০১:৪৯ পি.এম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের দিনেও ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একজন শিক্ষকের দ্বারা। এই কারণে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বর্ণাঢ্য র্যালিতে অংশগ্রহণ না করতে পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একইভাবে, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও র্যালিতে উপস্থিতি দেখা যায়নি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১০টায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। তবে র্যালিতে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। বিভাগটির শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের মধ্যে কেউ র্যালিতে অংশগ্রহণ করেননি।
জানা গেছে, র্যালির সময় সকাল ১০টায় ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সজিব মিয়া একটি ক্লাস নেন। ফলে ওই ক্লাসের শিক্ষার্থীরা র্যালিতে অংশ নিতে পারেননি। এছাড়াও, একই শিক্ষকের দুপুর ২টায় আরও একটি ক্লাস রয়েছে।
আরও পড়ুন: কবি নজরুল কলেজে পানির ফিল্টার নষ্ট, শিক্ষার্থীরা বিপাকে
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের এক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষ দিন। অথচ এ দিনেও আমাদের ক্লাস নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ক্লাস বন্ধ থাকার কথা। বিভাগ থেকে আমাদের র্যালিতে অংশগ্রহণসহ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’
ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের কোর্স শিক্ষক ড. মো. সজিব মিয়া এ বিষয়ে বলেন, ‘আজকে ছুটি, ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়া যাবে না, বিষয়টি আমার জানা ছিল না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. নূর আলম সিদ্দিক জানান, এটি কোনো অফিসিয়াল ক্লাস নয়। তিনি আরও বলেন, “আর ক্লাস তো নেওয়ার কথা না। আমি বিভাগে যোগাযোগ করে বিষয়টি দেখব।”
র্যালিতে বিভাগের শিক্ষক ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নানী অসুস্থ। এ কারণে আমি এখানে আছি। বিষয়টি আমি বিভাগে খোঁজ নিয়ে দেখব।’
আরও পড়ুন: নভেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭ ও ৮ নভেম্বর টানা ৩ দিনের ছুটি
অন্যদিকে, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. আপেল মাহমুদ জানান, ‘আমরা র্যালিতে ছিলাম। আমি ও আরেকজন এবং আমাদের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কোনো শিক্ষার্থী ছিল না। এ কারণে শেষ পর্যন্ত আমরা র্যালিতে থাকতে পারিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, ছুটির দিনে ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি জানান, এ ব্যাপারে তারা বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থীদের র্যালিতে অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘র্যালির ব্যানার তৈরি করে দেওয়ার পরও যদি তারা অংশগ্রহণ না করে, তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধারণ করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি তাদের ভালোবাসা নেই, বিষয়টি তারই বহিঃপ্রকাশ।
আরও পড়ুন: প্রাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য জমি পরিদর্শন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন