রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:১৭ পি.এম
ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের জন্য পরিবেশিত খাবারের মেনু নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের বিরোধী দলীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, বিজেপি ভারতের খাদ্যসংস্কৃতির একটি নির্দিষ্ট পছন্দ বিশ্বনেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
শনিবার রাতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের গালা ডিনারে ১০টিরও বেশি পদ পরিবেশন করা হয়। দেশটির সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানাচ্ছে, খাবারের শুরুতে স্টার্টার হিসেবে ‘খুম্ব গালাউটি’ এবং ‘খান্ডভি মিল্লে’ পরিবেশন করা হয়।
মূল খাবারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল ‘পনির লাবাবদার’, হিমালয়ান মোরেল মাশরুম ও অ্যাসপারাগাসের ‘গুচ্ছি মারমিক’, ‘ক্যারট বিন পরিয়াল’, মিলেট পোলাও, বিটরুট রায়তা এবং বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি। মিষ্টান্ন হিসেবে ছিল জালেবি, ‘ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম’ এবং ‘শাহতুত ফিরনি’।
মেনু নিয়ে কটাক্ষ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, “ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার সুস্বাদু। আমার বোনের ছোলে ভাটুরের মতোই।”
কংগ্রেসের নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ভারতীয়দের ওপর নিজেদের খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি মন্তব্য করেন যে, এখন তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিথিদের ওপরও একই পছন্দ চাপিয়ে দিয়েছে।
দলটির আরেক নেতা ওয়ারিস পাঠান বলেন, ভারত তার বৈচিত্র্য নিয়ে অনেক কথা বলে, কিন্তু এই মেনু সেই বৈচিত্র্যকেই মুছে দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নিরামিষভোজিতা প্রচার করতে চাইলে তা করা যেতে পারে, তবে ভারতের খাদ্যসংস্কৃতিকে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়।
ভারতের খাদ্যবৈচিত্র্য তুলে ধরতে মাটন মাসালা ফ্রাই, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি চিকেন, বাটার চিকেন এবং গোয়ান ফিশ কারির মতো খাবার বিশ্বনেতাদের পরিবেশন করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন ওয়ারিস পাঠান। এ প্রসঙ্গে তিনি রসিকতা করে বলেন, “মাটন-চিকেন নেই... মামা-ফুফা মন খারাপ করবেন!”
তবে কংগ্রেসের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে বিজেপি। দলটি অভিযোগ করেছে যে, কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আয়োজনকে খাবারের মেনু নিয়ে বিতর্কে নামিয়ে আনছে।
ব্রিকস সম্মেলনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে কংগ্রেস খাবারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বলে দাবি করেছে বিজেপি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার ফরিদপুরে একটি অটোভ্যান ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাকিবুল (১৩) নামে এক কিশোরকে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের বড়াল নদী থেকে কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত সাকিবুল রতনপুর গ্রামের হারিছ প্রামাণিকের পুত্র।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সাকিবুল প্রতিদিনের মতো সকালে ভ্যান গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। সে ডেমরা-ফরিদপুর সড়কে যাত্রী পরিবহন করতো। এদিন দুপুরের পর থেকে সাকিবুলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা মাজাট গ্রামের উত্তরে বড়াল নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করার পর নিশ্চিত করে যে এটি সাকিবুলের। এ সময় সাকিবুলের অটো ভ্যান গাড়িটি পাওয়া যায়নি। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পুলিশের ধারণা, অটো ভ্যান গাড়ি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সাকিবুলকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
ফরিদপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) জাহিদ হাসান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। পুলিশ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রতিদিন দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হ্রাসের ফলস্বরূপ। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ার ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মোট দুই ঘণ্টা সাময়িক লোডশেডিং কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৮টা এবং বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
প্রকৌশল অফিসের অফিস প্রধান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. নাজমুল আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্ধারিত সময়ে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরামদ্দি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মূগাখান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে বিএনপির আয়োজিত মাদকবিরোধী সভায় গীতা পাঠের ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় আয়োজক বিএনপির দুই নেতা মুসল্লিদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর চরামদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে মূগাখান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মাদকবিরোধী সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকেরগঞ্জের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন খান। এছাড়া উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চরামদ্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সমাবেশ কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চুন্নু শিকদার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চরামদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহিদুল ইসলাম মোহন মাস্টার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আলআমিন হাওলাদার।
তবে মসজিদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে গীতা পাঠের বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলেও সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয় কয়েকজন মুসল্লির অভিযোগ, মসজিদ ও এর প্রাঙ্গণের ধর্মীয় পরিবেশ এবং পবিত্রতা বিবেচনায় নিয়ে সেখানে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে আয়োজকদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিল। গীতা পাঠের বিষয়টি নিয়ে তারা আয়োজকদের কাছে ব্যাখ্যাও দাবি করেন।
এ ঘটনার জেরে গত ১১ সেপ্টেম্বর জুমার নামাজের সময় চরামদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সহিদুল ইসলাম মোহন মাস্টার ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আলআমিন হাওলাদার স্থানীয় মুসল্লিদের মুখোমুখি হন। এ সময় তারা ওই ঘটনার জন্য উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে মসজিদ, মাদ্রাসা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা ও এর প্রাঙ্গণে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে এ বিষয়ে আয়োজক বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোর, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : শিশু যৌন শোষণ ও নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত, ভুক্তভোগী শিশুর ট্রমা ও ভিকটিমহুড এবং শিশুবান্ধব আদালত পদ্ধতি নিয়ে যশোরে পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ আয়োজন করা হয়েছে।
আজ রোববার যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
যশোরের ৯টি থানার নারী ও শিশু বিষয়ক হেল্প ডেস্কের দায়িত্বপ্রাপ্তসহ মোট ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণের সময় শিশু নির্যাতনের ঘটনা শনাক্তকরণ, প্রমাণ সংগ্রহ, শিশুর বক্তব্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম এবং এসিডির প্রকল্প সমন্বয়কারী এস এম আহসান উল্লাহ সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এসিডির এরিয়া ম্যানেজার মো. হুমায়ন কবির।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ