০৫:৫১ পি.এম
ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলীয় দেশ লেবাননে আর্থিক বিপর্যয়ের সাত বছর পর একটি চিকেন স্যান্ডউইচের কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা ধনী ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মধ্যে ব্যবধানকে সামনে এনেছে। সাধারণ মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে কিছু ক্রেতা বিলাসী জীবনযাপন চালিয়ে যাচ্ছেন।
রাজধানী বৈরুতের স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের জন্য ‘দ্য গ্লো প্যারাডাইস’ নামের একটি রেস্তোরাঁ ‘চিক তাউক’ স্যান্ডউইচ চালু করেছে। লেভান্ত অঞ্চলের জনপ্রিয় খাবার শিশ তাউকের স্বাস্থ্যসম্মত সংস্করণ হিসেবে তৈরি এই স্যান্ডউইচের দাম প্রায় ১৩ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈরুতে সাধারণ একটি চিকেন স্যান্ডউইচের তুলনায় এর দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে অতিরিক্ত দাম আদায় বলে সমালোচনা করেছেন।
আরও পড়ুন: হুথিদের হামলার মধ্যে তাইফ ও জাজান অঞ্চলে সতর্কতা প্রত্যাহার
সমালোচনাও পুঁজি
তবে সমালোচনার পরও বিক্রির সংখ্যা কমেনি। রেস্তোরাঁটির ব্যবস্থাপনা অংশীদার হারাগ জেঘালিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১১ দিনের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি ‘চিক তাউক’ স্যান্ডউইচ বিক্রি হয়েছে। অনলাইনে বিতর্ককে তিনি স্বাভাবিক বিপণন কার্যক্রম হিসেবে দেখছেন।
বৈরুতের সেন্ট জোসেফ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ সামি নাদের মন্তব্য করেছেন, রেস্তোরাঁয় ক্রেতাদের ভিড় দেখে অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায় না। তবে গত মাসে অন্তত ২২টি রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে।
আর্থনৈতিক বিপর্যয়
আরও পড়ুন: ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ’ শুরু করেছেন: বারাক ওবামা
২০১৯ সালে দুর্নীতি ও শাসকগোষ্ঠীর লাগামহীন ব্যয়ের কারণে লেবাননে আর্থিক বিপর্যয় শুরু হয়। এরপর রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ২০২০ সালে বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণ এবং একাধিক সংঘাত পরিস্থিতি পরিস্থিতিকে আরো খারাপ করেছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালের পর দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি ১৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
জাতিসংঘের শিশু তহবিলের গত সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির প্রতি পাঁচটি পরিবারের চারটি মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ নাদেরের মতে, ধারাবাহিক সংকটে লেবাননের মধ্যবিত্ত শ্রেণি কার্যত বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন জেনারেটরের খরচও বেড়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে জেনারেটরের বিদ্যুৎ বিল প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি। অথচ দেশটির ন্যূনতম মজুরি ৪০০ ডলার।
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা পদক ২০২৭ এর আবেদন পাঠানোর সময়সীমা বাড়ল
বৈরুতের হামরা এলাকার ৫৩ বছর বয়সী রেস্তোরাঁকর্মী ফুয়াদ ফাখরেদ্দিন জানিয়েছেন, সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জন্য খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বেতন পাওয়ার পরেও দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ঋণ নিতে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন