ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কর্নেলে গণধর্ষণ কাণ্ডে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান মাইকেল কটলিকফ


কর্নেলে গণধর্ষণ কাণ্ডে মুখ খুললেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান মাইকেল কটলিকফ

যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের (গণধর্ষণের) অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রধান মাইকেল কটলিকফ মুখ খুলেছেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও ভালো করতে হবে এবং কীভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করা হয়েছিল, তার জবাব খুঁজে বের করা হবে।

৩ অক্টোবর দেওয়া প্রায় আট মিনিটের ভিডিও বক্তব্যে কটলিকফ জানান, জেন ডোকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যৌন নিপীড়ন, মানুষকে অমানবিকভাবে দেখা এবং পার্টিতে মদ ও মাদক ব্যবহারের সংস্কৃতি নিয়ে হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক প্রশ্ন তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে জেন ডোর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়টি গভীরভাবে উদ্বেগজনক এবং এর প্রভাব কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের ওপর দীর্ঘকাল থাকবে। কটলিকফ স্বীকার করেন, ঘটনাটি কীভাবে সামাল দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সব উত্তর নেই। তাই বিষয়টি আরও ভালোভাবে মোকাবিলা করা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ আগামী সপ্তাহে একটি স্বাধীন পর্যালোচনার ঘোষণা দেবে বলে কটলিকফ জানিয়েছেন। বাইরের একটি আইন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে সামাল দিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এছাড়াও নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হকুলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন কটলিকফ। অভিযোগের ফৌজদারি তদন্তের দায়িত্ব নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয়ের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এই তদন্তে সহযোগিতা করবে।

যৌন নিপীড়ন সংক্রান্ত নিউইয়র্কের আইন পরিবর্তনের উদ্যোগকেও সমর্থন জানিয়েছেন কর্নেল প্রধান। বর্তমান আইনে কেউ স্বেচ্ছায় মাদক বা মদ গ্রহণ করলে শুধুমাত্র সেই কারণে তাকে যৌন সম্পর্কে সম্মতি দেওয়ার আইনগত অক্ষম ব্যক্তি হিসেবে ধরা হয় না—এ নিয়ে সমালোচনা রয়েছে।

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। কটলিকফ বলেন, ভবিষ্যতে কোনো ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, কেন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং কী সীমাবদ্ধতা রয়েছে—এসব বিষয়ে আরও পরিষ্কারভাবে জানানো হবে। আইন ও নীতিমালার সীমার মধ্যে স্বচ্ছতাও বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ৭ নিহত

২০২৪ সালের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ওই শিক্ষার্থী কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান। এর আগে একই বছরের ১৯ অক্টোবর কর্নেলের ‘চি ফাই’ ভ্রাতৃসংঘের ভবনে তাকে কয়েকজন সদস্য যৌন নিপীড়ন করেছেন বলে সেপ্টেম্বরে করা মামলায় অভিযোগ করেন জেন ডো। ওই সময় তার বয়স ছিল ২০ বছর।

বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ জেন ডোর ছয় পৃষ্ঠার একটি বক্তব্য স্থানীয় সরকারি জজদের কাছে পাঠায়। পরে আরও কিছু প্রমাণ ও সাক্ষাৎকারের তথ্য নিয়ে পুলিশ স্থানীয় জজদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও অভিযোগের বিষয়ে ফৌজদারি মামলা না করার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সেসব অতিরিক্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

স্থানীয় সরকারি জজ ম্যাথিউ ভ্যান হাউটেন আগে অভিযোগে মামলা না করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে ২ অক্টোবর তিনি বলেন, ঘটনাটির পুরো চিত্র হয়তো তার কাছে পৌঁছায়নি।

আরও পড়ুন: প্রথম দফায় পিছিয়ে লুলা, ব্রাজিলের ভোটে ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের আশা

ভ্রাতৃসংঘের কার্যক্রমও পর্যালোচনা

কটলিকফ জানিয়েছেন, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভ্রাতৃসংঘের ভূমিকা ও কার্যক্রমও নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ভ্রাতৃসংঘগুলোর ইতিবাচক দিকগুলো কীভাবে ধরে রাখা যায় এবং একই সঙ্গে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও অন্যের নিরাপত্তার প্রতি দায়িত্ববোধ কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা দেখা হবে।

সমালোচনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষিতে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহান্তের সব সামাজিক ভ্রাতৃসংঘের অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। এ ঘটনায় ৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভেরও পরিকল্পনা করেছে।

আরও পড়ুন: রোববার রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তানে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত

এছাড়া যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ ও সচেতনতা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং মাদক ব্যবহারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিগুলো আরও শক্তিশালী করার কথাও জানিয়েছেন কটলিকফ।

তিনি বলেন, পরিবর্তনের শুরু কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের নিজেদের মধ্য থেকেই হতে হবে।

সূত্র: ইউএসএ টুডে

আরও পড়ুন: সৌদিতে নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ, মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে প্রতারক স্বামীর খোঁজে ভারতীয় নারী, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


হবিগঞ্জে প্রতারক স্বামীর খোঁজে ভারতীয় নারী, তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

ভারতের এক নারী হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রতারণার শিকার স্বামীর খোঁজে এসেছেন। অভিযোগ উঠেছে, মিজান মিয়া (২৮) নামের এক ব্যক্তি বাংলাদেশি পরিচয় গোপন করে নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করেছেন এবং পরে তার নামে ব্যাংক থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে গেছেন।

মিজান মিয়া বানিয়াচং উপজেলা সদরের ১ নম্বর ইউনিয়নের চানপুর বন্দের বীমা তাহের মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, ওই নারী বাংলাদেশে আসার পর থেকে মিজান আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি তিনি কাতারে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, মিজান দীর্ঘদিন ধরে ভারতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এ সময় তিনি সিতারা নামে এক খ্রিস্টান তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান, নিজেকে কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে। একপর্যায়ে সিতারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মিজানকে বিয়ে করেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর সিতারার নামে ভারতের এক্সিস ব্যাংক থেকে কয়েক দফায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার রুপি ঋণ নেন মিজান। পরে তিনি মা-বাবার সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ঋণের টাকা নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এরপর থেকে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ভারতে কর্মরত বানিয়াচংয়ের শ্রমিক সাইদুর রহমানের মাধ্যমে সিতারা জানতে পারেন, মিজানের বাড়ি কলকাতায় নয়, বাংলাদেশে। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে তিনি স্বামীর প্রকৃত ঠিকানা সংগ্রহ করে বানিয়াচংয়ে আসেন।

সিতারা জানান, স্বামীর নেওয়া ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ সামলাতে পারছেন না। এ অবস্থায় স্বামীর সন্ধানে বাংলাদেশে এসেছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতাও কামনা করেছেন তিনি।

ভারতে মিজানের সঙ্গে কাজ করা শ্রমিক সাইদুর রহমান বলেন, তিনি মিজানের সঙ্গে ভারতে কাজ করেছেন। সিতারার সঙ্গে মিজানের বিয়ে এবং তাঁর নামে ব্যাংকঋণ নেওয়ার বিষয়টি সত্য বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, স্বামীর সন্ধানে কয়েক দফা মিজানের বাড়িতে যান সিতারা। তবে মিজান বাড়িতে নেই জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, তারা মিজান ও সিতারার বিয়ের কাগজপত্র এবং ব্যাংকঋণসংক্রান্ত নথি দেখেছেন। সিতারা বানিয়াচংয়ে আসার পর থেকেই মিজান বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানান তারা।

ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রতারিত নারীর আইনি অধিকার নিশ্চিত এবং তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দিয়ে বড় ‘জুলাইযোদ্ধা’ হয়ে গেছেন: তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দিয়ে বড় ‘জুলাইযোদ্ধা’ হয়ে গেছেন: তারেক রহমান

জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার পর আখতারুজ্জামানকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ হিসেবে তুলে ধরার বিষয়ে আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান সমালোচনা করেছেন।

তিনি শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আখতারুজ্জামান তাদের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন, আবার বিএনপির সঙ্গে থেকেও দলটির বিরুদ্ধে এবং নির্বাচনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’

জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের বক্তব্য উল্লেখ করে মো. তারেক রহমান বলেন, ‘আখতারুজ্জামান জামায়াতের কর্মীও নন, নেতাও নন।’ এই মন্তব্য দলের নেতাকর্মীদের আবেগে পানি ঢেলে দিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিরোধিতা করার পরও জামায়াতে যোগ দিয়ে আখতারুজ্জামান এখন প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের চেয়েও বড় ‘জুলাইযোদ্ধা’ হয়ে গেছেন।

মো. তারেক রহমান জামায়াত আমিরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে চীনের দেওয়া ত্রাণ জামায়াতের ত্রাণ হিসেবে প্রচারের পর চীনা দূতাবাস প্রতিবাদ জানালে ওই পোস্ট সম্পাদনা করে পরে মুছে ফেলা হয়েছিল। এ ছাড়া গাজীপুরের একটি ঘটনা নিয়ে জামায়াতের আমিরের দেওয়া বক্তব্যও পরে সরিয়ে ফেলা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ হিসেবে অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দেওয়ার পর যদি ‘জুলাইযোদ্ধা’ হয়ে যান, তাহলে প্রকৃত জুলাইযোদ্ধাদের অবস্থান কী হবে—এ প্রশ্নের জবাব জামায়াতকে দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডে ব্যর্থতা, টেনেসির কারাপ্রধানের পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ এম


ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ডে ব্যর্থতা, টেনেসির কারাপ্রধানের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তীব্র বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন কারা বিভাগের প্রধান ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের ওপর প্রয়োগ করা প্রাণঘাতী ইনজেকশন সত্ত্বেও তিনি বেঁচে আছেন এবং বর্তমানে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) টেনেসির গভর্নর বিল লি জানিয়েছেন, কারা বিভাগের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং চলতি মাসের মধ্যে তিনি দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন। গভর্নর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টা নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন। এছাড়াও, ২০২৬ সালের বাকি সময়ে টেনেসিতে আর কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

স্ট্রাডা বলেছেন, চলমান তদন্তকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং টেনেসির জনগণের স্বার্থে তাঁর পদত্যাগ করা সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত। গভর্নর বিল লি তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের জন্য স্ট্রাডাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই কঠিন সময়ে অঙ্গরাজ্যের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য তিনি স্ট্রাডার প্রতি কৃতজ্ঞ।

বুধবার ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার চেষ্টা করা হয়। তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়া হলেও তিনি মারা যাননি। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, পাইক বর্তমানে অচেতন অবস্থায় কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তায় আছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীরে ব্যবহৃত ওষুধের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছেন। পাইকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাঁকে কাঁদতে, কাতরাতে এবং ভারী শ্বাস নিতে শোনা গিয়েছিল।

পাইকের আইনজীবীরা পূর্বে সতর্ক করেছিলেন যে, তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগে জটিলতার ঝুঁকি রয়েছে। তাঁদের দাবি, পাইকের থ্রম্বোসাইটোসিস নামক রক্তজনিত সমস্যা এবং ছোট শিরা থাকার কারণে ইনজেকশন দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কঠিন হতে পারে। তবে টেনেসির কারা বিভাগ জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নির্ধারিত নিয়ম ও প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়েছে।

কেন দুটি ডোজ প্রয়োগের পরও পাইক বেঁচে গেলেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। পাইকের আইনজীবীরা ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য আদালতে জরুরি আবেদন করেছেন। তাঁরা ঘটনাটিকে শুধুমাত্র একজন কর্মকর্তার ব্যর্থতা নয়, বরং টেনেসির সম্পূর্ণ মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থার কাঠামোগত সমস্যার প্রতিফলন হিসেবে দাবি করেছেন।

পাইক ১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। ওই সময় পাইকের বয়স ছিল ১৮ বছর। পরবর্তী বছর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে পাইকের আইনজীবীরা একাধিক আইনি চ্যালেঞ্জ জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের দুটি আবেদন নাকচ করে দেয়। টেনেসির গভর্নরও তাঁর ক্ষমার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।

পাইক টেনেসির মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একমাত্র নারী। তাঁর ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের পদ্ধতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাধীন তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণের বিষয়টি এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অক্টোবরে আসছে ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে ৩ লঘুচাপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৪৯ এম


অক্টোবরে আসছে ঘূর্ণিঝড়, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে পারে ৩ লঘুচাপ

চলতি মাসের অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ২ থেকে ৩টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এর মধ্যে একটি লঘুচাপ নিম্নচাপে অথবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হতে পারে।

এ তথ্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের অক্টোবর মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে প্রকাশিত হয়েছে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, চলতি অক্টোবর মাসে দেশের বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। মাসের প্রথমার্ধে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বা বর্ষা ধীরে ধীরে বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, অক্টোবর মাসজুড়ে দেশে ৩ থেকে ৪ দিন বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। মাসের দ্বিতীয়ার্ধে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমাগত কমতে পারে। তবে পুরো মাসজুড়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, অক্টোবর মাসের পুরো সময় দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকতে পারে। তবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু স্থানে নদ-নদীর পানি সমতল সাময়িকভাবে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশে দৈনিক গড় বাষ্পীভবনের পরিমাণ ২ থেকে ৪ মিলিমিটার থাকতে পারে। গড় উজ্জ্বল সূর্যকিরণকাল হতে পারে দৈনিক ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা।

এটি উল্লেখযোগ্য যে, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে তা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয় না। এটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা পরবর্তী সময়ের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%