শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩১ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সম্প্রতি প্রেরিত চিঠিটি আকারে ছোট হলেও এর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব গভীর। চিঠির প্রেক্ষাপট হলো বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত। তবে এর ভাষা এবং সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি কেবল একটি বাণিজ্যিক লেনদেনের জন্য ধন্যবাদজ্ঞাপন নয়; বরং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সম্ভাব্য নতুন গতিপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
ডোনাল্ড ট্রাম্প চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বোয়িং কেনার সিদ্ধান্তের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, ‘বোয়িং উইল নট লেট ইউ ডাউন, অ্যান্ড আই উইল নট ফরগেট’ (বোয়িং আপনাকে নিরাশ করবে না, এবং আমিও ভুলব না)।’ এরপর তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করেছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এমন ব্যক্তিগত বার্তা নিছক প্রটোকল নয়; বরং এর মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা এবং ভবিষ্যৎ উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের ইঙ্গিত রয়েছে।
বোয়িং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শিল্প প্রতিষ্ঠান। একটি বড় বিমান ক্রয় শুধুমাত্র উড়োজাহাজ কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রাংশ, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার সম্পর্ক তৈরি হয়। ফলে এ ধরনের চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করার সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে এর সম্ভাবনা কেবল বিমান ক্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
বোয়িংয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে অ্যাভিয়েশন মেইটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (এমআরও), প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি এবং অ্যারোস্পেস রিলেটেড সাপ্লাই চেইনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ হিসেবেও কাজে লাগানো যেতে পারে। অর্থাৎ চুক্তিটির দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ভর করবে এটি বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অংশীদারত্বে কতটা রূপ নেয় তার ওপর। তবে চিঠিটির প্রকৃত তাৎপর্য বোঝার জন্য বাংলাদেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক অবস্থান বিবেচনা করা জরুরি।
বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে। বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরীয় যোগাযোগ, আঞ্চলিক বাণিজ্য, বন্দর, সমুদ্রপথ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ফলে ঢাকা এখন শুধুমাত্র একটি আঞ্চলিক রাষ্ট্র নয়; বরং বৃহত্তর ওহফড়-চধপরভরপ ভূরাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অবকাঠামো, শিল্প, যোগাযোগ ও বিভিন্ন প্রকল্পে চীনা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার এবং প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সম্ভাব্য বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র। ফলে বাংলাদেশের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো এই দুই বৃহৎ শক্তির সঙ্গে সম্পর্ককে পরস্পরবিরোধী না করে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে পরিচালনা করা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার উদ্যোগের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চিঠি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে আনে। বাংলাদেশ সম্ভবত ‘মাল্টি–অ্যালাইনমেন্ট’ বা বহুমুখী কৌশলগত ভারসাম্যের পথে এগোচ্ছে। এর অর্থ কোনো একটি পক্ষকে বেছে নেওয়া নয়; বরং বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সহযোগিতা করে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
এদিকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিযোগিতা যত বাড়ছে, বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রগুলোর কৌশলগত গুরুত্বও তত বাড়ছে। ওয়াশিংটন স্বাভাবিকভাবেই চাইবে ওহফড়-চধপরভরপ অঞ্চলে চীনের প্রভাব যেন একচেটিয়া না হয়। অন্যদিকে বেইজিংও বাংলাদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানের দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করতে আগ্রহী। এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমান নীতি হতে পারে কারও প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে উভয়ের সঙ্গে স্বার্থভিত্তিক সহযোগিতা করা। এখানেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠির তাৎপর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে বোয়িং কেনার জন্য ব্যক্তিগত ধন্যবাদ, বাংলাদেশের নেতৃত্বের প্রশংসা এবং তারেক রহমানের সঙ্গে অদূর ভবিষ্যতে সাক্ষাতের আগ্রহ-সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে এটি বাংলাদেশকে চীনের বিপরীতে দাঁড় করানোর সরাসরি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা অতিরঞ্জিত হবে। বরং এটি দেখায় যে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে দুই বৃহৎ শক্তির আগ্রহ বাড়ছে। চিঠিতে তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসাও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশের নতুন সরকারের জন্য আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য ইতিবাচক মন্তব্য সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি শক্তিশালী করতে পারে। তবে এটিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। বরং এটি নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরির একটি রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত।
চিঠির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হলো সম্ভাব্য সাক্ষাতের কথা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তারেক রহমানের সরাসরি বৈঠক হলে সেটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। সেখানে শুধু বোয়িং নয়, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা, রোহিঙ্গাসংকট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। বাংলাদেশের উচিত হবে এমন বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক ও কৌশলগত এজেন্ডা সামনে রাখা। বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বাজারকে বাংলাদেশের শিল্পায়ন, দক্ষ জনশক্তি এবং উচ্চমূল্যের রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সম্পর্কটি শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ নিতে পারে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশকে বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম বিবেচনা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপসহ সব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে প্রতিযোগিতামূলকভাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করলে বাংলাদেশের দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে এবং কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ও নিরাপত্তাকেও সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করতে হবে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতাকে নিজের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা। চীন থেকে অবকাঠামো ও শিল্প সহযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও বাজারসুবিধা এবং ইউরোপ, জাপান ও অন্যান্য অংশীদারের কাছ থেকে উন্নত প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ-এসব কিছু একটি সমন্বিত জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের আওতায় আনা সম্ভব।
তবে এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্য প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা চীনের উদ্বেগ বাড়াতে পারে, আবার চীনের সঙ্গে অতিরিক্ত সামরিক বা কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত কোনো শক্তির পক্ষে অবস্থান নয়, বরং কৌশলগত স্বাধীনতা এবং জাতীয় স্বার্থ।
এই নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ইতিবাচক হলেও সেটি যেন দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের একমাত্র ভিত্তি না হয়। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন পরিবর্তিত হতে পারে, তাই কংগ্রেস, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, প্রতিরক্ষা, কৌশলগত মহলসহ বিভিন্ন স্তরে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর করা প্রয়োজন।
একইভাবে চীনের সঙ্গেও সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে অর্থনীতি, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অবকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় পরিণত করা প্রয়োজন। এতে সরকার পরিবর্তন বা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থিতিশীল থাকবে।
সব মিলিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিক পরিবর্তনের ঘোষণা বলা যাবে না। বোয়িং ক্রয়ও একা যুক্তরাষ্ট্রের দিকে বাংলাদেশের কৌশলগত ঝুঁকে পড়ার প্রমাণ নয়। বরং এটি এমন এক সময়ে দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক গতিপথের সংকেত, যখন বাংলাদেশ একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করছে।
চিঠির মূল তাৎপর্য তাই বোয়িংয়ের বাইরে। এটি দেখাচ্ছে যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক গুরুত্ব যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের কাছে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও ওয়াশিংটনের কাছে ঢাকার কৌশলগত মূল্য বাড়াচ্ছে।
সফল কূটনীতি হবে সেটিই, যেখানে বাংলাদেশ কারও প্রতিপক্ষ না হয়ে সবার সঙ্গে কাজ করবে, কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা যেমন চীনের বিরুদ্ধে হওয়া উচিত নয়, তেমনি চীনের সঙ্গে সহযোগিতাও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হওয়ার প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশের প্রতিটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের চূড়ান্ত মানদণ্ড হওয়া উচিত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত স্বার্থ।
বর্তমানে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান-কোনো একক শক্তির অনুসারী নয়, বরং নিজের জাতীয় স্বার্থে বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সহযোগিতায় সক্ষম একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি তাই শেষ কথা নয়, বরং একটি সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা। বোয়িং দিয়ে যে কথোপকথন শুরু হয়েছে, সেটি যদি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতায় বিস্তৃত করা যায়, তাহলে এই ছোট চিঠিটিই ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
♦ লেখক : প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছরের মধ্যে বিজিএমইএ-এর সদস্য ২৮২টি এবং বিকেএমইএ-এর ১২০টি সহ মোট চার শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়া কারখানার নামের তালিকা সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংসদ সদস্য রুহুল আমিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। প্রশ্নোত্তর পর্বটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী গত ২২ জুন বিজিএমইএ থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে পোশাক কারখানা বন্ধের আটটি কারণ তুলে ধরেন। এই কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— করোনা পরিস্থিতি; রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ; মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ; আমেরিকা-ইরানের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ; আন্তর্জাতিক মন্দা পরিস্থিতি; দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা; অর্থ পাচারের কারণে ব্যাংকিং সেক্টরে তারল্য সংকট; ইউরোপের সঙ্গে ভারত এবং ভিয়েতনামের এফটিএ চুক্তি এবং বিদেশি ক্রেতার নিজস্ব মনিটরিংয়ের সুবিধার্থে ছোট ও মাঝারি কারখানায় রপ্তানি আদেশ প্রদানে অনাগ্রহ।
রাজনৈতিকখবর আপডেট বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বাজার ধরে রাখার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ শিগগিরই স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে। এর ফলে ট্রেডিং স্কিমের আওতায় অগ্রাধিকার বাজার সুবিধা হারাবে এবং এর প্রভাবে ১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তি হয়েছে। কোরিয়ার সঙ্গে সিইপিএ চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়টি চলমান রয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আরসিইপি, আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীনসহ অন্যান্য রপ্তানি সম্ভাবনাময় দেশের সঙ্গে ইপিএ/সিইপিএ/এফটিএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পোশাকশিল্পের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ হাজার ৫০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৬ দশমিক ৭২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদার প্রায় সম্পূর্ণটাই আমদানিনির্ভর। বর্তমানে দেশে বছরে আনুমানিক ২২ থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের প্রয়োজন হয়।
ডিজিটালম্যাপ দেখুন কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আবদুল গফুরের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২২ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পান রপ্তানি করেছে। লেবানন, ওমান, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রে পান রপ্তানি করা হয়।
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় আরও বেড়েছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ এখন প্রায় পৌনে ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতকে ১ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। বাকি অংশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসে।জামায়াতের এমপি আবদুল বাতেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও বলেন, ভারতের পাশাপাশি চীনের সঙ্গেও বাংলাদেশের বড় বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তবে সরকার কোনো একটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিক বাণিজ্য পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে চায়।তিনি বলেন, ‘আমাদের যেটা যেদিকে দৃষ্টি নেওয়া নিবদ্ধ করা দরকার সেটা হচ্ছে আমাদের ওভারঅল এক্সপোর্টে এবিলিটি বাড়ানো দরকার, এক্সপোর্টের এবিলিটি বাড়ানো দরকার।’রপ্তানি বাড়াতে সরকার চামড়া, পাট, জাহাজ নির্মাণ, হালকা প্রকৌশল ও সেমিকন্ডাক্টরসহ কয়েকটি খাত চিহ্নিত করেছে। এসব খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে নীতি সহায়তা দেওয়া এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। যেসব খাত এখনও রপ্তানির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছায়নি, সেগুলোকেও সেই পর্যায়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ভারতের দিক থেকে কিছু বাধা থাকার পাশাপাশি গত দুই বছরে বাংলাদেশের দিক থেকেও কিছু প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।সম্প্রতি ভারতের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ সফরের কথাও সংসদে তুলে ধরেন মুক্তাদির। তিনি বলেন, ওই প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিলে অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকার এ প্রস্তাবে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে সমন্বিতভাবে আমরা বিভিন্ন চেষ্টা করছি, যাতে আগামী দিনে আমাদের রপ্তানি অধিকতর বৃদ্ধি করা যায় ভারতের ক্ষেত্রে।ভারত থেকে বেশি আমদানির কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, আমদানির বড় অংশ সরকার নয়, বেসরকারি খাত করে। ব্যবসায়ীরা যে উৎস থেকে প্রতিযোগিতামূলক কম দামে পণ্য পান, সেখান থেকেই আমদানি করেন।তিনি বলেন, ‘সুতরাং উৎস হিসেবে যদিও এখানে ভারত একটি দেশের ক্ষেত্রেই ব্যবধানটা এত বেশি, কিন্তু যারা আমদানি করেন তারা তাদের সুবিধা বিবেচনায় নিয়েই সেখান থেকে আমদানি করেন।’বিএনপির এমপি লুৎফর রহমানের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৩১৩ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১১ হাজার ৬৯৮ দশমিক ৬০ মিলিয়ন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭ হাজার ৭১৬ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ হাজার ৪৩০ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির এমপি সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই স্ট্রোক ইঞ্জিনবিশিষ্ট থ্রি-হুইলার যানবাহন (টেম্পু, অটোরিকশা ইত্যাদি) আমদানি নিষিদ্ধ। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক থ্রি-হুইলার উৎপাদন শিল্পকে সহায়তার জন্য যন্ত্রাংশ আমদানি করা হচ্ছে।গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এআরটি চুক্তি করার ফলে বাংলাদেশ তার প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দেশটির বাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার “গরিবের বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থা”-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতি এবং জিআর চাল গ্রহণ ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মোঃ রাজিব খান।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কাঠালিয়া উপজেলার সাংবাদিক এইচ এম বাদল হাওলাদারের সংশ্লিষ্টতায় “গরিবের বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থা” পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রায় দুই বছর আগে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এর উদ্বোধন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংগঠনের নামে আমুয়া খাদ্য গুদাম থেকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল নেওয়া হয়। কী বিধি-বিধানের আওতায় এবং কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে এসব চাল সরবরাহ করা হচ্ছে, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়া কাঠালিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ, উৎস ও ব্যয়ের স্বচ্ছ হিসাব সংরক্ষণ করা হয় কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সংগঠনটি পূর্বে নিবন্ধনবিহীন অবস্থায়ও জিআর চাল গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে পুনরায় জিআর চাল গ্রহণের জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, সরকারি বরাদ্দের জিআর চাল প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে যথাযথভাবে বিতরণ না করে অন্যত্র বিক্রি বা অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, সাংবাদিক এইচ এম বাদল হাওলাদার তার নিজস্ব ফেসবুক লাইভে দাবি করেছেন যে, তিনি নিজস্ব অর্থায়নে “গরিবের বন্ধু সমাজ কল্যাণ সংস্থা” পরিচালনা করেন। অপরদিকে, অভিযোগ রয়েছে যে সংগঠনের কার্যক্রমের নামে বিভিন্ন ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করা হয়। এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের জন্য তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী মোঃ রাজিব খান বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের স্বার্থে সংগঠনের নিবন্ধন, অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয়ের হিসাব, জিআর চালের বরাদ্দ, উত্তোলন, সংরক্ষণ ও বিতরণসংক্রান্ত নথিপত্র তদন্ত করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে তার কাছে থাকা ভিডিও, ডকুমেন্টস, অর্থ সংগ্রহ সংক্রান্ত তথ্য ও কল রেকর্ড তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সাংবাদিক এইচ এম বাদল হাওলাদারের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চলন্ত ট্রাকের আঘাতে এক নারী পোশাকশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরো ২ জন আহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কারখানার শ্রমিকরা। এই পরিস্থিতিতে মহাসড়কের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে মদনপুর এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এখন পর্যন্ত নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে মহাসড়কের মদনপুর অংশের জাহিন টেক্সটাইল গার্মেন্টসের শ্রমিকরা ছুটির পর ঢাকামুখী লেন থেকে চট্টগ্রামগামী লেনে পার হচ্ছিলেন। এসময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক তিন শ্রমিককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই এক নারী শ্রমিক নিহত হন এবং বাকি দুজন গুরুতর আহত হন। পরে অন্য শ্রমিকরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান এবং ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করেন।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানান, মদনপুর এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় একজন নিহত হওয়ার ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা মহাসড়কের অবস্থান করে যানজট নিরসন কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি এবং ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের জন্য গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগকে কার্যকর বাস্তবায়নের ‘অনুসরণযোগ্য উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিনিয়োগনীতি সংস্কারের অভিজ্ঞতা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি কার্যকর মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ তথ্যটি জাতীয় বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সহায়ক সংস্থা ইনভেস্ট বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত আঙ্কটাডের বিনিয়োগ, উদ্যোগ ও উন্নয়ন কমিশনের ১৬তম অধিবেশনে বাংলাদেশ ও তিউনিসিয়ার বিনিয়োগনীতি সংস্কারের উদ্যোগকে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য কার্যকর মডেল হিসেবে তুলে ধরা হয়। বৈশ্বিক অর্থনীতি, সরবরাহব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ প্রবাহে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে নিজেদের বিনিয়োগনীতি নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য করছে, সে বিষয়ে অধিবেশনে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশ বিষয়ক আলোচনার ভিত্তি ছিল আঙ্কটাডের বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার বাস্তবায়ন প্রতিবেদন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানাচ্ছে, ওই প্রতিবেদনে ২০১৩ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনার সুপারিশগুলোর বাস্তবায়নে অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনে নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়, ডিজিটাল বিনিয়োগসেবা এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অগ্রগতির কথা উল্লেখ রয়েছে।
আঙ্কটাডের ‘বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন ২০২৬’-এও বৈশ্বিক বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানের ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে বলে ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ পাওয়া অল্পসংখ্যক স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে আঙ্কটাড। একই প্রতিবেদনে বৈদেশিক মুদ্রা–সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। আঙ্কটাডের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করতে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের বরাত দিয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানায়, ২০২৫ সালে দেশে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৩৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য নাহিয়ান রহমান রোচি। তিনি বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে বাংলাদেশের বাস্তবায়নকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ বলছে, বিনিয়োগনীতি সংস্কারের সুপারিশ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নীতিগত সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্যও সহায়ক হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ