ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারতীয় দলে ফিরতে না পারার হতাশায় শামি: ‘আমি তো ভালো বোলার নই’


ভারতীয় দলে ফিরতে না পারার হতাশায় শামি: ‘আমি তো ভালো বোলার নই’

ভুবনেশ্বর কুমার ৩৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন। প্রায় চার বছর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করার পর তিনি ভারত জাতীয় দলে ফিরেছেন।

হিন্দুস্তান টাইমসের সাংবাদিক মোহাম্মদ শামিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনিও তো ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছেন...!’ প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই শামি দ্রুত উত্তর দেন, ‘আরে না না, আমি তো ভালো বোলার নই।’

এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ভারতীয় দলে ফিরতে না পারার হতাশা, কষ্ট, অভিমান, হতাশা এবং ক্ষোভ নিয়ে শামি এই মন্তব্য করেছেন। ক্রিকেটবিশ্ব জানে তিনি কেমন বোলার। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে কি গতি কমাচ্ছেন ফাস্ট বোলাররা? বললেন ব্রেট লি

তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির তেজ ঠিকই ফুটে উঠছে। ‘ভালো বোলার নই’ বলার দিনেও তিনি দারুণ বোলিং করেছেন। রঞ্জি ট্রফির নতুন মৌসুমের প্রথম দিনেই পশ্চিমবঙ্গের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন।

গত মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে শামির পারফরম্যান্সও ছিল দুর্দান্ত। ১৬.৭২ গড়ে ৭ ম্যাচে ৩৭ উইকেট নিয়ে আসরের দ্বিতীয় সেরা পেসার ছিলেন তিনি। অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও তার পারফরম্যান্স ছিল ভালো। কিন্তু ভারতীয় দলের জন্য তার দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে।

শামি সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৩ সালের জুনে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। ওই বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। পরে একটি বড় চোট তার ক্যারিয়ারে বিশাল ধাক্কা হয়ে আসে, যা এখনো তাকে প্রভাবিত করছে।

প্রায় দেড় বছর পর তিনি ভারতীয় দলে ফেরেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করেন, সেমিফাইনালে ৩টি উইকেট নেন। দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে তার বড় অবদান ছিল। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর তিনি বাদ পড়েন এবং আর ফিরতে পারেননি।

আরও পড়ুন: ‘তারা শুধু অভিযোগই করতে পারে’—পিএসজির সমালোচকদের জবাব এনরিকের

শামির ফিটনেস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশয়ের আলোচনা উঠেছে। তবে দিল্লির বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে রঞ্জি মৌসুম শুরু করার পর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার পাল্টা তির ছিল, ‘আপনি তো দেখছেন আমার ফিটনেস। লিখে দিন, আপনারা তো দেখছেনই! আমার কথায় কি হবে? আমি মাঠে আছি, খেলছি। যেখানে সম্ভব হয়, খেলে যাচ্ছি।’

শামির হতাশার মধ্যেও ভুবনেশ্বরের দলে ফেরাকে আলোর রেখা বলা যায়। সামনে নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ৩৬ বছর বয়সী পেসারকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত আইপিএলে ২৮ উইকেট নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা জয়ে তার বড় অবদান ছিল। আগের আসরে তিনি ১৭ উইকেট নিয়েছিলেন।

শামির মতে, ভুবনেশ্বরকে আরো আগেই দলে নেওয়া উচিত ছিল। ‘ভুবিকে আরো অনেক আগেই দলে নেওয়া উচিত ছিল। সে তো কারো সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলে না। সে ওরকম নয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এরকম প্রতিভাবান একজনকে এত লম্বা সময় দল থেকে দূরে রাখতে হবে। তার জন্য ভালো হয়েছে। আইপিএলে সে টানা পারফর্ম করে গেছে। এটা তার প্রাপ্য ছিল।’

ভুবনেশ্বরের চেয়ে সাত মাসের ছোট শামি নিজেও পারফর্ম করে চলেছেন। তিনি যৌক্তিক প্রশ্নটি তুলে ধরেন, ‘ভুবি অনেক দিন পর দলে ফিরেছে। কেউ যদি পরিশ্রম করে যায় এবং সম্ভাবনা থাকে, কেন তাকে সুযোগ দেওয়া হবে না?’

আরও পড়ুন: পর্দা উঠল বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুনমিংয়ে বাংলাদেশের ১৫ সরকারি কর্মকর্তার পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


কুনমিংয়ে বাংলাদেশের ১৫ সরকারি কর্মকর্তার পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু

বাংলাদেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে ইউনান একাডেমি অব গভর্ন্যান্সে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রশিক্ষণটি আগামী ১৬ অক্টোবর শেষ হবে।

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির পার্টি স্কুলের (ইউনান একাডেমি অব গভর্ন্যান্স) ব্যবস্থাপনায় এবং ইউনান প্রাদেশিক সরকারের বৈদেশিক বিষয়ক কার্যালয়ের সহযোগিতায় করা হচ্ছে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের ১৫ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনান প্রাদেশিক সরকারের বৈদেশিক বিষয়ক কার্যালয়ের উপমহাপরিচালক মা জুওশিন (Ma Zuoxin) এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মুহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রাদেশিক কমিটির পার্টি স্কুলের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছি ইউয়ানলিং (Qi Yuanling) এবং কুনমিংয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শাহনাজ আখতার রানু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে উভয় দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ গ্রুপ ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়।

এই পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে চীনের আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, আধুনিক কৃষি, প্রযুক্তি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনসেবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হবে।

এছাড়াও ইউনান প্রদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ও উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নিয়ে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিনিধিদলটি ইউনান বাইয়াও গ্রুপ, আধুনিক কৃষিশিল্প পার্ক, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিল্পপার্ক, পরিবেশবান্ধব নগর উন্নয়ন প্রকল্প, প্রবীণদের সেবাকেন্দ্র এবং চায়না মোবাইলের ইউনান ডেটা সেন্টার পরিদর্শনের সুযোগ পাবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও নগরায়ণ সরেজমিনে দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করবে তারা।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মুহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী ছাড়াও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাতিয়া মুনতাহা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক ড. কে এম আলমগীর কবির ও সায়মা আক্তার, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. আনিসুর রহমান এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. জিয়াউর রহমান।

এছাড়াও প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আরিফুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারীর একান্ত সচিব প্রবীর কুমার রায়, সামরিক সচিবের একান্ত সচিব আবরার ফাইয়াজ, এডিসি সৈয়দ নাজমুল হোসেন, প্রোগ্রামার নূরে আলম সিদ্দিকী, অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-৩ মো. মোবাইদুল ইসলাম মুকুল, জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টার সহকারী একান্ত সচিব মীর সোলাইমান এবং সহকারী প্রেস সচিব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার পামির।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সেশেলসের একটি দ্বীপে ১ লাখ ৮০ হাজার বিশাল কচ্ছপের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৭ পি.এম


সেশেলসের একটি দ্বীপে ১ লাখ ৮০ হাজার বিশাল কচ্ছপের সন্ধান

ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসের একটি দ্বীপে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার বিশালাকার কচ্ছপের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা। একসময় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই প্রাণীর সংখ্যা সংরক্ষণ উদ্যোগের ফলে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নতুন এই হিসাব বন্য পরিবেশে বসবাসকারী বিশালাকার কচ্ছপের অন্যতম বৃহৎ জনগোষ্ঠী রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার সাফল্য তুলে ধরেছে।

সেশেলস আইল্যান্ডস ফাউন্ডেশন (এসআইএফ) ও ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের গবেষকেরা এই জরিপ পরিচালনা করেন।

গবেষণায় সেশেলসের আলদাবরা প্রবালপ্রাচীরবেষ্টিত দ্বীপাঞ্চলে বসবাসকারী আলদাবরা প্রজাতির বিশালাকার কচ্ছপের সংখ্যা নিরূপণ করা হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের গণনা ও পর্যবেক্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসাব পাওয়া যায়। ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে দ্বীপটিতে কচ্ছপের সংখ্যা প্রায় এক লাখ বলে ধারণা করা হয়েছিল। এরপর এবারই প্রথম এত বিস্তৃতভাবে নতুন হিসাব প্রকাশ করা হলো।

গবেষকদের হিসাবে, ওই সময় দ্বীপটিতে পূর্ণবয়স্ক ও প্রায় পূর্ণবয়স্ক কচ্ছপের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৮৩ হাজার। তবে ঘন গাছপালা ও ঝোপঝাড়ের কারণে সব কচ্ছপকে সরাসরি গণনা করা কঠিন। এ কারণে গবেষকেরা সরাসরি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি যেসব কচ্ছপ চোখে পড়েনি, তাদের সম্ভাব্য সংখ্যাও গাণিতিক মডেলের মাধ্যমে হিসাব করেছেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন-এ।

আলদাবরা দ্বীপাঞ্চলে কচ্ছপের এই বিপুল সংখ্যা সেশেলসের মোট মানবজনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্তভাবে বসবাসকারী বিশালাকার কচ্ছপের জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। এ ধরনের কচ্ছপের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বন্য জনগোষ্ঠী রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জে।

বিলুপ্তির ঝুঁকি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো

একসময় আলদাবরার বিশালাকার কচ্ছপের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল। উনিশ শতকে ব্যাপক শিকার ও মানুষের শোষণমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে দ্বীপটিতে এদের সংখ্যা কমে এক হাজারেরও নিচে নেমে আসে।

পরবর্তী সময়ে প্রাণীগুলো রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৯৮১ সালে আলদাবরাকে কঠোর সংরক্ষিত প্রাকৃতিক এলাকা ঘোষণা করা হয়। পরের বছর, ১৯৮২ সালে, এটি ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পায়।

সেশেলস আইল্যান্ডস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ফ্রাউকে ফ্লাইশার-ডগলি বলেন, দ্বীপটিতে দেড় লাখেরও বেশি বিশালাকার কচ্ছপের অবাধ বিচরণ দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ প্রচেষ্টার কার্যকারিতার প্রমাণ। সেশেলস, বিশ্ব এবং এসব প্রাণী রক্ষায় কাজ করা সবার জন্য এটি আনন্দের খবর।

গবেষণার সহলেখক ন্যান্সি বানবারি জানান, আলদাবরায় কচ্ছপের সংখ্যা পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম এ অঞ্চলের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী উদ্যোগগুলোর একটি। তবে ঘন উদ্ভিদে ঢাকা এলাকায় কচ্ছপ গণনা করা বেশ কঠিন। গবেষকেরা দৃশ্যমান ও অদৃশ্য—উভয় ধরনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একটি প্রাথমিক হিসাব তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে কয়েক দশক ধরে কচ্ছপের সংখ্যা ও পরিবর্তন পর্যবেক্ষণে এটি কাজে আসবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য হুমকি

কচ্ছপের সংখ্যা বৃদ্ধির খবর স্বস্তিদায়ক হলেও তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আলদাবরায় দীর্ঘস্থায়ী ও ঘন ঘন খরা দেখা দিতে পারে। এতে কচ্ছপের খাবার ও ছায়ার প্রাপ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দ্বীপাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলোকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।

এ ছাড়া বন্য হয়ে যাওয়া বিড়াল ও কালো ইঁদুরের মতো বহিরাগত প্রাণী কচ্ছপের ডিম ও সদ্য জন্ম নেওয়া বাচ্চা শিকার করে। ফলে কচ্ছপের সংখ্যা বৃদ্ধির পথে এসব প্রাণীও বড় বাধা হয়ে রয়েছে।

গবেষকেরা মনে করছেন, এসব ক্ষতিকর বহিরাগত প্রাণী নির্মূল করা সম্ভব হলে কচ্ছপের বংশবিস্তার আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তাদের সক্ষমতাও বাড়বে।

ইউনিভার্সিটি অব এক্সেটারের গবেষক ডেভ হাডসন বলেন, নতুন জরিপের ফলাফল কচ্ছপ সংরক্ষণের জন্য ইতিবাচক হলেও এই সংখ্যাকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ভবিষ্যতে কচ্ছপের সংখ্যা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন, খরা ও বহিরাগত প্রাণীর হুমকি মোকাবিলায় সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ার ভিত্তি হিসেবে এই গবেষণা কাজে দেবে।

গবেষকদের মতে, আলদাবরার এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, কার্যকর সংরক্ষণ ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিপন্ন বন্যপ্রাণীর সংখ্যা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তবে অর্জিত সাফল্য ধরে রাখতে হলে পরিবেশগত ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় ধারাবাহিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে ইমরান খানের মামলা, ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রতিবাদে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


মুম্বাই পুলিশের বিরুদ্ধে ইমরান খানের মামলা, ভোটার তালিকা সংশোধনে প্রতিবাদে আটক

ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর আটক হওয়ার পর, মুম্বাই পুলিশ বলিউড অভিনেতা ইমরান খানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। একইসাথে, ওই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ব্যক্তিদেরও মামলার আসামি করা হয়েছে।

মামলাটি দক্ষিণ মুম্বাইয়ের গামদেবী থানায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুসারে, বিক্ষোভ চলাকালীন মুম্বাই থেকে চার শতাধিক মানুষকে আটক করা হয়। তবে, আটকের প্রায় এক ঘণ্টা পর ইমরান খানসহ অন্যান্যদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মুম্বাই পুলিশ জানায়, ভারতীয় দণ্ডবিধির ২২৩ (আদেশ অমান্য করা), ১২৬(২) (অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া), ১৮৯(২) (বেআইনি সমাবেশ), ১৮৯(৩) এবং ১৮৯(৫) ধারার অধীনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে এই মামলা করেছে।

ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে।

এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ইমরান খান। তার সঙ্গে ছিলেন ভাগ্নি জায়ান মেরি খান এবং প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তাদেরও আটক করা হয়েছিল। পরে অবশ্য তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এবার সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইমরান খানসহ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৮ পি.এম


গার্মেন্টস শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ

রাজধানীর উত্তরার আজমপুর এলাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকরা ন্যূনতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। এই বিক্ষোভের ফলে মুহূর্তের মধ্যে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) শ্রমিকদের এই কর্মসূচির কারণে আজমপুর এলাকার সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। শ্রমিকরা তাদের দাবির পক্ষে বিক্ষোভ করেন, যার ফলে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির কারণে ওই এলাকায় ভয়াবহ যানজট সৃষ্টি হয়।

যানজটে আটকা পড়ে পরিবহন যাত্রীরা গড়মে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের কারণে বিমানবন্দর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মস্থলগামী মানুষ, যাত্রী ও অন্যান্য পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শ্রমিকদের দাবি হলো, তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করতে হবে।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা ও আশ্বাস পেয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ ছেড়ে কাজে চলে যান। শ্রমিকদের অবরোধ শেষে বিমানবন্দর মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%