০৯:১৯ পি.এম
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সরকারি প্রকল্পের ফাইল ছাড়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে আটক উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিট কর্মকর্তা হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে এখনো কোনো ফৌজদারি মামলা হয়নি। এ অভিযোগ ওঠার পর তাকে শুধুমাত্র সিএডি (CAD) প্রধান কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এই ঘটনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, গত ২১ জুন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল ছাড়ার বিনিময়ে ইউপি সচিবের কাছে ২১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এর প্রথম কিস্তি হিসেব ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করার সময় ভৈরব উপজেলা পরিষদ চত্বরে গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা অডিটর হৃদয় মিয়াকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগে জানা যায়, হৃদয় মিয়া জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও পরে তিনি জানান, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট ইউপি সচিব অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ফাইল আটকে রেখে ঘুষ দাবি করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
এ বিষয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সোহেল মিয়ার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করলে তিনি এর সাথে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি সিএডি হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত বা পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে তার কাছে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই।
আইনজ্ঞদের মতে, ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে হাতেনাতে আটক হওয়ার ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ না করে শুধুমাত্র বদলির মাধ্যমে দায় শেষ করা হলে তা প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। এ ধরনের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিতকরণ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন