০১:৪৬ পি.এম
ভুবনেশ্বর কুমার ৩৬ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন। প্রায় চার বছর পর ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফর্ম করার পর তিনি ভারত জাতীয় দলে ফিরেছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের সাংবাদিক মোহাম্মদ শামিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘আপনিও তো ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছেন...!’ প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই শামি দ্রুত উত্তর দেন, ‘আরে না না, আমি তো ভালো বোলার নই।’
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ভারতীয় দলে ফিরতে না পারার হতাশা, কষ্ট, অভিমান, হতাশা এবং ক্ষোভ নিয়ে শামি এই মন্তব্য করেছেন। ক্রিকেটবিশ্ব জানে তিনি কেমন বোলার। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের কারণে কি গতি কমাচ্ছেন ফাস্ট বোলাররা? বললেন ব্রেট লি
তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে শামির তেজ ঠিকই ফুটে উঠছে। ‘ভালো বোলার নই’ বলার দিনেও তিনি দারুণ বোলিং করেছেন। রঞ্জি ট্রফির নতুন মৌসুমের প্রথম দিনেই পশ্চিমবঙ্গের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন।
গত মৌসুমে রঞ্জি ট্রফিতে শামির পারফরম্যান্সও ছিল দুর্দান্ত। ১৬.৭২ গড়ে ৭ ম্যাচে ৩৭ উইকেট নিয়ে আসরের দ্বিতীয় সেরা পেসার ছিলেন তিনি। অন্যান্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও তার পারফরম্যান্স ছিল ভালো। কিন্তু ভারতীয় দলের জন্য তার দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে।
শামি সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৩ সালের জুনে, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে। ওই বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। পরে একটি বড় চোট তার ক্যারিয়ারে বিশাল ধাক্কা হয়ে আসে, যা এখনো তাকে প্রভাবিত করছে।
প্রায় দেড় বছর পর তিনি ভারতীয় দলে ফেরেন। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করেন, সেমিফাইনালে ৩টি উইকেট নেন। দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে তার বড় অবদান ছিল। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর তিনি বাদ পড়েন এবং আর ফিরতে পারেননি।
আরও পড়ুন: ‘তারা শুধু অভিযোগই করতে পারে’—পিএসজির সমালোচকদের জবাব এনরিকের
শামির ফিটনেস নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংশয়ের আলোচনা উঠেছে। তবে দিল্লির বিপক্ষে ৪ উইকেট নিয়ে রঞ্জি মৌসুম শুরু করার পর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার পাল্টা তির ছিল, ‘আপনি তো দেখছেন আমার ফিটনেস। লিখে দিন, আপনারা তো দেখছেনই! আমার কথায় কি হবে? আমি মাঠে আছি, খেলছি। যেখানে সম্ভব হয়, খেলে যাচ্ছি।’
শামির হতাশার মধ্যেও ভুবনেশ্বরের দলে ফেরাকে আলোর রেখা বলা যায়। সামনে নিউজিল্যান্ড সফরে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ৩৬ বছর বয়সী পেসারকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। গত আইপিএলে ২৮ উইকেট নিয়ে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর শিরোপা জয়ে তার বড় অবদান ছিল। আগের আসরে তিনি ১৭ উইকেট নিয়েছিলেন।
শামির মতে, ভুবনেশ্বরকে আরো আগেই দলে নেওয়া উচিত ছিল। ‘ভুবিকে আরো অনেক আগেই দলে নেওয়া উচিত ছিল। সে তো কারো সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলে না। সে ওরকম নয়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এরকম প্রতিভাবান একজনকে এত লম্বা সময় দল থেকে দূরে রাখতে হবে। তার জন্য ভালো হয়েছে। আইপিএলে সে টানা পারফর্ম করে গেছে। এটা তার প্রাপ্য ছিল।’
ভুবনেশ্বরের চেয়ে সাত মাসের ছোট শামি নিজেও পারফর্ম করে চলেছেন। তিনি যৌক্তিক প্রশ্নটি তুলে ধরেন, ‘ভুবি অনেক দিন পর দলে ফিরেছে। কেউ যদি পরিশ্রম করে যায় এবং সম্ভাবনা থাকে, কেন তাকে সুযোগ দেওয়া হবে না?’
আরও পড়ুন: পর্দা উঠল বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন