ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গঙ্গাচড়ায় বাবুপাড়ায় উদ্ধার হলো দেশি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল


গঙ্গাচড়ায় বাবুপাড়ায় উদ্ধার হলো দেশি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘন্টা ইউনিয়নের বাবুপাড়া এলাকা থেকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩) একটি দেশীয় তৈরি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল উদ্ধার করেছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি জব্দ করা হয়।

এসআরবি-১৩ জানায়, রংপুরের সিপিএসসি-এর একটি আভিযানিক দল গঙ্গাচড়া থানাধীন গজঘন্টা ইউনিয়নের গজঘন্টা বাবুপাড়া গ্রামের মো. নজরুল হক (৬০)-এর বাড়ির পেছনের রাস্তার পাশে একটি বাঁশঝাড়ে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় সেখানে পরিত্যক্ত অবস্থায় লোহার তৈরি সিলভার রঙের একটি ওয়ান শ্যুটার পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: জকিগঞ্জে পালিত হলো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস

র‍্যাব জানায়, জব্দকৃত অস্ত্রটি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিজিবির অভিযানে ২৬ প্রাচীন মূর্তি, ১,৮১৮ মুদ্রা জাতীয় জাদুঘরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


বিজিবির অভিযানে ২৬ প্রাচীন মূর্তি, ১,৮১৮ মুদ্রা জাতীয় জাদুঘরে

রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধার করা ২৬টি প্রাচীন কষ্টিপাথরের মূর্তি ও ১ হাজার ৮১৮টি মুদ্রা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে হস্তান্তর করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী ব্যাটালিয়ন এসব প্রত্নসম্পদ জাদুঘরের ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগে হস্তান্তর করে।
রাজশাহী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার, পিএসসি, জি আর্টিলারী প্রত্নসম্পদগুলো জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক মোঃ সাদেকুল ইসলাম ও কীপার মোহাম্মদ মনিরুল হকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে দেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে ১ বিজিবি, সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ পাচারসহ চোরাচালান, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচার প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানে উদ্ধার হওয়া প্রাচীন নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজিবির কর্মকর্তারা বলেন, প্রত্নসম্পদ একটি দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর অবৈধ পাচার ও ধ্বংস রোধে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

উদ্ধার করা মূর্তি ও মুদ্রাগুলো জাতীয় জাদুঘরে হস্তান্তরের ফলে এগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সীমান্তে প্রত্নসম্পদ পাচারসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।#

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঈশ্বরদীতে ডাকাত আতঙ্ক, গোকুলনগরবাসী রাত জেগে পাহারায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


ঈশ্বরদীতে ডাকাত আতঙ্ক, গোকুলনগরবাসী রাত জেগে পাহারায়

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার গোকুলনগর এলাকায় সম্প্রতি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ডাকাত আতঙ্কের বৃদ্ধি ঘটায় স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে এই উদ্যোগের কথা জানানো হয়।

স্থানীয়দের মতে, গত কয়েকদিন ধরে রাতের অন্ধকারে মুখ ও চোখ বাঁধা এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দলের সন্দেহজনক চলাফেরা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ রাতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এলাকার প্রবেশপথ ও অলিগলিতে যুবকদের সমন্বয়ে নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে দিতে বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। অপরিচিত ব্যক্তির গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচারণাও চালানো হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি আক্কেল মালিথা, শেখ মজনু, সোলেমান মন্ডল, আব্দুর রহমান ও আব্দুল কুদ্দুস সানা বক্তব্য রাখেন। সভায় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় পাহারার পাশাপাশি স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, গোকুলনগর এলাকায় ডাকাত চক্রের উপস্থিতির খবর পাওয়ার পর পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে। ডাকাতি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ১৬ জন গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


নারায়ণগঞ্জে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি, ১৬ জন গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতি চলাকালীন ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা পুলিশকে জানিয়েছেন যে, তাদের সঙ্গে থাকা আরও তিনজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে মাসদাইর অক্টু অফিস এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— জয় দাস, মেহেদী হাসান (২১), রাজু (৩৯), হুমায়ূন আহমেদ (৪০), সিয়াম (২১), লিটন (৪২), রাসেল বাবু (৩০), মেহেদী হাসান মাহিন (১৮), জাহাঙ্গীর আলম (২৩), হাসান জামিল (২১), দ্বীন ইসলাম নয়ন, সুমন (২২), সিফাত (২০), আব্দুল্লাহ (১৫), ফেরদৌস (১৪) এবং অভি (১৪)।

ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, "বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন কিশোর রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে সার পাচার বন্ধ হচ্ছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


মিয়ানমারে সার পাচার বন্ধ হচ্ছে না

কক্সবাজারে সার সংকট যেন কাটছেই না। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত দামে প্রয়োজনীয় সার না পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভের মধ্যে রয়েছেন। বিশেষ করে রামু, উখিয়া ও টেকনাফে ইউরিয়া সারের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের পাশাপাশি একটি সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকট এবং সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে সার পাচারের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দাবি, জেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম দিয়েও অনেক এলাকায় সার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও সার কেনাকে কেন্দ্র করে কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে।

কক্সবাজারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরি বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সার পাচার নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, "সরকার পর্যাপ্ত পরিমাণ সার সরবরাহ করছে। তবে বরাদ্দ ও বিতরণে কোথাও কিছুটা এদিক-সেদিক হয়ে থাকলে তা দ্রুত বন্ধ করতে হবে।" কৃষকের প্রাপ্য সার যাতে কোনোভাবেই পাচার বা অবৈধভাবে অন্যত্র চলে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কক্সবাজারের জন্য বরাদ্দ করা সার সীমান্তবর্তী কয়েকটি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে। উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি সীমান্ত পয়েন্টে প্রভাবশালী একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ এ পাচারের সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। উখিয়ার বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কিছু ক্ষমতাসীন দলের নেতা যদি সার পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে অন্যদের বিষয়ে বলার কী থাকে?"

সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে জেলার তিনজন ডিলারের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি কক্সবাজারের জন্য বরাদ্দকৃত সারের বস্তায় জেলার সিল ব্যবহারের দাবী জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এতে অন্য জেলার বরাদ্দের সার কক্সবাজারে এনে সীমান্তপথে পাচারের সুযোগ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

বৃহষ্পতিবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক সভায় সার সংকট ও বিতরণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল ইউনিয়নভিত্তিক নয়, কৃষকের সংখ্যা বিবেচনায় সার বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলার ১০ উপজেলায় প্রায় ২৩ হাজার কৃষক কার্ডের আওতায় সার বরাদ্দের ব্যবস্থা রয়েছে।

সভায় সার পাচার রোধে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়। বলা হয়, সারের সার্বিক সংকট না থাকলেও বরাদ্দ ও বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপব্যবহার যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সেপ্টেম্বর মাসে জেলার বোরো মৌসুমে মোট ৪ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন সারের চাহিদার বিপরীতে সমপরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ২ হাজার ৩৪৩, টিএসপি ৪৭৫, ডিএপি ৮৮৯ এবং এমওপি ৩৬৮ মেট্রিক টন।

গতকাল পর্যন্ত জেলার গুদামগুলোতে চার ধরনের সারের মোট ১ হাজার ৭৮৭ মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে বলেও জানান তিনি। কৃষি বিভাগের এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় সারের ঘাটতি থাকার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে রামুর গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়ায় সার সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে ডিলারদের হাতাহাতি এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। উখিয়া ও টেকনাফের কয়েকটি সীমান্তপথে নিয়মিত ইউরিয়া সার পাচারের অভিযোগও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে সার আটকের পরও পাচার পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

ঝিলংজা ও পিএমখালীর কয়েকজন কৃষক জানান, সরকার নির্ধারিত মূল্যে ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকা এবং ৫০ কেজির বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কিন্তু বাজারে তাদের ৩০ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে। ৫০ কেজির বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিএপি ও এমওপি সারেও একই পরিস্থিতি। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। অনেক এলাকায় অতিরিক্ত দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে না।

রামুর গর্জনিয়ার কৃষক আবুল কাশেম ও জসিম উদ্দিন বলেন, জমিতে নির্দিষ্ট সময়ে সার প্রয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ডিলাররা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য পরিমাণ সার দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য, "৫ কেজি নাও" বলা হচ্ছে। প্রয়োজনমতো সার প্রয়োগ করতে না পারলে এবার ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সার সংকটের কারণ অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কৃষক ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার প্রকৃত সারের চাহিদা নিরূপণের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। কৃষি বিভাগের নিয়মিত ফসলের পাশাপাশি কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় তামাক চাষ, মৎস্য ঘের, পানের বরজ, ছাদবাগান এবং বন বিভাগের ফলজ ও বনজ বনায়নেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার ব্যবহার হয়। কিন্তু এসব খাতের সার চাহিদা যথাযথভাবে হিসাবের আওতায় না আসায় প্রকৃত চাহিদা ও বরাদ্দের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

এর সঙ্গে রয়েছে পরিবহন ব্যয়, বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, গুজব ছড়িয়ে অতিরিক্ত সার মজুদের প্রবণতা এবং সীমান্ত দিয়ে পাচারের অভিযোগ। সব মিলিয়ে মাঠপর্যায়ে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম থেকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার পরিবহনে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ৬০ থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। বিসিআইসি বাফার গুদাম স্থাপন করা গেলে এ ব্যয় কমে ২০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে আসতে পারে।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম সার কারখানা থেকে টেকনাফের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি। কুতুবদিয়ায় সার পরিবহনে ডিলারদের চারবার পর্যন্ত লোড-আনলোড করতে হয়। এর সঙ্গে গুদাম ভাড়া, কর্মচারীর বেতন, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক সুদসহ অন্যান্য খরচ রয়েছে। অথচ ২০০৯ সালে নির্ধারিত কেজিপ্রতি দুই টাকা কমিশনেই ডিলারদের ব্যবসা পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে অনেক ডিলার লোকসানের মুখে পড়ছেন।

তার মতে, কক্সবাজারে দ্রুত বিসিআইসি বাফার গুদাম স্থাপন এবং দূরত্ব বিবেচনায় ডিলারদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ডিলারদের সার বিক্রি তদারকির জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কৃষকরা। তাদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের বিরুদ্ধে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বেশি দামের প্রতিবাদ করলে কোনো কোনো কৃষককে সার না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এতে কৃষক ও ডিলারদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। সারের সংকট ও পাচারের অভিযোগ সম্পর্কে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক বলেন, জেলায় সারের ঘাটতি নেই। বাজার মনিটরিংয়ের জন্য টিম সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

মিয়ানমারে কৌশলে সার পাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, উখিয়া ও টেকনাফে সার বিক্রির ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি রয়েছে। প্রত্যেক ডিলারকে সার বিক্রির পর রেজিস্টারের পাশাপাশি অনলাইনে বিক্রির তথ্য আপডেট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী সার বিক্রি না করলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষকদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে বরাদ্দ দেখালে চলবে না; মাঠপর্যায়ে প্রকৃত কৃষকের হাতে নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে সার পাচার, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, কালোবাজারি ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোরো মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে জমিতে সার প্রয়োগ করা না গেলে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। তাই কৃষির স্বার্থে সারের প্রকৃত চাহিদা পুনর্নিরূপণ, প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, সীমান্তে নজরদারি জোরদার এবং ডিলার পর্যায়ে কঠোর মনিটরিং এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%