শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৮ এম
বাংলাদেশের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান। ধর্মীয়, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সৌদি আরব, কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ভূমিকা অপরিহার্য। লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক তাদের শ্রম, ঘাম ও ত্যাগের মাধ্যমে এসব দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি মূল ভিত্তি। তবে এই অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্তরালে রয়েছে বৈষম্য, শোষণ, অমানবিক আচরণ এবং প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার হরণের এক উদ্বেগজনক বাস্তবতা। কুয়েতে সামরিক কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যাপক ভ্রমণের সুযোগে সেখানকার সমাজব্যবস্থা, প্রশাসনিক সংস্কৃতি, মানুষের আচরণ ও বিদেশিদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পর্যবেক্ষণের সুযোগ হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতার মধ্যে কিছু ইতিবাচক, আবার কিছু অত্যন্ত তিক্ত, বিস্ময়কর ও হতাশাজনক ছিল।
পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এসব দেশের সমাজ ও প্রশাসনের কিছু অংশে পশ্চিমা নাগরিকদের প্রতি বিশেষ সমীহ এবং বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশের নাগরিকদের প্রতি অবজ্ঞাপূর্ণ মনোভাব বিদ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের যোগ্যতা, সততা ও মানবিক মর্যাদার পরিবর্তে তার জাতীয়তা, অর্থনৈতিক অবস্থান এবং পাসপোর্টের গুরুত্বই আচরণের মানদণ্ড হয়ে দাঁড়ায়। তবে সব আরব নাগরিক কিংবা সরকারি কর্মকর্তার আচরণ একরকম নয়। অনেক মানবিক, উদার ও ন্যায়পরায়ণ মানুষের সঙ্গেও পরিচয় হয়েছে। কিন্তু কিছু ব্যক্তির ইতিবাচক আচরণ দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও শ্রমিক নির্যাতনের বাস্তবতা আড়াল করা যায় না।
মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সমাজে বিদেশি নাগরিকদের প্রতি আচরণে একটি অঘোষিত শ্রেণীবিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। পশ্চিমা দেশের নাগরিকরা অনেক ক্ষেত্রে অধিক সম্মান, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা পান। অন্যদিকে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল কিংবা আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলো থেকে আসা শ্রমিকরা কখনো কখনো অবজ্ঞা, বৈষম্য এবং অসম আচরণের শিকার হন। এই বৈষম্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত মনোভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অনেক ক্ষেত্রে তা মজুরি, কর্মপরিবেশ, আবাসন, বিচারপ্রাপ্তি এবং প্রশাসনিক সেবায়ও প্রতিফলিত হয়।
বিশেষ করে গৃহকর্মী, নির্মাণশ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্বল্প আয়ের অভিবাসীরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। তাদের অনেকেই ভাষা জানেন না, স্থানীয় আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই এবং নিয়োগকর্তার ওপর অর্থনৈতিক ও আইনগতভাবে নির্ভরশীল। প্রশ্ন হচ্ছে, একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কি অন্য দেশের দরিদ্র মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার অধিকার দেয়? অবশ্যই নয়। মানুষের মর্যাদা তার জাতীয়তা, ধর্ম, বর্ণ কিংবা অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে না।
বাংলাদেশি নারী গৃহকর্মীদের অসহায়ত্ব
বিদেশে গৃহকর্মে নিয়োজিত অনেক নারী সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। বাংলাদেশের অসংখ্য নারী সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বহন, পরিবারের ঋণ পরিশোধ, বৃদ্ধ মা-বাবার চিকিৎসা কিংবা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় বিদেশে যান। তাদের অনেকেই নিজের জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু বিদেশে পৌঁছানোর পর কেউ কেউ এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন, যেখানে তাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা, শ্রমের ন্যায্যমূল্য এবং মৌলিক মানবাধিকার বিপন্ন হয়ে পড়ে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনের ২০২৫ সালের মে মাসের অনুসন্ধানে সৌদি আরবে কর্মরত ৭০ জনের বেশি নারী গৃহকর্মীর অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, চলাফেরায় বাধা, পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া, মজুরি আটকে রাখা এবং শারীরিক, মৌখিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসে। সাক্ষাৎকারদাতাদের অনেকেই দৈনিক অন্তত ১৬ ঘণ্টা কাজ করার কথা জানিয়েছেন। তাদের গড় মাসিক মজুরি ছিল প্রায় ৯০০ সৌদি রিয়ালÑঅর্থাৎ আনুমানিক ২৪০ মার্কিন ডলার। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত অ্যামনেস্টির আরেকটি অনুসন্ধানে সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা ১৯ জন ফিলিপিনো নারীর অভিজ্ঞতায় দৈনিক ১৪ থেকে ২১ ঘণ্টা কাজ, সাপ্তাহিক বিশ্রামের অভাব এবং নির্যাতনের অভিযোগ উঠে আসে।
এসব অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট সাক্ষাৎকারদাতাদের অভিজ্ঞতাভিত্তিক; সব নিয়োগকর্তা কিংবা সব গৃহকর্মীর অবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। কিন্তু অভিযোগগুলোর গুরুত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সমস্যাটি নতুন নয়। ২০১৯ সালের মার্চে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে ব্র্যাকের তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়, ২০১৮ সালে প্রায় ১ হাজার ৩০০ বাংলাদেশি নারী সৌদি আরব থেকে ফিরে নির্যাতন বা শোষণের অভিযোগ করেছিলেন। এই ঘটনাগুলো আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরে : বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য রাষ্ট্র কি তার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে দ্বিতীয় স্থানে রাখতে পারে?
মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশার অন্যতম কাঠামোগত কারণ কাফালা বা স্পনসরশিপব্যবস্থা। এই ব্যবস্থার বিভিন্ন রূপে একজন বিদেশি শ্রমিকের অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান নিয়োগকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত থাকে। ফলে কর্মস্থল পরিবর্তন, নিরাপদে চাকরি ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ক্ষেত্রে শ্রমিক নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে পারেন। বিশেষত, ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে কর্মরত নারী শ্রমিকদের পরিস্থিতি আরো জটিল। তাদের কর্মস্থল অনেক সময় বাইরের পর্যবেক্ষণ ও নিয়মিত শ্রমপরিদর্শনের আওতার বাইরে থাকে।
যে নারী একই পরিবারের ওপর বেতন, বাসস্থান ও নিরাপত্তার জন্য নির্ভরশীল, তার পক্ষে সেই পরিবারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করা অত্যন্ত কঠিন। সৌদি আরবে শ্রমনীতি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অনুসন্ধানে গৃহকর্মীদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতির কথা উঠে এসেছে।
কুয়েতের ২০১৫ সালের গৃহকর্মী আইনে সাপ্তাহিক ছুটি, বছরে ৩০ দিনের বেতনসহ ছুটি এবং বিশ্রামসহ সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টার কর্মদিবসের বিধান রয়েছে। কিন্তু আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবে তার প্রয়োগ এক বিষয় নয়। আইনের কার্যকারিতা বিচার করতে হবে শ্রমিক কতটা স্বাধীনভাবে অভিযোগ করতে পারেন, বিপজ্জনক কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারেন এবং ন্যায়বিচার পানÑ এর ভিত্তিতে।
সৌদি আরবের বিচারব্যবস্থা ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৩৫৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩৪৫। সংস্থাটির উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রাণহানিবিহীন মাদকসংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২৪০ জনের মধ্যে ১৮৮ জন ছিলেন বিদেশি নাগরিক।
এই পরিসংখ্যান সব ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তথ্য; এগুলোকে গৃহকর্মীদের মামলা বা শিরশ্ছেদের পৃথক হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না। অপরাধের বিচার অবশ্যই হতে হবে। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়ায় ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, আইনগত সহায়তার অভাব কিংবা যথাযথ আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না থাকলে ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
বাংলাদেশের উচিত আটক প্রত্যেক নাগরিকের জন্য দ্রুত কনস্যুলার সহায়তা, দক্ষ আইনজীবী, দোভাষী এবং ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা পালন করা। ধর্মীয় বা আইনগত ব্যাখ্যা কখনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, স্বচ্ছ বিচার এবং মানবাধিকারের বিকল্প হতে পারে না।
ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন বিদেশে গৃহকর্মীদের সুরক্ষার প্রশ্নে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিক পাঠানো স্থগিত এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথ অনুসরণ করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২০১৫ সালে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানোর ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। পরে সুরক্ষাব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে সহযোগিতা আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফিলিপাইনও সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো সাময়িকভাবে স্থগিত করে ২০২২ সালের নভেম্বরে নতুন সুরক্ষাসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পুনরায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেয়।
এসব অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, শ্রমিক পাঠানো সাময়িক স্থগিত রাখা কূটনৈতিক দর-কষাকষির একটি উপায় হতে পারে। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে বিকল্প কর্মসংস্থান, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ এবং কার্যকর নজরদারি থাকতে হবে।
বাংলাদেশের অভিবাসননীতিতে মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন। কতজন কর্মী বিদেশে গেলেন কিংবা কত বৈদেশিক মুদ্রা এলোÑএগুলোই সাফল্যের একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না।
প্রথমত, সৌদি আরব ও কুয়েতে ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে থেকে গৃহকর্মে নিয়োজিত হওয়ার জন্য নতুন নারী কর্মী পাঠানো একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত, যতক্ষণ না স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত হয়।
দ্বিতীয়ত, দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে কর্মীর পাসপোর্ট ও ফোন নিজের কাছে রাখা, নিয়মিত মজুরি প্রদান, বিশ্রাম, ছুটি এবং নিরাপদে চাকরি পরিবর্তনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং শক্তিশালী করতে হবে। পর্যাপ্ত কর্মকর্তা, নারী সুরক্ষা কর্মকর্তা, জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র, বাংলায় অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত উদ্ধারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
চতুর্থত, প্রতারণামূলক নিয়োগ, অতিরিক্ত অর্থ আদায়, চুক্তি পরিবর্তন এবং বিপজ্জনক নিয়োগকর্তার কাছে জেনেশুনে কর্মী পাঠানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
পঞ্চমত, নির্যাতিত নারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা, আইনগত প্রতিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
ষষ্ঠত, কর্মী পাঠানো, নির্যাতনের অভিযোগ, জরুরি প্রত্যাবর্তন, মৃত্যু, বকেয়া মজুরি আদায় এবং বিচারিক ফলাফল সম্পর্কে নিয়মিত নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হবে।
সপ্তমত, নারীদের জন্য দেশ ও বিদেশে নিরাপদ, দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক অসহায়ত্ব তাদের ঝুঁকিপূর্ণ চাকরি গ্রহণে বাধ্য না করে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরব, কুয়েত এবং অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বন্ধুত্বের অর্থ অন্যায়কে নীরবে মেনে নেওয়া নয়। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার নাগরিকদের জীবন, স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষা করা। অর্থনৈতিক স্বার্থ কিংবা কূটনৈতিক সৌজন্যের কারণে সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসা যায় না।
বাংলাদেশকে মনে রাখতে হবে, প্রবাসী শ্রমিকরা কোনো করুণার পাত্র নন। তারা পরিশ্রমের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। তাই তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকেও উপলব্ধি করতে হবে, আধুনিক অবকাঠামো, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার প্রকৃত মূল্য তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন সমাজের সবচেয়ে অসহায় মানুষটিও ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণ পান।
শেষ কথা
কুয়েতে একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের পর্যবেক্ষণ আমাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধির দিকে নিয়ে গেছেÑঅর্থনৈতিক সমৃদ্ধি সবসময় মানবিক উৎকর্ষের নিশ্চয়তা দেয় না। একটি রাষ্ট্র কতটা উন্নত, তার বিচার শুধু সম্পদ, আকাশচুম্বী ভবন কিংবা আন্তর্জাতিক প্রভাব দিয়ে করা যায় না। প্রকৃত সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায় দুর্বল, দরিদ্র ও বিদেশি মানুষের প্রতি তার আচরণে।
বাংলাদেশকে তাই আত্মমর্যাদাশীল, বাস্তববাদী ও মানবিক কূটনীতি অনুসরণ করতে হবে। বিদেশে কর্মসংস্থান অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা কোনোভাবেই নাগরিকের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও সম্মানের বিনিময়ে হতে পারে না। রাষ্ট্রের কাছে একজন প্রবাসী নারীর জীবন ও মর্যাদার মূল্য যেকোনো শ্রমবাজার কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের চেয়ে বেশি হতে হবে। কারণ মানুষ অর্থনীতির জন্য নয়; অর্থনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক ছাত্রের পাঠানো একটি বয়ান শুনে কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের (১৮৬৩-১৯১৩) বিখ্যাত কবিতা ‘নতুন কিছু করো’র কিছু পঙ্ক্তি মনে পড়ে গেল।
নতুন কিছু করো,
একটা নতুন কিছু করো।
নাকগুলো সব কাটো,
কানগুলো সব ছাঁটো;
পাগুলো সব উঁচু করে,
মাথা দিয়ে হাঁটো;
হামাগুড়ি দাও, লাফাও,
ডিগবাজি খাও, ওড়ো;
কিংবা চিৎপাত হয়েÑ
পাগুলো সব ছোঁড়ো;
ঘোড়াগাড়ি ছেড়ে এখন
বাইসিকেলে চড়ো।
কিংবা সবাই ওঠো, টাউন হলে জোটো;
ধর্ম প্রচার করতে আমেরিকায় ছোটো;
আমরা যেন নেহাতই খাটো
হয়ে না যাই দেখো,
খুব খানিক চেঁচাও কিংবা খুব খানিক লেখো;
ছাড়ো, আবার ভাগবত পড়ো।
Ñনতুন কিছু করো, একটা নতুন কিছু করো।
কলিকালে কত কিছুই নতুন দেখতে ও শুনতে পাচ্ছি। এই বয়ানেও তেমনই অদ্ভুত কিছু পেলাম। অন্যান্য সঠিক, সাহসী ও অপ্রিয় বক্তব্যের মধ্যে তিনি বলেন ভয়ংকর এক ভ্রান্ত কথা—‘ধর্মে বিশ্বাস বলে কিছু নেই!’
প্রেরিত বয়ানটি শ্রদ্ধেয় অগ্রজপ্রতিম মার্কসীয় চিন্তাধারার বুদ্ধিজীবী বলেই প্রতীয়মান এমন একজনের একটি চিত্রায়িত উপস্থাপন (ইউটিউব) পাঠান, যিনি সম্প্রতি একজন আধুনিক বাউল ধর্মগুরু বলেও আবির্ভূত। সাধারণত এ ধরনের চিত্রায়িত উপস্থাপন (ইউটিউব) দেখার বা শোনার অভ্যাস নেই। একজন আধা বাঙালি আধা জার্মান বালকের কিছুদিন আগে আবিষ্কৃত ‘ইউটিউব’ নামের এই ভয়ংকর অদ্ভুত জন্তু বা যন্ত্রের মাধ্যমে জ্ঞানরাজ্যে যে অভাবিত নৈরাজ্যের অরাজকতার দুয়ার অবারিত হয়েছে, তার পৃষ্ঠপোষকতায় অনাগ্রহেই এমন। কিন্তু মাঝে মাঝে ব্যতিক্রম ঘটে, আর এই বিশেষ ক্ষেত্রেও প্রেরিত চিত্রায়িত উপস্থাপনাটি (ইউটিউব) মনোযোগ দিয়ে শুনলাম। বক্তার মার্কসীয় দর্শন, সামাজিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা আর সমাজে ধর্মের অনস্বীকার্য গুরুত্ব সম্পর্কে তার উপলব্ধির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই উপস্থাপনাটি মনোযোগ দিয়ে শুনলাম, যদিও আমি নিজে মার্কসবাদী নই, ধর্মান্ধতারও ভক্ত নই। আর বয়ানটি চিন্তাশীল স্নেহাস্পদ ছাত্রটি পাঠিয়েছিল বলেও আরো মনোযোগ দিয়ে দেখলাম বা শুনলাম।
বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ কথা তিনি বলেছেন, যথার্থ সাহসিকতার সঙ্গে। তার জন্য সাধুবাদ। কিন্তু মার্কসীয় দর্শন ধর্মীয় বলে চালানো যে কূপমণ্ডূকতা বিনাশে আগ্রহী, তার বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে একপর্যায়ে ধর্ম নিয়ে ওই যে এমন একটি অদ্ভুত নতুন কথাও বলে ফেলেন, যার যথাসাময়িক সংশোধনী দরকার মনে করেই কলম ধরলাম।
দুদিন হলো মার্কসীয় দর্শনের এশীয় প্রেক্ষিতে প্রয়োগের প্রচেষ্টার মহানায়ক মাও সে তুংয়ের চীন থেকে এসেছি—চীনের সে মাও সে তুংও ধর্মসংক্রান্ত এই নতুন অদ্ভুত কথাটিতে হয়তো তাজ্জব হতেন। স্বয়ং মার্কসও! ধর্মের পাশ্চাত্য সমাজবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পাণ্ডিত্যের পণ্ডিত, আর ধর্মানুরাগী ধর্মগুরুদের কথা তো রইলই!
ওই বিশেষ গুরুজনপ্রতিম চিন্তাবিদ পর্যায়ের বুদ্ধিজীবী না হলে হয়তো বলেই ফেলতাম, এমন অদ্ভুত নতুন কথাটি বলে ফেলা দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ওই ‘নতুন কিছু করো’র মতো ধর্মসংশ্লিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক স্টান্টবাজির মাধ্যমে কিছু দর্শক-শ্রোতাকে বিমোহিত করে আকর্ষিত করার চেষ্টার অংশই মাত্র; অনুজপ্রতিম হিসেবে সে বেয়াদবি এখানে করব না। দার্শনিকের দর্শনদৃষ্টির কিঞ্চিৎ ভ্রান্তিই ধরে নিয়ে আমাদের মতো সাধারণ্যেসহ সব সত্যাগ্রহীর জন্য তার সংশোধনী দেওয়ার চেষ্টা করব।
বিশ্বাসই ধর্মের বীজ, আর তার কেন্দ্রসম সারবত্তা। একে বাদ দিয়ে ধর্ম হয় না; কোনো ধর্মই হয় না। বলা হয়, বৌদ্ধধর্মে নাকি কোনো বিশ্বাস নেই, আছে শুধু দর্শন। কোনো এক সময় শ্যামদেশে (‘থাইল্যান্ড’-এ) বৌদ্ধ দর্শনে নিযুক্ত ‘আচার্ন’ (‘আচার্যন’ / ‘আচার্যম’, বা ‘আচার্য’) হিসেবে আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকেই বলতে পারি, কথাটি ঠিক নয়। বৌদ্ধ দর্শনটি বৌদ্ধধর্ম থেকেই প্রবাহিত ঠিক সেভাবেই, যেমনটি খ্রিষ্টীয় দর্শন প্রবাহিত খ্রিষ্টধর্ম থেকে। কিন্তু ধর্ম আর দর্শন এক নয়, দর্শন ধর্ম থেকে প্রবাহিত হলেও। উদাহরণস্বরূপ, আমার নিজের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টীয় পণ্ডিতদের মাধ্যমে পড়াশোনার ভেতর দিয়ে খোদ যিশুখ্রিষ্ট থেকে ধারাবাহিক সনদপরম্পরায় খ্রিষ্টীয় দর্শনে সনদ থাকলেও আমি খ্রিষ্টধর্মের ওই পর্যায়ের পাণ্ডিত্য ধারণ করি না। একইভাবে বৌদ্ধ সমাজে বৌদ্ধ দর্শন পড়ানোর জন্য নিযুক্ত আচার্ন বা আচার্য হলেও বৌদ্ধধর্মের পণ্ডিত নই সে পর্যায়ে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই ধর্মোৎসারিত দর্শনের যৎসামান্য জ্ঞান থেকেই বলতে পারি, দর্শন উৎসারিত যে ধর্ম থেকে, তা তার মৌলিক ধর্মবিশ্বাস থেকেই। দর্শনের পরিভাষায় দর্শনের ভিত্তিরূপ এমন কিছু মৌলিক বিশ্বাস, যা প্রমাণোর্ধ্ব, তাকে স্বতঃসিদ্ধ, সিদ্ধান্ত বা মূলতত্ত্ব বলা হয়। এর সবই কোনো না কোনো ধর্মবিশ্বাস থেকে উৎসারিত।
ইউরোপের জনসাধারণ এবং সত্যসন্ধানী পণ্ডিত ও বিপ্লবীরা ধর্মব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভণ্ডামি ও নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে তাদের প্রধান ধর্ম, তথা খ্রিষ্টধর্মকে পরিত্যাগে উদ্যত হলে ধর্মকেই বাদ দিয়ে তার বিকল্প হিসেবে দর্শনকে তুলে ধরতে গেলে, তার ভিত্তিরূপ ‘স্বতঃসিদ্ধ’ সন্ধানে প্রবৃত্ত হলে, তার উৎস হিসেবে ইউরোপে প্রচলিত ধর্ম খ্রিষ্টবাদ, ও তার প্রতিপক্ষ হিসেবে ইউরোপীয়দেরই প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে করা ইহুদি ও ইসলাম ধর্ম—এসব বাদ দিয়ে, তারও পেছনে, প্রাচীনতর ইউরোপের ধর্ম, তথা গ্রিক পৌত্তলিক ধর্মের বিশ্বাস ও জগদ্দৃষ্টির (Weltanschauung) দ্বারস্থ হয়ে তারই পুনরুজ্জীবনে (Renaissance) প্রবৃত্ত হয়। দর্শনের নামে প্রাচীন গ্রিক ও তার উৎস, ব্যাবিলনীয় ও প্রাচীন মিসরীয় পৌত্তলিক, শয়তান-উপাসনামূলক জাদুবিদ্যাভিত্তিক ধর্মবিশ্বাস, চর্চা ও দৃষ্টিভঙ্গির ‘পুনরুজ্জীবন’কে ‘নবজাগরণ’ বলেও তাকে প্রচলিত ধর্মের বিকল্প হিসেবে প্রচলিত করে সেই সদুদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিন্তু পথভ্রষ্ট বিপ্লবী ও তাদের অনুগামী। মধ্যযুগের ক্রুসেড যুদ্ধে এসে ইউরোপীয় যোদ্ধাদের অনেকে মধ্যপ্রাচ্যে সংগোপনে সংগঠিত শয়তানপূজারি জাদুবিদ্যাভিত্তিক ধর্মচর্চার গোপন নিয়ম শিখে, তার চর্চাকারীদের গোপন সংগঠন গড়ে তোলে ইউরোপময়, আর ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতা বিস্তারের ভেতর দিয়ে বিশ্বের অন্যান্য জায়গায়, বিশেষ করে সমাজপতি ও শাসক শ্রেণিগুলোর ভেতর।
এদের প্রভাবে প্রাচীন গ্রিক, ব্যাবিলনীয় ও মিসরীয় জাদুবিদ্যাভিত্তিক শয়তানপূজারি পৌত্তলিক ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গির প্রসারে ‘নবজাগরণ’-এর প্রবক্তারা প্রচলিত ধর্মগুলোর গণগ্রহণীয়তা ও জনপ্রিয়তার শেকড় কাটতে ধর্ম বিষয়টিরই বিরোধিতার ভান করে তার পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে দর্শন, ও তার অন্যতম শাখা বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠার কথা বলে, যদিও তার আড়ালে নানা মোড়কে, তাদের নিজেদের প্রাচীনতর ধর্মের দৃষ্টিভঙ্গি, আচার-আচরণ ও চর্চার প্রসার করে। অন্যদিকে তারা প্রচলিত ধর্মের কোনো একটা চর্চার ভান করে, ভেতর থেকে তার শেকড় কাটতে তার বিশ্বাসগুলোকে হয় অস্বীকার বা পরিবর্তনের কার্যক্রম করে। এরই প্রভাবে বিভিন্ন সমাজে নানা ‘নবজাগরণ’-ধারার বুদ্ধিজীবী, সমাজের প্রচলিত ধর্মচর্চা করে তার গুরু সেজে বসে সে ধর্মের নিয়মনীতি, দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিচ্ছে—তার অংশ হিসেবে, কখনো কখনো তার বিশ্বাসমালাকেই হয় বদলে দিচ্ছে, না হয় আমূল অস্বীকারই করে ফেলার প্রচার করছে—নিজেরা যে এর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছেন, সেটা না জেনে না বুঝেই।
মস্তিষ্কবিজ্ঞান অনুযায়ী কোনো জীবের মস্তিষ্কই কোনোরূপ বিশ্বাসমালা ছাড়া কার্যকর হতে বা থাকতে পারে না; মানুষের তো নয়ই। মস্তিষ্কমাত্রই দ্বিমিক (binary), অর্থাৎ তা কার্যকরই হয় সব সময়ই দুই সম্ভাব্য করণীয়ের ভেতর একটি বেছে নিয়ে তার ওপর কার্যকর হয়। দুই সম্ভাবনার ভেতর এভাবে একটি বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে, মস্তিষ্ক যেই সম্ভাবনাকে সঠিক বিশ্বাস করে, তাকেই বেছে নেয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো একটি পরিস্থিতিতে একজন চুরি করবে, না করবে না, তা ঠিক করার জন্য মস্তিষ্ক চুরি করা ঠিক বলে বিশ্বাস করলে, চুরি করার সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো একটি পরিস্থিতিতে একজন মিথ্যা বলবে, না বলবে না, তা ঠিক করার জন্য মস্তিষ্ক মিথ্যা বলা ঠিক বলে বিশ্বাস করলে, মিথ্যা বলার সিদ্ধান্ত নেবে। কোনো একটি পরিস্থিতিতে একজন ঘুস খাবে, না খাবে না, তা ঠিক করার জন্য মস্তিষ্ক ঘুস খাওয়া ঠিক বলে বিশ্বাস করলে ঘুষ খাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে।
এ রকম নানা বিশ্বাসের সমষ্টি নিয়ে বিশ্বাসমালা দিয়েই মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালি পরিচালনা ব্যবস্থা রূপায়িত হয়। একটি কম্পিউটার যেভাবে তার ‘ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম (DOS)’ দ্বারা তার অজ্ঞাতেই পরিচালিত হয়—মস্তিষ্কও সেভাবে এই বিশ্বাসমালার দ্বারা, সাধারণত তার সচেতনতা ছাড়াই পরিচালিত হয়।
ধর্ম মূলত এরূপ একটি বিশ্বাসমালা ও তার নির্দেশানুগ আচার-আচরণ এবং তদনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টি। দর্শনও এরূপ একটি বিশ্বাসমালা ও তদনির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির সমষ্টি সংশ্লিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে। কিন্তু কিছু স্বতঃসিদ্ধ বলে মেনে নেওয়া বিষয়ের ওপর বিশ্বাস বাদ দিয়ে না কোনো ধর্ম, না কোনো দর্শন বা তার শাখারূপ বিজ্ঞান সম্ভব।
তাই ধর্মে বিশ্বাস বলে কিছু নেই, কথাটি ধর্মমতেই শুধু নয়, বৈজ্ঞানিক বিচারেও একেবারেই অযৌক্তিক ও অসম্ভব। এমন কথা এমন এক নতুন অদ্ভুত কথা, যা শুধু দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের উদ্ধৃত কবিতাটিতে উল্লিখিত নতুন কিছু করা বা বলার জন্য বলার মতো উদ্ভট কিছু বৈ নয়।
তাহলে বুদ্ধিমান বুদ্ধিজীবী কোন বুদ্ধিতে এমন কথা বলেন? ভাষাবিভ্রাটে এমন হয়েছে।
বক্তা বলেন, ধর্ম হলো ‘ঈমান’, আর ‘ঈমান’ অর্থ ‘সমর্পণ’, তাই এখানে বিশ্বাসের কোনো বিষয় নেই।
কিন্তু ‘ঈমান’-এর আক্ষরিক অর্থ ‘সমর্পণ’ নয়, ‘বিশ্বাস’। ‘ঈমান’-এর শব্দমূল ‘অ-ম-ন’-এর অর্থ ‘নিরাপত্তা’, সেখান থেকে নিরাপত্তাজনিত ‘শান্তি’, আর সেখান থেকে নিরাপত্তা ও শান্তির ভিত্তি, তথা নিরাপত্তাজাত শান্তিদায়ক ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ এবং তারই চূড়ান্ত রূপ হলো ‘আমান’, তথা ‘ঈমান’।
তাহলে ‘ধর্ম হলো সমর্পণ’—কথাটি কোত্থেকে এলো? তার উৎস অন্য একটি শব্দ, ‘ইসলাম’, যার অর্থ ‘সমর্পণ’। প্রাচীন সেমিটিক ভাষা, তথা আরব্য ভাষা ও সংস্কৃতি, যাতে সব ধর্মেরই আদি উৎস নিহিত, তাতে ধর্মের নাম হলো ‘ইসলাম’। যেমনটি কোরআন শরিফে বলা আছে, মোটামুটি ভাষান্তরে, ‘খোদার নিকট ধর্ম হলো ইসলাম।’ আর ‘জিবরাইলের হাদিস’ বলে পরিচিত হাদিস শরিফ মতে, ধর্মের তিন বলয়—তার একটি ‘ইসলাম’, অর্থাৎ ‘সমর্পণ’; দ্বিতীয়টি ‘ঈমান’, অর্থাৎ বিশ্বাস; আর তৃতীয়টি ‘ইহসান’, অর্থাৎ ‘সুন্দরায়ণ’, অর্থাৎ বিশ্বাসভিত্তিক সমর্পণকে সুন্দর করে তোলা।
ধর্ম তাহলে অবশ্যই সমর্পণ, তথা ‘ইসলাম’, কিন্তু তা শুধুই সমর্পণ নয়, বিশ্বাসের বিকল্প হিসেবেও নয়, বরং বিশ্বাসে সমর্পণ, তাও সুন্দরভাবে। তার মাধ্যমে বিশ্বস্ততা অর্জন ও তার মাধ্যমে নিরাপত্তামূলক শান্তি অর্জন ও প্রতিষ্ঠা।
ধর্মকে বিশ্বাসের বিকল্পে বিশ্বাসবিহীন সমর্পণ হিসেবে উপস্থাপনের সুবাদে বুদ্ধিজীবী নির্বুদ্ধিমূলক আরেকটি ভ্রান্তির অবতারণা করে বলেন, ধর্ম হিসেবে ‘সমর্পণ’ হবে ‘গায়েব’-এ, যার ভয়ংকর ভ্রান্ত ‘অনুবাদ’ করেন তিনি অস্তিত্বহীন বলে। অর্থাৎ, তার মতে, ধর্ম হবে বিশ্বাসহীন এক সমর্পণ অস্তিত্বহীনের। ধর্মের আবহমানকালের চিরায়ত ধারণায় আসলে তো ধর্ম হলো সমর্পণ আল্লাহ, ‘গড’ বা ঈশ্বরের। এই নতুন কিছু করো মার্কা নতুন উদ্ভট ধারণায় ধর্ম যদি হয় অস্তিত্বহীনের সমর্পণ, তাহলে কি তিনি বোঝাতে চাচ্ছেন যে, আল্লাহ, গড বা ঈশ্বর অস্তিত্বহীন? এ কি ধর্মের নামে নাস্তিকতার উপস্থাপন ও পসরা? তার এ ভ্রান্তিরও উৎস ভাষাবিভ্রাট! কোরআন শরিফে ধর্ম শিক্ষা দিতে গিয়ে যে বলা হয়েছে, ‘গায়েব’-এ ‘ঈমান’-এর কথা, তার ‘গায়েব’-এর চরম ভুল ‘অনুবাদ’ করেছেন তিনি ‘অস্তিত্বহীন’ বলে, অথচ আরবি ‘গায়েব’ শব্দের অর্থ আদৌ অস্তিত্বহীন নয়, বরং পঞ্চেন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুধাবনের বাইরে যা, তা-ই। একটি লোক বহু দূরে দেখা যাচ্ছে না, তার কোনো শব্দও শোনা যাচ্ছে না, তার ঘ্রাণও পাওয়া যাচ্ছে না, স্পর্শ দিয়ে তাকে অনুভবও করা যাচ্ছে না, চেটে তার স্বাদও নেওয়া যাচ্ছে না—সে অবস্থায় সে ‘গায়েব’; তাই বলে সে অস্তিত্বহীন নয়।
‘গায়েব’-এ ঈমানের অর্থ তাই অস্তিত্বহীনের সমর্পণ নয়, পঞ্চেন্দ্রিয়াতীত অস্তিত্বমানে বিশ্বাস, আর ধর্ম, তথা ‘ইসলাম’ হলো সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই তাতে আত্মসমর্পণ।
বুদ্ধিজীবীর বুদ্ধি এভাবে অদৃশ্য বিশ্বাসে সমর্পণ করতে পারলে দেহ বেঁচে খাওয়া দেহজীবীতুল্য বুদ্ধি বেঁচে খাওয়া বুদ্ধিজীবী থেকে বোদ্ধাতে উত্তীর্ণ হয়ে ভ্রান্তির মায়াজাল থেকে মোহমুক্ত হতে পারেন। আমাদের মতো সাধারণ মানুষও। আর তার ফলে ইউটিউবের এসব ফেতনা থেকেও আমরা সবাই মুক্ত হতে পারি।
লেখক: প্রফেসর, ঢাকা ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশ ও বিদেশের বিবিধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূতপূর্ব শিক্ষক। যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটি থেকে তুলনামূলক মার্কসবাদ, ধর্মীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ পদ্ধতির ওপর পড়াশোনাপূর্বক পিএইচডি অর্জন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইপিএলের আসন্ন মৌসুমের প্রস্তুতির জন্য মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কোচিং স্টাফে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে। তিন কোচকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। বোলিং কোচ লাসিথ মালিঙ্গা, পারাস মাহামব্রে এবং ফিল্ডিং কোচ কার্ল হপকিনসন আর মুম্বাইয়ের সঙ্গে থাকবেন না। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ফ্র্যাঞ্চাইজিটি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তবে, এই তিন কোচের স্থলাভিষিক্ত কারা হবেন তা এখনও জানানো হয়নি। এর আগে, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রধান কোচ মাহেলা জয়াবর্ধনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। নতুন প্রধান কোচ হিসেবে কাইরন পোলার্ডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মালিঙ্গা খেলোয়াড় হিসেবে মুম্বাইয়ের হয়ে চারটি আইপিএল শিরোপা জিতেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে কোচিং স্টাফে যোগ দেন শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন এই পেসার। অন্যদিকে, ২০২৫ আসরের আগে বোলিং কোচ হিসেবে মাহামব্রে এবং ফিল্ডিং কোচ হিসেবে হপকিনসনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
মাহামব্রের মুম্বাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তিনি ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির কোচিং স্টাফে কাজ করেছেন এবং গত আসরের আগে দ্বিতীয়বারের মতো দলের সঙ্গে যুক্ত হন।
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স আইপিএলের প্রথম দল হিসেবে পাঁচবার শিরোপা জিতেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। গত ছয় আসরে তারা একবারও ফাইনালে উঠতে পারেনি। ২০২৩ ও ২০২৫ সালে প্লে-অফে জায়গা করে নিলেও ২০২৪ সালে দশম এবং সর্বশেষ আসরে নবম স্থানে থেকে প্রতিযোগিতা শেষ করেছে তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘সুপার সেল কার বাজার’। টানা সাত সপ্তাহের সফলতার পর এটি অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে গাড়ি কেনাবেচার এই বিশেষ আয়োজন।
ক্রেতারা এখানে নিজেদের পছন্দের গাড়িটি ক্রয় করার পাশাপাশি, ব্যবহৃত গাড়ি উপযুক্ত দামে বিক্রির সুযোগও পাবেন।
গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই গাড়ি কেনাবেচার আয়োজন প্রতি শুক্রবার নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ক্রেতারা এখানে ঝক্কিঝামেলা ছাড়াই পছন্দের বাইক কিংবা গাড়ি কিনতে সক্ষম হচ্ছেন। প্রয়োজনে নিজের ব্যবহৃত বাইক বা চার চাকার গাড়িও বিক্রি করার সুযোগ রয়েছে।
‘সুপার সেল কার বাজার’ উদ্বোধনী দিন থেকেই অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ক্রেতাদের অনেকেই মনে করছেন, এই ব্যস্ত শহরে এমন আয়োজন নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক। তাই ক্রেতাদের নিয়মিত স্বস্তি দিতে শুক্রবার সকাল ১০টায় পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শুরু হবে ‘সুপার সেল কার বাজার’। নতুন, পুরাতন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি, মোটরবাইক এবং ইউটিলিটি ভেহিকেলের বিশাল সমাহার থাকবে এই বাজারে।
উদ্যোক্তাদের মতে, বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি নিয়মিত ও আধুনিক মার্কেটপ্লেসের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ‘সুপার সেল কার বাজার’ সেই চাহিদার পূরণে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্রেতারা এক জায়গায় বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও মডেলের যানবাহন সম্পর্কে জানার এবং তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন। একইসঙ্গে বিক্রেতারাও সরাসরি সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন।
‘সুপার সেল কার বাজার’ আয়োজন করছে উইজার্ড শোবিজ এবং ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রয়েছে আইসিসিবি।
এই আয়োজনে বিভিন্ন ব্র্যান্ড, ডিলারশিপ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অটোমোবাইল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন নতুন, রিকন্ডিশন্ড ও ব্যবহৃত গাড়ি এবং মোটরসাইকেল বিশেষ ছাড়ে কেনাবেচার সুযোগও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারাদিনের কাজ শেষে যখন কেউ ঘরে ফিরে একটু শান্তিতে বসতে চান, তখন যদি সোফায় ছড়িয়ে থাকা কাপড়, টেবিলে জমে থাকা কাগজপত্র, মেঝেতে পড়ে থাকা খেলনা কিংবা রান্নাঘরের অপরিষ্কার বাসনপত্র দেখে বিরক্তি অনুভব করেন, তখন বিষয়টিকে নিছক ঘর পরিষ্কারের ঝামেলা হিসেবে উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, আপনার চারপাশের পরিবেশের সঙ্গে মানসিক স্বস্তির সম্পর্ক বিদ্যমান।
অগোছালো ঘর ও মানসিক চাপের সম্পর্ক
ঘর অগোছালো থাকলে কি সত্যিই মন খারাপ হয়? ২০২৫ সালের আগস্টে Journal of Environmental Psychology সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ৫০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, ঘরের অগোছালো অবস্থা এবং মানুষের মানসিক সুস্থতার মধ্যে নেতিবাচক সম্পর্ক বিদ্যমান। যাঁরা নিজেদের ঘরকে বেশি অগোছালো মনে করেছেন, তাঁদের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি বেশি এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি ও মানসিক সুস্থতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে।
তবে গবেষণাটি থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে অগোছালো ঘরই মানসিক অশান্তির একমাত্র কারণ। আগে থেকেই মানসিক চাপে থাকা ব্যক্তির পক্ষে ঘর গোছানো কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অর্থাৎ, সম্পর্কটি দুই দিক থেকেই কাজ করতে পারে।
চোখের সামনে বিশৃঙ্খলা থাকলে মনের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে। ঘরে অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছড়িয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় জিনিস খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কোথায় চাবি রাখা হয়েছে, জরুরি কাগজপত্র কোথায়, কিংবা কাপড়ের স্তূপের মধ্যে পছন্দের পোশাকটি খুঁজে পাওয়া—এ ধরনের ছোটখাটো সমস্যা প্রতিদিনের বিরক্তি বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে, ঘরে ফিরেই যদি অসমাপ্ত কাজের তালিকা চোখে পড়ে, তাহলে অবসর সময়েও মনে হতে পারে অনেক কিছু এখনো করা বাকি। ফলে বাড়িতে থেকেও বিশ্রামের অনুভূতি পাওয়া কঠিন হতে পারে।
ঘরের পরিবেশ কি মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত? ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের গবেষক ডারবি স্যাক্সবে ও রেনা রেপেত্তির ২০১০ সালের একটি গবেষণায় ৩০ জন দ্বৈত-আয়ের দম্পতির বাড়ির পরিবেশ ও মানসিক অবস্থার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যেসব নারী তাঁদের ঘরকে বেশি চাপপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে দিনের সঙ্গে নেতিবাচক মেজাজ বাড়ার সম্পর্ক দেখা গেছে। তাঁদের কর্টিসলের দৈনিক ওঠানামার ধরনও তুলনামূলকভাবে কম খাড়া ছিল, যা কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষণাটি ছোট পরিসরের হওয়ায় এর ফলাফল সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে বাড়ির পরিবেশ যে মানুষের মানসিক অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, তা বোঝার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।
অগোছালো ঘর থেকে অপরাধবোধও তৈরি হতে পারে। অনেকেই ঘর অগোছালো দেখে মনে মনে ভাবেন, ‘এতটুকু কাজও কেন করতে পারছি না?’ কর্মজীবী মানুষ, ছোট সন্তানের অভিভাবক কিংবা যাঁদের ওপর পরিবারের বেশির ভাগ দায়িত্ব থাকে, তাঁদের জন্য ঘর গোছানো আরও একটি অসমাপ্ত কাজের বোঝা হয়ে উঠতে পারে।
ফলে শুধু ঘরের বিশৃঙ্খলা নয়, নিজের প্রতি বিরক্তি ও অপরাধবোধও তৈরি হতে পারে। অথচ ক্লান্তি, সময়ের অভাব, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কিংবা মানসিক চাপের মতো বাস্তব কারণেও ঘর অগোছালো থাকতে পারে। তাই ঘর গোছানো না থাকাকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
ঘর শুধু থাকার জায়গা নয়, এটি আমাদের বিশ্রাম, অভ্যাস ও দৈনন্দিন অনুভূতির সঙ্গেও জড়িত। গবেষণায় অগোছালো পরিবেশের সঙ্গে কম মানসিক সুস্থতা ও বেশি নেতিবাচক অনুভূতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে অগোছালো ঘর সরাসরি মানসিক সমস্যার কারণ- এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো যথেষ্ট নয়।
চলবে....
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ