০৭:৪১ পি.এম
পুলিশের ওপর হামলা (অ্যাসল্ট) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হত্যার হুমকির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার মা, বাবা, বন্ধুসহ ৭ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে, তার বোনের বয়স কম হওয়ায় আদালত তাকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, তার মা শামী আক্তার পলি (৩৮), বাবা দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী (৪৫), প্রিন্সের বন্ধু ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের কাওছার আহমদ সোহাগ (২১), দিরাই উপজেলার চন্ডীপুর গ্রামের ইফাত আলম রাবিদ (২১), ধর্মপাশা উপজেলার সাদিপুর গ্রামের শাহরিয়ার সাদি (১৯) এবং সিলেটের ভাদেরশ্বর গ্রামের তাকরিব রহমান তানহির (২০)।
পুলিশ জানায়, শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে সিলেট মহানগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে প্রিন্সের ছোট বোন ছাড়া ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্স এবং তার মা-বাবাসহ ৭ জনকে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের বিচারক মো. জসিম উদ্দিন তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: রিহ্যাবের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা নেই: হাইকোর্টের আদেশ
সুনামগঞ্জ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক অজয় চন্দ্র দেব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৭ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালতের বিচারক তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং বিকেলে তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, প্রিন্সের বোনের বয়স কম থাকায় তাকে শিশু আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শিশু আদালতের বিচারক মাসুদুর রহমান স্কুল ছাত্রীর জামিন না মঞ্জুর করে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রিন্সের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ছায়াদুর রহমান তালুকদার।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেপ্তার করে সদর থানার পুলিশ। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজতে অসুস্থ হলে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় তার মা-বাবা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করেন, আঘাত করেন এবং আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। এরপর ওই রাতেই তাকে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু তার পরিবার এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়। শনিবার মধ্যরাতে তাদেরকে গ্রেপ্তারের পর আজ দুপুরে সবাইকে আদালতে তোলা হয়।
পুলিশের মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গত ৩০ অক্টোবর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ পরপর খিঁচুনির ভান করতে থাকে। এ সময় ছাত্রলীগ, যুবলীগের কতিপয় নেতাকর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রুমের ভেতরে প্রবেশ করে মব সৃষ্টি করে। প্রিন্সের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী ও মা, বোন, প্রিন্স মারা গেছে বলে গুজব ছড়িয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর মারমুখী আচরণ করতে থাকে। পরে কর্তব্যরত ডাক্তার প্রিন্সকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। প্রিন্সের বাবা শাহরুখ রাজা চৌধুরী তার ছেলে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স পুলিশি নির্যাতনে মারা গেছেন বলে কান্নাকাটি, চিৎকার ও কান্না-কাটি করতে থাকেন এবং পুলিশের ওপর মব সৃষ্টি করে ছাত্রলীগ নেতা প্রিন্সকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: সিসিকের সাবেক মেয়র কামরান হত্যাচেষ্টা মামলায় বিএনপি'র ৭০ নেতাকর্মী খালাস
এরপর প্রিন্সের ছোট ভাই ফাহিম রাজা চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে সদর মডেল থানার ওসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রকাশ্যে ক্ষতিসাধনের এবং হত্যার হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রিন্সসহ সবাইকে পুলিশ সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন