মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৫২ পি.এম
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম মন্তব্য করেছেন যে, ধর্মকে ব্যবহার করে দেশে রাজনৈতিক বিভাজন সৃষ্টি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, "ধর্ম যার যার, দেশটা সবার"—এই চেতনাকে ধারণ করে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা ও পৌর বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে নগদ অর্থ সহায়তা ও শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। তিনি গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসা তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে উল্লেখ করে বলেন, যারা মানুষের পাশে থাকবে এবং তাদের উন্নয়ন ও অধিকার রক্ষায় কাজ করবে, জনগণ তাদেরই সমর্থন দেবে—এটাই প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার।
ফকির মাহবুব আনাম আরো বলেন, দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ, আনন্দমুখর ও সম্প্রীতির পরিবেশে উদ্যাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে হবে। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা আমাদের দায়িত্ব।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ কামনায় সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ এম আজিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি এস এম এ সোবাহান ও উপজেলা বিএনপির সম্পাদক এনামুল হক ভিপি। এছাড়া ধনবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম স্বপন, হিন্দু ঐক্যফ্রন্টের সভাপতি নিরঞ্জন চন্দ্র সাহাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী মধুপুর উপজেলা পরিষদে নবনির্মিত পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজশাহীতে পদ্মা নদী বিদ্যমান। তিনি উল্লেখ করেছেন, "আমরা দেখেছি কীভাবে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।" এই কারণে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বাংলাদেশের দুটি প্রধান নদী, একটি হচ্ছে তিস্তা এবং অপরটি রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুই নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের পানির সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সাথে আমরা কথা বলব।" তিনি যোগ করেন, "দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদেরকে যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব।" তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, "ততদূর যেতে, কিন্তু ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।" তিনি বলেন, "আমরা এই পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব ইনশাআল্লাহ।"
তিনি উল্লেখ করেন, "সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি আখচাষি ভাইদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি।" এর উদ্দেশ্য হলো, "যাতে করে আগামী সিজনে আখ চাষিদের কিছুটা হলেও কষ্ট কম হয়।" তিনি বিএনপির কৃষকবান্ধব নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, "বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের কৃষক বাঁচলে এই দেশের কৃষি বাঁচবে।" তিনি জানান, "বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়েছে।" তিনি বলেন, "বিএনপির অনেকগুলোর পরিকল্পনা বা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো।"
তারেক রহমান বলেন, "বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে সেই কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবে।" তিনি উল্লেখ করেন, "সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছিলাম।" তিনি জানান, "সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা মওকুফ করে দিয়েছিলাম সুদসহ।"
কৃষি কার্ড প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা কৃষক ভাইদেরকে একটি কার্ড দিতে চাই—যেটির নাম হচ্ছে ফার্মারস কার্ড বা কৃষক কার্ড।" তিনি জানান, "এরই মধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে।" তিনি বলেন, "ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন কৃষক, বড় কৃষকের এই লিস্ট তৈরি করার কাজ এগিয়ে চলেছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "আগামী কিছু দিনের মধ্যে এটার কাজ শেষ হবে।"
তিনি বলেন, "এই বছর সমগ্র বাংলাদেশে আমরা ভূমিহীন প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক নারী-পুরুষ ৪০ লাখ কৃষক ভাইয়ের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দেব।" তিনি জানান, "এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কোনো কৃষক যদি বছরে দুইটি ফসল উৎপাদন করে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চেষ্টা করব অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ, কীটনাশক যতটুকু সম্ভব পৌঁছে দেওয়া হবে।" তিনি বলেন, "এছাড়াও, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের ফসলের বীমা করতে পারবেন।"
তারেক রহমান বলেন, "সমগ্র দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার বা নদী খনন কর্মসূচি শুরু করব।" তিনি উল্লেখ করেন, "আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি।" তিনি জানান, "আগামী পাঁচ বছর আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব।" তিনি বলেন, "এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল গত আট মাসে আমরা খনন কার্য সম্পন্ন করেছি।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, "এই কাজ করার মাধ্যমে একদিকে যেরকম কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবেন।"
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "এখানে ১৩০০ শয্যা রয়েছে। এটি ২৫০০ হবে।" তিনি জানান, "বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় যে উপজেলা হাসপাতাল আছে এটির বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।" তিনি বলেন, "এখন যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন, "বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত করেছে সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, প্রত্যেকটা উপজেলা হাসপাতাল ৫০ বেড থেকে আমরা ১৫০ বেডের হাসপাতালে তৈরি করব।"
তিনি বলেন, "এতে করে গ্রামের মানুষের অল্প অসুখে কষ্ট করে দূরের সদর হাসপাতালে না যেতে হয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রংপুর ও রাজশাহী সফর সম্পন্ন করে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে, তাকে বহনকারী সামরিক বিমানটি চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা শুরু করে।
সকাল ৯টায়, প্রধানমন্ত্রী ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে একটি সামরিক বিমানে রওনা দেন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে, তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান, যেখানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান।
পরে, রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন সরকারপ্রধান। পরিদর্শনকালে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সৈয়দপুর থেকে রংপুরে আসার পথে, তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। মন্দিরের অনুষ্ঠান শেষে, প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে সৈয়দপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখান থেকে, তিনি রাজশাহীতে যান। বেলা ৩টার কিছু আগে, তাকে বহনকারী সামরিক বিমানটি রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
রাজশাহীতে পৌঁছে, প্রথমে ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পরিকল্পনা থাকলেও, তিনি আগে সেখানে একটি জনসভায় যোগ দেন। জনসভা শেষে, ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান তিনি। এরপর, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। চট্টগ্রাম সফর শেষে, রাতেই তিনি ঢাকায় ফিরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইটির বিয়ে হয়েছে প্রায় ছয় বছর আগে। গত দুই সপ্তাহ ধরে আমার মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। ১৫ দিন আগে ফোনে জানায়, সে দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়ের সুইটির সঙ্গে কী ঘটেছে, এ বিষয়ে আমি এখনও পরিষ্কার কিছু জানি না। তবে আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই, আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। সে জীবিত হোক বা মৃত, আমি আমার মেয়েকে চাই।
এভাবে কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়া সুইটির মা জহুরা বেগম।
সৌদি আরবে দুই প্রবাসীর মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরবে যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস তিনি বাড়িতে টাকা পাঠান। পরে ফোন করে জানান, তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। ১৫ দিন আগে ফোন করে জানিয়েছিলেন, তিনি জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যে।
মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবেশীদের ভিড়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। সুইটির বাবা বিছানায় শুয়ে রয়েছেন। মা পরিবারের কাজ করছেন। সুইটির বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন।
ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জানায়, তাকে জেলে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির খোঁজ পাইনি। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল, দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’
তবে, দুদিন আগে তারা জানতে পারেন যে সৌদি সরকার সুইটির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করেছে। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি।
ফজল বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে, আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’
স্থানীয় মহেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি চীনা নাগরিকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউনিফর্ম পরা চার পুলিশ কর্মকর্তা একটি সহযোগীর সঙ্গে মিলে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছেন।
গত ২৯ আগস্টের পর থেকে চীনা নাগরিকদের লক্ষ্য করে এটি ছিল চতুর্থ ডাকাতির ঘটনা। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় অপরাধীরা নিজেদের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। দুটি ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশের সদস্যদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে যখন পুলিশের পোশাক পরা ডাকাতের একটি দল একটি বাড়িতে প্রবেশ করে ২০ লাখ রুপি নগদ অর্থ এবং ১৫ হাজার রুপি মূল্যের একটি মোবাইল ফোন লুট করে। এ ঘটনায় পাকিস্তান দণ্ডবিধির ৩৯৫ ধারায় ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই বাড়িতে দুই চীনা নাগরিক বসবাস করতেন। রাতের প্রায় ২টা ২০ মিনিটে পুলিশের পোশাক পরা একজন ব্যক্তি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে কর্মচারীদের থাকার কক্ষে যান। সেখানে ঘুমিয়ে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষী ও এক চালককে ডেকে বাইরে নিয়ে আসেন। পরে তাদের পুলিশের একটি গাড়ির কাছে নিয়ে যান।
গাড়িটিতে চারজন ছিল, যার মধ্যে তিনজন পুলিশের পোশাক পরা এবং অস্ত্রধারী ছিল। পরে তারা নিরাপত্তারক্ষী ও চালককে গাড়িতে তুলে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর অস্ত্রধারীরা জানালা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে দুই চীনা নাগরিককে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে। তারা বাড়ির ড্রয়িংরুমে ওই দুই নাগরিক, নিরাপত্তারক্ষী ও চালককে আটকে রেখে ২০ লাখ রুপি নগদ অর্থ লুট করে।
মামলা নথিভুক্ত করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। এরপর কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গত মাসে ইসলামাবাদে ডাকাতির একটি চক্র পরিচালনার অভিযোগে তিন কর্মরত পুলিশ সদস্য ও তাদের কয়েকজন সহযোগীর নাম উঠে আসে।
গত ১৩ সেপ্টেম্বরের ডাকাতির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে তাদের জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসে। ওই দিন পুলিশের পোশাক পরা অস্ত্রধারীরা জি-১০/৪ এলাকায় দুই চীনা নাগরিকের বাড়িতে ঢুকে ৮০ লাখ রুপি লুট করে নিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ