানির জন্য খোলা লেটার অব ক্রেডিট বা এলসি-র (LC) মূল্য ছিল প্রায় ১.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন (১৪,৫০০ কোটি) টাকা।
অর্থাৎ, বাংলাদেশ যদি ভবিষ্যতে নিজস্ব উৎস থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উল্লেখযোগ্য পরিমাণের কয়লা বা বিকল্প গ্যাস সরবরাহ করতে পারে, তবে প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
জামালগঞ্জের সবচেয়ে বড় আর্থিক মূল্য শুধু কয়লা বিক্রি বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের সামগ্রিক 'জ্বালানি নিরাপত্তা' নিশ্চিত করতে এর ভূমিকা অপরিসীম। আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার দাম বাড়লে দেশীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। এছাড়া সমুদ্রপথে জাহাজ ভাড়া, বন্দর পরিচালনা খরচ, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আমদানি ব্যয়কে সরাসরি প্রভাবিত করে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভয়াবহ অস্থিরতা সেই ঝুঁকিকে আরও স্পষ্ট করেছে।
দেশের ভূগর্ভস্থ সম্পদ প্রযুক্তির মাধ্যমে সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গে একটি বড় অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে উঠলে তা স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যাপক কর্মসংস্থান, পরিবহন ও শিল্পায়নে বড় প্রভাব ফেলবে।
জামালগঞ্জ নিয়ে এখন প্রধান প্রয়োজন রাজনৈতিক ঘোষণার চেয়ে বাস্তবমুখী বৈজ্ঞানিক ও অর্থনৈতিক পরীক্ষা চালানো।
প্রথমত, আধুনিক ৩ডি (3D) ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং পর্যাপ্ত অনুসন্ধান কূপ খননের মাধ্যমে মজুদের পরিমাণ শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। এরপর একটি পাইলট ইউসিজি (UCG Pilot Project) প্রকল্প পরিচালনা করে দেখতে হবে-কত টন কয়লা থেকে কত ঘনমিটার গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, সেই গ্যাসের মান কেমন, পরিবেশগত প্রভাব কতটুকু এবং প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৃত খরচ কত।
একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ সুপেয় পানি, জমি, বাতাস ও কার্বন নিঃসরণের ওপর প্রভাব নিয়ে কঠোর পরিবেশগত মূল্যায়ন (EIA) প্রয়োজন। কারণ কোনো জ্বালানি প্রকল্পের সফলতা শুধু কয়লার পরিমাণ বা মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ থাকে না, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং উৎপাদিত জ্বালানির প্রকৃত মূল্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
জামালগঞ্জের সামনে এখন মূল প্রশ্ন-বাংলাদেশ কি ৫৫০ কোটি টনের সম্ভাব্য এই বিশাল সম্পদকে অপ্রচলিত বা অনুপযোগী খনি হিসেবে ফেলে রাখবে, নাকি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূগর্ভেই গ্যাসে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে?
সিবিএমের সাম্প্রতিক ফলাফলে কিছুটা সীমাবদ্ধতা এলেও ইউসিজি গবেষণার ফলাফল জামালগঞ্জকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। ২০২৬ অর্থবছরে আমদানিকৃত কয়লার পরিমাণ যখন ২০.৭ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, তখন নিজস্ব কয়লা ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক যুক্তি আরও জোরালো হয়েছে।
জামালগঞ্জের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত রূপরেখা হবে-প্রথমে পরীক্ষামূলক ইউসিজি (UCG) প্রকল্প, তারপর সঠিক অর্থনৈতিক মূল্যায়ন, এবং সবশেষে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সিদ্ধান্ত। এটি সফল হলে কয়লা আমদানির বহুমাত্রিক চাপ কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেশীয় জ্বালানির অংশ বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
জামালগঞ্জ শুধু জয়পুরহাটের একটি কয়লাক্ষেত্র নয়, সঠিক প্রযুক্তি ও সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার এক মজবুত চাবিকাঠি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জনস্বার্থ সুরক্ষায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি জোরালো তাগিদ দিয়েছেন। দেশের জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি চট্টগ্রাম জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়ক সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় প্রতিমন্ত্রী এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় হাটহাজারী-নাজিরহাট সড়কের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, "হাটহাজারী থেকে নাজিরহাট পর্যন্ত অত্যন্ত ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ডিভাইডার না থাকায় সম্প্রতি দুর্ঘটনায় ২৭ জনের করুণ ও অকাল মৃত্যু ঘটেছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।" তিনি আরও বলেন, "চট্টগ্রামবাসীর এই দুঃখ-কষ্ট আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। এ ধরনের অশুভ ও মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা কোনোভাবেই ঘটতে দিতে পারি না।" তাই জরুরিভিত্তিতে হাটহাজারী-নাজিরহাট রোডে রোড ডিভাইডার স্থাপন এবং সড়কটি সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারি জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল দৃঢ়তার সাথে বলেন, "বিগত আমলের অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও চাটুকারিতার নজির আমরা এ দেশে আর হতে দেব না।" তিনি জানান, ভূমি অধিগ্রহণের প্রতিটি ধাপে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে এবং জনগণ যেন কোনো প্রকার ভোগান্তি বা অসন্তোষের শিকার না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হবে।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করে কোনো উন্নয়ন কাজ হতে পারে না। পরিবেশের ভারসাম্য ও কৃষি জমি সুরক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার কড়া নির্দেশনা দেন তিনি।
উক্ত সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য প্রাপ্ত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন 'চট্টগ্রাম শহরের পানিবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১.৮৪০৬৪ একর এবং চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২.২২৮৯৮৮ একর জমি জনস্বার্থে অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগাধীন চাতরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন ১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী থানাধীন জুলধা (১.৩৯০৩ একর), শিকলবাহা (৬.৯৭৩১ একর), শাহমীরপুর (১০.৭৫৫৯ একর) এবং আনোয়ারা থানাধীন বাদলপুরা মৌজায় (২.৫৮৯০ একর) জমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় আঞ্চলিক সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের আওতায় মিরসরাই ও ফটিকছড়ি উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় সর্বমোট ৫৭.৯৩৮০ একর জমির অধিগ্রহণ প্রস্তাব মঞ্জুর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ