০৪:৫০ পি.এম
ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যবসায়ী আবদুল মালেকের পুত্র শিহাব উদ্দিন মালেক সাগর (৩৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মাহজাবিন ইসলাম রিয়াকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়ে এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য তার পরিবার আবেদন করেছে। তারা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য হস্তান্তরেরও দাবি করেছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ভাই সাইফুদ্দিন মালেক পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাগরকে একটি পরিকল্পিত ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে হত্যা করা হয়েছে এবং পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: কালিয়াকৈরে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ৫ লাখ টাকা ছিনতাই
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সাগরের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পাঁচদিন পর, ২৫ আগস্ট ভাটারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের পরিবার জানায়, সাগরের পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে অবস্থিত। তিনি ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে ঢাকায় গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন। ঢাকায় অবস্থানকালে মাহজাবিন ইসলাম রিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, দাবি পরিবারের।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্কের এক পর্যায়ে সাগর বিয়ের প্রস্তাব দিলেও রিয়া তাতে সম্মতি দেননি। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে সাগর চট্টগ্রামে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের দাবি, চট্টগ্রামে অবস্থানকালে গত ১৯ আগস্ট রিয়ার আমন্ত্রণে সাগর ঢাকায় আসেন। ২০ আগস্ট ছিল তার জন্মদিন, কিন্তু ওইদিনই ভাটারা এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, সাগর ২১ আগস্ট চট্টগ্রামে ফেরার জন্য বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিট কিনেছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: সুরঞ্জিতের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল ও সালাহউদ্দিন আহমদের মতভেদ
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা আরো দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে মামলার প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত রিয়াকে বটি হাতে সাগরকে হত্যার হুমকি দিতে দেখা যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ারটেকার মুসা ও এক অজ্ঞাত নারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ, সাগরের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে অসংগতি রয়েছে। তারা মনে করেন, ঘটনার সময় অ্যাপার্টমেন্টে কারা উপস্থিত ছিলেন, মৃত্যুর আগে ও পরে কারা সাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং ঘটনাস্থলের আলামতসহ বিভিন্ন তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার প্রধান আসামি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন, যা তাদের উদ্বিগ্ন করেছে। তাদের আশঙ্কা, তদন্ত চলাকালে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট করা বা তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। এ কারণে মামলার সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা সাগরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত, ফরেনসিক ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন যাচাই, ঘটনার আগে ও পরের ফোনকল, বার্তা এবং অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান। তারা গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সাগরের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন: মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন নিহতের চাচা আনোয়ার হোসেন সিপিএ। তিনি বলেন, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যাকে পরবর্তীতে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ এবং সাগরের শেষ মুহূর্তের যোগাযোগসূত্রগুলো খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন