০৬:০৪ পি.এম
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। প্রতিবছর চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়ে থাকে।
তিনি মন্তব্য করেছেন যে, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সারের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, "সার নেই বলে বেশি দামে বিক্রি করলে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান
কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এই সরকার কৃষিবান্ধব সরকার। কৃষকের উন্নতির জন্য যা কিছু প্রয়োজন, সরকার তা করবে। কৃষকের উন্নতি হলে দেশের অগ্রগতি হবে।’
তিনি সারের কৃত্রিম সংকট প্রসঙ্গে বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয়। তাই দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে দেয়। মন্ত্রী বলেন, "কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। তাহলে সংকট কোথায়? অতি লোভী কিছু মানুষ এ ধরনের কাজ করছে। কারসাজির মাধ্যমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জেলার সার ডিলারদের সতর্ক করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কোনো ডিলার তার বরাদ্দের সার সময়মতো না তুললে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের কাছে সঠিক দামে ও সময়মতো সার পৌঁছে দিতে ডিলারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
কৃষিপণ্যে আমদানি-নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, পাট ও পেঁয়াজের বীজ যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে চাহিদা পূরণ করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘আগামীতে কোনো কৃষিপণ্য যেন আমদানি করতে না হয়, কৃষিতে সরকারের মূল টার্গেট সেটিই। আমরা নিজেরাই উৎপাদনের চেষ্টা করছি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে কষ্ট ও পরিশ্রম করতে হবে।’
মন্ত্রী আরও জানান, বিভিন্ন কারণে দেশের মাটির গুণগত অবস্থা আগের মতো ভালো নেই। তবে ফরিদপুরের মাটি এখনো দেশের অন্যতম সেরা ও উর্বর। ফলে এ জেলার কৃষিকে আরো এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় ফরিদপুরের চরাঞ্চলে কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ডাল, রসুন, পেঁয়াজ ও পাটবীজ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশি মাছের চাষ সম্প্রসারণ, চরাঞ্চলে শাকসবজি উৎপাদন এবং ছাগল পালন ও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল উন্নয়ন কর্মসূচি জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: জনগণের বিরুদ্ধে অবৈধ সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের নয়: হাসনাত আবদুল্লাহ
জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে জেলার নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের পাটবীজ, নতুন অ্যাগ্রো-ফ্রা মেশিন ও চেক বিতরণ করা হয়। পরে সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পেঁয়াজ ও পাটচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী।
পরবর্তীতে বিকেল ৪টায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ফরিদপুর জেলার উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় সংরক্ষিত পেঁয়াজ এবং শীতকালীন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শন করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরব হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম আসজাদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহদুজ্জামান, সদর উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়াসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ফরিদপুর সার্কিট হাউসে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদকে ফরিদপুরের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন করেছে সায়েল মিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন