০৭:২৫ পি.এম
বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং নিকাহ রেজিস্ট্রারদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। সারাদেশের নিকাহ রেজিস্ট্রারদের পক্ষ থেকে কমপক্ষে দুইজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রতিনিধিকে মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা প্রণয়ন ও সংশোধনসংক্রান্ত কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মাদরাসাভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামী শরিয়ত, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ শিক্ষাগত ডিগ্রির ভিত্তিতে নিয়োগের প্রস্তাব বাতিল করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে এই সমস্যার একটি ন্যায়সংগত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব।
নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিদ্যমান অধিক্ষেত্র বজায় রাখা এবং মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষিত করতে হবে। মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী বর্তমানে প্রচলিত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কর্ম-অধিক্ষেত্র ও অধিকার সম্পূর্ণভাবে বহাল রাখতে হবে। বিদ্যমান কর্ম-অধিক্ষেত্র বিভক্ত করে একজনের স্থলে একাধিক নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিধান করা যাবে না।
রোববার (৮ নভেম্বর) ঢাকার সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার ও নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ ঐক্য পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: বান্দরবানে যুবদল নেতা শরীফের মরদেহ ঝিরি থেকে উদ্ধার
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক।
এতে আরো উপস্থিত ছিলেন, মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, মুসলিম নিকাহ রেজিস্ট্রার সমিতির মহাসচিব মাওলানা কাজী মো. সেলিম রেজা, কাজী ইকবাল হোসেন, কাজী আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া, কাজী নুরুল আমিন, মফিজুল ইসলাম, আজিজুল হক, সুমন মশিউর রহমান, কাজী মো. জাকির হোসেন, শিহাব উদ্দিন ইয়াহিয়া, মাসুদ, কাজী মাওলানা মোবারক হোসেন ফরাজী ও আব্দুর রাজ্জাক। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, "আমরা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিধিমালা নতুন ভাবে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।"
সেই বিধিমালা ২০২৬-এর প্রস্তাবিত খসড়ায় নিকাহ রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিনের স্বীকৃত কর্ম-অধিক্ষেত্র পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কর্ম-অধিক্ষেত্র তিন ভাগে বিভক্ত করার পাশাপাশি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের বিদ্যমান ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিদের নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেও এ ধরনের শরীয়তের সাথে সাংঘষিক সিদ্ধান্ত নেয়ার কেউ সাহস পায়নি।
আরও পড়ুন: কাল সংসদে উঠছে বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল-২০২৬
এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন নিকাহ রেজিস্ট্রারদের পেশাগত স্থিতিশীলতা, দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামো এবং বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রমের সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বর্তমান কর্ম-অধিক্ষেত্র কোনো আকস্মিক বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ফসল নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘ আলোচনা, পর্যালোচনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গৃহীত সুপরিকল্পিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তৎকালীন আইনমন্ত্রী ও প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার মরহুম মওদুদ আহমেদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ২০০১-২০০৬ মেয়াদে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের কর্ম-অধিক্ষেত্র সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
তৎকালীন আইনমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কাজী সমিতির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং দেশের বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের সমন্বয়ে একাধিক আলোচনা ও বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। সেই আলোচনার ভিত্তিতে সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন এবং প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং পরবর্তীতে সে অনুযায়ী বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়।
দীর্ঘদিনের আলোচনা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিষ্ঠিত একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাকে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা ছাড়াই পরিবর্তনের উদ্যোগ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা সংকট মানবিক সমস্যা নয়, এটি রাজনৈতিক ইস্যু: শামা ওবায়েদ
আমাদের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ধর্মীয় জ্ঞানসংক্রান্ত প্রস্তাব। বিবাহ ও তালাক নিছক কোনো প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কার্যক্রম নয়। এটি পবিত্র ইসলামী শরিয়তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। বিবাহের শর্ত, দেনমোহর, ইজাব-কবুল, অভিভাবকত্ব, তালাক, খুলা, তালাকে তাফওয়ীজসহ ইসলামী পারিবারিক আইনের বিভিন্ন বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান ও বাস্তব দক্ষতা থাকা একজন নিকাহ রেজিস্ট্রারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
আমরা সাধারণ শিক্ষার বিরোধী নই। বরং আমরা মনে করি, সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি মাদরাসাভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামী শরিয়ত, মুসলিম পারিবারিক আইন এবং বিবাহ ও তালাকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা নিয়োগের ক্ষেত্রে অপরিহার্য যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
শুধুমাত্র বিএ/এমএ ডিগ্রিধারী হওয়ার ভিত্তিতে শরিয়াহ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করে নিকাহ রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে ভবিষ্যতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রমে জটিলতা এবং শরিয়াহগত ভুলের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ধর্মীয় জ্ঞান, আইনগত দক্ষতা, নৈতিকতা এবং পেশাগত অভিজ্ঞতার সমন্বয় অপরিহার্য।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, "অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, একটি দীর্ঘদিনের মীমাংসিত ও প্রতিষ্ঠিত বিষয়কে পুনরায় বিতর্কিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" আমাদের আশঙ্কা, এ ধরনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে সারাদেশের নিকাহ রেজিস্ট্রারদের মধ্যে অসন্তোষ ও পেশাগত অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশের আলেম সমাজ ও সরকারের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: রাশেদ খাঁন: আগামী তিন মাস বাংলাদেশপন্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের অযাচিত প্রভাব বা একতরফা পরামর্শের ভিত্তিতে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে বাংলাদেশের সকল নিকাহ রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছিÑ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নিকাহ রেজিস্ট্রারদের বিদ্যমান কর্ম-অধিক্ষেত্র বহাল রাখার বিষয়ে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
একই সঙ্গে নিকাহ রেজিস্ট্রারদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করে কোনো অবস্থাতেই তাঁদের পেশাগত ভবিষ্যৎ ও দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা চূড়ান্ত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানাচ্ছি।
সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন পেশাজীবি শ্রেণির বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দ্রব্য মূল্য উর্দ্ধগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দ্বিগুণ করা হলেও মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রারগণের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি করা হয় নাই। তাই হাজারে ১৪ টাকার পরিবর্তে ২০ টাকা যাহা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং পরবর্তী প্রতি লাখে ১০০ টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা করণ। তালাক রেজিস্ট্রেশন ফি ১০০০ টাকার পরিবর্তে ২০০০ টাকা করণ। বিবাহের নকল ফি ৫০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা এবং কমিশন ফি ৫০০ টাকা করণ।
আরও পড়ুন: প্রশিক্ষণ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন ৩৪ জন সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা
সংবাদ সম্মেলনে কতিপয় কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ন্যায়সংগত দাবিসমূহ বাস্তবায়ন এবং অধিক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখার দাবিতে আগামীকাল সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানব বন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রীর নিকট স্মারক লিপি প্রদান করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন