রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৩ পি.এম
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, কৃষকরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ। তাদেরকে দেশ গড়ার যোদ্ধা হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই কৃষকদের সম্মান জানাতে ও অনুপ্রাণিত করতে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন-নতুন উদ্ভাবন ও অসামান্য অবদানের জন্য প্রেসিডেন্ট কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজ-এর নেতৃত্বে সমিতির ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে আসলে প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। সাক্ষাৎকালে সমিতির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুল জলিল (লিচু কিতাব), মো. হাসান আলী (ড্রাগন হাসান), মোছা. বেলী বেগম (সবজি বেলী), মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার (মাছ তালেব), মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।
প্রেসিডেন্ট এসময় দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নতি ও সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বানও জানান।
প্রেসিডেন্ট বলেন, এ দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত কৃষি। কৃষকের ঘাম, পরিশ্রম, নতুন-নতুন উচ্চফলনশীল জাত ও কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতি করে না বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে অবদান রাখেন।
কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি পণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে, কৃষক যাতে সঠিক মূল্য পায়, সেজন্য একটি কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের আরো উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট বলেন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি ও কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে, এরইমধ্যে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো বর্তমান সরকারও কৃষকদের দশ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। কৃষকদের সহজ শর্তে কম সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি অচিরেই কৃষকেরা এর সুফল পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দল কৃষকদের উন্নয়নে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস উদযাপন ও কৃষকদের জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্য বিমা চালু, জেলা-উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপে কাটা থেকে সুরক্ষা ও কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহ সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি-দাওয়া রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করেন।
প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশে উৎপাদিত ফল-মূল, কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা ও অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসার জন্য সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা, আধুনিক হিমাগার স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ ও খামারে আধুনিক সোলার প্যানেল ব্যবহার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এসময় কৃষিঋণের সুদ বিশেষ করে এনজিও থেকে গৃহীত ঋণের সুদ কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রেসিডেন্ট।
কৃষক সমিতির সভাপতি ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য সত্তরোর্ধ্ব কৃষকদের সংবর্ধনা ও আধুনিক কৃষিপণ্য প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন। প্রেসিডেন্ট মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জে জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে আত্মশুদ্ধিমূলক অভিযান পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
বিবৃতিতে টিআইবি উল্লেখ করে, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ বিদ্যমান। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটার অভিযোগ সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের জন্য বিব্রতকর দৃষ্টান্ত হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "প্রায় অর্ধশত বছর ধরে দরিদ্র ও অসহায় নারী-শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের হামলা ও জবরদখলের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।" তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক দল ও সরকারের প্রতি জনগণের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে।
সংস্থাটির দাবি, বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার, জলমহাল, বালুমহাল, হাটবাজার, ক্যাবল ও ইন্টারনেট ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে দখল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
কিশোরগঞ্জের জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং একটি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে টিআইবি বলেছে, এসব ঘটনা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংঘটিত ধারাবাহিক ঘটনাবলির অংশ। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনার স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখলবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলে শুধুমাত্র সাংগঠনিক ব্যবস্থা নয়, একইসঙ্গে আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। অন্যথায় স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। প্রতিটি ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহে ড্রামের ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নিরঞ্জন ধর হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেল ও টাকা দাবি করায় ক্ষুব্ধ হয়ে নিরঞ্জন ধরকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শামীম মিয়া, যিনি ৩৮ বছর বয়সী, গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ময়মনসিংহ নগরের বেগুনবাড়ী এলাকার স্লুইসগেটের পানিতে একটি ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নিরঞ্জন ধরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তবে মরদেহের প্যান্টের পকেটে থাকা একটি টোকেনের মাধ্যমে পরিচয় জানা যায়। নিহত নিরঞ্জন ধর নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় স্ত্রী ও সন্তানসহ বসবাস করতেন এবং তিনি একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন। তাঁর চারটি অটোরিকশাও ছিল।
অটোরিকশাগুলো খাগডহর এলাকার একটি গ্যারেজে রাখা হতো, যেখানে শামীম ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। এই সূত্রে নিরঞ্জনের সঙ্গে শামীমের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শামীমের একটি অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করেছিলেন নিরঞ্জন। পরে ওই ভিডিও দেখিয়ে শামীমের কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছিল এবং বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এভাবে ধাপে ধাপে প্রায় দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও পিবিআই জানিয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শামীমের ভাড়া বাসায় গিয়ে আবারও টাকা দাবি করেন নিরঞ্জন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে বঁটি দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে পিবিআই জানিয়েছে। এতে নিরঞ্জনের মৃত্যু ঘটে। হত্যার পর মরদেহ একটি চটের বস্তায় ভরে বড় নীল রঙের চালের ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরে একটি ইজিবাইকে করে ড্রামটি বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটে নিয়ে পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
ঘটনার পর পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ড বাজারের বটতলা এলাকার একটি মার্কেট থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর শামীম বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ময়মনসিংহ নগরের একটি ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শিল ও বঁটি উদ্ধার করা হয়। পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) লাইব্রেরিতে শব্দ করে পড়াকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ফলস্বরূপ দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার ফলে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, লাইব্রেরিতে শব্দ করে পড়ার কারণে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী আবিরের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে লাইব্রেরি থেকে নিচে নামার পর বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এক পর্যায়ে প্রক্টর কার্যালয়ে বিষয়টির সমাধান করা হয়।
এরপর দুপুর ২টার দিকে আইসিটি বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে যাওয়ার সময় সেখানে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আবারও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে দত্ত হলের শিক্ষার্থীরা আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে প্রকৌশল অনুষদের দিকে সরিয়ে দেন।
কিছুক্ষণ পর, আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে দত্ত হলের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে হলের ভেতরে প্রবেশ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সংঘর্ষে দত্ত হল ও আইসিটি বিভাগের অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে দত্ত হলের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে, যা প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ করে রাখে। প্রক্টরের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা অবরোধ তুলে নেন।
আইসিটি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ সরকার বলেন, ‘প্রক্টর কার্যালয়ে দুপুরের ঘটনার সমাধান হয়ে গিয়েছিল। এরপর আমরা কয়েকজন ক্লাস শেষে মেসে যাচ্ছিলাম। তখন কয়েকজন আমাদের ডেকে নিয়ে মারধর শুরু করে। পরে আমাদের শিক্ষার্থীরা বের হলে তারা আমাদের উসকানি দিয়ে হল পর্যন্ত নিয়ে যায়। এরপর সেখানে মারামারি হয়।’
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সৌরভ কাব্য বলেন, ‘আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা আমাদের ধাওয়া দিয়ে হলের ভেতরে এসে মারধর করেছে। আমাদের ৬-৭ জন আহত হয়েছে। পরে তারা হলের ডাইনিং বয় ও পাহারাদারকেও মারধর করেছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টি দেখেছি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করা হবে। আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা হলে গিয়ে মারধর করেছে—এ বিষয়টি তদন্ত করে আগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপর পুরো ঘটনার বিষয়ে বিচার করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানকে সোমবারের (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, যা দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে কার্যকর হয়েছে।
এই নির্দেশনা রবিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় বিষয়ক মতবিনিময়সভায় মন্ত্রী প্রদান করেন।
সভাটি জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জনসেবার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সভায় বলেন, "জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্বাস্থ্যসেবায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমানকে সোমবারের মধ্যে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি সতর্ক করেন যে, সরকারি সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ