০১:৪৭ পি.এম
শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে বিরোধ এবার সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, বিরোধ মীমাংসায় একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
গত ৪ অক্টোবর, দুই অভিনেত্রীর কাছে পৃথক চিঠির মাধ্যমে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ জুলাই তানজিন নাহার তিশা ও সামিয়া আক্তার অথৈকে সদস্য পদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে তারা কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংগঠনের কার্যালয়ে ওই নোটিশের লিখিত জবাব জমা দেননি।
চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, বিষয়টি নিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের সালিস বা বিবাদ মীমাংসাকরণ বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় দুই অভিনেত্রীর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেগানা নারীর কুদৃষ্টি থেকে বাঁচাতে বরের চেহারা গোপন রাখলেন পারশা মাহজাবীন
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু বলেন, ‘অভিনয়শিল্পী সংঘের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব নিরসনের জন্য একটি সালিস কমিটি আছে, যা সার্বভৌম এবং স্বাধীন। আমরা চেয়েছিলাম, তারা নিজেদের মধ্যে ভুল–বোঝাবুঝি দূর করে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। ঘটনার পর থেকেই আমরা দুই শিল্পীর সঙ্গে একাধিকবার বসেছি। তাদের বক্তব্য শুনেছি, বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করেছি। উদ্ভূত ঘটনার পরিস্থিতিতে তাদের দুজনকেই সালিসের জন্য ডাকা হয়। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একটি হচ্ছে তারা ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দেবেন এবং একটি ভিডিও বার্তা পাঠাবেন। সেটা আমরা প্রকাশ করব কি করব না, এটা একান্তই সংগঠনের নিজস্ব ব্যাপার ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে দুটি সিদ্ধান্তের কোনোটাই তারা মানেননি এবং তাদেরকে পরপর দুটি চিঠি দেওয়ার পরও তারা চিঠির কোনো সদুত্তর দেননি এবং চিঠিগুলো ফেরত আসে। পরবর্তীতে তাদের ফোনও করা হয়, কিন্তু ফোনের কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় দীর্ঘ বিরতির পর সালিস কমিটি বাধ্য হয়ে ইসি কমিটিকে তাদের সদস্য পদ বাতিলের জন্য সুপারিশ করে। পরে ইসি কমিটি সভায় এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
রাশেদ মামুন অপু আরো জানান, বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দুই পক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল তিশা-অথৈর বিরোধ
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৩ মার্চ। মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে এসে তিশার বিরুদ্ধে মারধর ও অপদস্থ করার অভিযোগ তোলেন সামিয়া।
আরও পড়ুন: রণবীরের সিনেমা দেখে আবেগে কেঁদে ফেললেন মহেশ ভাট
অথৈর অভিযোগ, নাটকের একটি দৃশ্যে তাকে তিশাকে আলতো করে চড় মারতে বলা হয়েছিল। পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি সেটিই করেন। কিন্তু এরপর তিশা তাকে একাধিকবার জোরে চড় মারেন। এতে তার চোখ ও গাল ফুলে যায় এবং কথা বলতেও সমস্যা হয় বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। এ ছাড়া আগেও তিশার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, সামিয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন তানজিন তিশা। তার ভাষ্য, শুটিং সেটে যা ঘটেছে, তা সম্পূর্ণই চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে। ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে তিনি সামিয়াকে আঘাত করেননি।
তিশা জানান, নাটকটিতে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক কিশোরীর চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটির আচরণের অংশ হিসেবে অন্যকে আঘাত করা কিংবা কামড় দেওয়ার মতো দৃশ্য রয়েছে। ফলে অভিনয়ের প্রয়োজনে চিত্রনাট্যে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই কাজ করেছেন তিনি। নাটকটি মুক্তি পেলে দর্শক পুরো বিষয়টি বুঝতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি ঘটনাটিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে পেশাদারির জায়গা থেকে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
নাটকটির পরিচালক রাফাত মজুমদারও বিষয়টিকে ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, দৃশ্যটিতে দুজনেরই পরস্পরকে চড় মারার কথা ছিল। অভিনয়ের সময় কোনো চড় জোরে লেগে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে থাকতে পারে।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে অভিনয়জগত থেকে বিরতি নিতে চান জেন্ডায়া ও টম হল্যান্ড
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিযোগ, হস্তক্ষেপ করে সংগঠন
দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিনই বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দেয় অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, কোনো সদস্যের সঙ্গে পেশাগত জটিলতা কিংবা মতভেদ তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রকাশ করা আচরণবিধির পরিপন্থী।
সংগঠনটির মতে, কোনো ঘটনার একতরফা উপস্থাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অভিনয়শিল্পীদের সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের বিরোধ প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই সমাধান করা উচিত। একই সঙ্গে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
এরপর দুই অভিনেত্রীর বিরোধ মীমাংসায় সালিস ও আলোচনার উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। তবে একাধিকবার বৈঠক ও যোগাযোগের চেষ্টা করেও সমঝোতা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু। সর্বশেষ কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং সালিস বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করার বিষয়টি সামনে রেখে তাদের সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় কার্যনির্বাহী পরিষদ।
আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর সেমিনারে সাংস্কৃতিক পরাধীনতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণের আহ্বান
তবে সদস্যপদ স্থগিতের চিঠিতে শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আলাদা কোনো সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, সংগঠনটির দেওয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এ সিদ্ধান্ত মূলত সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব না দেওয়া এবং সালিস কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন