বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৭ পি.এম
শরীয়তপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাজস্ব বাজেটের (২০২৬-২৭) আওতায় উন্মুক্ত জলাশয় ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার সকাল ১০টায় সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপজেলা পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম।
এ সময় জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা, যুগ্ম সম্পাদক দুলাল খানসহ উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জানুয়ারিতে সংঘটিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বুধবার ইরান দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। এই তথ্য দেশটির বিচার বিভাগ নিশ্চিত করেছে। অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভ এক মাস পূর্বে শুরু হয়েছিল।
বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইটের রিপোর্ট অনুযায়ী, আলী হেম্মাতি ও মাজিদ নিক-আন্দিশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ‘জানুয়ারির দাঙ্গায়’ অংশগ্রহণের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই ঘটনায় চার নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারান।
এ খবর তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়।
ওয়েবসাইটটি আরও জানায়, তারা সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি করে, দোকান, ব্যাংক, বাস ও বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এমনকি গাছেও আগুন লাগায়।
সুপ্রিম কোর্ট তাদের সাজা বহাল করার পর বুধবার ভোরে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে এটি দ্রুত সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সহিংসতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ এই সহিংসতার জন্য দায়ী করেছে। তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলো দাবি করেছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।
তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা শুরু করে ইরানে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূচনা ঘটে।
এরপর থেকে দেশটিতে গ্রেফতার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসবের সাথে যুদ্ধ এবং বছরের শুরুর দিকে বিক্ষোভ—দুইয়েরই সম্পর্ক রয়েছে।
ইরান হিউম্যান রাইটস ও টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি নামের দুটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর এটি দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ক্ষেত্রে চীনের পর ইরান দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সহিংসতা ও এসআইআর নিয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বুধবার দিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।
মমতা অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ডিম ও পাথর ছোড়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে তিনি নিরাপদে বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি রাজ্যে অরাজকতা ও স্বৈরাচার চালাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে মমতা বলেন, ‘আমি এখন আমার বাড়ি থেকেই বের হতে পারছি না’।
সম্প্রতি হুগলিতে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলা, ডিম ছোড়া ও পথ আটকানোর ঘটনা রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিজেপির দাবি, এসব ঘটনা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের প্রকাশ। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, এসবের পেছনে বিজেপির ষড়যন্ত্র রয়েছে। বৈঠকে এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করেন মমতা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ব্যঙ্গ করে তিনি ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলেন।
মমতা অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সফটওয়্যার টিমের সঙ্গে মিলে কোটি কোটি বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসআইআর প্রক্রিয়া তিনি ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করেন। একই সঙ্গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি জানান তিনি।
বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব উপস্থিত থাকতে না পারায় তার দলের দুই সাংসদ হরেন্দ্র মালিক ও মৌলানা মহিবুল্লাহ নদভি বৈঠকে যোগ দেন।
এদিকে, বিরোধীদের অভিযোগ নির্বাচন কমিশন খারিজ করেছে। কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া, মৃত ও ঠিকানা পরিবর্তন করা ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে তালিকা সঠিক করাই এসআইআরের উদ্দেশ্য। এটি একটি আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া বলেও জানিয়েছে কমিশন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেছেন, "আমার লাশের ওপর দিয়ে হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত হবে।"
তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে, যাতে নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা যায়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে এ কথা বলেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, নগরবাসীর সুবিধা নিশ্চিত করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আজও মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ফুটপাত দখলে থাকা ব্যক্তিরা এবং তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ফুটপাত দখল ও হামলার পেছনে ‘ফ্যাসিবাদের আমলের সুবিধাভোগী ও তাদের দোসররা’ জড়িত।
অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে প্রশাসক বলেন, "আজ পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিবাদের দোসররা মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ ও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করা হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।"
শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, নগরসেবার জন্য নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত উদ্ধারের যে কর্মসূচি রয়েছে, তা চলমান থাকবে।
পরিদর্শনকালে ডিএনসিসি প্রশাসকের সঙ্গে মিরপুর জোনের বিভাগীয় উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, কাফরুল ও মিরপুর থানার ওসি, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হাসান এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েসসহ সিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান আন্দোলনের নবম দিনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা দৃশ্যমান উদ্যোগ না নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করেছেন।
অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে এই আন্দোলনের নবম দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিবাদ মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ বা ভ্রুক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে তারা উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা চোখে কালো কাপড় বেঁধে অংশ নেন, যা প্রশাসনের নীরবতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন তারা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র সংলগ্ন সড়ক ধরে স্বাধীনতা চত্বরকে প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহিদ মিনারে এসে শেষ হয়।
মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা ‘প্রশাসন নীরব কেন, জবাব চাই, জবাব চাই’, ‘ভিসি স্যার, ভিসি স্যার, সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার বলেন, "গত আট দিন ধরেই আমাদের এই আন্দোলন চলমান রয়েছে। আমরা দেখছি সরকার আসলে আমাদের এই বিষয়ে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কোনো ধরণের আশ্বাস বা কোনো ধরণের পদক্ষেপও আমাদের জানাচ্ছে না। তো সেই প্রেক্ষিতে আমরা আজকে প্রতীকী প্রতিবাদ জানিয়েছি চোখে কালো কাপড় বেঁধে, যা আসলে বোঝায় যে আমাদের এই ক্ষেত্রে কেন প্রশাসন নীরব। আমাদের দাবি ১০টা না, ৫টা না, আমাদের দাবি মাত্র একটা—আমরা আমাদের পূর্বের ভিসিকে পুনর্বহাল চাই। তো সরকারের কাছে আমাদের এই আকুল আবেদন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন আমাদের এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ