ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের নতুন পরিকল্পনা


নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের নতুন পরিকল্পনা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল কাঙ্ক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল গেজেট আকারে প্রকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। ভেটিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জারি হবে প্রজ্ঞাপন।

এদিকে, ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নের জন্য সরকার নতুন একটি ছক তৈরি করছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সাতটি পৃথক এসআরওর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। একইসঙ্গে আইবাস প্লাস প্লাসে চাকরিজীবীদের তথ্য হালনাগাদ করে অনলাইনে নতুন বেতন নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতির তথ্য অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে।

প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক সাত এসআরও বা বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ থাকবে। বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ-এ সাত ক্ষেত্রের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে কার্যকর করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে এসব আদেশে।

আরও পড়ুন: চন্দ্রপাড়া দরবারে তিন শতাধিক অসচ্ছল মানুষকে সহায়তা, ওরসের তারিখ ঘোষণা

এছাড়া, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণ হবে আইবাসে। এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে হবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, "প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।" বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামোর প্রয়োগে যেসব কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য রয়েছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের কাজ আরও স্পষ্ট হবে।

সাতটি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো প্রয়োগের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাস-এ তথ্য হালনাগাদ এবং বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

আরও পড়ুন: ১০০ কোটি টাকার মালিক অবসরপ্রাপ্ত সাবরেজিস্ট্রার নুরুল আমিনের বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল

নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে সাতটি পৃথক এসআরও জারি করা হবে। এগুলো হলো— সিভিল বা বেসামরিক প্রশাসনের সাধারণ বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কাঠামো; পুলিশ বিভাগ-পুলিশ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক সুবিধা নির্ধারণ; বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এই বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক বিধান; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ-সরকারি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কাঠামো; স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান-সরকারের বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেতন কাঠামো; সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ—সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য সংশ্লিষ্ট যৌথ বাহিনী নির্দেশনা ও বেতন কাঠামো এবং জুডিশিয়াল বা বিচার বিভাগ-বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের জন্য প্রযোজ্য কাঠামো।

অর্থাৎ একটি সাধারণ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূল কাঠামো কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর জন্য প্রয়োজনীয় বিস্তারিত প্রয়োগবিধি পৃথক আদেশের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হবে।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অর্থ বিভাগ সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাস-এর আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে আসতে চায়। বর্তমানে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা।

সরকারি কর্মচারীদের অনলাইন বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থায় জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের সুযোগও রয়েছে। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তথ্য পূরণ ও যাচাই হয়ে গেলে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা কত হবে, তা সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন: সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১১ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে

এতে প্রত্যেক কর্মচারী নিজের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় তার আর্থিক অবস্থান জানতে পারবেন। আইবাস প্লাস প্লাস-এর বর্তমান ব্যবস্থায়ও অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং বেতন-পেনশন ইএফটির মাধ্যমে দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট ও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধান থাকায় বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো— কাগজে-কলমে বেতন নির্ধারণের বদলে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে একজন কর্মচারীর বেতন নির্ধারণে হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ এম


লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের কঠোর বার্তা
কুড়িগ্রামে পরিবেশ অধিদপ্তরের মতবিনিময় সভায় লাইসেন্স বিহীন ও অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট উৎপাদন ও ব্যবহারে ইটভাটা মালিকদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
 
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক নুর আলম। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম।
 
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পরিবেশ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলার ইট ও ব্লক উৎপাদনকারী মালিকদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলা হয়। সভার আলোচ্য বিষয় ছিল লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা বন্ধকরণ এবং পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার ও উৎপাদনে উদ্বুদ্ধকরণ।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুর আলম অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশ ও বৈশ্বিক জলবায়ুর ওপর সৃষ্ট বিরূপ প্রভাবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট উৎপাদন ও ব্যবহারের সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্টদের তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে মো. রেজাউল করিম সনাতন পদ্ধতিতে পোড়ানো ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট উৎপাদন ও ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা না করার জন্য মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
 
তিনি বলেন, অবৈধ ইটভাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বায়ুদূষণ ও জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ধরনের ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করার ক্ষেত্রেও তিনি সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।
 
সভায় জেলার ইট ও ব্লক উৎপাদনকারী মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
 
 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউল্যাবে ফল ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


ইউল্যাবে ফল ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব) ফল ২০২৬ সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে একটি ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইউল্যাব ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স মিচেল লি। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সুযোগগুলোকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগানোর জন্য আহ্বান করেন। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শেখার সুযোগ গ্রহণ, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনার বিকাশ এবং ভবিষ্যতে সমাজে অর্থবহ অবদানের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় ইউল্যাবের লিবারেল আর্টস-ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসাও করেন তিনি।

ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক সামসাদ মর্তূজা নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধুমাত্র ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ওরিয়েন্টেশনে নবীন শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে দেওয়া বকুল ফুলের বীজসমৃদ্ধ ‘সিড বক্স’ সম্পর্কে উপাচার্য পরিচয় করিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশ ও রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বীজগুলো রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে গাছের বেড়ে ওঠার সঙ্গে নিজেদের বিকাশের গল্প ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ জন্য ইউল্যাবের ওয়েবসাইটে একটি বিশেষ পেজ রাখা হয়েছে।

নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব করে মারভিয়া ফাতেমা ভূমি ইউল্যাবে তার নতুন যাত্রা নিয়ে অনুভূতি ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বে বক্তব্য দেন ইউল্যাবের সাবেক শিক্ষার্থী ও বিওয়াইডি বাংলাদেশের ম্যানেজার (ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ডিজিটাল) শেখ শাহনুমা শারমিন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউল্যাবের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক জুড উইলিয়াম হেনিলো এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের বিশেষ উপদেষ্টা ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য। এছাড়া রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, অ্যালামনাই এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে কোক স্টুডিও বাংলার উপস্থাপনায় ইমন চৌধুরী অ্যান্ড বেঙ্গল সিম্ফনির বিশেষ সঙ্গীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিনাজপুরে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে নাগরিকত্ব সনদ, দুইজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ এম


দিনাজপুরে ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করে নাগরিকত্ব সনদ, দুইজন আটক

দিনাজপুরের বিরামপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করে নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার হওয়ার জন্য আসা এক যুবকের কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পরে ওই দুই ব্যক্তিকে ইউএনওর কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বাক্ষর জালিয়াতির কথা স্বীকার করেন। এরপর তাদের আটক করে পুলিশে পাঠানো হয়।

আটককৃতদের মধ্যে একজন হলেন পৌরসভার নতুন বাজার এলাকার ‘সুমন কম্পিউটার অ্যান্ড ফটোস্ট্যাট’-এর মালিক সাইদুর জাম্মান সুমন (৪০) এবং অপরজন মনির হোসেন (৫১)। সাইদুর জামানের ছেলে পূর্ব জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা। মনির হোসেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ধীতপুর এলাকার সিদ্দিক মোল্লার পুত্র।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মুহিম হোসেন রোহান নামের এক যুবক বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় তাঁর নাগরিকত্ব সনদে ইউএনওর স্বাক্ষর অগোছালো মনে হয়। পরে তাঁকে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইউএনওর কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে স্বাক্ষর জাল করার বিষয়টি প্রকাশ পায়।

বিরামপুর থানার ওসি (তদন্ত) শামিম আল মামুন জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। রাতে পৌরসভার কম্পিউটার অপারেটর রিয়াজুল ইসলাম বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করেছেন।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক তানজিনা খাতুন বলেন, তাঁর স্বাক্ষর জাল করে এক যুবককে নতুন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য পৌরসভার নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় দুজনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলা করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:৪৫ এম


বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘বর্তমানে দেশে গণতান্ত্রিক একটি পরিবেশ বিরাজ করছে, বাক স্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার এ আহ্বান জানান। এ সময় সংসদ সদস্যরা মুহুর্মুহু টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই না দেশের জনগণের কাঁধে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী শাসন চেপে বসুক। ঠিক তেমনি কোনো বিবেকবান মানুষ, দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ অবশ্যই চান না আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গালাগালিতে পরিণত হোক। এ জন্য দল-মত নির্বিশেষে আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।'

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, 'পারিবারিক পরিবেশে আমরা যে সকল কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না, কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলো ব্যবহার করব? কেন আমরা জনপরিসরেও সেই শব্দগুলোকে পরিহার করব না? সংসদের সকল সদস্যের কাছে, দেশের সকল বিবেকবান নাগরিকের কাছে এ প্রশ্ন রেখে যেতে চাই।'

তিনি বলেন, 'আমরা যদি সত্যিই সবাই এ ব্যাপারে একমত হই, তবে আসুন আমরা গালাগালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা গ্রহণ করি।'

আমাদের মধ্যে বিরোধ-বিভেদ ফ্যাসিস্ট শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি দলই বলি, বিরোধী দলই বলি আমরা সবাই মিলে আসুন একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি। সে কারণে সবসময় আমি বলার চেষ্টা করি, আমি বলে থাকি ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ-বিরোধ কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকেই পুনরুজ্জীবিত করতে পারে, সেই পথকেই সুগম করতে পারে, এটি যেন আমরা ভুলে না যাই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থেই শহীদদের প্রতি কর্তব্যের অংশ হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।'

তিনি বলেন, 'গণতন্ত্র এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে। সারা পৃথিবীতেই সেটি থাকে। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে। এটিও ডেমোক্রেটিক প্র্যাকটিস। কিন্তু ভিন্ন মত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে অবশ্যই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’

সংসদ সব কর্মের কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান সংসদকে আমরা সব কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু করতে চাই। এই অধিবেশনে যে আলোচনাগুলো আমরা করেছি।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের কারও সদিচ্ছার যে অভাব ছিল না, সেটি নিশ্চয়ই প্রমাণিত হয়েছে। আমরা উভয়পক্ষ দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে কাজ করছি, দেশ এবং দেশের জনগণের স্বার্থে যে আলোচনা করেছি, কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি, সে ব্যাপারে আমার কোনো বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, 'এই জাতীয় সংসদকে কার্যকর এবং প্রাণবন্ত রাখার জন্য আমি আজ উপস্থিত সকল সংসদ সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। প্রত্যেকটি গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রত্যাশা এই জাতীয় সংসদের কাছে। এই জাতীয় সংসদে আলোচনা করে জনগণের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব করবে, এই সংসদ তাদের জন্য শান্তি এবং সমৃদ্ধি বয়ে আনবে, এটিই জনগণের প্রত্যাশা।

দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালে জনগণের রায় প্রত্যাখ্যাত অপশক্তি ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবার রাষ্ট্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে।

তারা জনগণের অধিকারকে কেড়ে নেয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালানোর আগে পর্যন্ত তাদের দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের কারণে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপের অপবাদ সইতে হয়েছে। এই ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার দায়িত্ব এখন বিএনপির কাঁধে পড়েছে।'

তিনি বলেন, 'এরা পালিয়ে গেছে কিন্তু এই ঋণ রেখে গেছে এই দেশের কাঁধে, এই দেশের জনগণের কাঁধে।

পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্টরা শুধু ঋণখেলাপি করেনি বরং ঋণখেলাপির পরিমাপের যে হিসাব-নিকাশ, সেটির মধ্যেও তারা জালিয়াতি করেছে। এমন পরিস্থিতিতেই বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অভিশাপ থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে এবং বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে বর্তমানে ঋণখেলাপির অনুপাত কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ। বিগত নির্বাচনের পরে যেখানে ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল, সেখানে এটি নেমে এসেছে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে শুরু করেছে বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ফ্যাসিস্ট চক্রের অনাচার, লুটপাট, দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের কলঙ্ক থেকে বিএনপি যেভাবে বাংলাদেশকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছিল, একই চক্রের কারণে ২০২৪ সালে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ঋণখেলাপির যে কলঙ্ক, এর থেকেও বিএনপি বাংলাদেশকে ইনশাল্লাহ মুক্ত করে নিয়ে আসবে।'

তিনি বলেন, 'বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত একটি রাষ্ট্র আমরা পেয়েছি। যারা বাংলাদেশকে ঋণের ভারে জর্জরিত করেছে, তাদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। কিন্তু বাংলাদেশকে এখনো সেই ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল এবং সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লক্ষ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। যদিও ফ্যাসিবাদের লুটতরাজ, টাকা পাচারের কারণে এখনো দেশের কাঁধে জনগণের কাধে হাজারো কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ বাকি রয়ে গেছে।'

বিকেল তিনটায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। মাগরিবের নামাজের পরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সংসদ অধিবেশন সমাপনী সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ সংসদে পাঠ করে শোনান।

সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশনের সমাপনী দিনে প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে বক্তব্য শুরু করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%