০৩:০৩ পি.এম
একদিকে ব্যস্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক, অন্যদিকে রয়েছে বিশাল ময়লা-আবর্জনার স্তূপ। এর ওপর ছড়িয়ে আছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের বর্জ্য। দেখতে মনে হচ্ছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান নয়, বরং পুরো বাজারের ময়লার ভাগাড়। উল্লেখ্য, জায়গাটি ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক সড়কের পাশেই অবস্থিত। আর এই বর্জ্যের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে রাংসা নদী।
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘ সময় ধরে এমন দৃশ্য দেখা গেলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারাকান্দা বাজারের বিভিন্ন দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ময়লা-আবর্জনা নিয়মিতভাবে এখানে ফেলা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে বর্জ্যের স্তূপ বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা সড়ক ও নদীর পরিবেশের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্প্রতি পরিদর্শনে দেখা যায়, আঞ্চলিক সড়কের এক পাশে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। পলিথিনের ব্যাগ, প্লাস্টিকের প্যাকেট, খাদ্যপণ্যের মোড়ক, কাগজ, কাপড় ও বিভিন্ন ধরনের পরিত্যক্ত সামগ্রী পুরো জায়গাটি আচ্ছন্ন করে রেখেছে। কোথাও ময়লার স্তূপ এতটাই বড় হয়ে উঠেছে যে, সড়কের পাশের জায়গা এবং নদীর পাড়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেবিআইসি গভর্নরের বৈঠক, বাংলাদেশে কার্যালয় খোলার অনুরোধ
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ময়লার বড় একটি অংশ পলিথিন ও প্লাস্টিকজাত বর্জ্য। এই ধরনের বর্জ্য সহজে পচে না। বৃষ্টির পানি ও স্রোতের মাধ্যমে এগুলো রাংসা নদীতে গিয়ে পড়ছে। ফলে নদীর পানি এবং জলজ পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মামুন মড়ল (৪৮) বলেন, "তারাকান্দা বাজারের ময়লা দীর্ঘদিন ধরে এখানে ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন ময়লার পরিমাণ বাড়ছে। পলিথিন ও প্লাস্টিকের বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে রাংসা নদীতে গিয়ে পড়ছে। এতে নদী ও আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসন বিষয়টি দেখেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া দুঃখজনক।"
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মো. মুসা মিয়া (৪৯) বলেন, "সড়কের পাশে এভাবে ময়লার স্তূপ থাকায় পথচারী ও যানবাহনে চলাচলকারীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে পলিথিন ও প্লাস্টিকের কারণে। এগুলো নদীতে গিয়ে পড়লে রাংসার পরিবেশ আরও ভয়াবহভাবে নষ্ট হবে। দ্রুত ময়লা সরিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করা দরকার।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে একদিকে জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দূষণের শিকার হচ্ছে রাংসা নদী।
আরও পড়ুন: ঢাকার বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১২৩ স্কোরে ১৩তম স্থান
নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সড়কের পাশ থেকে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান, নিয়মিত ময়লা অপসারণ এবং পলিথিনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন।
অন্যথায়, আজকের এই ময়লার স্তূপই আগামী দিনে রাংসা নদীর জন্য আরও বড় বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে নদীর পাড়ে ময়লার পাহাড় গড়ে উঠলেও সংশ্লিষ্টদের নজর কবে পড়বে?
এ বিষয়ে তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "স্থানীয়ভাবে কোন ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় ময়লা আবর্জনা ফেলতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অচিরেই কাজ করা হবে। সেখানে সেখানে যেন ময়লা আবর্জনা না ফেলা হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মালাগার সঙ্গে কৃষি ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়াতে চায়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন